কুষাণ জাতির পরিচয়

কুষাণ জাতির পরিচয় প্রসঙ্গে পশ্চিম দিকে যাত্রা, উ সুন জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ, দুই শাখা, যুদ্ধে পরাজয়, রাজ্য স্থাপন, ব্যাকট্রিয়া অধিকার, পাঁচ শাখায় বিভক্তি ও কুই শুয়াং বা কুষাণ সম্পর্কে জানবো।

কুষাণ জাতির পরিচয়

বিষয় কুষাণ জাতির পরিচয়
সাম্রাজ্য কুষাণ সাম্রাজ্য
প্রতিষ্ঠাতা কুজুল কদফিসেস
শ্রেষ্ঠ রাজা কণিষ্ক
শেষ রাজা দ্বিতীয় বাসুদেব
কুষাণ জাতির পরিচয়

ভূমিকা :- চীনা ঐতিহাসিক সু-মা-শিয়েন ও পান-কুর রচনা থেকে জানা যায় যে, কুষাণরা ছিল যাযাবর ইউ-চি জাতির শাখা। এই ইউ-চি জাতি আদিতে খ্রিস্ট পূর্ব দ্বিতীয় শতকে পশ্চিম চীনের কানসু ও নিং-শিয়া প্রদেশে বসবাস করত। সম্ভবত তারা এই সময় যাযাবর যোদ্ধা জাতি ছিল।

পশ্চিম দিকে যাত্রা

১৬৫ খ্রিস্ট পূর্বে হিউং-নু (হুণ) নামে এক উপজাতি এসে তাদের এই বাসস্থান থেকে বিতাড়িত করে যাযাবর জীবন গ্রহণে বাধ্য করে। চীন থেকে বিতাড়িত হয়ে ইউ-চি জাতি পশ্চিম দিকে যাত্রা করে।

উ-সূন জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ

পশ্চিম দিকে যাত্রার পথে ইউ-চি জাতি তাকলামাকান বা গোবি মরুভূমির উত্তরে চলে আসে এবং উ-সুন নামে এক প্রতিদ্বন্দ্বী জাতির সম্মুখীন হয়ে তারা এই গোষ্ঠীর রাজা বা নেতাকে যুদ্ধে নিহত করে। এর পর তারা ইসিককুলের হ্রদের তীরে উপনীত হয় ।

দুই শাখা

  • (১) ইসিককুল অঞ্চল থেকে ইউ-চি জাতির একটি শাখা মূল গোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দক্ষিণ দিকে যাত্রা করে। এই বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীর নাম হয় ক্ষুদ্র ইউ-চি। এরা তিব্বত সীমান্তে বসবাস করে।
  • (২) ইউ-চি জাতির মূল শাখার নাম হয় তা-ইউ-চি বা বৃহৎ ইউ-চি। এই শাখা আরও পশ্চিমে এগিয়ে শিরদরিয়া নদের উপত্যকায় চলে আসে। এই স্থান থেকে তারা শক জাতিকে বিতাড়িত করে বসবাস করে।

উসুন জাতির কাছে পরাজিত

শিরদরিয়া উপত্যকায় ইউ-চি জাতি বেশি দিন বসবাস করতে পারেনি। উ সুন জাতি হিউংনু বা হুণদের সাহায্য নিয়ে তাদের এই স্থান থেকে বিতাড়িত করে।

রাজ্য স্থাপন

গৃহচ্যুত ইউ-চি জাতি আরও পশ্চিমে এগিয়ে অক্ষু বা আমুদরিয়া নদের তীরে আসে। এই স্থান থেকে তারা শকদের পুনরায় বিতাড়িত করে। এরপর ইউ-চি জাতি সগড়িয়ানা ও তাহিয়া অধিকার করে তাদের রাজ্য স্থাপন করে।

ব্যাকট্রিয়া অধিকার

  • (১) তা-হিয়া বলতে ব্যাকট্রিয়া বুঝায় বলে পণ্ডিতেরা অভিমত দিয়েছেন। ইউ-চি জাতি ব্যাকট্রিয়া কাদের কাছ থেকে জয় করে তা নিয়ে মতভেদ আছে। আগে মনে করা হত যে, ইউ-চিরা শকদের বিতাড়িত করে ব্যাকট্রিয়া দখল করেছিল।
  • (২) কিন্তু পান-কুর গ্রন্থে শকদের নাম না থাকায় অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেন। ডঃ বি. এন. মুখার্জীর মতে, ব্যাকট্রিয়া তখনও ইন্দো-গ্রীকদের অধিকারে ছিল। ১৩০-১২৯ খ্রিস্ট পূর্বের মধ্যে এই অঞ্চল থেকে ইন্দো-গ্রীকদের বিতাড়ন করে ব্যাকট্রিয়া ইউ-চিরা অধিকার করে।

পাঁচ শাখায় বিভক্তি

প্যান-কু ও ফ্যান-ই উভয়ের রচনা থেকে জানা যায় যে, ব্যাকট্টিয়ায় বসবাসের পর ইউ-চিরা তাদের যাযাবর জীবন ত্যাগ করে। কিন্তু ইউ-চি জাতি একতা হারিয়ে পাচটি শাখায় বিভক্ত হয়ে যায়।

কুই-শুয়াং বা কুষাণ

এই পাঁচ শাখার মধ্যে একটির নাম ছিল কুই-শুয়াং বা কুষাণ। ডঃ মুখার্জীর মতে, গোড়ার দিকে এই পাঁচ শাখা মূল ইউ-চি জাতির অধীনে ছিল। মিয়াওস নামে এক কৃষাণ শাসনকর্তার মুদ্রা পাওয়া যায়। তাকেই এখন প্রথম স্বাধীন কুষাণ রাজা বলে মনে করা হয়। মুদ্রা ছাড়া আর কোন তথ্য তার সম্পর্কে জানা যায় নি।

উপসংহার :- কুষাণদের প্রকৃতভাবে মুক্ত করেন কুজুল কদফিসেস। খ্রিস্ট পূর্ব ৩০ নাগাদ কুই-শুয়াং বা কুষাণ শাখার নেতা কুজুল কদফিসেস তাঁর স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পূর্বে কুজুল কদফিসেস ছিলেন কুষাণ শাখার যাবগু বা শাসনকর্তা।

(FAQ) কুষাণ জাতির পরিচয় সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. কুষাণরা কোন জাতির শাখা?

ইউ-চি জাতির।

২. ভারতে কুষাণ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে?

কুজুল কদফিসেস।

৩. কুষাণ সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ সম্রাট কে?

কণিষ্ক।

৪. কুষাণ সম্রাট কণিষ্কের রাজধানী কোথায় ছিল?

পুরুষপুর বা পেশোয়ার।

Leave a Reply

Translate »