বিপ্লবীদের অস্ত্রশস্ত্র

বিপ্লবীদের অস্ত্রশস্ত্র প্রসঙ্গে বিপ্লবীদের অস্ত্র হিসেবে বোমার দিকে ঝোঁক, আগ্নেয়াস্ত্রের দুষ্প্রাপ্যতা, বোমা তৈরির পথপ্রদর্শক, বোমা তৈরি ও তার ব্যবহার, বোমা আবির্ভাবের কারণ, বোমা আবির্ভাবের উদ্দেশ্য, নারকেলের বোমা, ক্ষুদ্র বোমা সম্পর্কে জানবো।

বিপ্লবীদের অস্ত্রশস্ত্র

ঐতিহাসিক বিষয়বিপ্লবীদের অস্ত্রশস্ত্র
প্রধান অস্ত্রবোমা
বোমার আবির্ভাববাংলাদেশ
আগ্নেয়াস্ত্ররিভলভার, পিস্তল
বিপ্লবীদের অস্ত্রশস্ত্র

ভূমিকা :- বিপ্লবীরা ডাকাতি ও গুপ্ত হত্যার জন্য নানা প্রকারের অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করত। প্রথম দিকে ডাকাতির জন্য হাতুড়ি, মুগুর প্রভৃতিও ব্যবহৃত হত। রিভলভার, পিস্তল প্রভৃতি আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারও কোনো কোনো স্থানে প্রথম থেকেই দেখা যায়।

বিপ্লবীদের অস্ত্র হিসেবে বোমার দিকে ঝোঁক

মহারাষ্ট্রে বোমা তৈরির চেষ্টা হলেও রিভলভারই প্রায় সকল ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে রিভলভার-পিস্তল অপেক্ষা বোমার দিকেই ঝোঁক ছিল বেশী। তবে ডাকাতির জন্য বোমার ব্যবহার কদাচিৎ দেখা যায়, এই উদ্দেশ্যে রিভলভারই ব্যবহৃত হত বেশী।

বিপ্লবীদের আগ্নেয়াস্ত্রের দুষ্প্রাপ্যতা

  • (১) কিন্তু ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ডাকাতির জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারও খুব বেশী হয় নি। আগ্নেয়াস্ত্রের দুষ্প্রাপ্যতাই সম্ভবত এর একমাত্র কারণ। আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহের অসুবিধা দূর করবার উদ্দেশ্যে বিপ্লবীরা প্রথম থেকেই বোমা তৈরির দিকে বেশী দৃষ্টি দেয়।
  • (২) কিন্তু পরে ক্রমশ অধিক সংখ্যায় আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করতে সক্ষম হলেও বোমা তৈরি ও তার ব্যবহারের উপরেই তারা সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করে। এর একমাত্র কারণ এই যে, বোমার কার্যকারিতা ও ধ্বংসকারী শক্তি আগ্নেয়াস্ত্র অপেক্ষা বহুগুণ বেশী।

বিপ্লবীদের অস্ত্র বোমা তৈরির পথপ্রদর্শক

বাংলাদেশের বিপ্লবীরা প্রথম থেকেই বোমা তৈরির দিকে দৃষ্টি দিয়েছিল বলে বাংলাদেশে এই ভয়ংকর অস্ত্রটি বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করেছিল। বাংলাদেশের যুগান্তর সমিতি ছিল বোমা তৈরির কাজে পথপ্রদর্শক। যুগান্তর-সমিতির অন্যতম নায়ক উল্লাসকর দত্ত বোমা তৈরির জন্য গবেষণা করার উদ্দেশ্যে তার বাড়ীতেই গোপনে একটি ক্ষুদ্র রসায়নাগার স্থাপন করেছিলেন।

