কুষাণ যুগের ঐতিহাসিক উপাদান

কুষাণ যুগের ঐতিহাসিক উপাদান প্রসঙ্গে চীনা রচনাবলী, ভারতীয় উপাদান, আর্মেনীয় উপাদান, প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান, মুদ্রা ও স্থাপত্য সম্পর্কে জানবো।

কুষাণ যুগের ঐতিহাসিক উপাদান

বিষয় কুষাণ যুগের ঐতিহাসিক উপাদান
সাম্রাজ্য কুষাণ সাম্রাজ্য
প্রতিষ্ঠাতা কুজুল কদফিসেস
শ্রেষ্ঠ রাজা কণিষ্ক
শেষ রাজা দ্বিতীয় বাসুদেব
কুষাণ যুগের ঐতিহাসিক উপাদান

ভূমিকা :- কুষাণ যুগের ঐতিহাসিক উপাদানগুলি ব্যাকট্রিয়, শক ও পার্থিয়দের অপেক্ষা বহুল পরিমাণে পাওয়া যায়। গবেষকদের মতে, কুষাণ যুগের যে উপাদানগুলি পাওয়া গেছে তার দ্বারা কুষাণ যুগের পূর্ণ ইতিহাস রচনা করা সম্ভব হয়নি। কুষাণ যুগের ইতিহাসে এখনও বহু অসমাধিত সমস্যা আছে।

চীনা রচনাবলী

  • (১) কুষাণ যুগে ইতিহাস রচনার জন্য চীনা ঐতিহাসিকদের রচনা থেকে বহু মূল্যবান তথ্য পাওয়া যায়। চৈনিক তথ্যগুলি নির্ভরযোগ্য। এর সন, তারিখগুলি মূল্যবান।
  • (২) চৈনিক ইতিহাসের মধ্যে (ক) পান-কু রচিত প্রথম হ্যান বংশের ইতিহাস, (খ) ফ্যান-ই রচিত পরবর্তী হ্যান বংশের ইতিহাস বা হৌ-হান-সু, (গ) মা-তোয়ান-লিন রচিত বিশ্বকোষ, (ঘ) সু-মা সিয়েন রচিত গ্রন্থ বিশেষ উল্লেখ্য।
  • (৩) গোড়ার দিকের কুষাণ রাজাদের ইতিহাস, কুষাণদের উৎপত্তি, ভারতে কুষাণ রাজ্য বিস্তার, কুষাণ রাজাদের চীনের সঙ্গে সম্পর্ক প্রভৃতি বিষয়ে মূল্যবান তথ্য চীনা উপাদান থেকে পাওয়া যায়।

ভারতীয় উপাদান

ভারতীয় ঐতিহাসিক উপাদান হিসেবে কলহনের রাজতরঙ্গিনী ও অশ্বঘোষের বুদ্ধচরিত থেকে কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া কুমারলতার কল্পনামণ্ডিকার নামও উল্লেখ্য।

আর্মেনীয় উপাদান

অধুনা আর্মেনীয় সাহিত্য ও টবরীর গ্রন্থ থেকে কুষাণ ইতিহাস সম্পর্কে উপাদান সংগ্রহ করা হচ্ছে। আফগানিস্থান ও মধ্য এশিয়ায় পাওয়া এই সকল তথ্য থেকে নতুন দৃষ্টিতে কুষাণ ইতিহাসের বিচার করা হয়।

প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান

  • (১) কুষাণ যুগের ইতিহাসের জন্য প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানও কিছু কিছু পাওয়া যায়। প্রথমে লিপি বা লেখর নাম করা যেতে পারে। ভারতের ভেতর থেকে পানজতির, পেশোয়ার পেটিকা লিপি, মথুরা লিপি প্রভৃতি বেশ কয়েকটি লিপি পাওয়া গেছে। এগুলি দ্বারা প্রধানত কণিষ্কের তারিখ ও রাজ্য সীমা নির্ণয় করা হয়।
  • (২) সম্প্রতি গবেষকরা কুষাণ যুগের ওপর বেশ কয়েকটি নতুন লিপি আবিষ্কার করেছেন, যেগুলিকে খুবই মূল্যবান বলা যায়। আফগানিস্থানের সুরাহ্ কোটালে একটি লিপি পাওয়া গেছে যার পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর থেকে জানা যায় যে, কুষাণ সম্রাটরা ব্যাকট্রিয় গ্রীক লিপিতে তাদের লেখাগুলি রচনা করেন।
  • (৩) আফগানিস্থানের দাস্ত-ই-নাবুর লিপি থেকে বিম কফিসেসের রাজত্বকালের ওপর নতুন করে আলোকপাত করা গেছে। এই লিপির একটি ভাগ ব্যাকট্রিয় ভাষায়, অপর ভাগ প্রাকৃতে রচিত। তৃতীয় ভাগের ভাষা ও লিপি এখনও পড়া যায় নি।
  • (৪) কণিষ্কের কামরা লিপি থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, কণিষ্ক ছিলেন কুজুল কদফিসেসের বংশের লোক।

মুদ্রা

  • (১) কুষাণ মুদ্রাগুলির ঐতিহাসিক মূল্য সকল গবেষক স্বীকার করে থাকেন। ডঃ রায়চৌধুরীর মতে, কুষাণ যুগের কালপঞ্জী কুষাণ মুদ্রার সাহায্য ছাড়া তৈরি করা সম্ভব নয়। কুষাণ মুদ্রাগুলি থেকে তাদের ধর্ম বিশ্বাস, রোমান সাম্রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছে।
  • (২) এছাড়া কুষাণ সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি সম্পর্কেও মুদ্রা থেকে ধারণা করা যায়। এখন কুষাণ মুদ্রাগুলির ভাষা সম্পর্কে গবেষকরা জেনেছেন যে, এই মুদ্রাগুলির অধিকাংশে গ্রীক বা ব্যাকট্রিয় লিপি ও মধ্য ইরাণীয় ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

স্থাপত্য

কুষাণ যুগের স্তূপ, বিহার, প্রাসাদগুলির ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে কুষাণ যুগের সভ্যতা, স্থাপত্য কলা, ধর্ম বিশ্বাস সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা করা সম্ভব হয়েছে।

উপসংহার :- উপরের উপাদানগুলির যুক্তিপূর্ণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যবহার দ্বারা কুষাণ যুগের ইতিহাস রচিত হয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে রুশ গবেষকদের চেষ্টায় কুষাণ ইতিহাসের উপর বহু নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। তার আলোকে কুষাণ ইতিহাসের ইদানীং পূর্ণ মূল্যায়ণ করা হয়েছে।

(FAQ) কুষাণ যুগের ঐতিহাসিক উপাদান সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. কুষাণরা কোন জাতির শাখা?

ইউ-চি জাতির।

২. ভারতে কুষাণ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে?

কুজুল কদফিসেস।

৩. কুষাণ সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ সম্রাট কে?

কণিষ্ক।

৪. কুষাণ সম্রাট কণিষ্কের রাজধানী কোথায় ছিল?

পুরুষপুর বা পেশোয়ার।

Leave a Reply

Translate »