জ্যোতি বসু

পশ্চিবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু -র জন্ম, পিতামাতা, আদি নিবাস, শিক্ষা, সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা, মার্কসবাদে অনুপ্রাণিত, রাজনীতিতে পদার্পণ, কারাবরণ, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য কমিটির সম্পাদক, একটানা তেইশ বছরের মুখ্যমন্ত্রীত্ব, অবসর জীবন, সম্মাননা ও তার মৃত্যু সম্পর্কে জানবো।

Table of Contents

জ্যোতি বসু

জন্ম৮ জুলাই ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ
মৃত্যু১৭ জানুয়ারি ২০১০ খ্রিস্টাব্দ
পরিচিতিপশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের দীর্ঘতম মেয়াদের মুখ্যমন্ত্রী
সময়কাল১৯৭৭-২০০০ খ্রিস্টাব্দ
জ্যোতি বসু

ভূমিকা :- ভারতীয় বাঙালি রাজনীতিবিদ সিপিআই (এম) দলের সদস্য জ্যোতি বসু ছিলেন ভারতের দীর্ঘতম মেয়াদের মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও তিনি ১৯৬৪ – ২০০৮ সাল পর্যন্ত সিপিআই(এম) দলের পলিটব্যুরো সদস্য ছিলেন।

জন্ম

১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দের ৮ জুলাই কলকাতার ৪৩/১ হ্যারিসন রোডের (বর্তমান মহাত্মা গান্ধী রোড) বাসভবনে জ্যোতি বসুর জন্মগ্ৰহণ করেন।

নাম

জ্যোতি বসুর প্রকৃত নাম ছিল জ্যোতিরিন্দ্র বসু। আর ডাক নাম ছিল গনা।

পিতামাতা

তার পিতা ছিলেন ডাক্তার নিশিকান্ত বসু ও মা হেমলতা বসু। তিনি তার পিতামাতার তৃতীয় সন্তান।

আদি নিবাস

তাদের আদি নিবাস ছিল ব্রিটিশ বাংলা প্রদেশের ঢাকা জেলার (বর্তমানে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নারায়ণগঞ্জ জেলা) সোনারগাঁ উপজেলার বারদী গ্রামে।

শিক্ষা

  • (১) ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ছয় বছর বয়সে ধর্মতলার লোরেটো স্কুলে ভর্তি হন। তখনই নিশিকান্ত বসু পুত্রের নামটি সংক্ষিপ্ত করে রাখেন জ্যোতি বসু।
  • (২) লোরেটোর কিন্ডারগার্টেনের পাঠক্রমটি ছিল চার বছরের। কিন্তু “ডাবল প্রোমোশন” পাওয়ায় তিন বছরেই তিনি এই পাঠক্রম সমাপ্ত করেন।
  • (৩) এরপর তিনি ১৯২৫ সালে দ্বিতীয় শ্রেণিতে সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুল থেকেই তিনি সিনিয়র কেমব্রিজ (নবম শ্রেণি) পাস করেন।
  • (৪) ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর তিনি ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে সাম্মানিক (অনার্স) সহ প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। কলেজে পিছনের বেঞ্চে বন্ধু রহমানের সঙ্গে বসতে তিনি খুব পছন্দ করতেন।
  • (৫) স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি ১৯৩৫ সালে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষার্থে ইংল্যান্ডে গমন করেন। এই সময় পিতার ইচ্ছায় তিনি ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষাতেও অবতীর্ণ হন। তবে উত্তীর্ণ হতে পারেন নি।
  • (৬) মিডল টেম্পলে ব্যারিস্টারি পাঠ ও যোগ্যতা অর্জনের পর তিনি ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি ভারতে প্রত্যাগমন করেন।

লন্ডন মজলিশের সম্পাদক

লন্ডনে থাকার সময় সেখানকার ভারতীয় ছাত্রদের নিয়ে গড়ে ওঠা লন্ডন মজলিশের তিনি ছিলেন প্রথম সম্পাদক।

কমিউনিস্ট মতাদর্শে অনুপ্রাণিত

ইংল্যান্ডে গ্রেট ব্রিটেনের কমিউনিস্ট পার্টির কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে তিনি অবহিত হন। বিশিষ্ট কমিউনিস্ট দার্শনিক ও লেখক রজনী পাম দত্ত কর্তৃক জ্যোতি বসু কমিউনিস্ট মতাদর্শে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হন।

গান্ধিজীর অনশন

১৯৩০ দশকের শুরুর দিকে গান্ধিজীর অনশনের সময় একদিন তিনি স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেছিলেন স্বত:প্রবৃত্ত হয়ে।

সুভাষচন্দ্র বসুর ভাষণ

১৯৩০ দশকে অক্টরলোনি মনুমেন্টে (শহীদ মিনার ময়দান) সুভাষচন্দ্র বসুর ভাষণ শুনতে গেলেন খদ্দর পরে। সেদিন পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করলে পলায়নের পরিবর্তে মোকাবিলার অনুভূতি জেগে উঠেছিল তার মনে।

