ফরাসি বিপ্লবের সামাজিক কারণ

ফ্রান্সে ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের সংঘটিত ফরাসি বিপ্লবের সামাজিক কারণ প্রসঙ্গে ফরাসি সমাজের বৈশিষ্ট্য, তিনটি শ্রেণি, প্রথম এস্টেট, যাজক শ্রেণী, যাজকদের উচ্চতর ও নিম্নতর যাজক শ্রেণীবিভাগ, ডেভিড ওগের মন্তব্য, সালভেমিনের মন্তব্য, দ্বিতীয় এস্টেট, অভিজাত শ্রেণি, জন্মসূত্রে অভিজাত, পোশাকি অভিজাত, দুই অভিজাত গোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্ক, ডেইলির মন্তব্য, তৃতীয় স্টেট, আবে সিয়েস ও লেফেভরের মন্তব্য, বুর্জোয়া শ্রেণী, সমাজে বুর্জোয়াদের স্থান, নেপোলিয়নের মন্তব্য, কৃষক শ্রেণী সম্পর্কে জানবো।

Table of Contents

ফরাসি বিপ্লবের সামাজিক কারণ

সময়কাল১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দ
স্থানফ্রান্স
রাজাষোড়শ লুই
ফলাফলরাজতন্ত্রের পতন
ফরাসি বিপ্লবের সামাজিক কারণ

ভূমিকা :- অষ্টাদশ শতকের ফ্রান্সে প্রচলিত চিরাচরিত আর্থ-সামাজিক পরিকাঠামোর অসঙ্গতি ও ত্রুটির মধ্যেই ফরাসি বিপ্লবের মূল কারণ নিহিত ছিল। মার্সেল রাইনার-এর মতে, ফরাসি বিপ্লবের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পটভূমি বাদ দিয়ে এই বিপ্লবের প্রকৃত কারণ উপলব্ধি করা যাবে না।

ফরাসি সমাজের বৈশিষ্ট্য

ফরাসি বিপ্লবের প্রাক্কালে ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো ফ্রান্সের সমাজও ছিল মধ্যযুগীয় ও সামন্ততান্ত্রিক। অসাম্যই ছিল এই যুগের ফরাসি সমাজের বৈশিষ্ট্য।

তিনটি শ্রেণি

  • (১) ফ্রান্সের জনসাধারণ তখন তিনটি সম্প্রদায় বা এস্টেট (Estate)-এ বিভক্ত ছিল। যাজকরা প্রথম সম্প্রদায়, অভিজাতরা দ্বিতীয় সম্প্রদায়এবং মধ্যবিত্ত, অধ্যাপক, লেখক, বৈজ্ঞানিক, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, কৃষক-সহ দেশের সব সাধারণ মানুষ তৃতীয় সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
  • (২) প্রত্যেকটি সম্প্রদায় বা এস্টেটের মধ্যে আবার উঁচু-নিচু, ধনী-দরিদ্র ভেদাভেদ ছিল। প্রথম দুই সম্প্রদায় ছিল বিশেষ অধিকারপ্রাপ্ত সুবিধাভোগী শ্রেণি আর তৃতীয় সম্প্রদায় ছিল অধিকারহীন সুবিধা-বঞ্চিত শ্রেণি।
  • (৩) ঊর্ধ্বতন দুই শ্রেণির মিলিত জনসংখ্যা ছিল পাঁচ লক্ষ, অথচ তারা দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষকে বঞ্চিত করে সব সুযোগ-সুবিধা নিজেদের করায়ত্ত করে রেখেছিল। তাই বলা হয় যে, স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ অপেক্ষা সামাজিক অসাম্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহই ছিল ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের মূল কথা।

প্রথম এসেস্ট

ফ্রান্সের সামাজিক কাঠামোয় প্রথম এস্টেটের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন দেশের সুবিধাভোগীমানুষেরা।যেমন –

