শার্লামেনের চার্চ সংক্রান্ত নীতি

শার্লামেনের চার্চ সংক্রান্ত নীতি প্রসঙ্গে শার্লামেনের সময় দুটি সংস্কার, চার্চের সংস্কারক শার্লামেন, মঠের সঙ্গে যুক্ত বিদ্যালয়, চার্চে বিভিন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগের দায়িত্বে শার্লামেন, চার্চ সংস্কারের ক্ষেত্রে পণ্ডিতবর্গের ভূমিকা, শার্লামেন কর্তৃক সাম্রাজ্যকে চার্চ হিসেবে গ্ৰহণ, শার্লামেন কর্তৃক চার্চে ক্লার্জিদের নিয়োগ ও চার্চের সমস্ত বিষয়ে শার্লামেনের নজরদারি সম্পর্কে জানবো।

শার্লামেনের চার্চ সংক্রান্ত নীতি

ঐতিহাসিক ঘটনাশার্লামেনের চার্চ সংক্রান্ত নীতি
সম্রাটশার্লামেন
রাজত্বকাল৭৬৮-৮১৪ খ্রি
রাজধানীআখেন
অভিষেক৮০০ খ্রি
পোপতৃতীয় লিও
চার্চসেন্ট পিটার্স ক্যাথিড্রাল
শার্লামেনের চার্চ সংক্রান্ত নীতি

ভূমিকা :- Clark E. Cochran শার্লামেনের গীর্জা বা চার্চ সম্পর্কিত নীতি সম্পর্কে বলেছিলেন, শার্লামেনের গীর্জা বা চার্চের নীতি ক্যাথলিকদের সামাজিক চিন্তাধারার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।

শার্লামেনের সময় দুটি সংস্কার

শার্লামেনের সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল চার্চ বা গীর্জার সংস্কার। শার্লামেনের সময়কালে দুটি সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ নথি পাওয়া গিয়েছিল। এই দুটি General Admonition এবং On the cultivation of letters নামে পরিচিত ছিল। চার্চের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের স্বাক্ষরতার হার বাড়ানো, শিক্ষা এবং নৈতিকতা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল।

চার্চের সংস্কারক শার্লামেন

Charles the Great যিনি শার্লামেন নামে পরিচিত ছিলেন। ৮০০ খ্রিস্টাব্দে পোপ তৃতীয় লিওর দ্বারা তাঁর সম্রাট পদে অভিষেক হয়েছিল। শার্লামেন কেবলমাত্র সামরিক যোদ্ধা এবং শাসনকর্তাই ছিলেন না, চার্চের সংস্কারক হিসেবেও পরিচিত পেয়েছিলেন।

মঠের সঙ্গে যুক্ত বিদ্যালয়

Alcuin Paul the Dean, পিসার Peter এবং Paulinus এর মতো পণ্ডিতবর্গ তাঁকে ধর্মীয় বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দান করতেন। York, Deacon এবং ইংল্যান্ডের ধর্মীয় গুরু Alcuin যিনি শার্লামেনের আখেন নগরে অবস্থিত বিদ্যালয় পরিচালনা করতেন। তিনি মঠের সঙ্গে যুক্ত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তার বিস্তার ঘটিয়েছিলেন, যা ‘Scriptoria’ নামে পরিচিত ছিল। এখানে পাণ্ডুলিপি দেখা হত। শার্লামেনের সাম্রাজ্যে তিনি গ্রন্থাগারও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

চার্চে বিভিন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগের দায়িত্বে শার্লামেন

শার্লামেন একজন একনিষ্ঠ খ্রীস্টান হিসাবে পরিচিত ছিলেন। ধর্মীয় বিষয়ে তিনি সংস্কার করবার ক্ষেত্রে Alcuin এর সহায়তা পেয়েছিলেন। শার্লামেন বিশপদের নিয়োগ করতেন। তিনি চার্চে বিভিন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ করার অধিকার নিজের হাতেই রেখেছিলেন।

চার্চ সংস্কারের ক্ষেত্রে পণ্ডিতবর্গের ভূমিকা

Williston Walker, Richard A. Norris, David W. Lotz এবং Robert T. Handy সম্পাদিত “A History of the Christian Church” নামক গ্রন্থ থেকে শার্লামেনের চার্চের সংস্কার এর কথা জানা যায়। “An outline of Christianity the story our Civilization” এর দ্বিতীয় খণ্ড থেকে শার্লামেনের এবং তার পণ্ডিতবর্গদের সম্পর্কে জানা যায়। চার্চ সংস্কারের ক্ষেত্রে এই পণ্ডিতবর্গ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।

শার্লামেন কর্তৃক সাম্রাজ্যকে চার্চ হিসেবে গ্ৰহণ

শার্লামেনের সময়কালে খ্রীস্টানধর্ম ধর্মীয় ধারণার পরিবর্তে রাজনৈতিক ধারণার দ্বারা গড়ে উঠেছিল। শার্লামেন রাজতন্ত্রকে ধর্মীয় দপ্তর এবং সাম্রাজ্যকে চার্চ বলে মনে করতেন। শার্লামেন পুরাতন আইনের পরিবর্তে খ্রিস্টান আইন চালু করেছিলেন এবং বিশপরা আগে থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল।

