ক্রুসেডের পটভূমি বা বিভিন্ন কারণ

ক্রুসেডের পটভূমি বা বিভিন্ন কারণ প্রসঙ্গে ক্রুসেডের ধর্মীয় কারণ, ক্রুসেডের রাজনৈতিক কারণ, ক্রুসেডের অর্থনৈতিক কারণ, ক্রুসেডের সামাজিক কারণ ও ক্রুসেডের উদ্দেশ্য সমূহ সম্পর্কে জানবো।

ক্রুসেডের পটভূমি বা বিভিন্ন কারণ

ঐতিহাসিক ঘটনাক্রুসেডের কারণ
সময়কাল১০৯৬-১২৯১ খ্রি
বিবাদমান পক্ষখ্রিস্টান ও মুসলিম সম্প্রদায়
স্থানজেরুজালেম
অন্য নামধর্মযুদ্ধ
মেনজিকার্টের যুদ্ধ১০৭১ খ্রি
ক্রুসেডের পটভূমি বা বিভিন্ন কারণ

ভূমিকা :- খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক জিশুখ্রিস্টের স্মৃতিবিজড়িত স্থান জেরুজালেম তথা প্যালেস্টাইন খ্রিস্টধর্মাবলম্বী মানুষের কাছে পবিত্র ভূমি বলে পরিচিত। কিন্তু ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হজরত মহম্মদের মৃত্যুর পরবর্তীকালে খলিফা ওমর (৬৩৪-৬৪৪ খ্রি.) জেরুজালেম দখল করে নেন। ১০৭১ খ্রিস্টাব্দে মেনজিকার্টের যুদ্ধজয়ের মাধ্যমে তুর্কি মুসলিমরা জেরুজালেম সহ সমগ্র প্যালেস্টাইন দখল করে নেয়।

ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ

এরপর ইউরোপের খ্রিস্টধর্মাবলম্বী মানুষ তাদের পবিত্র ভূমি পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে তুর্কি মুসলিমদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি যুদ্ধ-অভিযানে অংশ নেয়। ১০৯৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১২৯১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় দুশো বছর ধরে চলা এই ধর্মীয় যুদ্ধ-অভিযানগুলি ক্রুসেড বা ‘ধর্মযুদ্ধ’ নামে পরিচিত।

ক্রুসেড নামকরণের কারণ

খ্রিস্টান ধর্মযোদ্ধারা তাঁদের পোশাকে লাল ‘ক্রস’ চিহ্ন এঁকে ক্রসের নামে শপথ গ্রহণ করে মুসলিমদের বিরুদ্ধে অভিযান করত বলে এই যুদ্ধের নাম হয় ‘ক্রুসেড’।

ক্রুসেডের পটভূমি বা কারণ

মুসলিমদের বিরুদ্ধে খ্রিস্টান ধর্মযোদ্ধাদের ক্রুসেডে অংশগ্রহণের পশ্চাতে বিভিন্ন কারণ ছিল। এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ গুলি।

(ক) ক্রুসেডের ধর্মীয় কারণ

ক্রুসেড সংঘটিত হওয়ারা পিছনে ধর্মীয় কারণ গুলি হল –

(১) গ্রিক চার্চের উপর আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা

গ্রিক বা পূর্বাঞ্চলীয় চার্চের সঙ্গে পশ্চিমের রোমান চার্চের বিরোধের কারণে ১০৫৪ খ্রিস্টাব্দে উভয় চার্চের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে পূর্ব ইউরোপের খ্রিস্টান জগতে রোমান চার্চের আধিপত্য বিনষ্ট হয়। পূর্বাঞ্চলীয় চার্চের ওপর আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে রোমান চার্চের হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে রোমান ধর্মগুরু পোপ দ্বিতীয় আরবান মুসলিমদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধকেই শ্রেষ্ঠ উপায় হিসেবে বেছে নেন।