বিপ্লবীদের অস্ত্র বোমা তৈরি ও তার ব্যবহার

যুগান্তর সমিতির অন্যতম নায়ক হেমচন্দ্র দাস নিজের সম্পত্তি বিক্রির দ্বারা অর্থ সংগ্রহ করে ফরাসীদেশের রাজধানী প্যারী নগরীতে গিয়ে উন্নত ধরনের বোমা তৈরির প্রণালী শিক্ষা লাভ করে আসেন। তখন থেকে প্রথমে বাংলাদেশে ও পরে ভারতের সর্বত্র ব্যাপকভাবে বোমা তৈরী ও তার ব্যবহার হতে থাকে।

বোমার দল

সমগ্র সন্ত্রাসবাদী বৈপ্লবিক যুগ এই ভয়ংকর অস্ত্রটির নামের দ্বারা চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। তাই বৈপ্লবিক যুগের নাম হয়েছে “বোমার যুগ”, আর বিপ্লবীদের নাম হয়েছে “বোমার দল”।

বিপ্লবীদের অস্ত্র বোমা আবির্ভাবের কারণ

  • (১) “১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে বোমার আবির্ভাব হয়। বাঙালী ভাবপ্রবণ, কল্পনাপ্রিয় জাতি। বাঙালী একদিকে যেমন হুজুগে, তেমনি অন্যদিকে কাজে চট্‌পটে এবং বিপদ অগ্রাহ্য করে পৃথিবীর চারদিকে দৌড়ে বেড়াচ্ছে। এই জন্যই বাঙলার উদ্যম চাপা রাখা যায় না।
  • (২) আমাদের মধ্যে সকলের ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাস জানা ছিল না, কিন্তু ম্যাৎসিনি ও গ্যারিবল্ডির জীবনী ভালভাবে জানা ছিল। তারপরে রাশিয়ার বৈপ্লবিক কার্যকলাপ আমরা পর্যবেক্ষণ করতাম।
  • (৩) নিরস্ত্র স্বদেশ প্রেমিকতার পক্ষে জাতীয় অবমাননাকারী ও অত্যাচারীকে দণ্ড দেবার অন্য রাস্তা নেই এবং একটা ‘কাপুরুষ’ জাতিকে জাগিয়ে তুলবার অন্য উপায়ও তখন ছিল না। ‘কাপুরুষ’ বাঙালীকে অন্যান্য প্রদেশের উপর টেক্কা দিতে হবে – এটাও আমাদের একটা জিদ হয়ে উঠেছিল। এই সব কারণ একত্রিত হয়েই বোমার আবির্ভাব ঘটেছিল।

বিপ্লবীদের অস্ত্র বোমা আবির্ভাবের উদ্দেশ্য

এক কথায়, এর উদ্দেশ্য ছিল যে, কংগ্রেস আবেদন-নিবেদনের পন্থাদ্বারা দেশের লোকের মনুষ্যত্ব নষ্ট করে দিয়েছে। সেই বিনষ্ট মনুষ্যত্বকে পুনরুজ্জীবিত করবার জন্য ‘বিষস্য বিষমৌষধম’ দরকার। সেই জন্য বৈপ্লবিক দলের লোক দৃঢ় সংকল্প হল যে, সাহস দেখিয়ে, আত্মজীবন ত্যাগ করে ও অত্যাচারীকে দণ্ড দিয়ে স্বাধীনতার স্পৃহা ও সাহস জাগিয়ে তুলতে হবে।

বাঙালীর মানসিক ক্রমবিকাশের ফল বোমার আবির্ভাব

বোমা কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তির মস্তিষ্কের খেয়াল বা পাগলামি নয় এবং ব্যক্তিগত চেষ্টার ফলও নয়। অনেকেই এ বিষয়ে ভাবছিলেন, এবং এর আবির্ভাবও সমষ্টির কার্যের ফল। ভারতে বোমার আবির্ভাব বাঙালীর মানসিক ক্রমবিকাশের ফল। বাঙালীর মনস্তত্ত্ব রামমোহন রায় থেকে স্তরে স্তরে চরম পন্থার দিকে অগ্রসর হয়েছে। যদি বাংলার ধর্ম ও সামাজিক পরিবেশে চরম পন্থার অভ্যুদয় না হত, তবে হয়ত বাংলায় বোমারও আবির্ভাব হত না।

