বাবর (১৫২৬-৩০ খ্রিঃ)

মুঘল সম্রাট বাবর -এর জন্ম, বংশ পরিচয়, সিংহাসনে আরোহণ, রাজ্য জয়, পানিপথের প্রথম যুদ্ধ, খানুয়ার যুদ্ধ, দিল্লি ও আগ্রা দখল, মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা, কৃতিত্ব ও তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে জানবো।

Table of Contents

বাবর (১৫২৬-৩০ খ্রিঃ)

জন্ম ১৪৮৩ খ্রিস্টাব্দ
পিতা ওমর শেখ মির্জা
মাতা কুতলগ নিগার খানুম
পরিচিতি প্রথম মুঘল সম্রাট
রাজত্ব ১৫২৬-১৫৩০ খ্রিস্টাব্দ
উত্তরসূরি হুমায়ুন
মৃত্যু১৫৩০ খ্রিস্টাব্দ
বাবর

ভূমিকা :- মুঘল সাম্রাজ্যের অভ্যুত্থান ভারতবর্ষের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এই অভ্যুত্থানের নায়ক তথা মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জহিরউদ্দিন মাহম্মদ বাবর।  

জন্ম

বাবর ১৪৮৩ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি মধ্য এশিয়ার ফরঘনা রাজ্যের অধিপতি ওমর শেখ মির্জার গৃহে জন্মগ্রহণ করেন।

বংশ পরিচয়

বাবর ছিলেন পিতা ওমর শেখ মির্জার দিক থেকে তৈমুরলঙের পঞ্চম পুরুষ এবং মাতা কুতলগ নিগম খানুম -এর দিক থেকে চেঙ্গিস খানের চতুর্দশ পুরুষ।

বাবরের নাম

জহির উদ্দিন মহম্মদ তার ডাকনাম বাবর নামেই পরিচিত ছিলেন। বাবর নামটি লোমশ জন্তু বিভার তথা উদবিড়ালের নামের ইন্দো ইউরোপীয় সংস্করণ।

ঐতিহাসিক মন্তব্য

ব্রিটিশ ঐতিহাসিক স্ট্যানলি লেনপুল বলেছেন- “এশিয়ার দুই অভিশাপ চেঙ্গিস ও তৈমুরের রক্ত বাবরের ধমনীতে মিশ্রিত হয়েছিল।”

ফরঘানার অধিপতি

১৪৯৩ খ্রিস্টাব্দে পিতার মৃত্যু হলে মাত্র ১১/১২ বছর বয়সে বাবর ট্রানসঅক্সিয়ানায় অবস্থিত ফরঘনা রাজ্যের অধিপতি হন।

নামের অর্থ

তুর্কি ভাষায় বাবর কথার অর্থ হল সিংহ বা ব্যাঘ্র।

সমরখন্দ দখল

বাবর তাঁর পূর্বপুরুষ তৈমুরের রাজধানী সমরখন্দ দখল করার স্বপ্ন দেখতেন।

  • (১) ১৪৯৬-১৫১২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সমরখন্দ জয়ের জন্য তিনি অন্তত ৫ (পাঁচ) বার চেষ্টা করেন।
  • (২) বাবর ১৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম সমরখন্দ জয়ের চেষ্টা করেন। বাবর মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে সমরখন্দ দখল করেন।
  • (৩) এই সময় সমরখন্দের শাসক ছিলেন উজবেগী সর্দার শাহেবানী খান। শাহেবানী খান শারিপুলের যুদ্ধে বাবরকে পরাজিত করেন।
  • (৪) বাবরের ভ্রাতা জাহাঙ্গির মির্জা এই সুযোগে গোটা ফরঘানা দখল করে নেন।
  • (৫) ১৫০৩ খ্রিস্টাব্দে শাহেবানী খান আর্চিয়ানের যুদ্ধে বাবরকে পরাজিত করেন এবং বাবর সমরখন্দ হারান।

