মহানবমী (Maha Nabami)

দুর্গাপূজার মহানবমী (Maha Nabami) প্রসঙ্গে মহানবমীর সূচনা, দুর্গাপূজার মহানবমী, মহানবমীতে বলিদান, মহানবমীর দিনে হোম, মহানবমীতে দেবীর সিদ্ধিদাত্রী রূপের পূজা, মহানবমীতে দেবীর পূজায় সিদ্ধি লাভ, মহানবমীতে চামুণ্ডার পূজা, মহানবমীতে মন্ত্র, মহানবমীর প্রণাম মন্ত্র, মহানবমীতে কাত্যায়ণ ঋষির আশ্রমে দেবীর মহাপূজা, হোম যজ্ঞের মধ্যে মহানবমীর বিশেষত্ব, মহানবমীতে ১০৮ নীলপদ্মে পূজা, মহানবমীর নিশি, মহানবমীতে শুভ শক্তির প্রকাশ, দুর্গাপূজার অন্তিম দিন মহানবমী, মহানবমীতে প্রতীক অগ্নিদেব, মহানবমীতে শাপলা, শালুক ফুল দিয়ে পূজা, মহানবমীর পূজার মাধ্যমে সম্পদ লাভ, মহানবমীতে লোকায়ত ভাবনায় ভাবিত মন, শোভাবাজার রাজবাড়ির মহানবমীর পূজা ও মহানবমীতে পালনীয় উপায়।

মহানবমী (Maha Nabami)

উৎসবমহানবমী
ধরণধর্মীয় উৎসব
পালনকারীহিন্দু সম্প্রদায়
সংঘটনবার্ষিক
সময়কালআশ্বিন মাস
সম্পর্কিতমহালয়া, দুর্গাপূজা, অকালবোধন
মহানবমী

ভূমিকা:- আশ্বিন মাসে প্রায় দশ দিন ধরে দুর্গা পুজোর উৎসব পালিত হয়। দুর্গাপুজোর পাঁচ দিন দুর্গাষষ্ঠী বা মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী, মহানবমী এবং বিজয়া দশমী হিসেবে পরিচিত। প্রতিটি দিনের নিজস্ব অর্থ এবং তাৎপর্য আছে। অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে হয় সন্ধিপূজা। মহানবমী তিথিতেও দেবীর বিশেষ পুজো হয়।

মহানবমীর সূচনা

সন্ধিপূজা শেষ হলে শুরু হয় মহানবমী। নবমীর সন্ধ্যাবেলা, দেবীর ‘মহা আরতি’ করা হয়। মহানবমীতে বলিদান ও নবমী হোমের রীতি আছে।

দুর্গাপূজার মহানবমী

মহা নবমীকে দুর্গাপূজার তৃতীয় ও শেষ দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মহা নবমী মহাস্নান এবং ষোড়শপচার পূজা দিয়ে শুরু হয়। মহা নবমীর দিনে দেবী দুর্গাকে মহিষাসুরমর্দিনী রূপে পূজা করা হয়, যার অর্থ মহিষাসুর বিনাশকারী। মনে করা হয়, এই দিনেই দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন।

মহানবমীতে বলিদান

পশ্চিমবঙ্গের বেলুড় মঠে, নবমী পূজার দিনে কুমড়া এবং আখের প্রতীক বলি দেওয়া হয়। এই বলিদানে সাদা কুমড়ার ব্যবহার কুশমন্ড নামে পরিচিত। মনে রাখতে হবে উদয় ব্যাপিনী নবমী তিথিতে বলিদান করা উচিত। নবমীর দিনে অপহরন কাল (দিনের দশম ও দ্বাদশ তম মুহুর্তের মধ্যের সময়) বলিদান করা উচিত।

মহা নবমীর দিনে হোম

দুর্গাপূজার মহানবমীতে নবমী হোম করা হয়। নবমী পূজার পর এই হোম করা হয়। নবমী হোমকে চণ্ডী হোমও বলা হয়। দেবী দুর্গার ভক্তরা নবমী হোমের আয়োজন করে এবং সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির জন্য দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা করে। নবমী হোম সবসময় বিকেলে করা উচিত। হোমের সময় দুর্গা সপ্তশতীর ৭০০ টি মন্ত্র জপ করতে হয়।