মহারাষ্ট্রের বিপ্লবীদের চোখে বোমা অস্ত্র

মহারাষ্ট্রের বিপ্লবীরা বোমাকে তৎকালীন বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির একটি চরম নিদর্শন হিসাবে দেখতেন। তাঁরা এর তাৎপর্য বর্ণনা করে বলেছেন, “পিস্তল অথবা বন্দুক পুরাতন ধরনের অস্ত্র, আর বোমা হল পাশ্চাত্য বৈজ্ঞানিকদের আধুনিকতম আবিষ্কার। যে পাশ্চাত্য বিজ্ঞান নতুন কামান সৃষ্টি করেছে, বন্দুক সৃষ্টি করেছে, নতুন গোলা-বারুদ সৃষ্টি করেছে, সেই পাশ্চাত্য বিজ্ঞানই বোমাও সৃষ্টি করেছে।

সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে বোমার ব্যবহার

একথা সত্য যে, বোমার দ্বারা একটা গভর্নমেন্টের সামরিক শক্তি ধ্বংস করা যায় না; একটা সৈন্য বাহিনী চূর্ণ করবার ক্ষমতা বোমার নেই, অথবা কোন সামরিক অভিযানের গতিরোধ করাও বোমার দ্বারা সম্ভব নয়, কিন্তু সামরিক শক্তির ঔদ্ধত্যের ফলে দেশের মধ্যে যে ভয়ংকর বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে তার প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা কেবল বোমার দ্বারাই সম্ভব।

বিপ্লবীদের অস্ত্র বোমা সম্পর্কে কেশরি পত্রিকার লেখনী

১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে মহারাষ্ট্রে চাপেকার ভ্রাতৃদ্বয়ের পিস্তলের গুলিতে র‍্যান্ড সাহেবের হত্যা এবং ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকীর দ্বারা মজঃফরপুরে ব্যর্থ বোমা নিক্ষেপ – এই দুইয়ের তুলনামূলক বিচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের বোমার কার্যকারিতা ও এর সুদূরপ্রসারী রাজনীতিক তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে ‘কেশরী পত্রিকার পূর্বোক্ত সংখ্যায় লেখা হয় –

“১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দের (র‍্যাণ্ড ) হত্যা ও বাংলাদেশের বোমা নিক্ষেপের মধ্যে পার্থক্য যথেষ্ট। সাহস ও নিপুণতার সাথে কর্তব্য সাধনের দিক থেকে বিচার করলে বাংলাদেশের বোমার দল অপেক্ষা মহারাষ্ট্রের চাপেকার ভ্রাতৃদ্বয়ের স্থান বহু উচ্চে কিন্তু উদ্দেশ্য ও উপায়ের দিক থেকে বিচার করলে বাঙালীদেরই বেশী প্রশংসা প্রাপ্য। চাপেকার ভ্রাতৃদ্বয় অথবা বাঙালী বোমা নিক্ষেপকারীরা কেউই তাদের নিজেদের উপর অনুষ্ঠিত অত্যাচারের প্রতিশোধ নেবার জন্য হত্যা করতে যায় নি; ব্যক্তিগত বিদ্বেষ, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা ঝগড়া এই হত্যার উদ্দেশ্য নয়। এই ঘটনা সাধারণ হত্যা কাণ্ড থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু হত্যার উদ্দেশ্য থাকলেও বাংলাদেশের বোমার উদ্দেশ্য অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দের প্লেগের সময় পুণা শহরবাসীদের উপর ভয়ংকর অত্যাচার চালান হয়েছিল, তার ফলে ক্রোধের সঞ্চার হওয়ার মধ্যে একটা সম্পূর্ণ রাজনীতিক তাৎপর্য ছিল না। চাপেকার ভ্রাতৃদ্বয় এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারেন নি যে, দেশের শাসন ব্যবস্থাটাই খারাপ, যদি শাসকদের মধ্য থেকে বেছে বেছে ব্যক্তিগতভাবে তাদের মনে সন্ত্রাস সৃষ্টি করা না হয়, তবে তারা কখনই এই শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে সম্মত হবে না। চাপেকার ভ্রাতৃদ্বয়ের লক্ষ্য নিবন্ধ ছিল প্লেগের মত একটা বিশেষ ঘটনার উপর, আর বঙ্গীয় বোমার লক্ষ্য ছিল বঙ্গভঙ্গের মত একটা বিশাল ক্ষেত্রের উপর প্রসারিত।”

