গুপ্ত যুগে বিজ্ঞানচর্চা

গুপ্ত যুগে বিজ্ঞানচর্চা প্রসঙ্গে বাগভট্ট, বরাহমিহির, আর্যভট্ট, অঙ্ক শাস্ত্রের উন্নতি, দর্শনের স্বর্ণযুগ, আধ্যাত্মিক ভাবনা সম্পর্কে জানবো।

গুপ্ত যুগে বিজ্ঞানচর্চা

বিষয় গুপ্ত যুগে বিজ্ঞানচর্চা
সাম্রাজ্য গুপ্ত সাম্রাজ্য
চিকিৎসক বাগভট্ট
জ্যোতির্বিজ্ঞানী আর্যভট্ট, বরাহমিহির
দার্শনিক ঈশ্বরকৃষ্ণ
গুপ্ত যুগে বিজ্ঞানচর্চা

ভূমিকা :- সাহিত্যের মতোই বিজ্ঞানচর্চা ও চিকিৎসা বিদ্যার ক্ষেত্রে গুপ্তযুগের মনীষা পিছিয়ে ছিল না। বিভিন্ন জ্যোতির্বিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও দার্শনিকের অবদান এক্ষেত্রে বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

বাগভট্ট

বাগভট্ট তাঁর চিকিৎসা বিদ্যার বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেন। অনেকে বলেন, বাগভট্ট নামে দুইজন ব্যক্তি ছিলেন এবং এঁরা দুখানি চিকিৎসা গ্রন্থ লেখেন যথা অষ্টাঙ্গসংগ্রহ, অষ্টাঙ্গ হৃদয়-সংহিতা।

বরাহমিহির

  • (১) বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী বরাহমিহির তার পঞ্চসিদ্ধান্ত গ্রন্থ রচনা করে ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে দিক-নির্ণয় করেন। তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানকে তিন শাখায় ভাগ করেন, যথা, জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিত ও জ্যোতিষ। অবশ্য জ্যোতিষকে বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত কিনা এ নিয়ে বৈজ্ঞানিকেরা প্রশ্ন তুলেছেন।
  • (২) বরাহমিহিরের রচনায় গ্রীক ও রোমান জ্যোতির্বিজ্ঞানের ছাপ ঐতিহাসিক স্মিথ লক্ষ্য করেছেন। অন্ততপক্ষে গ্রীক ও রোমান জ্যোতির্বিজ্ঞানের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল এতে সন্দেহ নেই।

আর্যভট্ট

গুপ্ত যুগের নিউটন ছিলেন মহাপণ্ডিত আর্যভট্ট। তার আর্যভট্টীয় নামে গ্রন্থ এক অসাধারণ মৌলিক রচনা। তিনিই প্রথম আবিষ্কার করেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে। এভাবে তিনি আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতি আবিস্কার করেন। তিনি সৌরবর্ষের দিন হিসেব করে দেখান যে, ৩৬৫, ৩৫৮, ৬৮০ সৌর দিনে এক সৌরবর্ষ হবে।

অঙ্ক শাস্ত্রের উন্নতি

বথামের মতে, গুপ্তযুগে গণিত চর্চা এক অসাধারণ উচ্চতায় পৌঁছায়। অঙ্ক শাস্ত্রের উন্নতির জন্য ভারতবাসী গৌরব অনুভব করতে পারে।

দর্শনের স্বর্ণযুগ

গুপ্ত যুগে দার্শনিক চিন্তার ক্ষেত্রে অসাধারণ অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়। ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের মতে, গুপ্ত যুগে দার্শনিক চিন্তার ক্ষেত্রে বহু মৌলিক তত্ত্বের সৃষ্টি হয়েছিল। ভারতীয় দর্শন ও ধর্মশাস্ত্রের রচনার স্বর্ণযুগ বলতে গুপ্ত যুগকেই বলা চলে।

দার্শনিক চিন্তা ও দার্শনিক সূত্র রচনা

  • (১) ঈশ্বরকৃষ্ণ তাঁর সাংখ্যকারিক রচনা করে সাংখ্যদর্শনের টীকা রচনা করেন। আসঙ্গ নাগাচার শাস্ত্র রচনা করেন। বসুবন্ধু রচনা করেন পরমার্থ সপ্ততি। পক্ষিল স্বামিন ন্যায়-সূত্রের ভাষ্য রচনা করেন।
  • (২) দিন্নাগাচার্য বৌদ্ধ দর্শনের ব্যাখ্যা করেন। প্রমাণ-সমুচ্চয় নামে এক বিখ্যাত দার্শনিক গ্রন্থও এই মহাপণ্ডিত রচনা করেন। শঙ্করের গুরু গৌড়পাদ তার অদ্বৈতবাদ ও বেদান্তবাদ তত্ত্ব প্রচার করেন।

আধ্যাত্মিক ভাবনা

  • (১) ধর্মীয় সাহিত্যে বৃহস্পতি স্মৃতি, নারদ-স্মৃতি, দেবল স্মৃতি প্রভৃতি কয়েকটি স্মৃতিশাস্ত্র গুপ্তযুগে রচিত হয়। অষ্টাদশ পুরাণের মধ্যে কয়েকটি পুরাণ গুপ্ত যুগে পুনর্লিখিত হয়। হিন্দুধর্মের আচার-অনুষ্ঠানে এবং চিন্তাধারায় যে পরিবর্তন আসে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার জন্যে কয়েকটি পুরাণের পুনর্লিখন করা হয়।
  • (২) শৈব ও বৈষ্ণব ধর্মকে পুরাণে স্থান দিয়ে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের সঙ্গে তার অন্তর্ভুক্তি করা হয়। পুরাণ ছিল এই নতুন সমন্বয়কারী ধর্মসাহিত্য। এর ফলে বৈষ্ণব বা শৈবরাও কিছু কিছু বেদাচার মানেন। তাছাড়া কাত্যায়ন, দেবল স্মৃতি হয়ত গুপ্ত যুগের কিছু আগে রচিত হয়। পরাশর স্মৃতি গুপ্ত যুগের রচনা। সম্ভবত মহাভারতেরও পুনর্লিখন গুপ্ত যুগে হয়েছিল।

উপসংহার :- প্রাচীন ভারতে গুপ্তযুগে বিজ্ঞানচর্চার অভাবনীয় সাফল্য পরিলক্ষিত হয়। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য আর্যভট্ট ভারতের নিউটন নামে পরিচিত।

(FAQ) গুপ্ত যুগে বিজ্ঞানচর্চা সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. ভারতের নিউটন নামে কে পরিচিত?

আর্যভট্ট।

২. গুপ্ত যুগে বিখ্যাত চিকিৎসক কে ছিলেন?

বাগভট্ট।

৩. পঞ্চসিদ্ধান্ত রচনা করেন কে?

বরাহমিহির।

৪. গুপ্ত যুগে বিখ্যাত দার্শনিক কে ছিলেন?

ঈশ্বরকৃষ্ণ।

Leave a Reply

Translate »