শার্লামেন কর্তৃক চার্চে ক্লার্জিদের নিয়োগ

Chad J. Fr এবং D. D. Stumph মনে করেন, খ্রিস্টানবাদ বা চার্চের সংস্কারের দ্বারা শার্লামেন ফ্রাঙ্ক সাম্রাজ্যের ঐক্য বজায় রেখেছিলেন। শার্লামেন চার্চে ক্লার্জিদের নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়মানুবর্তিতা এবং আনুগত্যের উপর জোর দিয়েছিলেন। কারণ শার্লামেন চেয়েছিলেন কেবলমাত্র একনিষ্ঠ ব্যক্তিরাই ও নৈতিকতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাই চার্চের ক্লার্জি পদে নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে উপযুক্ত।

চার্চের সমস্ত বিষয়ে শার্লামেনের নজরদারি

  • (১) শার্লামেন তাঁর সাম্রাজ্যের চার্চের সমস্ত বিষয়ে দেখাশোনা করতেন। চার্চের একমাত্র শাসক হিসাবে তিনি এগুলিকে তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে মনে করতেন। তিনি বাইজান্টাইন সম্রাটদের মতো মনে করতেন যে, তিনি ঈশ্বরের প্রতিনিধি। শার্লামেনের ধর্মীয় রাজাদর্শ ছিল।
  • (২) ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসাবে তিনি চার্চের সমস্ত সদস্যকে রক্ষা করবার এবং তাদের উপর কর্তৃত্ব করার অধিকারী ছিলেন বলে মনে করতেন। তিনি চার্চের সম্পত্তি দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। চার্চের নিয়মকানুন, শিক্ষা, ধর্মীয় পদ্ধতি কি হবে তাও নির্দেশ করেছিলেন।
  • (৩) চার্চকে একটা সংগঠন রূপে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। ধর্মীয় ক্ষেত্রে শাস্তিদানের বিষয়টিও তিনি দেখাশোনা করতেন। ক্লার্জিদের পদমর্যাদার দিকটিও তিনি নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। চার্চের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণ করা এবং ক্লার্জিদের নিয়ন্ত্রণ করার ভার তার উপর ছিল।
  • (৪) চার্চ জনসাধারণের কাছ থেকে যে কর বা টাইথ আদায় করত সে ব্যাপারেও তিনি ওয়াকিবহাল ছিলেন। চার্চ সংস্কারের ক্ষেত্রে তিনি নৈতিকতার উপর জোর দিয়েছিলেন। ক্লার্জি বা চার্চের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নৈতিক অধঃপতন যাতে না হয় সেদিকেও শার্লামেন নজর দিয়েছিলেন।
  • (৫) ক্লার্জিদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হোক তা তিনি কখনোই চাইতেন না। কারণ ক্লার্জিরা হল ধর্মীয় ক্ষেত্রে উচ্চস্তরের ব্যক্তি। তাই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হলে জনগণ তা কখনোই ভালো মনে নেবে না। নৈতিক দিক থেকে চার্চের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা কোনো অপরাধমূলক কাজ যাতে না করতে পারে শার্লামেন তারও ব্যবস্থা করেছিলেন।
  • (৬) শার্লামেন মনে করতেন, ধর্মীয় ক্ষেত্রে চিন্তাধারা সবসময়েই উচ্চস্তরের হওয়া উচিত। ধর্মীয় ক্ষেত্রে ইতিবাচক কাজ করলে তার স্থান হবে স্বর্গে এবং নেতিবাচক কাজ করলে তার স্থান হবে নরকে। ঈশ্বর -এর কাছে শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-দরিদ্র প্রভৃতি বিষয়ের কোনো গুরুত্ব নেই। অপরাধ করলে তার শাস্তি হবে এটিই ছিল নিয়ম।

উপসংহার :- শার্লামেনের চার্চ নীতি নৈতিকতার দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় এর গুরুত্ব ছিল। শার্লামেনের রাজাদর্শ ধর্মীয় নীতির দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় তা তার শাসনব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করেছিল।

(FAQ) শার্লামেনের চার্চ সংক্রান্ত নীতি সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. শার্লামেনের অভিষেক অনুষ্ঠান হয় কখন?

২৫ ডিসেম্বর ৮০০ খ্রিস্টাব্দে।

২. শার্লামেনের অভিষেক করেন কে?

পোপ তৃতীয় লিও।

৩. শার্লামেনের অভিষেক অনুষ্ঠান হয় কোথায়?

সেন্ট পিটার্স ক্যাথিড্রাল।

৪. শার্লামেনের সাম্রাজ্যে ধর্মীয় ক্ষেত্রে উচ্চস্তরের ব্যক্তি কারা ছিলেন?

ক্লার্জিরা।

অন্যান্য ঐতিহাসিক ঘটনাগুলি

Leave a Comment