মামুদের ভারত অভিযান

সুলতান মামুদের ভারত অভিযান প্রসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ বাহিনী, রাজ্য বিস্তার, ভারত অভিযানের কারণ, ধনরত্ন লুন্ঠন, সামরিক অভিযানের ব্যয় নির্বাহ, গজনীর শোভাবর্ধন, শাহী রাজ্য আক্রমণ, বিভিন্ন সময়ে অভিযান ও সোমনাথ লুন্ঠন সম্পর্কে জানবো।

সুলতান মামুদের ভারত অভিযান

বিষয়সুলতান মামুদের ভারত অভিযান
সুলতানমামুদ
রাজ্যগজনী রাজ্য
ভারত আক্রমণ১০০০-১০২৭ খ্রি:
সভাকবিউৎবি
সোমনাথ লুন্ঠন১০২৪-২৫ খ্রিস্টাব্দ
সুলতান মামুদের ভারত অভিযান

ভূমিকা :- সবুক্তগীনের অনুসৃত রাজ্যবিস্তার নীতি তার সুযোগ্য পুত্র সুলতান মামুদ অনুসরণ করেন। তিনি ছিলেন সাহসী সেনাপতি এবং রণকৌশলে অসাধারণ দক্ষ। তাঁর সেনাদলকে তিনি পুরো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারতেন।

ঐক্যবদ্ধ বাহিনী

আফগান, তুর্কী, আরব নিয়ে তাঁর সেনাদল গঠিত ছিল। সুলতান মামুদের নেতৃত্বের গুণে এটি একটি ঐক্যবদ্ধ বাহিনীতে পরিণত হয়।

রাজ্য বিস্তার

তিনি তাঁর পিতার কাছ থেকে গজনী ও খোরাসান পান। সুলতান মামুদ এই রাজ্য নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন নি। তিনি ভারতের বাইরে মধ্য এশিয়ার সিস্থান, খারিস্থান, খারাজম ও ঘুর রাজ্য অধিকার করেন। তবে ভারতের শস্য-শ্যামলা ভূমির দিকেই তিনি প্রধানত দৃষ্টি দেন।

ভারত অভিযানের কারণ

  • (১) সুলতান মামুদের ভারত অভিযানের কারণ সম্পর্কে তার সভার ঐতিহাসিক উৎবি বলেছেন যে, জেহাদ বা ধর্মযুদ্ধ পরিচালনা এবং নিজ ধর্মের প্রতি কর্তব্য পালন ছিল সুলতান মামুদের ভারত অভিযানের লক্ষ্য।
  • (২) উৎবির মতে বাগদাদের খলিফা সুলতান মামুদকে ইয়ামিন-উল-মুল্লাৎ এবং ইয়ামিন-উদ-দৌলা উপাধিতে ভূষিত করেন। এর ফলে তিনি সুলতান উপাধি নেন। উৎবি বলেছেন যে সুলতান মামুদের অভিষেকের সময় খলিফার প্রতিনিধি তাঁকে ভারত আক্রমণ করে ইসলাম ধর্ম প্রচারের আদেশ দেন। এজন্য তিনি ভারত আক্রমণে উৎসাহ দেখান।
  • (৩) উৎবির এই মন্তব্যের উপর নির্ভর করে কোনো কোনো আধুনিক ঐতিহাসিক বলেন যে, ইসলাম ধর্মের বিস্তার, দার-উল-হারবকে দার-উল ইসলাম বা পবিত্র ইসলামের দেশে পরিণত করার জন্যই সুলতান মামুদ ভারত অভিযান করেন। কিন্তু উৎবির মন্তব্যের যথার্থতা প্রমাণিত হয় না। কারণ, সুলতান মামুদ ভারতীয় হিন্দুদের ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করার কোনো চেষ্টা করেন নি।
  • (৪) অধ্যাপক জাফরের মতে, তিনি যদি হিন্দু মন্দির ভেঙে থাকেন তার কারণ ছিল মন্দিরগুলিতে সঞ্চিত ধনরত্নের লোভ। অধ্যাপক হ্যাভেলের মতে, তিনি যে ভাবে কনৌজ, মথুরা ও সোমনাথ লুঠ করেছেন সেই ভাবে দরকার হলে তিনি মুসলিম নগর বা বাগদাদ লুঠ করতে পারতেন।
  • (৫) সুলতান মামুদ কেবলমাত্র জনবহুল নগর ও সমৃদ্ধিশালী মন্দিরগুলি ধনরত্নের লোভে আক্রমণ করেন। ইসলামের প্রচার তাঁর উদ্দেশ্য হলে তিনি অন্য ব্যবস্থা নিতেন। অধ্যাপক হাবিব এজন্য বলেছেন যে “Mahmud was no missionary, conversion was not his object”। মামুদ কোনো ধর্ম প্রচারের আদর্শ নেননি। ধর্মান্তর করা তার উদ্দেশ্য ছিল না।

