লোদী বংশ

দিল্লি সুলতানির লোদী বংশ প্রসঙ্গে লোদী শাসনের সম্মুখে সমস্যা, বহলুল লোদী, সিকান্দার লোদী ও ইব্রাহিম লোদী সম্পর্কে জানবো।

দিল্লি সুলতানির লোদী বংশ

বিষয়লোদী বংশ
রাজত্বকাল১৪৫১-১৫২৬ খ্রি
প্রতিষ্ঠাতাবহলুল লোদী
যোগ্যতমসিকান্দার লোদী
শেষ সুলতানইব্রাহিম লোদী
দিল্লি সুলতানির লোদী বংশ

ভূমিকা :- সৈয়দ বংশ -এর পর দিল্লীর সিংহাসনে লোদী বংশের শাসন স্থাপিত হয়। লোদীরা ছিল জাতিতে আফগান। লোদী বংশের শাসকরা মোট ৭৫ বছর রাজত্ব করেন।

লোদী শাসনের সম্মুখে সমস্যা

লোদী বংশের শাসকেরা দিল্লীতে মজবুত ও স্থায়ী শাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি। কয়েকটি বাধা লোদী শাসনকে দুর্বল করে ফেলে। যথা –

(১) প্রতিবেশী আক্রমণ

ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের স্বাধীন শাসকরা দিল্লীতে লোদী বংশের আধিপত্য মানতে চায়নি। এজন্য লোদীদের সর্বদা প্রতিবেশী আক্রমণের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হয়।

(২) বংশানুক্রমিক জাগীরদারদের বিদ্রোহ

তুঘলক বংশ ও সৈয়দ আমল থেকে যে সকল জাগীরদার বংশানুক্রমে ক্ষমতা ভোগ করত তারা দিল্লীতে কেন্দ্রীয় শক্তির দুর্বলতার সুযোগে প্রায় স্বাধীনভাবে শাসন করত। লোদী সুলতানরা কেন্দ্রীকরণের চেষ্টা করলে তারা বিদ্রোহী হয়।

(৩) আফগান অভিজাতদের বিদ্রোহ

লোদীদের সহায়ক যে সকল আফগান অভিজাত ছিল তারা ইব্রাহিম লোদীর কেন্দ্রীকরণ নীতির বিরোধিতা করে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।

লোদী বংশের প্রতিষ্ঠাতা বহলুল লোদী

  • (১) বহলুল লোদী ১৪৫১ খ্রিস্টাব্দে দিল্লীর সিংহাসনে বসেন এবং নিজ নামে খুতবা ঘোষণা করেন। তিনি রাজ্য বিস্তার করা অপেক্ষা আভ্যন্তরীণ সংগঠনের দিকেই বেশী নজর দেন। তিনি নিজ শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য আফগান সেনাপতি ও অভিজাতদের বহু জাগীর দেন এবং তাদের আনুগত্য পাওয়ার চেষ্টা করেন।
  • (২) বহলুল লোদীর সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব ছিল জৌনপুর জয়। তিনি জৌনপুরের সুলতান মহম্মদ শাহ শার্কিকে পরাস্ত করে দিল্লীর নিকটে অবস্থিত এই পরাক্রান্ত রাজ্যটি গ্রাস করেন।

লোদী বংশের সুলতান সিকান্দার লোদী

  • (১) ১৪৮৯ খ্রিস্টাব্দে বহলুল লোদীর মৃত্যু হয়। এরপর দিল্লি সুলতানির সিংহাসনে বসেন তার পুত্র নিজাম খান বা সিকান্দার লোদী। তিনি লোদী বংশের অপর উত্তরাধিকারীদের হত্যা করে তার সিংহাসন নিষ্কন্টক করেন।
  • (২) জৌনপুরের ভূতপূর্ব সুলতান হুসেন শাহ শার্কি জৌনপুরে বিদ্রোহ ঘটাবার চক্রান্ত করেন এবং জৌনপুর আক্রমণ করেন। সুলতান সিকান্দার শাহ তাকে বারাণসীর যুদ্ধে (১৪৯৪ খ্রি) পরাস্ত করে বিহারে বিতাড়ন করেন এবং বাংলার সীমান্ত পর্যন্ত তাঁকে অনুসরণ করেন।
  • (৩) সিকন্দার শাহ তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষী আফগান কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিশেষ চেষ্টা করেন। তিনি সকল কর্মচারীকে নিয়মিত হিসেবপত্র দাখিল করতে আদেশ দেন। হিসেবপত্র অথবা সুলতানের প্রাপ্য অর্থের গোলমাল হলে তিনি কঠোর শাস্তি দিতেন।
  • (৪) লোদী সুলতানদের মধ্যে সিকন্দার যোগ্যতম ছিলেন। ডঃ কে. এস. লালের মতে, “সিকন্দারের ২৯ বছরের রাজত্বকাল ছিল গৌরবে পরিপূর্ণ।” কিন্তু তিনি বহু চেষ্টা করেও আফগান আমীরদের উপজাতীয় চিন্তাধারা দূর করতে সক্ষম হন নি।

লোদী বংশের শেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদী

১৫১৭ খ্রিস্টাব্দে সুলতান সিকন্দার লোদীর মৃত্যু হলে তাঁর জোষ্ঠপুত্র ইব্রাহিম লোদী সর্বসম্মতিক্রমে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। ইব্রাহিমের কনিষ্ঠ ভ্রাতা জালাল খান জৌনপুরের শাসক নির্বাচিত হন। ইব্রাহিম দিল্লীর সিংহাসনে বসে “শাহ” উপাধি নেন।

উপসংহার :- বাবর ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধ -এ ইব্রাহিম লোদীর বাহিনীকে বিধ্বস্ত করেন। যুদ্ধে ইব্রাহিম নিহত হলে দিল্লী সুলতানির পতন হয়। বাবর দিল্লীর সিংহাসন অধিকার করেন। শুরু হয় মোগল সাম্রাজ্যের শাসন।

(FAQ) লোদী বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. লোদী বংশের রাজত্বকাল কত?

১৪৫১-১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ।

২. লোদী বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

বহলুল লোদী।

৩. লোদী বংশের যোগ্যতম সুলতান কে ছিলেন?

সিকান্দার লোদী।

৪. লোদী বংশের শেষ সুলতান কে ছিলেন?

ইব্রাহিম লোদী।

Leave a Comment