(ক) যাজক শ্রেণি

  • (১) ফ্রান্সের যাজকরা ছিল প্রথম সম্প্রদায়ভুক্ত। ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে তাদের সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ২০ হাজার। মোট জনসংখ্যার এক শতাংশ না হয়েও সমাজ ও রাষ্ট্রে তারা প্রবল প্রতাপশালী ছিল। তারা ছিল আইনের ঊর্ধ্বে। তারা বিশেষ রাজনৈতিক ও বিচার বিভাগীয় অধিকার ভোগ করত। শিক্ষা ছিলসম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণাধীনে।
  • (২) ফরাসি গির্জার বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ১৩ কোটি লিভ্র। ফ্রান্সের কৃষিজমির দশ ভাগের এক ভাগ ছিল গির্জার অধীনে। এজন্য তারা কোনও কর দিত না। ‘কনট্রাক্ট অব পোইসি’ নামক এক চুক্তি অনুসারে রাজাকে তারা একটি স্বেচ্ছাকর দিত মাত্র।
  • (৩) ভূমির আয় ছাড়া গির্জা টাইদ’ বা ধর্মকর, মৃত্যুকর, বিবাহকর প্রভৃতি আদায় করত। যাজকদের অনেকেরই নিজস্ব প্রাসাদ, দুর্গ ও গির্জা ছিল। বিপুল সম্পদের অধিকারী এইসব যাজকরা বিলাস-ব্যসন, আমোদ-প্রমোদ, ব্যাভিচার, দুর্নীতি ও অনাচারের পঙ্কে নিমজ্জিত ছিল।
  • (৪) যাজকদের দুর্নীতি ও ধর্মীয় অনাচার দেখে ষোড়শ লুই একবার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, অন্তত একজন আর্চবিশপ চাই, যিনি ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন।

(খ) যাজকদের বিভাগ

প্রথম সম্প্রদায় বা যাজকরা কিন্তু একটি সমমনোভাবাপন্ন গোষ্ঠী ছিল না। তারা দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। যথা

  • (১) উচ্চতর যাজক অর্থাৎ আর্চবিশপ, বিশপ, অ্যাবট, কার্ডিনাল এবং
  • (২) নিম্নতর যাজক অর্থাৎ সাধারণ গ্রামীণ পাদরিরা।
(১) উচ্চতর যাজক

গির্জার আয়ের সিংহভাগ ভোগ করত মুষ্টিমেয় উচ্চতর যাজকেরা। তারা বিলাস-ব্যসন ও দুর্নীতিতে মগ্ন থাকত এবং নিম্নতর যাজকদের ঘৃণার চোখে দেখত।

(২) নিম্নতর যাজক

গ্রামীণ গির্জার সংখ্যাগুরু পাদরিদের অবস্থা ছিল শোচনীয়। তাদের বেতন ছিল খুবই কম এবং দারিদ্র্য ছিল তাদের নিত্যসঙ্গী। তা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত জীবনে তারা ছিল। নিষ্ঠাবান। উচ্চতর যাজকদের প্রতি তাদের তীব্র ঘৃণা ছিল।

(গ) ডেভিড ওগের মন্তব্য

ঐতিহাসিক ডেভিড ওগ (David Ogg) বলেন যে, উচ্চতর যাজকদের প্রতি নিম্নতর যাজকদের তীব্র ঘৃণা ছাড়াও, দার্শনিকদের রচনা পাঠ করে তারা সামাজিক বৈষম্য সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। প্রার্থনা সভার বক্তৃতায় তারা দার্শনিকদের মতামত তুলে ধরত এবং বিপ্লব শুরু হলে তারা তৃতীয় শ্রেণির সঙ্গে যোগ দেয়।

(ঘ) সালভেমিনের মন্তব্য

অধ্যাপক সালভেমিনি (Salvemini) বলেন যে, উচ্চতর ও নিম্নতর যাজকদের বিবাদ বিপ্লবের সাফল্যের অন্যতম কারণ।

দ্বিতীয় এস্টেট

তৎকালীন ফ্রান্সের সমাজকাঠামোর দ্বিতীয় পর্যায়ে ছিল বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেণীর মানুষেরা। যেমন –

