জাতীয় কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশন

জাতীয় কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশন -এর সময়কাল, স্থান, সভাপতি, প্রতিনিধি, প্রতিনিধি স্থানীয় কংগ্রেস, পার্লামেন্টের রূপ ধারণ, মুসলিম প্রতিনিধি, সুরেন্দ্রনাথ ও বাঙালি প্রতিনিধি, বাঙালিদের সংগঠন, জনসাধারণের প্রবেশ, সরকারের সমালোচনা জাতীয় কংগ্রেসের দাবি সমূহ সম্পর্কে জানব।

জাতীয় কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশন (১৮৮৬ খ্রিঃ)

সময়কাল১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দ
স্থানকলকাতা
সভাপতিদাদাভাই নৌরজি
প্রতিনিধি সংখ্যা৪৪০
জাতীয় কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশন

ভূমিকা :- ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে দাদাভাই নৌরোজি-র সভাপতিত্বে কলকাতায় অনুষ্ঠিত জাতিয় কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশন প্রথম অধিবেশনের চেয়ে নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও উন্নততর।

পার্লামেন্টের রূপ ধারণ

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিদের যোগদানে কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশন ‘জাতীয় পার্লামেন্টের’ রূপ ধারণ করে।

প্রতিনিধি

কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে যেখানে ৭২ জন প্রতিনিধিযোগ দেন, সেখানে দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রতিনিধিদের সংখ্যা ছিল ৪৪০ জন।

প্রতিনিধি স্থানীয় কংগ্রেস

বোম্বাই অধিবেশনে যাঁরা যোগদান করেন, তাঁদের ঠিক প্রতিনিধি বলা যায় না—তাঁরা ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক। কিন্তু দ্বিতীয় অধিবেশনে যাঁরা যোগ দেন তাঁরা বিভিন্ন প্রদেশ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে এসেছিলেন। সুতরাং এই কংগ্রেস ছিল প্রতিনিধি-স্থানীয়।

মুসলিম প্রতিনিধি

প্রথম অধিবেশনে মাত্র ২ জন মুসলিম সদস্য যোগদান করেন, কিন্তু দ্বিতীয় অধিবেশনে মুসলিম প্রতিনিধির সংখ্যা ছিল ৩৩।

সুরেন্দ্রনাথ ও বাঙালি প্রতিনিধি

হিউমের অনুরোধে সুরেন্দ্রনাথ ও তাঁর জাতীয় সম্মেলন সহ বাংলার প্রায় ২৩০ জন প্রতিনিধির যোগদানের ফলে কংগ্রেস যথার্থই জাতীয় রূপ পরিগ্রহ করে এবং কংগ্রেসে নতুন রাজনৈতিক চেতনার সঞ্চার হয়।

বাঙালিদের সংগঠন

  • (১) দ্বিতীয় অধিবেশন থেকেই কংগ্রেসে বাঙালিদের প্রভাব বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং কংগ্রেসকে বাঙালিদের সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা শুরু হয়।
  • (২) মহাবিদ্রোহ বা সিপাহি বিদ্রোহের ইতিহাসকার ম্যালসন (Malleson) তো লিখেই ফেলেন যে, কংগ্রেসের স্রষ্টা হল ‘গোলমাল-প্রবণ বাঙালিরা’ (‘noisy Bengalis’)।
  • (৩) মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেসের তৃতীয় অধিবেশন -এ যোগদান করা থেকে মুসলিম সম্প্রদায়কে বিরত করার জন্য আলিগড় আন্দোলন -এর নেতা স্যার সৈয়দ আহমেদ খান মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বলেন যে, “তোমরা যদি চাও যে বাঙালি শাসনে দেশ আর্তনাদ করবে এবং দেশের মানুষ বাঙালিদের জুতো চাটবে তাহলে আল্লার নামে মাদ্রাজগামী ট্রেনে উঠে পড়।”
  • (৪) ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে বড়লাট ডাফরিনও কংগ্রেসকে ‘বাঙালি সংগঠন’ (‘Bengalee Constitution’) বলে অভিহিত করছেন।

জনসাধারণের প্রবেশ

এই অধিবেশন থেকে সাধারণ মানুষদেরও কংগ্রেসের প্রকাশ্য অধিবেশনে দর্শক হিসেবে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়। এটি একটি অভিনব ব্যবস্থা।কারণ, ইতিপূর্বে আর কোনও রাজনৈতিক সংগঠনে এই ধরনের ব্যবস্থা ছিল না এবং পরবর্তী কালেও আর কোনও রাজনৈতিক দলের অধিবেশনে দীর্ঘকাল এমন নজির পাওয়া যায় নি।

সরকারের সমালোচনা

  • (১) অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতি রাজেন্দ্রলাল মিত্র বলেন যে, “আমরা জাতীয় সরকারের অধীনে বাস করি না। আমাদের ওপরে আছে বিদেশি সরকার। তাদের পক্ষে আমাদের অভাব, অনুভূতি ও আকাঙ্ক্ষা অনুধাবন করা সম্ভব নয়।”
  • (২) এই অধিবেশনেই দীনশা ওয়াচা ভারতের দারিদ্রের জন্য ব্রিটিশসরকারকে দায়ী করেন।

কংগ্রেসের দাবি

  • (১) এই অধিবেশনেও আইনসভায় নির্বাচিত সদস্য গ্রহণ, নির্বাচিত সদস্যদের সংখ্যা ও ক্ষমতা বৃদ্ধি, একই সঙ্গে ভারত ও ইংল্যাণ্ডে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি উচ্চপদে নিয়োগ প্রভৃতির দাবি জানানো হয়।
  • (২) বড়লাট ডাফরিন অবশ্য কংগ্রেসের কিছু কিছু দাবিকে ‘বাড়াবাড়ি’ (‘Extra vagant’) বলে অভিহিত করলেও সব দাবিকে একেবারে উড়িয়ে দিতে পারেন নি। এ সময়েই প্রথম তিনি আইনসভাগুলিতে নির্বাচিত ভারতীয় সদস্য গ্রহণ এবং তাঁদের সংখ্যাবৃদ্ধির কথা বলেন।

উপসংহার :- এই সময় থেকে কংগ্রেসকে দুর্বল করার জন্য সরকারের চক্রান্ত শুরু হয় এবং কংগ্রেস-বিরোধী চক্রান্ত এ ব্যাপারে সরকার স্যার সৈয়দ আহমদ-কে ব্যবহার করার নীতি গ্রহণ করে। এ প্রসঙ্গে স্যার সৈয়দ আহমদ এবং তাঁর পরিচালিত আলিগড় আন্দোলনের কথা কারও অজানা নয়।

(FAQ) ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশন সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় কখন?

১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে।

২. ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় কোথায়?

কলকাতায়।

৩. ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন কে?

দাদাভাই নৌরজি।

Leave a Reply

Translate »