নিজের বক্তব্য

সুভাষচন্দ্র বসুর ভাষণে পুলিশের লাঠি চালানো এবং তার নিজের অবস্থানের প্রেক্ষিতে তিনি তার আত্মজীবনীতে লিখেছেন যে, “সেটাই বোধহয় রাজশক্তির বিরুদ্ধে প্রথম প্রকাশ্য প্রতিবাদ।”

কার্ল মার্কসের গ্ৰন্থ পাঠ

লন্ডনে থাকাকালীন তিনি কার্ল মার্কস -এর দাস ক্যাপিটাল এবং এঙ্গেলসের কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো ইত্যাতি পড়তে শুরু করেন।

সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা প্রকাশ

পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনে এলে তার সংবর্ধনা আয়োজনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন। নেহরুর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতেই জ্যোতি বসু ভারতে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা ব্যক্ত করেন।

রাজনীতি করার ইচ্ছা প্রকাশ

নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু লন্ডনে এলে তার ভাষণ জ্যোতি বসুর বিশেষ ভালো লেগেছিল। নেতাজির সাথে সাক্ষাতে তিনি বলেছিলেন দেশে ফিরে তিনি রাজনীতি করতে চান।

রাজনীতিতে পদার্পণ

১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে মিডল টেম্পল থেকে বার অ্যাট ল হয়ে ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দে জ্যোতি বসু দেশে ফিরে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় শ্রমিক নেতা হিসাবে।

আইন সভার সদস্য

১৯৪৬ সালে মাত্র বত্রিশ বছর বয়সে অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রাদেশিক আইনসভায় নির্বাচিত হন তিনি। এই সময় থেকেই তিনি আইনসভায় বিরোধী নেতার ভূমিকা পালন করতে থাকেন।

বিরোধী দলের ভূমিকা পালন

১৯৪৭ – ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তার দল বামপন্থীরাই বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে।

আইন সভায় অংশগ্ৰহণ

ভারতের স্বাধীনতার আগে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, তেভাগা আন্দোলন ও বঙ্গবিভাগ নিয়ে আইনসভায় বিভিন্ন আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন তিনি।

কারাবরণ

স্বাধীনোত্তর পশ্চিমবঙ্গে খাদ্য আন্দোলন, শিক্ষক আন্দোলন, বন্দীমুক্তি, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত আন্দোলনের পুরোভাগে থাকেন জ্যোতি বসু। এই সময় একাধিকবার বিভিন্ন কারণে কারারুদ্ধও হতে হয় তাকে।

রেল শ্রমিকদের সংগঠন

১৯৪০-এর দশকে জলপাইগুড়ি শহর থেকে ১৫ কিমি দূরে দোমহনিতে রেল শ্রমিকদের সংগঠিত করার কাজ শুরু করেন জ্যোতি বসু।

বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইন সভার নির্বাচন

দোমহনি থেকেই বেঙ্গল আসাম রেল রোড ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতা হিসেবে তিনি ১৯৪৬ সালের গোড়ার দিকে অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় কংগ্রেসের হুমায়ুন কবিরকে আট ভোটে পরাজিত করে বিধায়ক নির্বাচিত হন জ্যোতি বসু।

রাজবন্দীদের মুক্তি

১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে বাজেট অধিবেশন বসলে প্রথমেই বন্দী মুক্তির প্রসঙ্গে আইনসভা সোচ্চার হয়। শেষ পর্যন্ত তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ১৫ অগস্টের মধ্যে রাজবন্দীদের মুক্তির প্রতিশ্রুতি দেন এবং বন্দীরা মুক্তি পান।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সদস্য

স্বাধীনতার পর কমিউনিস্ট পার্টির নতুন বঙ্গীয় প্রাদেশিক কমিটি বা ‘পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি’ গঠন করা হয়। জ্যোতি বসু এই কমিটির অন্যতম সদস্য নির্বাচিত হন।

বরানগর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা

১৮ই জানুয়ারি ১৯৫২’র বিধানসভার নির্বাচনে বরাননগর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে জয়ী হন জ্যোতি বসু। এরপর বিধানসভায় তিনি বিরোধী পক্ষের নেতা মনোনীত হন।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক

১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে কমিউনিস্ট পার্টির পশ্চিম বঙ্গ রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। পার্টি সংগঠনের দায়িত্ব বেড়ে গেল অনেক।

বিধানসভার সদস্য

১৯৬২ সালের ১৬ ফ্রেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি বরাননগর থেকে ধীরেন্দ্রনাথ চ্যাটার্জিকে পরাজিত করে বিধানসভার সদস্য হন। বিধানসভায় বিরোধী দলীয় নেতাও হন তিনি।

বিলেত ভ্রমণ

১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের পর থেকে ১৯৭৭ পর্যন্ত কয়েকটি বছর ছিল দুঃসময়ের কাল। এই সময় ইংল্যান্ডের কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে বিলেত ভ্রমণ করেন জ্যোতি বসু।