(ক) অভিজাত শ্রেণী

  • (১) ফরাসি সমাজের দ্বিতীয় শ্রেণিতে ছিল অভিজাত সম্প্রদায়। ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে তাদের সংখ্যা ছিল ৩ লক্ষ ৫০ হাজার।দেশের সমগ্র জনসংখ্যার মোট দেড় ভাগ মাত্র।
  • (২) ফ্রান্সের কৃষিজমির পাঁচ ভাগের এক ভাগ ছিল তাদের অধিকারে। এজন্য তারা সরকারকে কোনও ভূমিকর দিত না, বরং তারা প্রজাদের কাছ থেকে নানা সামন্তকর আদায় করত।
  • (৩) তারা ছিল সমাজের সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী অংশ। সরকারি চাকরি, বিচারবিভাগের উচ্চপদ, প্রশাসন যন্ত্র—সব ছিল তাদের অধিকারে। তৃতীয় সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি ছিল তাদের তীব্র ঘৃণা ও অবজ্ঞা।

(খ) অভিজাতদের বিভাগ

অভিজাতদের মধ্যে আবার দুটি শ্রেণি ছিল।

  • (১) জন্মসূত্রে অভিজাত – এদের ‘সাবেকিঅভিজাত’, ‘দরবারি অভিজাত’ এবং ‘অসিধারী অভিজাত’ বা দরবারি অভিজাত বলা হত।
  • (২) কর্মসূত্রে অভিজাত – এদের বলা হত ‘পোশাকি অভিজাত’।
(১) জন্মসূত্রে অভিজাত

জন্মসূত্রে অভিজাতরা বংশকৌলিন্যের অধিকারী ছিল এবং নিজেদের বংশকৌলিন্য নিয়ে তারা খুব গর্ববোধ করত। যাজক ও উচ্চ অভিজাত ছাড়া সব মানুষ তাদের কাছে ছিল নীচ ও হীন। এদের সংখ্যা ছিল খুবই কম—মাত্র চার হাজার। এরা রাজার সভাসদ, মন্ত্রী, সেনাপতি, রাজদূত, প্রাদেশিক শাসনকর্তা, ইনটেনডেন্ট এবং সামরিক বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলি একচেটিয়াভাবে ভোগ করত। এজন্য এদের ‘দরবারি অভিজাত’-ও বলা হত।

(২) পোশাকি অভিজাত

সপ্তদশ-অষ্টাদশ শতকে অর্থসংগ্রহের উদ্দেশ্যে বুরবোঁ রাজারা খুবই উচ্চ মূল্যে উচ্চ বুর্জোয়াদের কাছে বেশ কিছু প্রশাসনিক পদ বিক্রি করে তাদের ‘আভিজাত্যে’ ভূষিত করেন। এরা বংশগতভাবে প্রশাসন, আইন ও বিচারবিভাগে বেশ কিছু উঁচু পদে নিযুক্ত ছিল। ‘পোশাক’-ই ছিল তাদের আভিজাত্যের চিহ্ন—এজন্য তাদের ‘পোশাকি অভিজাত বলা হত। অষ্টাদশ শতকে এদের সংখ্যা ছিল আনুমানিক ৩২,৫০০ থেকে ৫০,০০০।

(গ) দুই অভিজাত গোষ্ঠীর সম্পর্ক

দরবারি অভিজাতরা পোশাকি অভিজাতদের মোটেই গুরুত্ব দিত না। তারা পোশাকি অভিজাতদের ঘৃণা করত এবং তাদের সঙ্গে কোনওপ্রকার সামাজিক ও বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করত না।

(ঘ) বেইলির মন্তব্য

সম্প্রতি বেইলি স্টোন (Bailey Stone) দেখিয়েছেন যে, ১৭৮০-র দশকে অভিজাতদের দুই গোষ্ঠী পারস্পরিক বিবাদ ও আক্রমণে লিপ্ত ছিল। তা সত্ত্বেও দুই গোষ্ঠীই সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের নির্মমভাবে শোষণ করত, দুই গোষ্ঠীই নিজেদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা রক্ষার ব্যাপারে রাজতন্ত্র ও তৃতীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ছিল এবং তৃতীয় সম্প্রদায়ের মানুষরা দুই গোষ্ঠীর উপরেই ক্ষুব্ধ ছিল, যা বিপ্লবে রূপান্তরিত হয়।