ধনরত্ন লুন্ঠন

সুলতান মামুদের ভারত অভিযানের কারণ হিসেবে অধিকাংশ ঐতিহাসিক ভারতের ধনরত্ন লুঠ করার লোভ বলে মনে করেন। যুগ যুগ ধরে ভারতের বিভিন্ন রাজকোষে, মঠে ও মন্দিরে বহু অর্থ জমা হয়েছিল। সুলতান মামুদ এই অর্থ লুঠ করার লক্ষ্য নিয়ে বার বার ভারত অভিযান করেন।

সামরিক অভিযানের ব্যয় নির্বাহ

কোনো কোনো ঐতিহাসিক বলেন যে মধ্য এশিয়ায় সাম্রাজ্য স্থাপনের সামরিক অভিযানের বিরাট ব্যয় নির্বাহ করতে সুলতান মামুদ ভারত থেকে ধনরত্ন লুঠ করে নিয়ে যান। ভারতে স্থায়ী রাজ্য স্থাপনের জন্য তিনি বিশেষ কোনো চেষ্টা করেন নি। সুলতান মামুদ পশ্চিম এশিয়ার ইরাক ও মধ্য এশিয়ার কাম্পিয়ান হ্রদ পর্যন্ত রাজ্য বিস্তার করেন। এই রাজ্য জয় ও যুদ্ধবিগ্রহের জন্য তার প্রভূত অর্থের দরকার হয়।

গজনীর শোভাবর্ধন

গজনী নগরীকে তিনি নানা হৰ্মা, মসজিদ, খানকার দ্বারা সুশোভিত করেন। ভারত থেকে আনা অর্থ দ্বারা তিনি এই সকল কাজ করেন। সুতরাং ভারতের সম্পদ লুণ্ঠন ছিল তাঁর অভিযানের মুখ্য উদ্দেশ্য।

মেহতার অভিমত

ডঃ জে. এল. মেহতার মতে মুসলিম জগৎ থেকে ভারত অভিযানের জন্য সৈন্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি ভারতে জেহাদের জিগীর তোলেন। আসলে ভারতে ইসলামের প্রসারের জন্য তার বিশেষ মাথা ব্যথা ছিল না।

শাহী রাজ্য আক্রমণ

  • (১) একথা স্বীকার্য যে, হিন্দু শাহী রাজ্যের সঙ্গে গজনীর সংঘাত আলপ্তগীনের আমল থেকে শুরু হয়েছিল। সবুক্তগীনের আমলে জয়পালের সঙ্গে তার তীব্র যুদ্ধ হয়। সবুক্তিগীনের পুত্র সুলতান মামুদ উত্তরাধিকার সূত্রে শাহী রাজ্যের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।
  • (২) যেহেতু অন্যান্য রাজপুত রাজ্য ছিল শাহী রাজ্যের পক্ষে এজন্য এই রাজ্যগুলিকেও তিনি আক্রমণ করেন। শাহী রাজ্য সহজে জয় করার পর ভারতের ভেতর অভিযান চালাবার পথ তার কাছে খুলে যায়। তাছাড়া বিজেতা হিসেবে কীর্তি লাভের উচ্চাকাঙ্খাও তার মনে স্থান পেয়েছিল।
  • (৩) তিনি পাঞ্জাব ও মুলতান নিজ গজনী রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন। উত্তর ভারতের অবশিষ্ট অঞ্চল তিনি একটু চেষ্টা করলেই নিজ রাজ্যভুক্ত করতে পারতেন। কিন্তু সেজন্য তিনি চেষ্টা করেননি। আসলে ধনরত্ন লুণ্ঠন ও বিজয় গৌরব লাভ ছিল তাঁর লক্ষ্য।

