পটাচারা

পটাচারার জন্ম, বিবাহের উদ্যোগ, পটাচারার গৃহ ত্যাগ, দূর প্রবাসী জীবন, স্বামীর মৃত্যু, দুই পুত্রের মৃত্যু, পিতা-মাতা ও ভ্রাতার মৃত্যু, উন্মাদিনী পটাচারা, পটাচারার ভিক্ষুণী ব্রত গ্ৰহণ ও পটাচারার ধর্মোপদেশ সম্পর্কে জানবো।

পটাচারা

ঐতিহাসিক চরিত্রপটাচারা
পরিচিতিধনী বণিকের কন্যা
নিবাসশ্রাবস্তী নগর
জীবনকরুণ ও মর্মস্পর্শী
ধর্মবৌদ্ধ ধর্ম
পটাচারা

ভূমিকা :- মানুষ অনেক সময় শোকের ভিতর দিয়েই ধর্মপথে অগ্রসর হয়ে থাকে। পটাচারার জীবন থেকে একথা বেশ বুঝতে পারা যায়। পটাচারা বৌদ্ধ ধর্ম গ্ৰহণ করবার পূর্বে কি নামে পরিচিতা ছিলেন, তা জানা যায় না। কিন্তু তার জীবনের ইতিহাস বড় করুণ, বড় মর্মস্পর্শী।

পটাচারার জন্ম

পুরাকালের শ্রাবস্তী নগরের একজন ধনবান বণিকের গৃহে পটাচারার জন্ম হয়।

পটাচারার বিবাহের উদ্যোগ

যৌবনে পটাচারার সাথে এক ধনী বণিক-কুমারের বিবাহ দেবার জন্য পিতামাতা বিশেষ উদ্যোগী হয়েছিলেন।

পটাচারার গৃহত্যাগ

কিন্তু পটাচারা প্রতিবেশী এক তরুণ যুবকের প্রেমে আকৃষ্ট হয়ে গোপনে পিতৃগৃহ পরিত্যাগ করে সেই দরিদ্র যুবককে বিবাহ করেন এবং বহু দূরদেশে গিয়ে বাস করিতে থাকেন ।

পটাচারার দূর প্রবাসী জীবন

প্রথমে এই তরুণ দম্পতীর জীবন সুখেশান্তিতে একরূপ চলছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে নানা দুঃখদৈন্যের আক্রমণে পটাচারার জীবন দুঃখময় হয়েছিল। দূর প্রবাসে বাস করবার কয়েক বৎসর পরে পটাচারার একটি পুত্রসন্তান জন্মায়। বহুদিন পিতা মাতার নিকট হতে দূরে থাকায় তাঁর নিকট দূর প্রবাস অত্যন্ত অপ্রীতিকর হয়ে উঠেছিল।

পটাচারার দেশে ফেরার ইচ্ছা

একদিন পটাচারা স্বামীকে দেশে ফিরবার জন্য অনুরোধ করলেন। কিন্তু পটাচারা তৎসময়ে অন্তঃসত্বা ছিলেন বলে তাঁর স্বামী সেই প্রস্তাবে অস্বীকৃত হলেন।

পটাচারার স্বামীর মৃত্যু

দ্বিতীয় পুত্র প্রসব সময়ে তাঁর স্বামী বনমধ্যে কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে সর্পদংশনে প্রাণত্যাগ করেন। তখন পটাচারা নানারূপে বিপন্ন হয়ে পড়লেন।

পুত্র সহ পটাচারার পিতৃগৃহাভিমুখে রওনা

সহায়হীনা অবস্থায় সন্তান দু’টির সাথে দুরদেশে বাস করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ল। দুর্ভাগিনী পটাচারা পুত্র দুটিকে নিয়ে সেই নিবিড় নির্জন দেশ হতে পিতৃগৃহাভিমুখে রওনা হলেন।

পটাচারার দুই পুত্রের মৃত্যু

কিন্তু বিপদ কখনও একা আসে না। পথে পুত্র দুটির মৃত্যু হল। পতি-পুত্রশোকে পটাচারা একেবারে পাগলিনীর মত হলেন। এই শোচনীয় দুর্ঘটনা ঘটেছিল শ্রাবস্তী নগরীর অনতিদূরে।