(২) জেরুজালেম উদ্ধারের চেষ্টা

ক্রুসেডের অপর ধর্মীয় কারণ ছিল জেরুজালেম দখলকে কেন্দ্র করে মুসলিমদের বিরুদ্ধে খ্রিস্টানদের প্রতিশোধ গ্রহণের ইচ্ছা। তুরস্কের সেলজুক তুর্কি মুসলিমরা ১০৭১ খ্রিস্টাব্দে জিশুখ্রিস্টের স্মৃতিবিজড়িত স্থান জেরুজালেম দখল করে নেয়। এরপর থেকে তুর্কিরা জেরুজালেমে আগত খ্রিস্টান তীর্থযাত্রীদের ওপর নানাভাবে অত্যাচার চালাতে থাকে। অত্যাচারের কাহিনি কিছুটা অতিরঞ্জিত হয়ে সমগ্র ইউরোপে ছড়িয়ে পড়লে ইউরোপের খ্রিস্টানরা তুর্কি মুসলিমদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এই অবস্থায় পোপ দ্বিতীয় আরবান মুসলিমদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধের ডাক দেন।

(৩) ইসলামের ওপর আধিপত্য বিস্তারের তাগিদ

আপাতদৃষ্টিতে জেরুজালেম দখল করা খ্রিস্টান ধর্মযোদ্ধাদের লক্ষ্য হলেও পরোক্ষে ইসলামের ওপর নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করাও খ্রিস্টানদের লক্ষ্য ছিল বলে অধ্যাপক কে. আলি মনে করেন। ইসলামের অতি দ্রুত প্রসারের ফলে ইউরোপের খ্রিস্টান জগতে একধরনের আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। তাই ক্রুসেড শুরু হওয়ার আগেও উভয় ধর্মের মধ্যে এরূপ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলেছিল। খ্রিস্টীয় একাদশ শতকে পশ্চিম ইউরোপের খ্রিস্টানরা ইসলামের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করেছিল। অর্থাৎ এককথায়, ক্রুসেড হল একে অপরের ওপর আধিপত্য স্থাপনের জন্য খ্রিস্টান ও মুসলমানদের মধ্যে দীর্ঘ সংগ্রামের ফল।

(খ) ক্রুসেডের রাজনৈতিক কারণ

সমকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রুসেডে ইন্ধন যুগিয়েছিল। এক্ষেত্রে বিভিন্ন দিক গুলি হল –

(১) সামন্তপ্রথার ভূমিকা

অধ্যাপক আরনেস্ট বার্কার ইউরোপের সামন্ত ব্যবস্থাকে ক্রুসেডের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখেছেন। একাদশ শতক নাগাদ ইউরোপের সামন্তপ্রথা মানুষের কাছে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। সামন্তপ্রভুদের পুত্ররা সর্বদা, নিজেদের মধ্যে বিবাদ ও যুদ্ধে লিপ্ত থাকত। পোপ ও ধর্মযাজকরা তাদের এই যুদ্ধশক্তিকে সুকৌশলে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার সুযোগ খুঁজছিলেন।

(২) পোপ দ্বিতীয় আরবানের ভূমিকা

সেলজুক তুর্কিরা ১০৭১ খ্রিস্টাব্দে মেনজিকার্টের যুদ্ধে বাইজানটাইন সম্রাটকে পরাজিত করে তুরস্ক দখল করে নেয়। তুর্কিরা এই সময় পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে খুবই শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে বাইজানটাইন সম্রাট প্রথম আলেক্সিয়াস তুর্কিদের বিরুদ্ধে অভিযানের উদ্দেশ্যে পোপ দ্বিতীয় আরবানের কাছে সামরিক সাহায্যের আবেদন জানান। বাইজানটাইন সম্রাটের আবেদনে সাড়া দিয়ে পোপ দ্বিতীয় আরবান সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে ক্রুসেড অনিবার্য হয়ে পড়ে।

(গ) ক্রুসেডের অর্থনৈতিক কারণ

ক্রুসেড সংঘটনে অর্থনৈতিক কারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। যেমন  –

(১) ভূমধ্যসাগরীয় বাণিজ্যপথ উদ্ধারের চেষ্টা

ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ছিল পাশ্চাত্যের সঙ্গে প্রাচ্যের বাণিজ্যিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ। কিন্তু তুর্কি মুসলিমরা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করলে এই অঞ্চলের ব্যাবসাবাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ মুসলিমদের হাতে চলে যায়। ফলে ইতালি তথা পাশ্চাত্যের বণিকদের প্রাচ্যের বাণিজ্য দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইতালির ভেনিস, পিসা, জেনোয়া প্রভৃতি স্থানের বণিকরা তুর্কি মুসলিমদের কাছ থেকে কনস্ট্যান্টিনোপল ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল পুনরুদ্ধার করে প্রাচ্যের বাণিজ্যে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা শুরু করে। এই উদ্দেশ্যে তারা চতুর্থ ক্রুসেডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