বিভিন্ন সময়ে অভিযান

হেনরী এলিয়টের মতে, সুলতান মামুদ ১৭ বার ভারতে অভিযান করেন। কিন্তু এই ১৭টি অভিযানের বিস্তৃত বিবরণ জানা যায়নি। মানুদের ১২টি অভিযানের কথা বিশেষভাবে জানা যায়। এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অভিযানগুলির কথা উল্লেখ্য। তার এই অভিযানগুলি ১০০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১০২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত চলে।

প্রথম অভিযান

১০০০ খ্রিস্টাব্দে সুলতান মামুদ তার প্রথম অভিযান দ্বারা শাহী রাজ্যের সীমান্তের কিছু অঞ্চল ও কয়েকটি দুর্গ অধিকার করেন।

দ্বিতীয় অভিযান

  • (১) পর বৎসর ১০০১ খ্রিস্টাব্দে সুলতান মামুদ এক বিরাট সেনাদলসহ শাহী জয়পালকে আক্রমণ করেন। জয়পাল পিছু হঠে পেশোয়ারের নিকটে এক যুদ্ধ করেন। ঐতিহাসিক Clifford Edmund Bosworth এর মতে সুলতান মামুদের সেনাদলে ১০ হাজার গাজী ছিল।
  • (২) গাজী হল জেহাদে উন্মত্ত অবৈতনিক শ্রেষ্ঠ সৈনিক। এরা ছিল ভয়ানক দুদ্ধর্ষ ও প্রতিহিংসাপরায়ণ। লাহোরের যুদ্ধে জয়পাল সপরিবারে বন্দী হন। ২৫টি হাতি ও ২ লক্ষ দিনার মুক্তিপণ দিয়ে এবং রাজ্যের কিছু অঞ্চল ছেড়ে দিয়ে সুলতান মামুদের কারাগার থেকে জয়পাল মুক্তি পান।
  • (৩) তাকে যথেষ্ট অপমান করা হয়, তার গায়ের অলঙ্কারগুলিও কেটে নেওয়া হয়। জয়পাল নিজ রাজ্যে ফিরে এসে এই অপমানের জন্য আগুনে ঝাপ দিয়ে প্রাণত্যাগ করেন। এর পর তাঁর পুত্র আনন্দপাল শাহী রাজ্যের সিংহাসনে বসেন।

সিন্ধু জয়

১০০৫ খ্রিস্টাব্দে সুলতান মামুদ পাঞ্জাবের ভেরা রাজ্য আক্রমণ করেন। ভেরার রাজা বাজীরাও পরাজিত হয়ে আত্মহত্যা করেন। এর পর সুলতান মামুদ আবু-ফৎ-দাউদকে পরাস্ত করে সিন্ধুদেশের মূলতান রাজ্য অধিকার করেন। সুলতান মামুদ ভেরা ও মূলতান নিজ রাজ্যভুক্ত করেন।