বাংলাদেশের অনুকরণে বোমা তৈরি

মহারাষ্ট্রীয় বিপ্লবীরা পিস্তল বা অন্য কোনো আগ্নেয়াস্ত্র অপেক্ষা বাংলাদেশের বোমাকেই উচ্চতর স্থান দিয়েছেন, কারণ আক্রমণাত্মক অস্ত্র হিসাবে পিস্তল-রিভলভার অপেক্ষা বোমার কার্যকারিতা বহুগুণ অধিক। বোমার শক্তি ও কার্যকারিতা উপলব্ধি করে বাংলাদেশের অনুকরণে অন্যান্য প্রদেশের বিপ্লবীরাও বোমা তৈরির প্রচেষ্টা আরম্ভ করেন।

বিদেশ থেকে বোমা তৈরির প্রণালী ভারতে প্রেরণ

  • (১) মহারাষ্ট্রের বিনায়ক দামোদর সাভারকর প্যারী থেকে তাঁর ভ্রাতা গণেশ সাভারকরের কাছে একটি বোমা তৈরির প্রণালী প্রেরণ করেছিলেন। গণেশ সাভারকরের বাড়ি খানাতল্লাসীর সময় এই প্রণালীটি পুলিশের হস্তগত হয়।
  • (২) এই প্রণালীটির অনুরূপ আরও কয়েকটি প্রণালী বিদেশ থেকে ‘ভারতবর্ষে আমদানি করা হয়েছিল। তার একটি যুগান্তর সমিতির গোপনকেন্দ্র মানিকতলা বাগানবাড়ী থেকে পুলিস হস্তগত করে। পরে আর একটি হায়দরাবাদ থেকেও পুলিশের হস্তগত হয়।
  • (৩) এই সকল প্রণালীর মধ্যে সাভারকরের প্রেরিত প্রণালীটিই ছিল অন্যগুলি অপেক্ষা অধিকতর সম্পূর্ণ ও উন্নত। সাভারকরের প্রণালীর মধ্যে পঁয়তাল্লিশ প্রকার বোমা ও ‘মাইন’-এর নক্‌সা এবং তা তৈরির উপায় বর্ণিত ছিল।

বিপ্লবীদের তৈরি পুস্তক বোমা

  • (১) বিপ্লবীরা তাঁদের উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রকারের বোমা তৈরি করেছিলেন। এই সকল বোমার বৈচিত্র্য ও নির্মাণ কৌশল এমনকি শাসকদের মনেও বিস্ময়ের সঞ্চার করেছিল।
  • (২) কলকাতার অত্যাচারী প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড সাহেবকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিপ্লবীরা ডাকযোগে পাঠিয়েছিলেন একটি নির্দোষ আকারের পুস্তক। কিন্তু পুস্তকটি ছিল একটি ভয়ংকর প্রকৃতির বিস্ফোরক বোমা। পুস্তকের ভিতরের অংশটি কেটে মাঝের শূন্য স্থানে বিস্ফোরক ভরে এই অদ্ভুত বোমাটি তৈরি হয়েছিল।
  • (৩) কিন্তু ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের পূর্ব পর্যন্ত বিপ্লবীরা সাধারণত গোলাকৃতি বোমাই তৈরি করতেন। এই বোমার খোল ছিল তাম্র অথবা পিতল নির্মিত। এমনকি ধাতু নির্মিত প্রদীপও বোমার খোল হিসাবে ব্যবহৃত হত। এই সকল বোমার বিস্ফোরক দ্রব্য হিসাবে সাধারণ পিকরিক এসিড ব্যবহার করা হত।