(২) আর্থিক উন্নতির স্বপ্ন

এ ছাড়া ইউরোপের ধনী অভিজাতরা ক্রুসেডের মাধ্যমে আরও ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল, আর তুলনামূলকভাবে দুর্বল অভিজাতরা নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটানোর স্বপ্ন দেখেছিল। যুদ্ধের সময় যে লুঠতরাজ হয় তার দ্বারা ম্যানর-প্রভুরা তাদের আয় বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখেন।

(ঘ) ক্রুসেডের সামাজিক কারণ

ইউরোপের সামন্ততান্ত্রিক সমাজের সঙ্গে লৌহ শৃঙ্খলে আবদ্ধ দরিদ্র মানুষ ক্রুসেডের মাধ্যমে নিজেদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি এবং উন্নতির স্বপ্ন দেখত। যেমন –

(১) দাসত্ব থেকে মুক্তির স্বপ্ন

যে-কোনো ক্রুসেডের আগে প্রচার করা হত যে, ক্রুসেডে যোগদানকারী ভূমিদাসদের যুদ্ধের পর মুক্তি দেওয়া হবে। দাসত্ব থেকে মুক্তির আশায় হাজার হাজার ভূমিদাস ক্রুসেডের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়।

(২) ঋণ মুক্তির স্বপ্ন

ঋণগ্রহীতারা ঋণের ফাঁস থেকে মুক্তি বা ঋণের সুদ মুকুবের আশায় দলে দলে ক্রুসেডে অংশ নেয়।

(৩) দরিদ্রদের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন

তা ছাড়া মধ্যযুগের ইউরোপের সাধারণ দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষ জীবনের দুর্দশা ও একঘেয়েমিতে বিরক্ত হয়ে ওঠে। তাই সম্ভাব্য ক্রুসেড তাদের মনে দারুণ উৎসাহের সঞ্চার করে এবং ক্রুসেডের মাধ্যমে তারা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।

(৪) নাইটদের উদ্যোগ

মধ্যযুগে পশ্চিম ইউরোপে শিভ্যালরির আদর্শ গ্রহণ করে ‘নাইট’ নামে একশ্রেণির সুদক্ষ বীরযোদ্ধা বাহিনী গড়ে উঠেছিল। নিজ ধর্মরক্ষায় আত্মত্যাগ করতেও তারা প্রস্তুত ছিল। এই বীরযোদ্ধাদের বীরত্বকে কাজে লাগিয়ে ইউরোপের খ্রিস্টান জগৎ তুর্কি মুসলিমদের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধে জয়ের স্বপ্ন দেখত।

(৫) পোপের উগ্র বক্তৃতা

এরই মধ্যে পোপ দ্বিতীয় আরবানের প্রচার ও জ্বালাময়ী বক্তৃতা মুসলিমদের বিরুদ্ধে খ্রিস্টানদের ক্রুসেডকে অনিবার্য করে তুলেছিল। পোপ দ্বিতীয় আরবান ১০৯৫ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের ক্লেরমন্ট শহরে এক সভা ডেকে সেখানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে তীব্র উত্তেজনামূলক বক্তৃতা দিয়ে খ্রিস্টানদের উদ্দীপ্ত করে তোলেন। তিনি প্রচার করেন যে, এই ধর্মযুদ্ধে যারা যোগদান করবে তারা সকল পাপ থেকে মুক্তি পাবে এবং যারা যুদ্ধে মারা যাবে তারা স্বর্গলাভ করবে। ফলে হাজার হাজার খ্রিস্টান তাদের পবিত্র ভূমি উদ্ধারের জন্য ক্রুসেডে যোগ দেয়।

ক্রুসেডের উদ্দেশ্যসমূহ

ধর্মযুদ্ধ বা ক্রুসেডের উদ্দেশ্য ছিল নিম্নরূপ –

(ক) মূল উদ্দেশ্য

যীশুখ্রিস্টের জন্মভূমি প্যালেস্টাইনের জেরুজালেম ছিল খ্রিস্টানদের পবিত্র তীর্থস্থান। ১০৭১ খ্রিস্টাব্দে সেলজুক তুর্কিরা জেরুজালেমের দখল নেয়। তুর্কিরা খ্রিস্টানদের চার্চের পাশে মসজিদ তৈরি করে। অপরদিকে মুসলমানদের কাছে জেরুজালেম ছিল হজরত মহম্মদ, হজরত মুসা ও হজরত দাউদের স্মৃতিবিজড়িত পবিত্রভূমি। তাই খ্রিস্টান ও মুসলিম উভয় জাতিই জেরুজালেমের পবিত্রতা রক্ষায় উদ্যত হয়।

