অদিতি

বৈদিক যুগের অন্যতম বিদেশী নারী অদিতি প্রসঙ্গে তার পরিচিতি, অদিতি কর্তৃক ঋকবেদের ঋক রচনা, বামদেবের অবাধ্যতা দূরীকরণে অদিতির মন্ত্র রচনা, অদিতি কর্তৃক কবিত্বপূর্ণ মন্ত্র রচনা, কশ্যপ মুনির শরণাপন্ন অদিতি, অদিতির গর্ভে বামনরূপে বিষ্ণুর জন্ম ও অদিতি পুত্র বামনের কাহিনী সম্পর্কে জানবো।

বৈদিক যুগের অন্যতম বিদেশী নারী অদিতি

ঐতিহাসিক চরিত্রঅদিতি
পরিচিতিদেবগণের মাতা
স্বামীকশ্যপ মুনি
পুত্রদেবরাজ ইন্দ্র
খ্যাতিঋগ্বেদ সংহিতার মন্ত্র রচনা
বামনঅবতার বিষ্ণু
বৈদিক যুগের অন্যতম বিদেশী নারী অদিতি

ভূমিকা :- পুরাণ ও বৈদিক যুগের অন্যতম বিদুষী নারী ছিলেন অদিতি। ঋকবেদ সংহিতার মন্ত্র রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।

অদিতির পরিচিতি

পুরাণের মতে অদিতি কশ্যপ মুনির  পত্নী ও ইন্দ্রাদি দেবগণের মাতা, আর তার সপত্নী দিতি দৈত্যগণের মাতা।

অদিতি কর্তৃক ঋকবেদের ঋক রচনা

ইন্দ্র মাতা অদিতি ঋকবেদ-সংহিতার চতুর্থ মণ্ডলের অষ্টাদশ সূক্তের পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম ঋক বা মন্ত্র রচনা করেছিলেন।

বামদেবের অবাধ্যতা দূরীকরণে অদিতির মন্ত্র রচনা

অদিতি ইন্দ্রদেবের মাতা হিসেবে বেদে উল্লিখিত আছে। বামদেব ঋষি অদিতির পুত্র। বামদেব মাতার পার্শ্বদেশ ভেদ করে উৎপন্ন হবেন মনে করেছিলেন। তাঁর জননী অদিতি তা জানতে পেরে ইন্দ্রদেব, তাঁর পত্নী ও ইন্দ্রের মাতার ধ্যান করেছিলেন। অদিতি দেবী কয়েকটি মন্ত্র রচনা করে বামদেবের অবাধ্যতা দূর করতে পেরেছিলেন। এই অষ্টাদশ সূক্তে ইন্দ্র, অদিতি এবং বামদেব – এই তিনজনের মধ্যে কথোপকথন হওয়ায় এরা তিনজনে এই সূক্তের ঋষি ও দেবতা।

অদিতি কর্তৃক কবিত্বপূর্ণ মন্ত্র রচনা

অদিতি বিরচিত ঋকের মন্ত্রগুলি অতি সুন্দর কবিত্বপূর্ণ। ষষ্ঠ শ্লোকে তিনি বলছেন অ-ল-লা এইরূপ শব্দ করতে করতে জলবতী নদীরা হৰ্ষসূচক শব্দ করতে করতে গমন করছে। হে ঋষি! তুমি এদেরকে জিজ্ঞাসা কর যে তারা কি বলছে। জলসমূহ আবরক কোন মেঘকে ভেদ করে ? অর্থাৎ জল মেঘকে ভঙ্গ করে না, ইন্দ্রই মেঘকে বিনাশ করেন, নদীরা তাই বলছে।

কশ্যপ মুনির শরণাপন্ন অদিতি

দেবতাদের মধ্যে ও দৈত্যদের মধ্যে সম্প্রীতি একেবারেই ছিল না। হিরণ্যকশিপুর বিষ্ণুভক্তিপরায়ণ পুত্র প্রহ্লাদের পুত্র বিরোচনের পুত্র দৈত্যরাজ বলি বিশ্বজিৎ নামক এক যজ্ঞ সম্পাদনের ফলে স্বর্গরাজ্যের উপরও অধিকার লাভ করেছিলেন। তার ফলে দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হতে হল। দেবতারা নিরুপায় হয়ে মাতা অদিতির নিকট শোক প্রকাশ করলেন, তখন অদিতি পুত্রদের দুঃখ-ক্লেশে একান্ত ম্রিয়মাণা হয়ে প্রভূ কশ্যপ মুনির শরণাপন্ন হলেন।