কাবুল দখল

১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে বাবর কাবুল অধিকার করেন এবং আফগানিস্তানের ‘পাদশাহ’ উপাধি নেন।

কান্দাহার দখল

বাবর ১৫০৭ খ্রিস্টাব্দে কান্দাহার দখল করেন।

সমরখন্দ ও মধ্য এশিয়া জয়

বাবর উজবেগী সর্দার শাহেবানী খানের বিরুদ্ধে পারস্যের শাহ ইসমাইলকে সমর্থন করেন। ১৫১০ খ্রিস্টাব্দে মার্ভের যুদ্ধে শাহ ইসমাইল, শাহেবানী খানকে পরাজিত ও নিহত করেন। বাবর পারস্যের শাহ ইসমাইলের সাথে মিত্রতা করে সমরখন্দ ও মধ্য এশিয়া (১৫১১ খ্রিঃ) জয় করেন।  

উজবেগীদের কাছে পরাজিত

১৫১২ খ্রিস্টাব্দে গাজদাওয়ানের যুদ্ধে উজবেগীরা শাহ ইসমাইল ও বাবরকে পরাজিত করে।

ইব্রাহিম লোদির নিষ্ঠুরতা

পাঞ্জাবের শাসক দৌলত খান লোদি তাঁর পুত্র দিলওয়ার খান লোদির প্রতি দিল্লির সুলতান ইব্রাহিম লোদির নিষ্ঠুরতার জন্য প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর ছিলেন।

বাবরকে ভারত আক্রমণে আমন্ত্রণ

দৌলত খান লোদি ও দিল্লির সিংহাসনের অন্যতম দাবিদার ইব্রাহিম লোদির পিতৃব্য আলম খান লোদি বাবরকে ভারত আক্রমণের আহ্বান জানান।

প্রাথমিক অভিযান

১৫১৯-১৫২৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত চারটি প্রাথমিক অভিযান চালিয়ে বাবর ভারতের সীমান্তে তাঁর প্রবেশের পথ পরিষ্কার করেন।

পাঞ্জাব আগমন

১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি বাজাউর ও ভেরা নামক সীমান্তের স্থান অধিকার করেন। ১৫২০ খ্রিস্টাব্দে পাঞ্জাবের শিয়ালকোট পর্যন্ত অগ্রসর হন।

হিন্দুস্থান বিজয়ের যাত্রা

বাবর ১৫২৪ খ্রিস্টাব্দে লাহোর ও দীপালপুর অধিকার করেন। ১৫২৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি “হিন্দুস্তান” বিজয়ের জন্য যাত্রা করেন।

পানিপথের প্রথম যুদ্ধ

১৫২৬ খ্রিস্টাব্দের ২১ এপ্রিল দিল্লির কাছে পানিপথের প্রান্তরে ইব্রাহিম লোদি ও বাবরের মধ্যে পানিপথের প্রথম যুদ্ধ হয়। ইব্রাহিম লোদি পরাজিত ও নিহত হন।

জয়ের কৃতিত্ব

ঐতিহাসিকদের মতে বাবর পানিপথের প্রথম যুদ্ধে এবং খানুয়ার যুদ্ধ -এ তাঁর কামান ও হাত কামানের সাহায্যে জয়লাভ করেন। বাবর পানিপথের যুদ্ধে জয়লাভের কৃতিত্ব তাঁর গোলন্দাজ বন্দুক বাহিনীকে দিয়েছেন।

কোহিনূর হীরা লাভ

গোয়ালিয়রের রাজা পানিপথের প্রথম যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন এবং তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চয়তা লাভের আশায় হুমায়ূনকে একটি বড় হীরা দেন। এই হীরাটিকে বলা হত “কোহিনূর” বা আলোর পর্বত।“

