সিমলা বৈঠক

সিমলা বৈঠক প্রসঙ্গে ভারতবর্ষে রাজনৈতিক উত্তেজনা, সরকারের নতুন প্রস্তাব, কংগ্রেস কার্যকরী সমিতির সদস্যদের মুক্তি, সিমলায় বৈঠকের সিদ্ধান্ত, সিমলা বৈঠকের পূর্বে প্রস্তাব, বৈঠকের পূর্বে মুসলিমদের জন্য প্রস্তাব, বৈঠকে আলোচনা, বৈঠকের আলোচ্য প্রস্তাব গুলি প্রগতিমূলক ও বিভেদমূলক এবং বৈঠকের ব্যর্থতা সম্পর্কে জানবো।

সিমলা বৈঠক

ঐতিহাসিক ঘটনাসিমলা বৈঠক
সময়কাল১৯৪৫ খ্রি:
স্থানসিমলা
ভাইসরয়লর্ড ওয়াভেল
সিমলা বৈঠক

ভূমিকা :- ১৯৪৫-এর বসন্তকাল নাগাদ ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার সম্ভাবনা দেখা দেয়। ভারতবর্ষে এই সময় লিনলিথগোর পর ভাইসরয় হয়ে এলেন ওয়াভেল। ওয়াভেল পেশায় সৈনিক, লিনলিথগো ভাইসরয় থাকার সময় তিনি ছিলেন ভারতের প্রধান সেনাধ্যক্ষ।

জাপানের সাথে যুদ্ধের স্থায়ীত্ব

যুদ্ধ বিশারদেরা সেই সময় মনে করছিলেন যে জাপানের সঙ্গে যুদ্ধ আরো কিছুদিন – অন্তত একবছর চলবে। সৈনিক ওয়াভেলের নিজেরও ছিল এই মত।

এশিয়ার যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা

১৯৪৫-এর আগস্টে আণবিক অস্ত্রের ব্যবহার যে নাটকীয়ভাবে এশিয়ায় যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করবে, তখনো তা বোঝার উপায় ছিল না। এশিয়ায় যুদ্ধ অব্যাহত থাকার অর্থ ভারতীয় যুদ্ধ ঘাঁটি ও বেশি পরিমাণে ভারতীয় অর্থসম্পদের ব্যবহার।

ভারতবর্ষে রাজনৈতিক উত্তেজনা

ভারতবর্ষের রাজনৈতিক উত্তেজনা তখন যে স্তরে পৌঁছেছে তার থেকে ওয়াভেল বুঝতে পারছিলেন যে অচলাবস্থার অবসান অপরিহার্য জাপানের সঙ্গে যুদ্ধ চালাতে গেলে ভারতীয় জনসাধারণ ও ভারতীয় নেতাদের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।

ইংরেজ সরকার কর্তৃক নতুন প্রস্তাব

ইউরোপের যুদ্ধ শেষ হল ১৯৪৫-এর এপ্রিল মাসে। ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী চার্চিল পদত্যাগ করলেন, আবার নতুন নির্বাচন হবার কথা। ১৪ জুন কতকগুলি নতুন প্রস্তাব ঘোষিত হল। তাতে বলা হল যে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের কাঠামোর মধ্যে ভারতবর্ষে আরো কিছু নতুন সাংবিধানিক পরিবর্তন প্রবর্তিত হবে।

কংগ্রেস কার্যকরী সমিতির সদস্যদের মুক্তি

কংগ্রেস কার্যকরী সমিতির সব সদস্য মুক্তি পেলেন। গান্ধীজির ওপর থেকে আটকের আদেশ এর আগেই তুলে নেওয়া হয়েছিল।

সিমলায় বৈঠকের সিদ্ধান্ত

রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে থেকে কিছু প্রতিনিধিকে একটি সম্মেলনে ডাকা হ’ল। স্থির হল সম্মেলন বসবে সিমলায় ২৫ জুন থেকে।

সিমলা বৈঠকের পূর্বে প্রস্তাব

বলা হয়, ভাইসরয় নিজে এবং ব্রিটিশ প্রধান সেনাধ্যক্ষ এই দুজন ছাড়া ভাইসরয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের বাকি সব সদস্য হবেন ভারতীয়। সরকারীভাবে ভাইসরয়ের বিশেষ ক্ষমতাগুলি তাঁর হাত থেকে নিয়ে নেওয়া হবে না, তবে সে ক্ষমতা তিনি অযৌক্তিকভাবে ব্যবহার করবেন না।

সিমলা বৈঠকের পূর্বে মুসলিমদের জন্য প্রস্তাব

বলা হয় কাউন্সিলে ‘বর্ণ হিন্দু ও মুসলমানদের অনুপাত হবে সমান সমান।’ সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে সমতার যে দাবি মুসলিম লীগ এতদিন করে আসছিলেন তার প্রতি ব্রিটিশ নীতির সমর্থন এই প্রথম সরকারিভাবে ঘোষিত হল।

সিমলা বৈঠকে আলোচনা

বলা হয় যে কোনো সাংবিধানিক চুক্তি জোর করে আদায় করা বা চাপিয়ে দেওয়া প্রস্তাবগুলির উদ্দেশ্য নয়, প্রস্তাবগুলি নিয়ে আলোচনা হবে সিমলা সম্মেলনে।

সিমলা বৈঠকের আলোচ্য প্রস্তাব গুলি প্রগতিমূলক ও বিভেদমূলক

প্রস্তাবগুলির মধ্যে কিছুটা সৌহার্দ্য স্থাপনের প্রয়াস দেখা গেলেও মূলত সেগুলি ছিল অসন্তোষজনক, আর অন্তত একটি ক্ষেত্রে স্পষ্ট প্ররোচনামূলক। প্রস্তাবগুলির কিছু অংশ প্রগতিমূলক, বাকি যা তার মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির প্রয়াস লক্ষণীয়।

সিমলা বৈঠকের ব্যর্থতা

  • (১) সম্মেলন শুরু হবার সময় যেটুকু আশার রেখা দেখা দিয়েছিল তা অচিরেই মিলিয়ে যায়। জিন্নার অনমনীয় মনোভাব ও তাঁর প্রতি সাম্রাজ্যবাদীদের সমর্থন সম্মেলনের সাফল্যকে অসম্ভব করে তোলে।
  • (২) অবশেষে জিন্না যখন জিদ ধরে বসলেন যে এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের মুসলমান সদস্যরা শুধু মুসলিম লীগের দ্বারাই মনোনীত হতে পারবেন তখন মীমাংসা আলোচনা একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়ে।

উপসংহার :- মুসলিম লীগকে বাদ দিয়ে শুধু কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করতে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ রাজী হলেন না। ‘বিভাজন ও শাসন’ নীতির চরম রূপ দেখা গেল সিমলা বৈঠকে।

(FAQ) সিমলা বৈঠক সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. সিমলা বৈঠক কখন অনুষ্ঠিত হয়?

১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে।

২. সিমলা বৈঠকের সময় ভারতের ভাইসরয় কে ছিলেন?

লর্ড ওয়াভেল।

৩. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে কখন?

১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে।

Leave a Comment