(খ) অন্যান্য উদ্দেশ্য

ক্রুসেডের অন্যান্য উদ্দেশ্য গুলি হল –

(১) বাইজানটাইন সাম্রাজ্য রক্ষা

একাদশ শতকে সেলজুক তুর্কিরা ইউরোপের দিকে বিজয়াভিযান শুরু করে। পশ্চিমে বাইজানটাইন সাম্রাজ্যভুক্ত এশিয়া মাইনরের একাংশ তারা দখল করে। এরপর তারা কনস্ট্যান্টিনোপলের দিকে অগ্রসর হলে পূর্ব রোমের বাইজানটাইন সম্রাট আলেক্সিয়াস ভীত হয়ে পড়েন ।

(২) পোপের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার

একাদশ শতকে রোমান ক্যাথলিক চার্চ ও গ্রিক চার্চের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ফলে উভয় চার্চের মধ্যে যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন হয়। এর ফলে পোপের ক্ষমতা ও মর্যাদা অনেকটাই হ্রাস পায়। এই হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে পোপ ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধের আহ্বান জানান।

(৩) নতুন স্থান দখল

সেলজুক তুর্কিদের আক্রমণের ফলে আরব দুনিয়ায় বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়। এই সুযোগে বাইজানটাইন শাসকরা আরব ভূখণ্ডের কিছুটা অংশ দখলের জন্য উদ্‌গ্রীব হয়ে ওঠে। এ ছাড়াও বাণিজ্যের সমৃদ্ধির জন্য ক্রুসেডের মাধ্যমে নতুন স্থান দখলের প্রয়োজন ছিল। তাই ইটালির বণিকরা আরব বণিকদের হটিয়ে তাদের স্থান দখলের উদ্দেশ্যে ক্রুসেডে যোগ দেয়।

(৪) অর্থলাভ

অভিজাতদের মধ্যে যে অংশ তুলনায় আর্থিকভাবে দুর্বল ছিল, তাঁরা ক্রুসেডের মধ্য দিয়ে আরও ধনী হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা করেছিল। ইটালির বণিকরা ক্রুসেডের মাধ্যমে কনস্ট্যান্টিনোপল ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় এলাকার ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা দেখেছিল।

উপসংহার :- জেরুজালেমের দখলকে কেন্দ্র করে ক্রুসেড শুরু হলেও তা শেষপর্যন্ত খ্রিস্টান ও মুসলিমদের মধ্যে অলক্ষ্যে এক সম্পর্ক গড়ে দেয়। এই সম্পর্কের সুবাদে প্রতীচ্য বা পশ্চিম ইউরোপীয় এবং প্রাচ্য বা ইসলামীয় সভ্যতার বিভিন্ন দিকগুলির আদান-প্রদান ঘটে। বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, জীবনযাত্রা প্রণালী, জ্ঞান-বিজ্ঞান-সহ নানান ক্ষেত্রে একে অপরের থেকে বিভিন্ন বিষয় গ্রহণ করে। ঐতিহাসিক হিট্টি লিখেছেন, “প্রাচ্য অপেক্ষা প্রতীচ্যের জন্য ক্রুসেড ছিল অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ।”

(FAQ) ক্রুসেডের পটভূমি বা বিভিন্ন কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. কোন স্থানকে কেন্দ্র করে ক্রুসেড শুরু হয়?

জেরুজালেম।

২. ক্রুসেড এর সময়কাল কত?

১০৯৬-১২৯১ খ্রিস্টাব্দ।

৩. কখন কারা জেরুজালেম সহ সমগ্র প্যালেস্টাইন দখল করে নেয়?

 ১০৭১ খ্রিস্টাব্দে তুর্কি মুসলিমরা।

৪. কোন কোন সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ সংঘটিত হয়?

খ্রিস্টান ও তুর্কি মুসলিম।

Leave a Comment