কালান্দার উপাধি লাভ

বাবর পানিপথের প্রথম যুদ্ধে লুঠ করা অর্থ তাঁর সেনাপতি, আত্মীয় ও ধর্মগুরুদের মধ্যে বিতরণ করেন। এজন্য বাবর ‘কালান্দার’ উপাধি পান।

দিল্লি ও আগ্রা লাভ

পানিপথের প্রথম যুদ্ধে জয়লাভের ফলে দিল্লি ও আগ্রা পর্যন্ত অঞ্চল বাবরের অধিকারে আসে এবং গঙ্গা-যমুনা উপত্যকার দরজা বাবরের কাছে খুলে যায়।

মুঘল সাম্রাজ্য স্থাপন

বাবর (Babar) ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধের পর মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। বাবরের এই মুঘল রাজবংশ ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারত শাসন করেছিল।

নতুন যুদ্ধ কৌশল প্রয়োগ

বাবর উজবেগ ও অটোমানদের কাছ থেকে শেখা দুটি সমরকৌশল ‘তুলঘুমা’ ও ‘রুমি’ পানিপথের যুদ্ধে প্রয়োগ করেন।

  • (১) ‘তুলঘুমা’ হল অশ্বারোহী বাহিনীর দ্বারা বিদ্যুৎগতিতে শত্রুপক্ষের পার্শ্বভাগ আক্রমণ করে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া।
  • (২) ‘রুমি’ হল মূল সেনাবাহিনীর সামনে গোরুর গাড়ি, ঠেলা গাড়ি, মাটির স্তূপ ইত্যাদি দ্বারা কৃত্রিম প্রতিরক্ষা প্রাচীর তৈরি করা।

আগ্নেয়াস্ত্র পরিচালনার দায়িত্ব

বাবর উস্তাদ আলি ও মুস্তাফা নামে দুই অটোমান বিশেষজ্ঞকে আগ্নেয়াস্ত্রগুলি পরিচালনার দায়িত্ব দেন।

লাহোরে শাসনকর্তা নিয়োগ

বাবর আলাউদ্দিন নামে এক আমিরকে লাহোরের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেছিলেন।

রাজপুত রাজা রানা সঙ্গকে সাহায্য

ইব্রাহিম লোদির ভাই মামুদ লোদি, মেওয়াটরাজ হাসান খান মেওয়াটি মেবারের রানা সঙ্গ বা সংগ্রাম সিংহের পক্ষে যোগ দেন। গোয়ালিয়র, আজমির, অম্বর, চান্দেরি প্রভৃতি রাজ্যের রাজপুত শাসকগণ রানা সঙ্গকে সামরিক সাহায্য দান করেন।

মুঘল সামরিক ঘাঁটি দখল

রাজপুত ও আফগান শক্তির সাহায্যে বলীয়ান হয়ে রানা সঙ্গ প্রথমেই মুঘল সামরিক ঘাঁটি বায়ানা অধিকার করে নেন।

খানুয়ার যুদ্ধ

১৫২৭ খ্রিস্টাব্দের ১৬ মার্চ দিল্লি থেকে প্রায় ৪০ কিমি দূরে ফতেপুর সিক্রির কাছে খানুয়ায় সম্মিলিত রাজপুত বাহিনীর বিরুদ্ধে বাবর জয়যুক্ত হন।

কেন্দ্রবিন্দু দিল্লি

পানিপথের প্রথম যুদ্ধে জয়লাভ করে বাবর ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন এবং খানুয়ায় জয়লাভ করে মুঘল অধিকার সুদৃঢ় করেন। খানুয়ার যুদ্ধে জয়লাভের ফলে মুঘলদের রাজনৈতিক শক্তির কেন্দ্রবিন্দু কাবুল থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয়।  

ঐতিহাসিক রাশব্রুক উইলিয়ামস্-এর মতে “বাবর যদি খানুয়ার যুদ্ধে জয়লাভ না করতেন তাহলে পানিপথের প্রথম যুদ্ধের জয় নিষ্ফল হত”।