আনন্দপালের পরাজয়

  • (১) ১০০৯ খ্রিস্টাব্দে সুলতান মামুদ পুনরায় ভারত অভিযান করেন। সুলতান মামুদের মূলতান অভিযানের সময় শাহী আনন্দ পাল তাঁর পথ অবরোধ করেন। এজন্য সুলতান মামুদ তাঁকে শাস্তি দিতে প্রতিজ্ঞা নেন।
  • (২) আনন্দপাল অন্যান্য রাজপুত রাজাদের সঙ্গে জোট বেঁধে মামুদকে আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নেন। আনন্দপালের মিত্র রাজ্যগুলির মধ্যে ছিল আজমের, দিল্লী, কনৌজ, কালিঞ্জর ও গোয়ালিয়র। কাশ্মীরের উপজাতি খোক্করগণও আনন্দপালের পক্ষ নেন।
  • (৩) ভারতীয় সেনা জোট বিরাট উদ্দীপনা নিয়ে সুলতান মামুদকে বাধা দানের জন্য প্রস্তুত হয়। কিন্তু উন্দের যুদ্ধে আনন্দপাল সুলতান মামুদের হাতে শোচনীয়ভাবে পরাস্ত হলে ভারতের দরজা গজনী বাহিনীর কাছে খুলে যায়। মামুদের বিরুদ্ধে ভারতীয় রাজাদের জোট পরাস্ত হলে হিন্দু রাজাদের মনোবল ভেঙ্গে পড়ে।
  • (৪) পলায়মান ভারতীয় সেনার পিছু নিয়ে মামুদ প্রায় ৮ হাজার সেনাকে হত্যা করেন। অতঃপর তিনি নগরকোট বা কাংড়া লুঠ করেন। মুসলিম ঐতিহাসিকদের মতে নগরকোট থেকে সুলতান মামুদ ৭ লক্ষ স্বর্ণমুদ্রা ও কয়েক মণ সোনা-রূপা লুঠ করেন।
  • (৫) নগরকোটের মন্দির ও নগর থেকে ধনবত্ন পাওয়ার পর সুলতান মামুদ ভারতের সঞ্চিত ধনরত্নের সন্ধান পান। এর ফলে তাঁর মনে লুণ্ঠন প্রবৃত্তি জেগে ওঠে। আনন্দপাল মামুদের সঙ্গে এক সন্ধির দ্বারা সিন্ধু ও পশ্চিম পাঞ্জাবে সুলতান মামুদের আধিপত্য মেনে নেন।
  • (৬) আনন্দপাল নান্দনে তাঁর রাজধানী সরিয়ে নিতে বাধ্য হন। ১০১২ খ্রিস্টাব্দে আনন্দপালের মৃত্যু হলে তাঁর পুত্র ত্রিলোচন পাল পিতার সিংহাসনে বসেন। কিন্তু সুলতান মামুদের আক্রমণে ত্রিলোচন পাল কাশ্মীরে আশ্রয় নেন। নান্দন সুলতান মামুদের অধিকারে আসে।
  • (৭) সুলতান মামুদ শাহী শক্তিকে ধ্বংস করার জন্য এরপর ত্রিলোচন পাল ও তাঁর পুত্র ভীমপালের বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেন। এর ফলে শেষ পর্যন্ত হিন্দু শাহী রাজ্যের চূড়ান্ত পতন ঘটে।

থানেশ্বর আক্রমণ

হিন্দু শাহী রাজ্যের পতন হলে সুলতান মামুদ সহজে ভারতের ভেতরে ঢুকে পড়েন। ১০১৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি থানেশ্বর আক্রমণ করে চক্রস্বামী মন্দির লুঠ করেন। এই মন্দির হতে তিনি বহু ধনরত্ন নিয়ে যান।

মথুরা লুন্ঠন

এর পর তিনি কাশ্মীর আক্রমণের চেষ্টা করেন। ১০১৮ খ্রিস্টাব্দে সুলতান মামুদ গঙ্গা-যমুনা উপত্যকায় অভিযান চালান। এই বারের অভিযানে তাঁর লক্ষ্য ছিল মথুরা ও কনৌজ নগরী। মথুরার রাজা কুলচাঁদকে পরাস্ত করে মামুদ ২০ দিন ধরে মথুরা লুঠ করেন। মথুরায় কয়েক হাজার মন্দির ও দেব-বিগ্রহ তিনি লুঠ করেন। মথুরার বিরাট পরিমাণ সোনা, রূপা, মূল্যবান পাথর ও নগদ টাকা লুঠ করেন।

কনৌজ আক্রমণ

এরপর তিনি কনৌজের দিকে এগিয়ে আসেন। কনৌজের রাজ্যপাল প্রতিহার তাঁকে বাধাদানে ব্যর্থ হন। রাজ্যপাল প্রতিহার বিনা যুদ্ধে পালিয়ে যান। কনৌজ লুঠ করে মামুদ প্রভুত ধন-সম্পদ লাভ করেন। রাজ্যপাল মামুদের প্রতি বশ্যতা জানালে মামুদ তাকে সামন্ত রাজা হিসেবে রাজ্য ফিরিয়ে দেন।

