আইহোল শিলালিপি

বাদামির চালুক্য সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ সম্রাট দ্বিতীয় পুলকেশীর রাজত্বকালে রচিত আইহোল শিলালিপির প্রাপ্তিস্থান, রচয়িতা, রচনাকাল, রেকর্ড ও অনুবাদ, প্রশস্তি, কালিদাস প্রসঙ্গ, সম্পাদনা ও প্রকাশ, লিপির বর্ণনা, পৃষ্ঠপোষক রাজার তুলনা, কালিদাস ও ভারবির শ্লোক গ্ৰহণ, পূর্ববর্তী লেখকদের কৃতিত্ব প্রদান, কিলহর্ণের অভিমত, স্যালোমনের অভিমত, ইতিহাসের উপাদান ও হর্ষ-পুলকেশী দ্বন্দ্বের বিবরণ সম্পর্কে জানবো।

আইহোল শিলালিপি

উপাদানপাথর
ভাষাসংস্কৃত
লেখকরবিকীর্তি
সময়কাল৬৩৪-৩৫খ্রিস্টাব্দ
স্থানআইহোল, কর্ণাটক
আইহোল শিলালিপি

ভূমিকা:- সংস্কৃত ভাষায় রচিত উনিশ লাইন সমৃদ্ধ একটি শিলালিপি হল আইহোল শিলালিপি। এটি আইহোল প্রশস্তি নামেও পরিচিত।শিলালিপিটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং দূষিত।এর শেষ দুটি লাইন পরবর্তী তারিখে যোগ করা হয়েছেবলে মনে করা হয়।

প্রাপ্তিস্থান

কর্ণাটকের আইহোল শহরের দুর্গা মন্দির এবং প্রত্নতাত্ত্বিক যাদুঘরের প্রায় ৬০০ মিটার দক্ষিণ-পূর্বে পাহাড়ের চূড়ায় মেগুতি জৈন মন্দিরে এই শিলালিপি পাওয়া যায়।

রচনাকাল

এই শিলালিপিটি ৬৩৪-৩৫ খ্রিস্টাব্দে জৈনকবি রবিকীর্তি তাঁর পৃষ্ঠপোষক রাজা বাদামির চালুক্য রাজবংশের দ্বিতীয় পুলকেশীর সম্মানে রচনা করেছিলেন।

রেকর্ড ও অনুবাদ

১৮৭০ এর দশক থেকে শিলালিপিটি বেশ কয়েকবার রেকর্ড করা হয়েছিল, ফ্লিট, কিলহর্ন এবং অন্যান্যদের দ্বারা সংশোধিত, পুনঃপ্রকাশিত এবং পুনরায় অনুবাদ করা হয়েছিল।

প্রশস্তি

শিলালিপিটি সাধারণত পশ্চিম চালুক্যদের জন্য একটি প্রশস্তি। এর ঐতিহাসিক বিবরণ পুরাণেরসাথেমিশ্রিত।এটি যে পাণ্ডিত্যপূর্ণ মতবিরোধ সৃষ্টি করেছে তার জন্য এটি উল্লেখযোগ্য।

কালিদাস প্রসঙ্গ

মহাকবি কালিদাসের মতো রাজনৈতিক ঘটনা এবং সাহিত্য স্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হল আইহোল প্রশস্তি।

সম্পাদনা ও প্রকাশ

ফ্লিটই প্রথম ১৮৭৬ সালে আইহোল শিলালিপির একটি ফটো লিথোগ্রাফ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।  ত্রুটির কারণে দ্বিতীয়বার পরিদর্শন করে ফ্লিট একটি উন্নত ফটো লিথোগ্রাফ প্রকাশ করে।