গাজী উপাধি ধারণ

খানুয়ার যুদ্ধের পর বাবর ‘গাজী’ উপাধি নিয়েছিলেন।

চান্দেরী দুর্গ দখল

চান্দেরি দুর্গ ছিল রাজপুতনার প্রবেশদ্বার। বাবর ১৫২৮ খ্রিস্টাব্দে মালবরাজ মেদিনী রাইয়ের কাছ থেকে চান্দেরি দুর্গ জয় করেন। তিনি চান্দেরির শাসনভার প্রাক্তন শাসক আহমদ শাহকে দেন।

গোগরা বা ঘর্ঘরার যুদ্ধ

১৫২৯ খ্রিস্টাব্দের ৬ মে বিহারের পাটনার কাছে গঙ্গা ও গোগরা বা ঘর্ঘরা নদীর সংগমস্থলে বাবর সম্মিলিত আফগান শক্তিজোটকে (বিহারের শের খান, জৌনপুরের মহম্মদ লোদি ও বাংলার নসরৎ শাহের সম্মিলিত বাহিনী) পরাজিত করেন। এই যুদ্ধ ইতিহাসে গোগরা/ঘর্ঘরার যুদ্ধ নামে পরিচিত।

সন্ধি স্থাপন

গোগরার যুদ্ধের পর মহম্মদ লোদি পালিয়ে যান। বাবরের সাথে নসরৎ শাহের এক সন্ধি হয় এবং কোশী-গণ্ডক নদী উভয় পক্ষের রাজ্যসীমা হিসাবে নির্দিষ্ট হয়। বাবর সমগ্র বিহার নিজ রাজ্যভুক্ত না করে একাংশ আফগান জালাল খানকে দেন।

মৃত্যু

১৫৩০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ ডিসেম্বর বাবর সাতচল্লিশ বছর বয়সে আগ্রায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রাশব্রুক উইলিয়াম বলেন— “বাবর তাঁর পুত্রের জন্য যে উত্তরাধিকার রেখে যান তা ছিল দুর্বল, কাঠামোহীন ও মেরুদণ্ডহীন”।

বাবরের মৃত্যুর কারণ

বাবর কিভাবে মারা যান তা নিয়ে বিভিন্ন মত প্রচলিত আছে।

  • (১) পুত্র হুমায়ুন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে পিতা বাবর তার নিজের জীবনের বিনিময়ে স্রষ্টার নিকট পুত্রের আরোগ্য কামনা করেন। ধীরে ধীরে হুমায়ুন আরোগ্য লাভ করতে থাকেন এবং বাবর পীড়িত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
  • (২) ইতিহাসবিদদের মতে, ইব্রাহিম লোদীর মা বাবরকে হত্যার জন্য বিষ প্রয়োগ করেছিলেন। সেই বিষের ক্রিয়া তার শরীরকে ধীরে ধীরে অসুস্থ করে দেয়।
  • (৩) শারীরিকভাবে প্রবল শক্তিশালী বাবর ভারতের আবহাওয়ার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না।
  • (৪) হুমায়ুননামায় গুলবদন বেগম বলেছেন, বাবর অনেক আগে থেকেই পেটের পীড়ায় ভুগতেন। এছাড়া তাকে মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতাতেও অনেক যুদ্ধে লড়তে হয়েছে।

সমাধি

প্রথমে সমাহিত করা হয় আগ্রার আরামবাগে। পরে তাঁর এই সমাধি মন্দির স্থান্তরিত করা হয় আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে। তাঁর সমাধিস্থলের নাম “গার্ডেন্স অফ বাবর” বা “বাঘ-ই-বাবর“।