পটাচারার মাতা পিতা ও ভ্রাতার মৃত্যু

শ্রাবস্তী নগরে এসে শুনলেন যে, কিছুদিন হল তার পিতামাতা এবং ভ্রাতা একই দিনে ভীষণ ঝড়বৃষ্টির সময়ে ঘরচাপা পড়ে একসঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন। তখন পটাচারার হৃদয় একেবারে ভেঙে পড়ল।

উন্মাদিনী পটাচারা

এরপর পটাচারা একেবারে উন্মাদিনী হলেন, পথে পথে কেঁদে কেঁদে চীৎকার করতে করতে চললেন –

দুইপুত্র পতিসনে পরলোকে করিল গমন,

মাতা-পিতা-ভ্রাতা – সবে মরণেরে করিল বরণ!

অভাগিনী পটাচারা কেঁদে কেঁদে পথে পথে চলে!

কে তার মুছায় অশ্রু, সান্ত্বনার দু’টি কথা বলে?

বুদ্ধদেবের চরণে পটাচারা

এই সময়ে ভগবান বুদ্ধদেব শ্রাবস্তী নগরে বাস করছিলেন। তাঁর প্রবর্তিত ধর্মের মধুর কথা চারিদিকে সুপ্রচারিত। এই শোকদুঃখ প্রপীড়িতা দীনা নারী কাঁদতে কাঁদতে বুদ্ধদেবের চরণে গিয়ে নিপতিত হলেন।

পটাচারার ভিক্ষুণী ব্রত গ্ৰহণ

বুদ্ধদেব মধুর সান্ত্বনাবাক্য দ্বারা এই শোকদুঃখকাতরা নারীকে শান্ত ও সংযত করলেন। সে সৌম্য শান্ত মহাপুরুষের মহৎ বাণীতে পটাচারা শোক ভুললেন, সংসার ভুললেন। তিনি ভিক্ষুণী হলেন।

পটাচারার ধর্মোপদেশ

পটাচারা ভিক্ষুণীব্রত গ্রহণ করবার পর শত শত শোকদুঃখকাতরা নারীকে সান্ত্বনা দিতেন। তাঁরা পটাচারার মধুর বাক্যে শোকদুঃখ ভুলে গিয়ে সান্ত্বনা লাভ করতেন!

পটাচারার উপদেশ সমুহের গান

তাঁর শিষ্যগণ তার মধুর উপদেশসমূহ গান করে বেড়াতেন। এখানে আমরা তাঁর একটি উপদেশের অনুবাদ প্রদান করলাম –

কোন পথে এসে জীব, কোথা যায়, জান না যখন,

“গেছে চলি পুত্র” – বলি কেন তবে কর গো রোদন?

এই ত জীবের ধর্ম, আসে যায় তাহা কি জান না?

তবে কেন কাঁদ তুমি? কেন কর এ অনুশোচনা?

অযাচিত এসেছিল, অজ্ঞাত পথেতে গেছে চলি।

কোথা হতে এসেছিল, কটা দিন রবে হেথা বলি?

উদিয়া মনুষ্যরূপে অন্য পথে অন্য জন্ম পায় ;

এই যাতায়াত বার্তা! বিয়োগের দুঃখ কি ধরায়?

উপসংহার :- পটাচারার ধর্মোপদেশে মোহিত হয়ে একবার এক সঙ্গে পাঁচশত মহিলা বুদ্ধদেবের ধর্মে দীক্ষিতা হয়েছিলেন। পটাচারার উপদেশ বহু নরনারীর চিত্তকে শান্ত ও সংযত করত।

(FAQ) পটাচারা সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. পটাচারা কে ছিলেন?

শ্রাবস্তী নগরের একজন ধনবানের কন্যা।

২. পটাচারার পিতৃদেশ কোথায় ছিল?

শ্রাবস্তী নগরে।

৩. পটাচারার জীবন কেমন ছিল?

করুণ ও মর্মস্পর্শী।

৪. পটাচারা কোন ধর্মানুরাগী ছিলেন?

বৌদ্ধ ধর্ম।

অন্যান্য ঐতিহাসিক চরিত্রগুলি

Leave a Comment