বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়

আজ বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয় -এর প্রতিষ্ঠা, অনুমোদন, স্বীকৃতি, বিদ্যায়তন, শিলমোহর, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীক ও নীতিকথা, শিক্ষা প্রাঙ্গণ, অধিভুক্ত কলেজ, গ্ৰন্থাগার সম্পর্কে জানবো।

বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়

প্রতিষ্ঠা২০১৪ খ্রিস্টাব্দ
প্রতীকবাঁকুড়ার ঘোড়া
নীতিবাক্যওঠো, জাগো
উপাচার্যদেবনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়
বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়

ভূমিকা :- পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া শহরের একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হল বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়

প্রতিষ্ঠা

২০১৪ সালে বাঁকুড়া জেলায় এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।

অবস্থান

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বাঁকুড়া জেলায় অবস্থিত বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়টি।

প্রথম উপাচার্য

অধ্যাপক দেবনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বপ্রথম এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিযুক্ত হন।

অনুমোদন ও স্বীকৃতি

বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয় ইউজিসি আইন, ১৯৫৬ -এর ধারা ২(এফ) -এর অধীনে স্বীকৃত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যায়তন

এই বিশ্ববিদ্যালয়টি মোট চারটি বিদ্যায়তন নিয়ে গঠিত। প্রধান বিদ্যায়তন বাঁকুড়া জেলার পুরন্দরপুরে ১৪ নং (পুরাতন ৬০ নং) জাতীয় সড়কের পাশে অবস্থিত।

বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন

বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়টি “২০১৩ সালের পশ্চিমবঙ্গ আইন ১৯” (বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১৩) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

রাজ্যপালের সম্মতি প্রকাশ

২০১৪ সালের ৬ই জানুয়ারি রাজ্যপালের সম্মতি প্রথম কলকাতা গেজেটে প্রকাশিত হয়েছিল।

সিলমোহর

এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গে সিলমোহর বা প্রতীক চিহ্ন তৈরি করা হয়।

  • (১) সিলমোহর বা প্রতীক চিহ্নে ধানের শীষ, বই-কলম, বাঁকুড়ার ঘোড়ার ছবি দৃশ্যমান।
  • (২) সিলমোহরের বাম ও ডান পাশে একটি করে মোট দুটি ধানের শীষ অবস্থান করছে। উপরের অংশে বাংলা ভাষায় “বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়” লেখা আছে, আর তার নীচে ইংরেজিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা বছর উল্লেখিত হয়েছে।
  • (৩) সিলমোহরের মধ্যভাগে উপরের অংশে বই ও কলমের ছবি এবং নীচের অংশে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা দুটি ঘোড়ার ছবি আছে। ঘোড়ার ছবি দুটি বাঁকুড়ার বিখ্যাত পোড়ামাটির ঘোড়ার শিল্পকর্মকে নির্দেশ করে।
  • (৪) সিলমোহরের নীচের অংশে ইংরেজিতে “বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়” লেখা রয়েছে এবং সবচেয়ে নীচে সংস্কৃত ভাষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি বাক্য লেখা রয়েছে।

শিক্ষাপ্রাঙ্গণ

বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট চারটি শিক্ষাপ্রাঙ্গণ বা বিদ্যায়তন বর্তমান। এই শিক্ষাপ্রাঙ্গণ চারটি হল বাঁকুড়া জেলার পুরন্দরপুর শিক্ষাপ্রাঙ্গণ, পুয়াবাগান শিক্ষাপ্রাঙ্গণ, মিথিলা শিক্ষাপ্রাঙ্গণ ও ছান্দার শিক্ষাপ্রাঙ্গণ।

সংস্থা ও প্রশাসন

এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রশাসনিক আধিকারিকদের একটি পর্ষদ দ্বারা পরিচালিত হয়। পর্ষদটি বিশ্ববিদ্যালয় ও এর অধিভুক্ত কলেজসমূহের কার্যক্রম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল পর্যবেক্ষণ করে।

