প্রতিহার বংশের উৎপত্তি

প্রতিহার বংশের উৎপত্তি প্রসঙ্গে গুর্জর প্রতিহার, স্মিথের অভিমত, ডঃ মুন্সীর অভিমত, দশরথ শর্মার অভিমত, রাজপুত রাজাদের দাবি ও ডঃ রায়চৌধুরীর অভিমত সম্পর্কে জানবো।

প্রতিহার বংশের উৎপত্তি

বিষয় প্রতিহার বংশের উৎপত্তি
বংশ প্রতিহার বংশ
প্রতিষ্ঠাতা হরিচন্দ্র
শ্রেষ্ঠ রাজা মিহির ভোজ
শেষ রাজা রাজ্যপাল
প্রতিহার বংশের উৎপত্তি

ভূমিকা :- ৬৪৭ খ্রিস্টাব্দে হর্ষবর্ধন -এর মৃত্যু হলে উত্তর ভারতে সর্বশেষ কেন্দ্রীয় শক্তির পতন ঘটে। যদিও হর্ষবর্ধন সমগ্র উত্তরাপথের অধীশ্বর ছিলেন না; তথাপি এর বৃহৎ ভাগ তার অধিকারে ছিল। তার মৃত্যুর পর যে শূন্যতা দেখা দেয় তার ফলে বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির উত্থান ঘটে।

প্রতিহার বংশ

হর্ষবর্ধনের পর যে আঞ্চলিক শক্তিগুলির উদ্ভব হয় তাদের মধ্যে বাংলার পাল শক্তি ও প্রতিহার শক্তি বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

গুর্জর প্রতিহার

প্রতিহারদের কখনও কখনও গুর্জর প্রতিহার বলা হয়। গুর্জর জাতির সঙ্গে প্রতিহারদের রক্ত-সম্পর্ক ছিল একথা এই নাম থেকে প্রমাণিত হয়। রাজ্যের শিলালিপিতে বলা হয়েছে যে, “গুর্জর-প্রতিহারনব্যয়” অর্থাৎ গুর্জর জাতির প্রতিহার শাখা। এর থেকে জানা যায় যে, প্রতিহার বংশ ছিল গুর্জর জাতির অন্তর্ভুক্ত।

স্মিথের অভিমত

স্মিথ প্রমুখ ইউরোপীয় ঐতিহাসিকেরা বলেন যে, গুর্জর জাতি হুণদের সঙ্গে ভারতে প্রবেশ করে এবং ষষ্ঠ খ্রিস্টাব্দের আগে গুর্জর জাতির কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সুতরাং গুর্জর প্রতিহাররা ছিল হূণদের সম্পর্কিত জাতি। এরা ভারতে বসবাস করে ভারতীয় ধর্ম ও সত্যতা গ্রহণ করে ভারতীয় জাতি গোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে যায়।

ডঃ মুন্সীর অভিমত

ডঃ কে এম. মুন্সী এই মতের বিরোধিতা করে বলেন যে, গুজরাটে বাস করার জন্য এই জাতির নাম হয় গুর্জর। এটি স্থানবাচক শব্দ, জাতিবাচক নয়। অধিকাংশ পণ্ডিত এই মতকে নাকচ করেছেন।

দশরথ শর্মার অভিমত

পণ্ডিত দশরথ শর্মা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে, প্রতিহার ও গুর্জররা আলাদা জাতির লোক ছিল। কিন্তু এই মত সমর্থিত হয়নি। রাষ্ট্রকূট ও আরব লিপিতে প্রতিহারদের গুর্জর জাতির শাখা বলা হয়েছে।

প্রতিহার রাজাদের দাবি

প্রতিহার রাজারা অবশ্য উচ্চ বংশ মর্যাদা দাবী করতেন। তারা বলতেন যে, তারা রামচন্দ্রের ভ্রাতা লক্ষ্মণের বংশধর। তাঁরা ছিলেন সূর্যবংশীয়। এই সকল উচ্চ দাবীর ঐতিহাসিক ভিত্তি কিছুই নেই।

ডঃ রায়চৌধুরীর অভিমত

ঐতিহাসিক ডঃ হেমচন্দ্র রায়চৌধুরীর মতে, রাষ্ট্রকূট রাজাদের সামন্ত হিসেবে প্রতিহার রাজা কোনো রাষ্ট্রকূট রাজার অনুষ্ঠিত যজ্ঞের সময় দ্বারপাল বা প্রতিহার হিসেবে কাজ করেন। সেই থেকে এঁদের প্রতিহার উপাধি হয় বলে ডঃ রায়চৌধুরী অভিমত দিয়েছেন।

উপসংহার :- প্রতিহারদের উৎপত্তি নিয়ে বিতর্কের শেষ নেয়। কিন্তু হর্ষবর্ধনের মৃত্যুর পর আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে প্রতিহার বংশ তাদের ক্ষমতার বিশেষ বিস্তার ঘটিয়েছিলেন।

(FAQ) প্রতিহার বংশের উৎপত্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. প্রতিহার বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

হরিচন্দ্র।

২. প্রতিহার বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা কে ছিলেন?

প্রথম ভোজ বা মিহির ভোজ।

৩. প্রতিহার বংশের শেষ রাজা কে ছিলেন?

রাজ্যপাল।

Leave a Reply

Translate »