যাদব বংশ

যাদব বংশ প্রসঙ্গে অভ্যুত্থান, রাজা পঞ্চম ভিল্লম, রাজা জৈত্রপাল, রাজা সিংঘন, রাজা রামচন্দ্র ও যাদব বংশের পতন সম্পর্কে জানবো।

যাদব বংশ

ঐতিহাসিক বংশযাদব বংশ
রাজধানীদেবগিরি
প্রথম রাজাপঞ্চম ভিল্লম
শ্রেষ্ঠতম রাজাসিংঘন
জ্যোতির্বিদচন্দ্রদেব
যাদব বংশ

ভূমিকা :- যাদবরা নিজেদের শ্রীকৃষ্ণের পূর্বপুরুষ যদুর বংশধর বলে দাবি করতেন। সাহিত্যে ও শিলালিপিতে তাঁদের বিস্তারিত বংশতালিকা পাওয়া যায়।

যাদব বংশের অভ্যুত্থান

রাষ্ট্রকূট ও পশ্চিমাঞ্চলীয় চালুক্য রাজাদের অধীন সামন্তরাজ রূপে যাদব বংশের অভ্যুত্থান হয়। পশ্চিমাঞ্চলীয় চালুক্য বংশ -এর পতনের পরে যাদব বংশের উন্নতি শুরু হয়।

যাদব বংশের রাজা পঞ্চম ভিন্নম

  • (১) এই বংশের প্রথম উল্লেখযোগ্য শাসক পঞ্চম ভিল্লম (আনুমানিক ১১৮৫-১১৯১ খ্রি) চতুর্থ সোমেশ্বরের কাছ থেকে কৃষ্ণা নদীর উত্তরে চালুক্য রাজ্যের এক বৃহদংশ অধিকার করেন। তিনি মালব ও গুজরাট বিধ্বস্ত করেছিলেন।
  • (২) কিন্তু তিনি হোয়সল বংশীয় প্রথম বীরবল্লাল কর্তৃক পরাজিত এবং সম্ভবতঃ নিহত হন। ভিল্লমই দেবগিরিতে (মহারাষ্ট্র রাজ্যে অবস্থিত আধুনিক দৌলতাবাদ) রাজধানী স্থাপন করেন। অতঃপর এই শহরটি দক্ষিণ ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহরে পরিণত হয়।

যাদব বংশের রাজা জৈত্রপাল

জৈত্রপাল বা জয়তুণি (আনুমানিক ১১৯১-১২১০ খ্রি) কাকতীয় সিংহাসনে নিজ মনোনীত ব্যক্তিকে স্থাপন করে যাদব বংশের প্রভাব বিস্তার করেন। তিনি সোলাঙ্কি বংশের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন।

যাদব বংশের রাজা সিংঘন

  • (১) তার পুত্র সিংঘন (আনুমানিক ১২১০-১২৪৭ খ্রি) এই বংশের শ্রেষ্ঠতম শাসক ছিলেন। তিনি হোয়সলরাজ দ্বিতীয় বীরবল্লালকে পরাজিত করে কৃষ্ণা নদীর পরপারে রাজ্যবিস্তার করেন। বাঘেলা রাজাদের শাসনকালে তিনি একাধিকবার গুজরাট আক্রমণ করেছিলেন।
  • (২) তিনি কোহলাপুরের শিলহর রাজ্যটি জয় করেন। তিনি মালব ও ছত্রিশগড়ের (মধ্যপ্রদেশে অবস্থিত) শাসকগণ, গোয়ার কদম্ব বংশ ও পাণ্ড্য রাজ্যের সাথে সাফল্যের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। তিনি কাবেরী নদীর তীরে একটি বিজয়স্তম্ভ স্থাপন করেছিলেন। তাঁর রাজত্বকালে দক্ষিণ ভারতের এক বৃহদংশে যাদব বংশের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • (৩) প্রাচীন ভারতের অন্যান্যা শ্রেষ্ঠ রাজাদের মতো সিংঘনও বিদ্যানুরাগী ছিলেন। সঙ্গীতশাস্ত্রের উপর একটি প্রামাণ্য গ্রন্থ রচয়িতা শাঙ্গ ধর এবং প্রসিদ্ধ জ্যোতির্বিদ চন্দ্রদেব তাঁর রাজসভা অলঙ্কৃত করেন। চন্দ্রদেব জ্যোতির্বিদ্যা চর্চার জন্য একটি বিদ্যালয় স্থাপন করেন।

যাদব বংশের রাজা রামচন্দ্র

ধর্মশাস্ত্র সম্বন্ধে প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রচয়িতা হেমাদ্রি এবং মারাঠী ভাষায় গীতার ভাষ্য রচয়িতা সন্ত জ্ঞানেশ্বর যাদব বংশের শেষ প্রসিদ্ধ শাসক রামচন্দ্রের (আনুমানিক ১২৭১-১৩০১ খ্রীস্টাব্দ) আনুকূল্য লাভ করেছিলেন।

যাদব বংশের সমাপ্তি

রাজা রামচন্দ্রের রাজত্বকালেই আলাউদ্দিন খলজি দেবগিরি আক্রমণ করেন। রামচন্দ্রের মৃত্যুর অল্পকাল পরেই যাদব বংশের কলঙ্কময় সমাপ্তি ঘটে।

উপসংহার :- সিংঘন সাহিত্যক্ষেত্রে যে ধারার প্রবর্তন করেন তা তার উত্তরাধিকারীদের সময়েও অব্যাহত থাকে। যাদব রাজাদের আনুকূল্য লাভ করেছিলেন এমন কয়েকজন পণ্ডিত ব্যক্তি সেই সময় কয়েকখানি কাব্যগ্রন্থ ও ধর্মগ্রন্থ রচনা করেন।

(FAQ) যাদব বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. যাদবরা কার বংশধর বলে দাবি করত?

শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব পুরুষ যদু।

২. যাদব বংশের প্রথম উল্লেখযোগ্য রাজা কে ছিলেন?

পঞ্চম ভিল্লম।

৩. যাদব বংশের শ্রেষ্ঠতম রাজা কে ছিলেন?

সিংঘন।

৪. যাদব রাজবংশের রাজধানী কোথায় ছিল?

দেবগিরি।

Leave a Comment