প্রধান কর্মকর্তা

বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। দেবনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় হলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও বর্তমান উপাচার্য।

অধিভুক্ত কলেজ

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ২৪ টি মহাবিদ্যালয় অধিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান কিছু অধিভুক্ত মহাবিদ্যালয় বা কলেজ হল –

  • (১) বাঁকুড়া খ্রিস্টান কলেজ
  • (২) বাঁকুড়া সাম্মিলনি কলেজ
  • (৩) বাঁকুড়া জেলা সারদামণি মহিলা মহাবিদ্যাপীঠ
  • (৪) বড়জোড়া কলেজ
  • (৫) পন্ডিত রঘুনাথ মুর্মু স্মৃতি মহাবিদ্যালয়
  • (৬) শালতোড়া নেতাজি শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়
  • (৭) সোনামুখী মহাবিদ্যালয়
  • (৮) যামিনী রায় মহাবিদ্যালয়
  • (৯) পাঁচমুড়া মহাবিদ্যালয়
  • (১০) শালডিহা কলেজ

বিদ্যালয়

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ টি বিদ্যালয়ে মোট ১৩ টি বিভাগ আছে। বিদ্যালয় তিনটি হল বিজ্ঞান বিদ্যালয়, সাহিত্য, ভাষা ও সংস্কৃতি অধ্যয়ন বিদ্যালয় এবং সামাজিক বিজ্ঞান বিদ্যালয়।

(১) বিজ্ঞান বিদ্যালয়

বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে গণিত বিভাগ, পদার্থবিদ্যা বিভাগ ও রসায়ন বিভাগ

(২) সাহিত্য, ভাষা ও সংস্কৃতি অধ্যয়ন বিদ্যালয়

এই বিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে বাংলা বিভাগ, ইংরেজি বিভাগ, সংস্কৃত বিভাগ, সাঁওতালি বিভাগ।

(৩) সামাজিক বিজ্ঞান বিদ্যালয়

এই বিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে ইতিহাস বিভাগ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, দর্শন বিভাগ, শিক্ষা বিভাগ, সমাজকর্ম বিভাগ, আইন বিভাগ।

শিক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়

স্নাতক স্তরে অধ্যয়নের জন্য—কলা (বিএ) ও বিজ্ঞান (বিএসসি) শাখার শিক্ষার্থীরা তাদের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার শংসাপত্র বা সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে একাধিক কোর্সের জন্য সরাসরি আবেদন করতে পারে। শিক্ষার্থীদের তাদের প্রাপ্ত নম্বর ও উপলব্ধ আসন সংখ্যা অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করা হয়।

গ্রন্থাগার

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটি ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সহ অধিভুক্ত মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে প্রবেশের অনুমতি আছে।

  • (১) গ্রন্থাগারে ৩০০০০ -এরও বেশি মুদ্রিত বই আছে। বইয়ের সংগ্রহের মধ্যে বাংলা সাহিত্য, ইংরেজি সাহিত্য, বিশুদ্ধ বিজ্ঞান, শিল্পকলা, ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান, ভাষা ইত্যাদি বিষয়ের বিস্তৃত পরিসরের নথি রয়েছে।
  • (২) শুধুমাত্র স্কটিশ ভাষা সাহিত্যের ৮ হাজারটি বই আছে।
  • (৩) মুদ্রিত বই ছাড়াও গ্রন্থাগারে ডেলনেট, দক্ষিণ এশিয়ান আর্কাইভ ইত্যাদির প্রবেশ যোগ্যতা আছে।

(FAQ) বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে? – ২০১৪

২০১৪ সালে।

২. বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও বর্তমান উপাচার্য কে?

অধ্যাপক দেবনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

৩. বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি কথাটি কী?

उत्तिष्ठत जाग्रत (ওঠো, জাগো)।

৪. বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীক কী?

বাঁকুড়ার ঘোড়া।

Leave a Reply

Translate »