রামপ্রসাদ

মেবারের মহারানা প্রতাপ সিংহের হাতি রামপ্রসাদ প্রসঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে রামপ্রসাদ, বুদ্ধিমান ও চতুর, প্রভুর দ্বারা প্রশিক্ষিত, তলোয়ার যুদ্ধে রামপ্রসাদ, শত্রু শিবিরে ভয় সৃষ্টি, মানসিংহের নির্দেশ, বদায়ুনের বর্ণনা, আকবরের সামনে হাজির, রামপ্রসাদের নাম পরিবর্তন, রামপ্রসাদের পিঠে চড়ার ইচ্ছা, রামপ্রসাদের দেখাশোনা, অভুক্ত রামপ্রসাদ, অত্যাচার ও প্রভূর মতোই তার গর্ববোধ সম্পর্কে জানবো।

রামপ্রসাদ

প্রজাতিহাতি
বংশমেবারি
নামরামপ্রসাদ
রাজ্যমেবার
প্রভুমহারানা প্রতাপ সিংহ
যুদ্ধহলদিঘাটের যুদ্ধ
বন্দীআকবরের বাহিনী
রামপ্রসাদ

ভূমিকা:- মহারানা প্রতাপের হাতির নাম ছিল রামপ্রসাদ। রামপ্রসাদ ছোটবেলা থেকেই মহারানা প্রতাপের সঙ্গে ছিলেন। তিনি মেবারের সমস্ত হাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত হন।

যুদ্ধক্ষেত্রে রামপ্রসাদ

যুদ্ধের সময় কোনো মাহুত রামপ্রসাদকে নিয়ন্ত্রণ করতেন না। তিনি একা একা যুদ্ধ করতেন।

বুদ্ধিমান ও চতুর

মেবারি হাতিদের মধ্যে রামপ্রসাদ ছিলেন অত্যন্ত চতুর ও বুদ্ধিমান। রামপ্রসাদ এতই বুদ্ধিমান ছিলেন যে তাঁকে কোনো নির্দেশ দেওয়ার জন্য কোনো মাহুতের প্রয়োজন ছিল না।

প্রভূর দ্বারা প্রশিক্ষিত

রামপ্রসাদের বীরত্ব ও প্রজ্ঞা থেকে বোঝা কঠিন ছিল না যে তিনি অবশ্যই তাঁর প্রভুর দ্বারা অত্যন্ত প্রশিক্ষিত ছিলেন।

তলোয়ার যুদ্ধে রামপ্রসাদ

কথিত আছে যে রামপ্রসাদের কাণ্ডে 85 কেজি ওজনের একটি তলোয়ার বাঁধা ছিল।এর ফলস্বরূপ তিনি অনেক হাতি ও ঘোড়াকে ছিঁড়ে ফেলতেন।

শত্রু শিবিরে ভয় সৃষ্টি

হলদিঘাটির যুদ্ধে রামপ্রসাদ একাই আকবরের বাহিনীর ১৩টি হাতি মেরেছিলেন। তার সাহসিকতা শত্রু শিবিরে অনেক ভয়ের সৃষ্টি করে।

মানসিংহের নির্দেশ

শত্রু শিবিরে এমনই ভয় ছিল যে মান সিংহ তার সৈন্যদের শুধুমাত্র রামপ্রসাদ এবং মহারানা প্রতাপকে বন্দী করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

বদায়ুনীর বর্ণনা

  • (১) হলদিঘাটের যুদ্ধের প্রত্যক্ষ দর্শক বদায়ুনী লিখেছেন যে তিনি এমন দৃশ্য কখনও দেখেননি যেখানে একটি হাতি মাহুত ছাড়া যুদ্ধ করছে।
  • (২) এই হাতির সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তা দেখে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন কেন আকবর রামপ্রসাদকে জীবিত বন্দী করতে চেয়েছিলেন।
  • (৩) তিনি আরও লিখেছেন যে রামপ্রসাদকে বন্দী করার জন্য তারা সাতটি হাতির একটি চক্রব্যূহের আয়োজন করেছিল যাতে মোট ১৪ জন মাহুত বসেছিল। তখনই তারা রামপ্রসাদের পা লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে সক্ষম হয়।

আকবরের সামনে হাজির

রামপ্রসাদকে বন্দী করার পর আকবরের সামনে তাকে হাজির করা হয়। আকবর, হাতির উচ্চতা এবং আকার দেখে অবাক হয়ে যান।

রামপ্রসাদের নাম পরিবর্তন

আকবর আদেশ দেন যে এখন থেকে রামপ্রসাদ তার ব্যক্তিগত হাতি হবেন এবং রামপ্রসাদের নাম পরিবর্তন করে পীরপ্রসাদ রাখলেন।

রামপ্রসাদের পিঠে চড়ার ইচ্ছা

তিনি তার লোকদের আদেশ দেন রামপ্রসাদের যত্ন নিতে এবং হাতির পিঠে রাজকীয় গাদ্দি বসাতে। এক সপ্তাহ পর রামপ্রসাদের পিঠে চড়ে বেড়াতে যাবেন।

রামপ্রসাদের দেখাশোনা

রাজকীয় আদেশ পেয়ে সবাই রামপ্রসাদকে দেখাশোনা করতে লাগল। কেউ তাকে আখ খাওয়াতে লাগল, কেউ তার জন্য তরমুজ ও কলা এনে দিল এবং কেউ তাকে জল দিল।

অভুক্ত রামপ্রসাদ

রামপ্রসাদ কিছু খেতে এমনকি জল পান করতে অস্বীকার করেন। তিনি অনুভব করতে পারেন যে তিনি শত্রুর রাজ্যে আছেন। তিনি শুধু অপেক্ষা করতেন মহারানা প্রতাপ আসবেন এবং তাঁর মাথায় আদর করবেন। তাই তিনি একটানা প্রাসাদের প্রধান ফটকের দিকে তাকিয়ে থাকতেন।

অত্যাচার

তিনি যখন তিন দিন কিছু খাননি তখন আকবর তার লোকদের জোর করে খাওয়ানোর নির্দেশ দেন।তারপরও তিনি কিছুনা খেলে আকবর তার লোকদের অগ্নিসংযোগ করার নির্দেশ দেন। এইভাবে ১৮ দিন ধরে অত্যাচারের পর তিনি মেঝেতে পড়ে যান এবং তার মৃত্যু হয়।

প্রভূর মতোই গর্ববোধ

পশু হওয়া সত্ত্বেও তিনি মুঘলদেরকে তার পিঠে রাজকীয় গদ্দি রাখতে দেননি। তিনিও তার গুরু মহারানা প্রতাপের মতো তার গর্ব ত্যাগ করেননি।

উপসংহার:- রামপ্রসাদের ব্যবহার দেখে মোগল সম্রাট আকবর মাথায় হাত রেখে দুঃখের সাথে বলেন আমি তো মহারানার হাতিকেও আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করতে পারিনি, তাহলে আমি কীভাবে মহারানা প্রতাপকে আমার সামনে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করব?

(FAQ) রামপ্রসাদ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. মহারানা প্রতাপ সিংহের শ্রেষ্ঠ হাতির নাম কি?

রামপ্রসাদ।

২. কোন যুদ্ধে রামপ্রসাদ মোগল বাহিনীর হাতে বন্দী হয়?

হলদিঘাটের যুদ্ধ।

৩. রামপ্রসাদের মৃত্যু হয় কোথায়?

বন্দী অবস্থায় আকবরের রাজপ্রাসাদে।

Leave a Reply

Translate »