মহানবমীতে দেবীর সিদ্ধিদাত্রী রূপের পূজা

নবমীর দিন মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে সকলের। এত আনন্দ, এত দিনের তোড়জোড় সবই শেষের পথে। যেহেতু পুজোর শেষ দিন তাই যতটা আনন্দে থাকা যায় ততই ভাল। দুর্গোৎসবের নবম দিন হওয়ার পাশাপাশি আজ নবরাত্রিরও নবম দিন। এই দিনে পুজো করা হয় দেবীর সিদ্ধিদাত্রী রূপের।

মহানবমীতে দেবীর পূজায় সিদ্ধি লাভ

  • (১) নবদুর্গার নবম তথা শেষ রূপ হল সিদ্ধিদাত্রী। এই দেবীর উপাসনায় সংসারে সুখ এবং সমৃদ্ধি আসে। দেবী সিদ্ধিদাত্রীর বাহন সিংহ। মায়ের চারটি ভুজা আছে, ডান দিকের উপরের হাতে গদা, আর নীচের হাতে চক্র এবং বাঁ দিকের উপরের হাতে কমলপুষ্প ও নীচের হাতে থাকে শঙ্খ।
  • (২) এই সিংহবাহিনী দেবীর চার হাতে আশীর্বাদী মুদ্রা। এই কারণেই তিনি মানুষের জীবনে নিয়ে আসেন সুখ ও সমৃদ্ধি। দেবীর এই রূপ সিদ্ধি দান করেন। এই কারণে হিন্দুদের বিশ্বাস, নবরাত্রির নবম দিনে এই দেবীর সঠিকভাবে পুজো করলে সর্ব প্রকারের সিদ্ধি প্রাপ্তি হয়।

মহানবমীতে দেবী চামুণ্ডার পূজা

  • (১) হিন্দু শাস্ত্রমতে মহানবমী বা দুর্গা নবমী হল আসুরিক শক্তি বধে বিজয়ের দিন। শ্রী শ্রী চণ্ডী থেকে জানা যায়, দুর্গা রুদ্ররূপ অর্থাৎ মা কালী রূপ ধারণ করে মহিষাসুর এবং তাঁর তিন যোদ্ধা চণ্ড, মুণ্ড এবং রক্তবীজকে হত্যা করেন। নবমী তিথি শুরুই হয় সন্ধিপূজা দিয়ে।
  • (২) সন্ধিপূজা হয় অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট ও নবমীর সূচনার প্রথম ২৪ মিনিট জুড়ে। মূলত দেবী চামুন্ডার পূজা হয় এই সময়ে। একশো আটটি মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে ও একশ আটটি পদ্মফুল নিবেদন করা হয় দেবীর চরণে। আর ঠিক এই কারণে পূজার মন্ত্রেও সেই বিশেষত্ব উল্লেখ করা হয়েছে।

মহানবমীর মন্ত্র

দুর্গাপূজার নবমীর মন্ত্র হল –

“কালি কালি মহাকালি কালিকে কালরাত্রিকে।

ধম্মকামপ্রদে দেবি নারায়ণি নমোস্তু তে।।

লক্ষ্মী  লজ্জে মহাবিদ্যে শ্রদ্ধে পুষ্টি স্বধে ধ্রুবে।

মহারাত্রি মহামায়ে নারায়ণি নমোস্তু তে।। 

কলাকাষ্ঠাদিরূপেণ পরিণামপ্রদায়িনি।

বিশ্বস্যোপরতৌ শক্তে নারায়ণি নমোস্তু তে।।

মহানবমীতে প্রণাম মন্ত্র

এষ সচন্দন-পুষ্পবিল্বপত্রাঞ্জলিঃ নমঃ দক্ষযজ্ঞ বিনাশিন্যে মহাঘোরায়ৈ যোগিনী কোটিপরিবৃতায়ৈ ভদ্রকাল্যৈ ভগবত্যৈ দুর্গায়ৈ নমঃ।

মহানবমীতে কাত্যায়ণ ঋষির আশ্রমে দেবীর মহাপূজা

নবমীর এই তিথিতে কাত্যায়ণ ঋষির আশ্রমে দেবীর মহাপুজোয় মেতে উঠেছিলেন দেবতারা। শাস্ত্র মতে, এই দিন তাই দেবীর পূর্ণাঙ্গ পুজো হয়। এই তিথিতেই দেবীর বলি, হোম এবং ষোড়শ উপাচারের বিধান আছে।