তৃতীয় এস্টেট

জনসংখ্যার শতকরা সাতানব্বই ভাগেরও বেশি লোক অর্থাৎযাজক ও অভিজাত শ্রেণি বাদে সমগ্র দেশবাসীকে নিয়ে গঠিত ছিল তৃতীয় সম্প্রদায়।

(ক) আবেসিয়েসও লেফেভরের মন্তব্য

১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে আবে সিয়েস একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেন। তার নাম ‘তৃতীয় সম্প্রদায় কী?’ এর উত্তরে তিনি বলেন—সব। লেফেভর বলেন যে, বিত্তশালী বুর্জোয়া থেকে দরিদ্রতম ভিক্ষুক পর্যন্ত প্রায় ছিয়ানব্বই শতাংশ মানুষকে পুরাতনতন্ত্র নির্বিচারে তৃতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে নিক্ষেপ করেছিল।

(খ) সম্পূর্ণ জাতি

বস্তুত তৃতীয় সম্প্রদায় হল একটি সম্পূর্ণ জাতি। ফ্রান্সের দরিদ্রতম মানুষ থেকে সর্বাপেক্ষা বিত্তশালী, এবং সর্বাপেক্ষা শিক্ষিত ও আলোকপ্রাপ্ত শ্রেণি থেকে নিরক্ষর মানুষ—সবাই এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। তৃতীয় সম্প্রদায় কোনও সুসংগঠিত গোষ্ঠী নয়। এই সম্প্রদায়ের মধ্যে ছিল নানা উপশ্রেণি, যথা – বুর্জোয়া বা মধ্যবিত্ত, কৃষক, শ্রমিক, ‘সাঁকুলেৎ’ বা চালচুলোহীন ভবঘুরে সবাই।

(গ) বুর্জোয়া শ্রেণি

তৃতীয় শ্রেণির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল বুর্জোয়া বা মধ্যবিত্তরা। তারা ছিল বিপ্লবের অগ্রদূত। তাদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণিবিভাগ ছিল। যেমন –

(১) উচ্চ বুর্জোয়া

বড়ো ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও ব্যাঙ্কারদের বলা হত উচ্চ বুর্জোয়া। আর্থিক দিক থেকে সমৃদ্ধশালীহলেও এদের কোনও সামাজিক মর্যাদা ছিল না।

(২) মধ্য বুর্জোয়া

আইনজীবী, চিকিৎসক, শিক্ষকরা ছিলেন মধ্য বুর্জোয়া।

(৩) নিম্ন বুর্জোয়া

কারিগর, দোকানদার, কৃষক, শ্রমিক প্রভৃতিদের বলা হত নিম্ন বুর্জোয়া।

(ঘ) সমাজে বুর্জোয়াদের স্থান

  • (১) সামগ্রিকভাবে বিদ্যা, বুদ্ধি ও ধনবলে অভিজাতদের চেয়ে বলীয়ান হয়েও কেবল বংশকৌলিন্যের অভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রে তারা অপাংক্তেয় ছিল। অভিজাত সম্প্রদায় তাদের ঘৃণার চোখে দেখত।
  • (২) তারা ছিল চরমতম অসাম্যের শিকার ও করভারে নিপীড়িত। তাদের দাবি ছিল – সামাজিক সম্মান ও স্বীকৃতির মাপকাঠি হবে যোগ্যতা, বংশকৌলিন্য নয়। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির প্রতি তারা খুবই ঈর্ষাপরায়ণ ছিল, আর এই শ্রেণিগত ঈর্ষাই বিপ্লবের প্রকৃত কারণ।