অদিতির গর্ভে বামনরূপে বিষ্ণুর জন্ম

কশ্যপ বলেন “তুমি কঠোর পয়োব্রত উদ্‌যাপন পূর্বক বিষ্ণুর আরাধনা কব।” অদিতি তাই করলেন। তাঁর কঠোর তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে বিষ্ণু কৃপাপরবশ হয়ে তাঁর গর্ভে বামনরূপে জন্মগ্রহণ করেন।

অদিতি পুত্র বামনের কাহিনী

  • (১) বামনের যখন উপনয়ন সময় উপস্থিত হল, তখন বামন ব্রতভিক্ষা প্রার্থীরূপে দৈত্যরাজ বলির নিকট উপস্থিত হলেন। বলি জিজ্ঞাসা করেন – “তোমার প্রার্থনা কি বল? বামন বলেন “আমি আপনার নিকট ত্রিপাদভূমি মাত্র প্রার্থনা করছি।”
  • (২) বলি এই সামান্য ভিক্ষা তৎক্ষণাৎ পূরণ করতে প্রবৃত্ত হইলেন, কিন্তু এই সময়ে আশ্চর্য ঘটনা ঘটে গেল। বামনরূপী ভগবান বিষ্ণু এবার তাঁর খর্বাকৃতিকে বিশালতর করলেন। তাঁর তিনটি চরণ, একপদে পৃথিবী, দ্বিতীয় পদে স্বর্গ ও শরীর দ্বারা আকাশের গ্রহ, নক্ষত্র, চন্দ্র, সূর্য প্রভৃতি আবৃত করে ফেললেন। তখন বলি মহা বিপদে পড়লেন।
  • (৩) স্বর্গ গেল, মর্ত্য গেল, সকলই যখন অধিকার করলেন, বামনের তৃতীয় পদের জন্য কোন স্থানই অবশিষ্ট রইল না। অথচ বলি বামনের নিকট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তাঁকে ত্রিপাদভূমি দান করবেন, কিন্তু ভূমি কোথায় ? তাঁর যে আর কিছুই নেই ! তখন বিপন্ন বলি বুঝতে পারলেন যে, শ্রী ভগবান বামনরূপে তাঁকে ছলনা করতে এসেছেন।
  • (৪) বলি তখন বিনীত ভাবে করুণ কণ্ঠে বললেন, প্রভু! আমি ত সবই দিয়েছি, এক্ষণে আমার মস্তকমাত্র অবশিষ্ট আছে, আপনার তৃতীয় পদ আমার মস্তকে স্থাপন করুন। বামন তাই করলেন। বলি স্বৰ্গ ও মর্ত্য উভয়ই দান করেছেন, কাজেই স্বর্গমর্ত্যে আর তাঁর কোন অধিকার রইল না। বাধ্য হয়েই তাঁকে পাতালে গমন করতে হল। আবার দেবতারা স্বর্গরাজ্যের অধিকারী হলেন।

উপসংহার :- বৈদিক যুগের নারী ঋষি অদিতির সাথে পৌরাণিক কালের অদিতির এই গল্পের মধ্যে কতটা সত্য নিহিত আছে তা অনুমান করা বিশেষ কঠিন নয়। পুরাণের অনেক কাহিনী এইরূপ ভাবে বৈদিক সামান্য আখ্যানটিকে আশ্রয় করে গড়ে উঠেছে।

(FAQ) বৈদিক যুগের অন্যতম বিদেশী নারী অদিতি সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. পুরাণ অনুযায়ী অদিতি কে ছিলেন?

দেবরাজ ইন্দ্রের মাতা।

২. অদিতির স্বামী কে ছিলেন?

কশ্যপ মুনি।

৩. বামন রূপে বিষ্ণু কার সন্তান হিসেবে জন্মগ্ৰহণ করেন?

অদিতি।

৪. অদিতির খ্যাতির কারণ কি?

ঋকবেদ-সংহিতার চতুর্থ মণ্ডলের অষ্টাদশ সূক্তের পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম ঋক বা মন্ত্র রচনা করে অদিতি খ্যাতি অর্জন করেছেন।

অন্যান্য ঐতিহাসিক চরিত্রগুলি

Leave a Comment