শিখ জাতির স্বাধীনতা যুদ্ধ

পাঞ্জাবের শিখ জাতির স্বাধীনতা যুদ্ধ প্রসঙ্গে খালসা ও শিখপন্থ, বান্দার নেতৃত্ব, পাঞ্জাবে শিখ বিদ্রোহ, বান্দার হত্যা, রবীন্দ্রনাথের কবিতায় বর্ণনা, পাঞ্জাবে মুঘল শক্তির ভাঙন, দল খালসা গঠন, মুঘলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, সাহিব দেওয়ানের নির্দেশ, নাদির শাহের মাল লুঠ ও আবদালির আক্রমণ সম্পর্কে জানবো।

পাঞ্জাবের শিখ জাতির স্বাধীনতা যুদ্ধ

বিষয়শিখ জাতির স্বাধীনতা যুদ্ধ
নেতাবান্দা
শেষ শিখ গুরুগুরু গোবিন্দ সিংহ
স্বাধীনতা লাভ১৭৬৭ খ্রি
পাঞ্জাবের শিখ জাতির স্বাধীনতা যুদ্ধ

ভূমিকা :- ১৭০৮ খ্রিস্টাব্দে গুরু গোবিন্দ সিংহের হত্যা মুঘলদের সঙ্গে শিখ পন্থের শান্তি স্থাপনের সম্ভাবনা দূর করে দেয়।

শিখ জাতির খালসা ও শিখপন্থ

যদিও গুরু গোবিন্দের পর কোনো গুরু ছিলেন না, কিন্তু দরবার খালসা ও শিখপন্থ শিখ জাতির সামরিক শক্তি ও মুঘলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকে ধরে রাখে।

শিখ গুরু বান্দার নেতৃত্ব

বান্দা নামে এক শিখ নেতার নেতৃত্বে শিখ জাতি সঙ্ঘবন্ধ হয়। গুরু গোবিন্দ ও তাঁর পুত্রদের হত্যা ও শিখ গুরুদ্বারগুলি ধ্বংসের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বান্দা বাহাদুর পাঞ্জাবে ধর্মযুদ্ধ আরম্ভ করেন।

পাঞ্জাবে শিখ বিদ্রোহ

শিখ আক্রমণে সুবাদার ওয়াজির খাঁ পরাজিত ও নিহত হন। শিরহিন্দ লুঠ করা হয়। বান্দা লোহাগড় দুর্গকে তার সামরিক কেন্দ্রে পরিণত করেন। পাঞ্জাবের সর্বত্র শিখ বিদ্রোহ দেখা দেয়।

শিখ গুরু বান্দার হত্যা

সম্রাট প্রথম বাহাদুর শাহ-এর আক্রমণে বান্দা লোহাগড় ছেড়ে পালান। সম্রাট ফারুখশিয়ার-এর আমলে লাহোরের মুঘল শাসনকর্তা আবদুস সামাদ খাঁ বান্দাকে গুরুদাসপুরে বন্দী করেন। ১৭১৬ খ্রিস্টাব্দে দিল্লীতে এনে তাকে নিহত করা হয়।

রবীন্দ্রনাথের কবিতায় শিখ নেতা বান্দার উল্লেখ

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘বন্দীবীর’ নামে কবিতায় বান্দার বন্দী ও হত্যা স্মরণ করে বলেছেন,

“গুরুদাসপুর গড়ে

বান্দা যখন বন্দী হইল

তুরানী সেনার করে।

সম্মুখে চলে মুঘল সৈন্য

উড়ায়ে পথের ধুলি

ছিন্ন শিখের মুণ্ড লইয়া

বর্শা ফলকে তুলি”।

পাঞ্জাবে মুঘল শক্তির ভাঙন

বান্দার মৃত্যুর পর শিখজাতি মুঘলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালাতে থাকে। ১৭৩৯ খ্রিস্টাব্দে নাদির শাহের ভারত আক্রমণ -এ পাঞ্জাবে মুঘল শক্তি ভেঙে পড়ে।

শিখ জাতির দল খালসা গঠন

১৭৪৫ খ্রিস্টাব্দে মুঘল শাসনকর্তা জ্যাকেরিয়া খাঁর মৃত্যু হলে শিখ শক্তি নতুন উদ্যমে জেগে ওঠে। তারা দল খালসা গঠন করে। দল খালসা দুভাগে বিভক্ত ছিল। যথা – বুঢ়া দল ও তরুণ দল। তরুণ দল ৫টি জাঠায় বিভক্ত হয়। প্রতি জাঠায় ১৫০০-২০০০ খালসা সৈন্য ছিল।

মুঘলদের বিরুদ্ধে জাঠ সর্দারের যুদ্ধ

প্রতি জাঠার সর্দার বা জাঠেদার মূল নেতা কাপুর সিংহের নেতৃত্বে মুঘলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে থাকে।

গুরু গোবিন্দ সিংহের পত্নী সাহিব দেওয়ানের নির্দেশ

গুরু গোবিন্দের বিধবা পত্নী সাহিব দেওয়ানের নির্দেশে দল খালসা গঠিত হয়। দল খালসা পাঞ্জাবের বারি দোয়াব অধিকার করে।

নাদির শাহের মাল লুঠ

নাদির শাহ দিল্লী লুঠ করে ১৭৩৯ খ্রিস্টাব্দে ফিরে যাওয়ার সময় শিখ খালসা নাদিরের বাহিনীকে আক্রমণ করে কিছু লুঠের মাল হস্তগত করে।

আবদালির আক্রমণ

আহমদ শাহ আবদালী ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে তাঁর পুত্র তৈমুর শাহের সাহায্যে শিখদের দমনের জন্য চেষ্টা চালান। তিনি বহু শিখকে হত্যা করেন। কিন্তু পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ -এর পর আবদালীর বাহিনীর কাবুলে ফেরার সময় শিখরা পাল্টা আক্রমণ দ্বারা তাঁর প্রভূত ক্ষয়ক্ষতি করে।

উপসংহার :- ১৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে আহমদ শাহ আবদালী পাঞ্জাবে শিখ জাতির স্বাধীনতা মেনে নেন। এর আগেই পাঞ্জাবে মুঘল শাসন লোপ পেয়েছিল।

(FAQ) পাঞ্জাবের শিখ জাতির স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. গুরু গোবিন্দ সিংহের পর শিখদের নেতৃত্ব দেন কে?

বান্দা।

২. নাদির শাহ কখন ভারত আক্রমণ করে?

১৭৩৯ খ্রিস্টাব্দে।

৩. পাঞ্জাবে শিখ জাতির স্বাধীনতা মেনে নেন কে?

আহম্মদ শাহ আবদালি।

৪. পাঞ্জাবে শিখ জাতির স্বাধীনতা স্বীকৃত হয় কখন?

১৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে।

Leave a Comment