কৃতিত্ব

বাবরের রণকৌশল ছিল মধ্য এশিয়ার উজবেগী ও তুর্কিদের মিশ্রণ। বাবর ১৫২৭ খ্রিস্টাব্দে খানুয়ার যুদ্ধে জয়লাভের পর স্থায়ীভাবে ভারতবর্ষে বসবাস করতে থাকেন। বাবরকে ভারতবর্ষ ও মধ্য এশিয়ার মধ্যে ‘সংযোগরক্ষাকারী বলা হয়। ড. আর. পি. ত্রিপাঠি বলেছেন “আকবরের রাষ্ট্রনীতির বীজ তাঁর প্রখ্যাত পিতামহ রোপণ করেন।”

সাহিত্য

  • (১) বাবরের আত্মজীবনী ‘তুজুক ই-বাবরী’ বা ‘বাবরনামা’ তুর্কি ভাষায় (ফার্সি) রচিত। বাবর ‘খাত-ই-বাবরী’ নামে এক নতুন তুর্কি হরফের প্রচলন করেন। তিনি ফার্সী ভাষায় “মুবাইয়ান“ নামে কাব্যগ্রন্থ লেখেন।
  • (২) আকবর -এর সময়ে আবদুর রহিম খান-ই খানান ‘বাবরনামা’/ তুজুক-ই-বাবরীর ফার্সি অনুবাদ করেন।
  • (৩) মিসেস অ্যানেট বিভারিজ বাবরনামার ইংরেজি অনুবাদ করেন।
  • (৪) বাবরের ব্যক্তিগত চরিত্রকে নিয়ে তাঁর খুড়তুতো ভাই মির্জা হায়দার “তারিখ-ই-রশিদি“ নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন।

স্থাপত্য

বাবর আগ্রায় (দিল্লি) রাজধানী প্রতিষ্ঠার সময় কনস্ট্যান্টিনোপল থেকে একজন স্থপতি নিয়ে আসেন।

  • (১) পানিপথের প্রথম যুদ্ধের স্মৃতি হিসেবে তিনি পানিপথে “কাবুলিবাগ মসজিদ“-নির্মাণ করেন।
  • (২) তিনি সম্বলপুরে (রোহিলাখণ্ডে) জাম্মা বা জমি মসজিদ এবং আগ্রাতে নির্মাণ করেন লোদী দুর্গ।

সুসম্পর্ক

পাঞ্জাবের গক্কর উপজাতি এবং অভিজাত বা বেগদের সাথে বাবরের সুসম্পর্ক ছিল। প্রসিদ্ধ কবি আলি শের নাভাই-এর সাথে বাবরের সুসম্পর্ক ছিল। এককথায় বলা যায় যে বাবর এমন কিছু পথনির্দেশ করেছিলেন যা পরবর্তী মুঘল সম্রাটদের প্রেরণা ছিল।

রাজপুত বিবাহ নীতির বীজ বপন

বাবর তাঁর দুই পুত্র হুমায়ুন ও কামরানকে মোহিনী রায়ের দুই কন্যার সাথে বিবাহ দিয়ে আকবরের রাজপুত বিবাহ নীতির বীজ বপন করেন।

প্রশংসা লাভ

হিরাটের বিখ্যাত চিত্রকর বায়জিদ বাবরের প্রশংসা অর্জন করেন।

উপসংহার :- বাবরের সাহস ও বহুমুখী প্রতিভাই দীর্ঘস্থায়ী মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তিস্থাপন করে দিয়েছিল। এই কারণে বাবরের নাম ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

(FAQ) মুঘল সম্রাট বাবর সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. বাবরের আত্মজীবনীর নাম কী?

তুজুক-ই-বাবরী।

২. বাবরের পিতার নাম কী ?

ওমরশেখ মির্জা।

৩. বাবরের মাতার নাম কী ?

কুতলগ নিগার খানুম।

৪. বাবরের পুরো নাম কী ?

মির্জা জহির উদ্-দিন মহম্মদ বাবর।

Leave a Reply

Translate »