১৯৭৭ -এর নির্বাচন

১৬ই মার্চ ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত লোকসভার নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধীর পরাজয়ে জনতা দল সরকার গঠন করে এবং প্রধানমন্ত্রী হন মোরারজি দেশাই।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন

১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে সাতগাছিয়া থেকে প্রতিদ্বন্দীতা করে জ্যোতি বসু নির্বাচিত হন। পশ্চিমবঙ্গে গঠিত হয় বামফ্রন্ট সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী হন জ্যোতি বসু।

দীর্ঘ মেয়াদের মুখ্যমন্ত্রী

১৯৭৭ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত একটানা তেইশ বছর জ্যোতি বসু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এখনও পর্যন্ত তিনিই ভারতের দীর্ঘ মেয়াদের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত হন।

ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থা

১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচন অনুষ্ঠান তার একটি প্রধান কৃতিত্ব।

ভূমি সংস্কার

গ্রামীণ বাংলায় ভূমিসংস্কারও তার একটি বিরাট সাফল্য।

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মোকাবিলা

১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দের গোড়ার দিকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হলে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তিনি।

মরিচঝাঁপি গণহত্যা

তার শাসনামলে ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে সুন্দরবনের মরিচঝাঁপি অঞ্চলে পূর্ববঙ্গের হিন্দু উদ্বাস্তুদের উপর সংঘটিত হয় নারকীয় হত্যাকাণ্ড, যা মরিচঝাঁপি গণহত্যা নামে পরিচিত।

প্রধান মন্ত্রী হিসেবে নাম বিবেচনা

১৯৯৬ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার নাম বিবেচিত হলেও, তিনি পার্টির সিদ্ধান্তে সেই পদ প্রত্যাখ্যান করেন।

অবসর

বিরামহীন ২৩ বছর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০০০ সালের ৬ নভেম্বর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য -এর হাতে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব অর্পণ করে অবসর নেন জ্যোতি বসু।

দিল্লিতে ধরনা

২০০০ সালের ৭ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের বন্যাত্রাণে কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্যের দাবিতে দিল্লির বিঠলভাই প্যাটেল হাউসে ধরনায় বসেন জ্যোতি বসু।

বিধানসভার সদস্য পদ ত্যাগ

২০০১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার সদস্যপদ ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে বিধানসভার সঙ্গে তার ৫৫ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন হয়। বিধানসভায় তার শেষ বার্তা ছিল ‘প্রশংসা বিষবৎ, নিন্দা অমৃতসমান’।

সম্মাননা

২৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় সরকার তাকে দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্ন প্রদান করতে চাইলে তা গ্রহণে তিনি অসম্মত হন। ২০০৭ সালের ১৭ মার্চ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় জ্যোতি বসুকে সাম্মানিক ডি. লিট. সম্মান প্রদান করে।

দিয়েগো মারাদোনার সৌজন্য সাক্ষাৎ

২০০৮ সালের ৭ ডিসেম্বর আর্জেন্টিনার প্রাক্তন ফুটবলার দিয়েগো মারাদোনা এসে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ

২০০৯ সালের জুন মাসে নির্বাচনী সাফল্যের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

রচিত গ্ৰন্থ

পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হল ‘যতদূর মনে পড়ে’। তার এই আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ইতিহাস রচনার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

মৃত্যু

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সতের দিনের দীর্ঘ অসুস্থতার পর ২০১০ সালের ১৭ জানুয়ারি ভারতীয় সময় সকাল ১১টা ৪৭ মিনিটে পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘ মেয়াদের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু পরলোক গমন করেন।

নাগরিক পর্ষদ গঠন

তাঁর মৃত্যুর পর বিচারপতি মহম্মদ হাবিবুর রহমানকে আহ্বায়ক করে বাংলাদেশে ২০১ সদস্যবিশিষ্ট “কমরেড জ্যোতি বসু স্মরণে নাগরিক পর্ষদ” গঠন করা হয়।

সমালোচনা

তাঁর শাসনাকালে পশ্চিমবঙ্গের উল্লেখ করবার মতো কোনো অর্জন নেই – এমন ইঙ্গিতও করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তাঁর আমলে পশ্চিমবঙ্গে স্থিতাবস্থা বিরাজ করলেও তেমন কোনো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটেনি।

উপসংহার :- মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে জ্যোতি বসুর শাসনকাল সাফল্য ও ব্যর্থতায় মিশ্রিত। তবে বিলেত-ফেরত বাঙালি ভদ্রলোক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ছিলেন এক অবিসংবাদী জননেতা ও নিজের দল এবং দলের বাইরেও এক বিশিষ্ট সম্মানের অধিকারী।

(FAQ) জ্যোতি বসু সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. জ্যোতি বসু কতদিন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন?

১৯৭৭- ২০০০ সাল পর্যন্ত টানা ২৩ বছর ধরে।

২. জ্যোতি বসুর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের নাম কি?

‘যতদূর মনে পড়ে’।

৩. জ্যোতি বসু কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?

১৭ জানুয়ারি ২০১০।

Leave a Reply

Translate »