হোম যজ্ঞের মধ্যে মহানবমীর বিশেষত্ব

  • (১) নবমীর বিশেষত্ব যদি কিছু থাকে তা হল হোম-যজ্ঞ অনুষ্ঠানের মধ্যে। নবমীতেই মূলত হোম হয়ে থাকে, ব্যতিক্রমী নিয়মও থাকতে পারে। মূলত আটাশটি বা একশো আটটি নিখুঁত বেলপাতা লাগে। বালি দিয়ে যজ্ঞের মঞ্চ বানিয়ে বেলকাঠ ঠিকভাবে নিয়ম মতো সাজিয়ে নিতে হয়।
  • (২) পাটকাঠি দিয়ে আগুন ধরিয়ে ঘিয়ে চুবিয়ে বেলপাতাগুলো নিবেদন করা হয়। তারপর সবার শেষে একটি কলা চেলীতে বেঁধে পান দিয়ে তা ঘিয়ে চুবিয়ে পূর্ণাহুতি দেওয়া হয়। তারপর তার মধ্যে দই দেওয়া হয় ও দুধ দিয়ে আগুন নেভানো হয়।

মহানবমীতে ১০৮ নীলপদ্মে পূজা

পুরোহিতদের মতে, মহানবমীতে ভক্তদের দেওয়া ষোড়শ উপাচারের সঙ্গে ১০৮টি নীলপদ্মে পূজা হবে দুর্গাদেবীর। এছাড়া নীলকণ্ঠ, নীল অপরাজিতা ফুল ও যজ্ঞের মাধ্যমে মহানবমীর বিহিত পূজা হয় এখন।

মহানবমীর নিশি

নবরাত্রির নবমীতে দুর্গার নয়টি রূপ হিসেবে মেয়েদের পূজা করে খাওয়ানোর রীতিও আছে। হিন্দু ধর্মে দুর্গা নবমীর অনেক গুরুত্ব আছে। মহা নবরাত্রিতে দেবী দুর্গার আরাধনার অনেক গুরুত্ব আছে। যদিও সারা বছর ধরে যে উৎসবের জন্য অপেক্ষা করা হয়, তার বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দেয় এই নবমী নিশি। তাই নবমী নিশিকে সবাই ধরে রাখতে আকুতি জানায়। বাজতে থাকে একটাই সুর- “ওরে নবমী-নিশি, না হইও রে অবসান”।

মহানবমীতে শুভ শক্তির প্রকাশ

সনাতন ধর্মমতে, নবমীর পুণ্য তিথিতে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে বিশ্বে শুভ শক্তির প্রকাশ ঘটিয়েছিলেন দেবী দুর্গা।  এই সময়েই দেবী দুর্গার হাতে বধ হয়েছিল মহিষাসুর, আর রাম বধ করেছিলেন রাবণকে।

দুর্গাপূজার অন্তিম দিন মহানবমী

এই দিনেই দুর্গাপূজার অন্তিম দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ পরের দিন কেবল বিসর্জনের পর্ব। নবমীর রাতেই মূলত শেষ হয় উৎসব। এ সময় মণ্ডপে মণ্ডপে বাজে বিদায়ের ঘণ্টা।

মহানবমীতে প্রতীক অগ্নিদেব

অনেকের বিশ্বাস মহানবমীর দিন হল দেবী দুর্গাকে প্রাণ ভরে দেখে নেওয়ার ক্ষণ। এই দিন অগ্নিকে প্রতীক করে সব দেবদেবীকে আহুতি দেওয়া হয়। অগ্নি সব দেবতার যজ্ঞভাগ বহন করে যথাস্থানে পৌঁছে দিয়ে থাকেন।

মহানবমীতে শাপলা, শালুক ফুল দিয়ে পূজা

শাস্ত্র অনুযায়ী, শাপলা, শালুক ও বলিদানের মাধ্যমে দেবীর মহানবমী পূজা হবে। নানা আচারের মধ্যদিয়ে মহানবমীর পূজা শেষে যথারীতি থাকবে অঞ্জলি নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ। মূলত আজই পূজার শেষ দিন। তবে বিজয়া দশমীর দিনেও বেশকিছু আনুষ্ঠানিকতা থাকে।

মহানবমীর পূজার মাধ্যমে সম্পদ লাভ

প্রতিবছর এই নবমী তিথিতে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা ভক্তদের মাঝে আবির্ভূত হন অসুর শক্তির হাত থেকে মানুষের মুক্তি ও রক্ষা করে অসুরকে বধ ও ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য। এই নবমী পূজার মাধ্যমে মানবকুলে সম্পদ লাভ হয়।

মহানবমীতে লোকায়ত ভাবনায় ভাবিত মন

নবমী নিশীথে উৎসবের রাত শেষ হয়। নবমী রাত তাই বিদায়ের অমোঘ পরোয়ানা নিয়ে হাজির হয়। এই সব বিবেচনা করে অনেকেই মনে করেন, নবমীর দিন আধ্যাত্মিকতার চেয়েও অনেক বেশি লোকায়ত ভাবনায় ভাবিত থাকে মন।

