গুপ্ত যুগ পর্যন্ত বাংলার ইতিহাস

গুপ্ত যুগ পর্যন্ত বাংলার ইতিহাস প্রসঙ্গে গঙ্গাদেশ ও প্রাচী, মৌর্য যুগে বাংলা, শুঙ্গ যুগে বাংলা, শুঙ্গ পরবর্তী যুগে বাংলা ও কুষাণ যুগে বাংলা সম্পর্কে জানবো।

গুপ্ত যুগ পর্যন্ত বাংলার ইতিহাস

বিষয় গুপ্ত যুগ পর্যন্ত বাংলার ইতিহাস
স্থান বাংলা বা বঙ্গদেশ
রাজ্য গঙ্গাহৃদি ও প্রাচী
রাজধানী গঙ্গে ও মগধ
গুপ্ত যুগ পর্যন্ত বাংলার ইতিহাস

ভূমিকা :- চতুর্থ খ্রিস্ট পূর্ব থেকে বাংলার ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়। আলেকজাণ্ডারের ঐতিহাসিকদের বিবরণে সর্বপ্রথম বাংলা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়।

গঙ্গাদেশ ও প্রাচী

  • (১) গ্ৰিক ঐতিহাসিকদের রচনায় গঙ্গারিডাই ও প্রাসোয়াই (Gangaridai and Prasioi) নামে দুই রাজ্যের কথা জানা যায়, যার রাজা সেনাদল নিয়ে আলেকজাণ্ডারকে বাধা দিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। কার্টিয়াস, প্লুটার্ক প্রমুখ বলেছেন যে, গঙ্গারিডাই হল গঙ্গার পূর্বদিকের দেশ। গঙ্গারিডাই হল সংস্কৃত গঙ্গাহৃদি শব্দের গ্রীক রূপ। গঙ্গাহৃদি বলতে বাংলাদেশ বুঝায়।
  • (২) কার্টিয়াসের মতে, নন্দ বংশীয় ধননন্দ বা এ্যাগ্রামেস প্রাচী ও গঙ্গাহৃদিতে রাজত্ব করতেন। টলেমির ভূগোল ও পেরিপ্লাস থেকে জানা যায় যে, গঙ্গাহৃদির রাজধানী ছিল গঙ্গে (Gange) এবং প্রাসোয়াইয়ের রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র। মোট কথা, প্রাসোয়াই ছিল মগধ এবং গঙ্গাহৃদি ছিল পশ্চিমবাংলা ও নিম্ন বাংলা।
  • (৩) এই দুই রাজ্যের মধ্যে কি সম্পর্ক ছিল তা সঠিক জানা যায়নি। প্লুটার্ক দুই দেশের আলাদা রাজার কথা বলেছেন। কিন্তু কার্টিয়াসের মতে, ধননন্দ বা এ্যাগ্রামেস ছিলেন উভয় অঞ্চলের অধিপতি। যাই হোক, গ্রীক লেখকদের বিবরণ থেকে একথা মনে করা যায় যে, আলেকজাণ্ডারের আক্রমণের সময় গঙ্গাহৃদিতে একটি শক্তিশালী জাতি বাস করত।

মৌর্য যুগে বাংলা

  • (১) মৌর্য যুগে বাংলাদেশ মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। দিব্যবদান নামক বৌদ্ধ গ্রন্থ হতে ও হিউয়েন সাঙের বিবরণ হতে জানা যায় যে, বাংলায় মৌর্য শাসন স্থাপিত হয়েছিল। নন্দ বংশের পর চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য নন্দ সাম্রাজ্য অধিকার করলে স্বভাবতই বাংলায় মৌর্য শাসন স্থাপিত হয়।
  • (২) হিউয়েন সাঙ বাংলায় অশোকের বহু স্তূপ দেখেন। ব্রাহ্মীলিপিতে খোদিত মহাস্থানগড় লিপি আবিষ্কৃত হওয়ার পর বাংলায় মৌর্য শাসন সম্পর্কে অনেকটা নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেছে। কারণ মৌর্য-রাজারাই ব্রাহ্মী লিপি ব্যবহার করতেন।

শুঙ্গ যুগে বাংলা

মহাস্থানগড়ে শুঙ্গ যুগের কয়েকটি পোড়ামাটির মূর্তি এবং নোয়াখালিতে কয়েকটি মূর্তি ও শিলালিপি থেকে জানা যায় যে, শুঙ্গ যুগে বাংলায় শান্তি ও স্থিতি ছিল। পুণ্ড্রবর্ধন নগরের সমৃদ্ধি অব্যাহত ছিল।

শুঙ্গ পরবর্তী যুগে বাংলা

শুঙ্গ যুগের পরেও বাংলার শান্তি ও সমৃদ্ধির কথা জানা যায়। বাংলা এই সময় বেশ শক্তিশালী রাজ্য ছিল বলে টলেমি বলেছেন। এর রাজধানীর নাম ছিল গঙ্গা বা গঙ্গে। টলেমির মতে, তাম্রলিপ্তের দক্ষিণ-পূর্বে গঙ্গে নগরী অবস্থিত ছিল। এখানে সূক্ষ্ম মসলিন তৈরি হত। এই নগরের কাছে সোনার খনি ছিল। ডঃ নীহাররঞ্জন রায়ের মতে, বাংলার সুবর্ণবীধি ও সুবর্ণগ্রামের উল্লেখ থেকে মনে হয় বাংলায় সোনার খনি ছিল।

কুষাণ যুগে বাংলা

বাংলাদেশ কুষাণ সাম্রাজ্যের অন্তর্গত সম্ভবত ছিল না। তবে কুষাণ সাম্রাজ্যের সঙ্গে বাংলার ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক যোগ ছিল। বাংলার মহাস্থানগড়ে ও তাম্রলিপ্তে কুষাণ স্বর্ণমুদ্রার প্রাপ্তি এই কথা প্রমাণ করে।

উপসংহার :- কুষাণ যুগের পর থেকে গুপ্ত যুগের সূচনা পর্যন্ত বাংলার ইতিহাস এখনও অন্ধকারে আছে। ভবিষ্যতে তথ্য পাওয়া গেলে এই অন্ধকার কোণ আলোকিত হতে পারে।

(FAQ) গুপ্ত যুগ পর্যন্ত বাংলার ইতিহাস সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. কোন সময় থেকে বাংলার ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়?

চতুর্থ খ্রিস্ট পূর্ব থেকে।

২. গ্ৰিক ঐতিহাসিকদের রচনায় বাংলায় কোন দুটি রাজ্যের কথা জানা যায়?

গঙ্গারিডাই ও প্রাসোয়াই।

গঙ্গাহৃদির রাজধানী কোথায় ছিল?

পাটলিপুত্র।

গঙ্গে প্রাসোয়াইয়ের রাজধানী কোথায় ছিল?

পাটলিপুত্র।

Leave a Reply

Translate »