বিপ্লবীদের অস্ত্র নারকেলের বোমা

প্যারী শহর থেকে প্রেরিত বোমা তৈরির প্রণালী অনুসারেই বিপ্লবীরা এই সকল বোমা তৈরি করতেন। বহু ক্ষেত্রে এক প্রকারের নারকেলের বোমাও ব্যবহৃত হয়েছিল। নারকেলের ছোবড়াহীন খোলের মধ্যে বিস্ফোরক দ্রব্য ভরে এটি তৈরি করা হত, আর এটি সাধারণত ব্যবহৃত হত রেলগাড়ীর উপর। স্বভাবতই এই বোমার ধ্বংসকারী শক্তি ধাতু নির্মিত বোমা অপেক্ষা অনেক অল্পই হত।

বিপ্লবীদের অস্ত্র গোলাকার বোমা

  • (১) বাংলাদেশে সাধারণত ব্যবহৃত হত গোলাকার বোমা। লৌহ-নির্মিত গোলাকার খোলের মধ্যে অতি বিস্ফোরক শক্তিসম্পন্ন রাসায়নিক পদার্থ ভরে তার সাথে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লোহার টুকরো দিয়ে এই বোমা তৈরী হত। বোমার মুখে একটি পাট বা কাপড়ের পলতা দেওয়া থাকত। এই পলতায় অগ্নি সংযোগ করে বোমা ছুঁড়ে দিলেই তা সশব্দে ফেটে যেত।
  • (২) এতে বিস্ফোরক হিসাবে সাধারণত পিক্‌রিক এসিড ব্যবহার করা হত। এটি তৈরি করা অপেক্ষাকৃত সহজ, অথচ এর বিস্ফোরণ শক্তি খুবই বেশী, সম্ভবত এই কারণেই এই জাতীয় বোমা বিপ্লবীরা অধিক সংখ্যায় ব্যবহার করতেন।

সিগারেট কৌটা দ্বারা ক্ষুদ্র বোমা তৈরি

যুগান্তর সমিতির অন্যতম নায়ক হেমচন্দ্র দাস প্যারী থেকে বোমা তৈরীর শিক্ষা লাভ করে এসে সিগারেট কৌটা দ্বারা এক প্রকারের ক্ষুদ্র অথচ বিশেষ শক্তিসম্পন্ন বোমা তৈরি করেছিলেন। এই সকল প্রকারের বোমাই সন্ত্রাসবাদী বৈপ্লবিক যুগকে “বোমার যুগ” নামে চিহ্নিত করে রেখেছে।

উপসংহার :- বিদেশ থেকে কেউ কেউ রিভলভার তৈরির প্রণালী শিক্ষা লাভ করে এলেও কখনও এদেশে বিপ্লবীরা কোনো রিভলভার তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন বলে জানা যায় নি।

(FAQ) বিপ্লবীদের অস্ত্রশস্ত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. কতদিন পর্যন্ত বিপ্লবীরা আগ্নেয়াস্ত্র খুব কমই ব্যবহার করে?

১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে।

২. ভারতের বিপ্লবীদের আগ্নেয়াস্ত্র বলতে কোন দুটির ব্যবহার ছিল বেশি?

রিভলভার, পিস্তল।

৩. ভারতে বোমার আবির্ভাব ঘটেছিল কোথায়?

বাংলায়।

৪. প্যারিস নগরী থেকে বোমা তৈরির কৌশল শিখেছিলেন কে?

হেমচন্দ্র দাস।

Leave a Comment