শোভাবাজার রাজবাড়ির মহানবমীর পূজা

  • (১) কলকাতার বনেদি বাড়িগুলির অন্যতম শোভাবাজার রাজবাড়ির দুর্গাপূজা। প্রথা মেনে নবমীতে হোম, বলি, আরতি, বিশেষ পুজো শুরু হয়েছে। শোভাবাজার রাজবাড়িতে অন্নভোগের প্রচলন নেই। তার পরিবর্তে চাল, কলা, দুধ, মিষ্টি আর সন্দেশ দিয়ে দেবীকে ভোগ নিবেদন করা হয়।
  • (২) এই দিন বলি দেওয়া হয় আখ, চালকুমড়ো, মাগুর মাছ। বলির পর আরতি। এরপর অঞ্জলি। বিকেলে মিছরি, জল ও মাখন দিয়ে দেবীকে শীতল ভোগ দেওয়া হয়।  রাতে শুকনো মিষ্টি সহযোগে মিঠাই ভোগের আয়োজন করা হয়।

মহানবমীতে পালনীয় উপায়

এই তিথিতে নিম্নলিখিত উপায় গুলি পালন করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। যেমন –

  • (১) সিদ্ধিদাত্রীকে প্রসন্ন করার জন্য মহানবমীর দিনে জাফরান, চন্দনের আতর ও গাওয়া ঘি – এই তিনটি জিনিস মিলিয়ে পান পাতায় স্বস্তিক চিহ্ন অঙ্কন করা উচিত। এর পর পান পাতায় একটি সুপুরি রেখে মৌলী সুতো বেঁধে দিন।
  • (২) নবরাত্রির দিনে দুর্গার পুজোয় শৃঙ্গারের জিনিস অর্পণ করুন। মহানবমীর দিনে নিয়ম মেনে দুর্গার পুজোর পর শৃঙ্গারের জিনিস বিবাহিত মহিলাদের মধ্যে বিতরণ করে দিন। মহানবমীর দিনে দুর্গার মন্দিরে গিয়ে ৮টি পদ্মফুল তাঁর চরণে অর্পণ করুন। এর পর লাল রঙের ওড়নার কিছু কয়েন, মাখানা ও বাতাসা রেখে সেই ওড়নাটি দুর্গার কোলে রেখে দিন। মনে করা হয় এর ফলে দুর্গার বিশেষ আশীর্বাদ বজায় থাকে।
  • (৩) নবমী তিথিতে বাড়ির আগ্নেয় কোণে দেবী দুর্গার নামের প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করুন। এর পাশাপাশি জ্যোতিষ অনুযায়ী মহানবমীর দিনে দুর্গা সপ্তশতীর উত্তম চরত্রের পাঠ করুন। দুর্গার আশীর্বাদে ব্যক্তির ধন-ধান্যে বৃদ্ধি ঘটে।
  • (৪) অর্থ সংক্রান্ত সমস্যা থেকে মুক্তি লাভের জন্য গঙ্গাজল দিয়ে দুর্গাকে স্নান করান। এর পর নিয়ম মেনে দুর্গার পুজো করুন ও দুর্গা রক্ষা কবচ পাঠ করুন। এই দিন পুজোর সময় হলুদ রঙের কড়ি ও শঙ্খের পুজো করাও বিশেষ ফলদায়ী। মনে করা হয় এর ফলে লক্ষ্মী প্রসন্ন হন ও সমস্ত আর্থিক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

উপসংহার :- অষ্টমী পেরিয়ে মহানবমী। উৎসবে মুখর পুরো দেশ। তাই সকাল থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে মা দুর্গাকে দেখার ভিড়। ঢাকের তালে ধুনুচি নাচ। শারদোৎসবে শামিল নানা-ধর্ম ও বর্ণের মানুষ।

(FAQ) মহানবমী (Maha Nabami) সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. মহানবমী কোন উৎসবের সাথে জড়িত?

দুর্গোৎসব।

২. অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে কি পূজা হয়?

সন্ধিপূজা।

৩. মহানবমীর আগের দিন কি নামে পরিচিত?

মহাঅষ্টমী।

৪. মহানবমীর পরের দিন কি নামে পরিচিত?

বিজয়া দশমী।

৫. মহানবমীতে কোন ফুল দিয়ে দেবীর পূজা করা হয়?

১০৮ টি নীল পদ্ম।

Leave a Comment