(ঙ) নেপোলিয়নের মন্তব্য

নেপোলিয়ন বলেছেন যে, অহমিকাই ছিল বিপ্লবেরমূল কারণ, স্বাধীনতা ছিল অজুহাত মাত্র।”

(চ) কৃষক

  • (১) তৃতীয় শ্রেণির সংখ্যগরিষ্ঠ অংশ ছিল কৃষকরা। মোট জনসংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগ ছিলকৃষক। এদের আর্থিক অবস্থা ছিল শোচনীয় এবং তারা সমাজ ও রাষ্ট্রে নানাভাবে নিপীড়িতহত। তাদের মধ্যে নানা শ্রেণিবিভাগ ছিল — স্বাধীন কৃষক, ভাগচাষি,খাজনা চাষি, ক্ষেত মজুর এবং সবার নীচে ছিল অসংখ্য ভূমিদাস।
  • (২) মার্কসবাদী ঐতিহাসিক অধ্যাপক লাব্রুস (Labrousse)-এর মতে, “অষ্টাদশ শতকে ফরাসি কৃষকরা ছিল সর্বাপেক্ষা শোষিত।”
  • (৩) রাষ্ট্র, সামন্তপ্রভু ও গির্জাকে তারা নানা ধরনের কর দিতে বাধ্য ছিল। তারা রাষ্ট্রকে টেইলি (মোট আয়ের উপর কর), ক্যাপিটেশন (উৎপাদনভিত্তিক আয়কর), ভিটিংয়েমে (স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির উপর কর), গ্যাবেলা (লবণ কর), এইডস্ (তামাক ও মদের উপর কর), কর্ভি (বেগার খাটা) প্রভৃতি কর দিতে বাধ্য ছিল।
  • (৪) সামন্তপ্রভুদের নানা ধরনের কর দিতে হত। গির্জা তাদের কাছ থেকে টাইদ’বা ধর্মকর আদায় করত। বিপ্লব শুরু হলে করভারে জর্জরিত কৃষকরা সক্রিয় অংশগ্রহণ করে।

মূল্যায়ণ

জোরেস (Jaures), মাতিয়ে (Mathiez), লেফেভর (Lefebvre), সালভেমিনি,সবুল (Soboul), হেরল্ড প্রমুখ ঐতিহাসিকরা ফরাসি বিপ্লবের কারণ হিসেবে সামাজিক অসাম্যের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। হ্যাম্পসন (Hampson) বলেন, “বুর্জোয়াদের সব শাখাই অভিজাতদের সমালোচনা করত। তারা অভিজাতদের সমান মর্যাদা ও অধিকার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করত।”

উপসংহার :- গুডউইনের মতে, “অভিজাতদের প্রতিক্রিয়াশীল আকাঙ্ক্ষার মধ্যেই ফরাসি বিপ্লবের প্রকৃত কারণ খুঁজতে হবে।” ঐতিহাসিক রাইকার (Riker) বলেন, “বিপ্লব ছিল শ্রেণি-সংগ্রামের ফলশ্রুতি, সামাজিক সমতা অর্জনের জন্য মধ্যবিত্ত শ্রেণির আন্দোলন।”

(FAQ) ফরাসি বিপ্লবের সামাজিক কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. ফরাসি সমাজের কটি ভাগ ছিল ও কি কি?

তিনটি, প্রথম এস্টেট, দ্বিতীয় এস্টেট ও তৃতীয় এস্টেট।

২. ফরাসি সমাজে যাজকরা কয় ভাগে বিভক্ত ছিল ও কি কি? – দুটি, উচ্চতর যাজক ও নিম্নতর যাজক

দুটি, যথা- উচ্চতর যাজক ও নিম্নতর যাজক।

৩. ফরাসি মাঝে অভিজাতরা কয় ভাগে বিভক্ত ছিল ও কি কি?

দুটি, যথা- জন্মসূত্রে অভিজাত ও পোশাকী অভিজাত।

৪. ‘তৃতীয় সম্প্রদায় কী?’গ্ৰন্থের লেখক কে?

আবে সিয়েস।

Leave a Reply

Translate »