রাজ্যপালের পতন

কনৌজের প্রতিহার রাজ্যপাল বিনা যুদ্ধে মহম্মদের কাছে আত্ম-সমর্পণ করায় অন্যান্য রাজপুত রাজারা হতাশা বোধ করেন। কারণ কনৌজ ছিল উত্তর ভারতের এক প্রধান রাজ্য। চান্দেল্লরাজ গণ্ড এজন্য এক জোট গড়ে রাজ্যপালকে পরাজিত ও নিহত করেন।

চান্দেল্ল রাজ্য লুট

মামুদ চান্দেল্লরাজকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ১০১৯ খ্রিস্টাব্দে ভারত অভিযান করেন। গণ্ড যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যান। মামুদ চান্দেল্ল রাজ্য লুঠ করেন এবং কালিঞ্জর দুর্গ অবরোধ করেন। চান্দেল্ল রাজা গণ্ডের পুত্র বিদ্যাধর শেষ পর্যন্ত মামুদের বশ্যতা স্বীকার করেন এবং তাকে ৩০০ হাতি নজরানা দেন। সুলতান মামুদ বিদ্যাধরকে মাত্র ১৫টি দুর্গ ব্যবহার করতে দেন।

সোমনাথ লুন্ঠন

  • (১) ১০২৪-২৫ খ্রিস্টাব্দে সুলতান মামুদ গুজরাটের সোমনাথ মন্দির লুঠের জন্য একটি অভিযান পরিচালনা করেন। সোমনাথ মন্দির ছিল গুজরাটের কাথিয়াবাড়ের সমুদ্র তীরে। এই মন্দিরের শিবলিঙ্গ ছিল হিন্দুদের কাছে খুবই জাগ্রত দেবতা।
  • (২) শত শত বৎসর ধরে সোমনাথের মন্দিরে বিরাট সম্পদ জমা হয়েছিল। বিগ্রহের ওপর এক মহামূল্য হীরা ও রত্নখচিত চন্দ্রাতপ ছিল। মন্দিরের ঘন্টাটি বাজাবার শিকলগুলিও সোনার তৈরি ছিল। মন্দিরে অসংখ্য পুরোহিত, দেবদাসী ও অগণিত ভক্তের সমাবেশ হত।
  • (৩) সুলতান মামুদ মূলতানের ভেতর দিয়ে সোমনাথ অভিমুখে এগিয়ে আসেন। আনহিলবার্ডের চালুক্য রাজা ভীম ও প্রতিবেশী হিন্দু রাজারা মন্দির রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। তাদের প্রবল বাধার ফলে সুলতান মামুদের প্রথম চেষ্টা বিফল হয়।
  • (৪) তিনি দ্বিতীয় যুদ্ধে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করে সোমনাথ মন্দির লুঠ করেন। মন্দির ও বিগ্রহটি ধ্বংস করা হয়। দুই কোটি দিনার, বহু অলঙ্কার, হীরা ও রত্ন খচিত চন্দ্রাতপ, সোনা ও রূপার তৈরি সিংহাসন প্রভৃতি মহামূল্য সম্পদ নিয়ে সুলতান মামুদ গজনীতে ফিরে যান।

উপসংহার :- দেশে ফেরার পথে জাঠরা মামুদকে বাধাদানের চেষ্টা করে। এজন্য ১০২৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি জাঠদের বিরুদ্ধে একটি অভিযান করে জাঠ জাতির বহু নর-নারীকে হত্যা করেন। এটিই ছিল মামুদের সর্বশেষ ও উল্লেখ্য অভিযান।

(FAQ) সুলতান মামুদের ভারত অভিযান সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. সুলতান মামুদ কখন ভারত আক্রমণ করেন?

১০০০-১০২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।

২. সুলতান মামুদ কতবার ভারত আক্রমণ করেন?

১৭ বার।

৩. সুলতান মামুদ সোমনাথ মন্দির লুন্ঠন করে কখন?

১০২৪-২৫ খ্রিস্টাব্দে।

৪. “সুলতান মামুদ ছিলেন বড়মাপের লুঠেরা বা দস্যু” কে বলেছেন?

ঐতিহাসিক স্মিথ।

৫. সুলতান মামুদের সভাকবি কে ছিলেন?

উৎবি।

৬. শাহনামা কার লেখা?

ফিরদৌসী।

Leave a Reply

Translate »