লিপির বর্ণনা

  • (১) শিলালিপিতে পুরানো কন্নড় চালুক্য লিপিতে সংস্কৃতের ১৯টি লাইন রয়েছে। এটি মেগুতি মন্দিরের পূর্ব বাইরের প্রাচীরের একটি অংশ হিসাবে একটি পাথরের উপর স্থাপন করা হয়েছে, যার পাঠ্যটি প্রায় ৪.৭৫ ফুট বাই ২ ফুট পৃষ্ঠ জুড়ে রয়েছে।
  • (২) অক্ষরগুলির উচ্চতা ০.৫ থেকে ০.৬২ ইঞ্চি। শৈলীগত পার্থক্য দেখে মনে করা হয় যে, ১৮ তম এবং ১৯ তম পংক্তিগুলি পরে যোগ করা হয়েছে, এগুলি রবিকীর্তির নয়।
  • (৩) ইহোল শিলালিপিটি সংস্কৃত ভাষায়, পুরোটাই শ্লোকে, ধ্রুপদী ছন্দ ব্যবহার করে। ১৭ টি মূল লাইনে ৩৭ টি পদ রয়েছে। লিপি পর্যবেক্ষণ করে মনে করা হয় যে রবিকীর্তি শাস্ত্রীয় সংস্কৃত ঐতিহ্যে ভালভাবে প্রশিক্ষিত ছিলেন।

পৃষ্ঠপোষক রাজার তুলনা

শিলালিপিটি একটি প্রশস্তি। এটি পৌরাণিক কাহিনী লিপিবদ্ধ করে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে।লেখক তার পৃষ্ঠপোষক রাজা দ্বিতীয় পুলকেশীকে কিংবদন্তির সাথে তুলনা করেছেন এবং নিজেকে তুলনা করেছেন শ্রেষ্ঠ সংস্কৃত কবি কালিদাস এবং ভারবির সাথে, যারা হিন্দু ঐতিহ্যে সম্মানিত।

কালিদাস ও ভারবির শ্লোক গ্ৰহণ

আইহোল শিলালিপিতে রবিকীর্তি কালিদাসের রঘুবংশ এবং ভারবির কিরাতার্জুনিয়ম গ্ৰন্থের বেশ কয়েকটি শ্লোক এই লিপিতে ব্যবহার করেছেন।

পূর্ববর্তী লেখকদের কৃতিত্ব প্রদান

রবিকীর্তি নিজের কৃতিত্বের জন্য তার পূর্ববর্তী কালিদাস,ভারবির মতো লেখকদের কৃতিত্ব দিয়েছেন তার আইহোল শিলালিপিতে এবং পরোক্ষভাবে নিজেকে তাদের মতো ভাল বলে অভিহিত করেছেন।

কিলহর্নের অভিমত

লিপি বিশারদ কিলহর্নের মতে শিলালিপিটি অতিরঞ্জন হলেও সংস্কৃতের বিশুদ্ধতা এবং অলংকার শাস্ত্রে রবিকীর্তির রচনার কাব্যিক বিকাশ দেখায় যে তিনি তাঁর সময়ের সভাকবি ও প্রশস্তি লেখকদের মধ্যে একেবারে অগ্রগণ্য ছিলেন।

স্যালোমনের অভিমত

রিচার্ড স্যালোমনের মতে, এলাহাবাদ শিলালিপি এবং দেওপাড়া শিলালিপিও অন্যান্য অনেক প্রারম্ভিক সংস্কৃত শিলালিপির মতোই আইহোল শিলালিপি তার ব্যাকরণগত শুদ্ধতা এবং সাহিত্যের দিক থেকে অসাধারণ।

ইতিহাসের উৎস

ষষ্ঠ এবং সপ্তম শতাব্দীতে দাক্ষিণাত্য ও ভারতীয় ইতিহাসের একটি উৎস উপাদান হল আইহোল শিলালিপি।

হর্ষ-পুলকেশী দ্বন্দ্বের বর্ণনা

রাজা হর্ষবর্ধন -এর উপর দ্বিতীয় পুলকেশীর বিজয় কাহিনী আইহোল শিলালিপিতে বর্ণিত হয়েছে। ভারতে আসা চীনা তীর্থযাত্রী হিউয়েন সাঙ -এর লেখায় এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

উপসংহার:- অতিরঞ্জিত হলেও চালুক্য রাজা দ্বিতীয় পুলকেশীর রাজত্বকালের ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য উপাদান ছিল তার সভাকবি রবিকীর্তি রচিত ”আইহোল শিলালিপি”।

(FAQ) আইহোল শিলালিপি সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. আইহোল প্রশস্তি কে রচনা করেন?

রবিকীর্তি।

২. আইহোল প্রশস্তিতে কোন রাজার কথা জানা যায়?

চালুক্য রাজা দ্বিতীয় পুলকেশী।

৩. রবিকীর্তি কে ছিলেন?

চালুক্য বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা দ্বিতীয় পুলকেশীর সভাকবি।

Leave a Reply

Translate »