জাহাঙ্গীরের সিংহাসন লাভ

জাহাঙ্গীরের সিংহাসন লাভ প্রসঙ্গে জন্ম, নামকরণ, শিক্ষা, বিবাহ, আকবরের বিরুদ্ধে সেলিমের চক্রান্ত, পিতার বিরুদ্ধে সেলিমের বিদ্রোহ, আবুল ফজলকে হত্যা, পিতার কাছে ক্ষমা ভিক্ষা, খসরু শাহকে সিংহাসনে বসাবার পরিকল্পনা ও খসরুর পরিচিতি সম্পর্কে জানবো।

জাহাঙ্গীরের সিংহাসন লাভ

ঐতিহাসিক ঘটনাজাহাঙ্গীরের সিংহাসন লাভ
সময়কাল১৬০৫ খ্রি
রাজত্বকাল১৬০৫-১৬২৭ খ্রি
পূর্বসূরিআকবর
উত্তরসূরিশাহজাহান
জাহাঙ্গীরের সিংহাসন লাভ

ভূমিকা :- মুঘল সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন আকবর। তার রাজত্বকাল ছিল শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতির যুগ। তার মৃত্যুর পর পুত্র জাহাঙ্গীর মুঘল সিংহাসনে আরোহণ করেন।

জন্ম

আকবরের পত্নী অম্বরের রাজকন্যা, যার মুসলিম নাম ছিল মরিয়ম তার গর্ভে আকবরের পুত্র সেলিমের জন্ম হয়। সেলিম সিংহাসনে বসার পর ‘জাহাঙ্গীর’ উপাধি নেন।

নামকরণ

আকবরের জীবনের প্রথম দিকে তাঁর পুত্র সন্তানদের অকালমৃত্যু হয়। এজন্য আকবর সেখ সেলিম চিস্তীর আশীর্বাদ ভিক্ষা করেন। এর পর ৩০শে আগস্ট, ১৫৬১ খ্রিস্টাব্দে সেলিমের জন্ম হলে, এই সন্তের নামে আকবর পুত্রের নাম সেলিম দেন।

শিক্ষা

সেলিম বয়স প্রাপ্ত হলে আকবর তার উপযুক্ত শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। সেলিমের অন্যতম শিক্ষক ছিলেন আবদুর রহিম-খান-ই-খানান।

বিবাহ

১৫ বছর বয়সে সেলিমের সঙ্গে রাজা ভগবানদাসের কন্যা মানবাঈয়ের বিবাহ হয়। পরবর্তীকালে সেলিম বা জাহাঙ্গীর আরও বিবাহ করেন। তাঁর অন্যান্য পত্নীদের মধ্যে রাজা উদয় সিংহের কন্যা যোধাবাঈ বিখ্যাত। এছাড়া বেগম নূরজাহানের নাম বিশেষ উল্লেখ্য।

আকবরের বিরুদ্ধে সেলিমের চক্রান্ত

কিশোর বয়স থেকে সেলিম কু-প্রভাবে পড়ে পানাসক্ত হন এবং পিতা সম্রাট আকবরের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত হন।

পিতার বিরুদ্ধে সেলিমের বিদ্রোহ

তিনি ১৬০১ খ্রিস্টাব্দে পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং এলাহাবাদে তাঁর শিবিরে নৈতিক অবক্ষয়ে লিপ্ত হন। আকবর তাঁকে বহু প্রকারে বোঝালেও সেলিম কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হন নি।

আবুল ফজলকে আহ্বান

আকবর ইতিকর্তব্য স্থির করার জন্য পরামর্শ চান এবং এজন্য দক্ষিণ থেকে তাঁর বিশ্বস্ত সভাসদ আবুল ফজলকে ডেকে পাঠান।

আবুল ফজলকে হত্যা

সেলিম বীর সিং বুন্দোলার সঙ্গে চক্রান্ত করে তাঁর সাহায্যে আবুল ফজলকে নিহত করেন। শেষ পর্যন্ত সেলিমা বেগমের চেষ্টায় যুবরাজ সেলিম বিদ্রোহী মনোভাব ত্যাগ করেন। তাছাড়া বিদ্রোহ করে জয় লাভ করা যাবে না একথাও তিনি বুঝতে পারেন।

পিতার কাছে ক্ষমা ভিক্ষা

হারেমের বেগমদের ভর্ৎসনা ও তিরস্কারে সেলিম কাবু হয়ে পড়েন। তিনি ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে আগ্রায় গিয়ে পিতার কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করেন। আকবর তাকে ক্ষমা প্রদর্শন করেন।

খসরু শাহকে সিংহাসনে বসাবার পরিকল্পনা

১৬০৫ খ্রিস্টাব্দে আকবরের মৃত্যু আসন্ন হলে সিংহাসনের উত্তরাধিকারের প্রশ্ন স্বভাবতই দেখা দেয়। মানসিংহ ও মীর্জা আজিজ কোকা, সেলিমের পুত্র খসরু শাহকে সেলিমের পরিবর্তে সিংহাসনে বসাবার পরিকল্পনা করেন।

খসরুর পরিচিতি

খসরু ছিলেন সেলিমের রাজপুত স্ত্রীর গর্ভজাত পুত্র এবং মানসিংহের ভাগিনেয়। খসরু ছিলেন সুদর্শন, আকবরের প্রিয়পাত্র, উদারপন্থী এবং আকবরের মত ধর্মসহিষ্ণুতার আদর্শে বিশ্বাসী। কিন্তু দরবারের অন্য অভিজাতরা খসরুর দাবী সমর্থন করেন নি। ফলে মানসিংহ গোষ্ঠী সংখ্যালঘু হয়ে যান।

উপসংহার :- আকবর ২১শে অক্টোবর তার রাজকীয় পাগড়ী সেলিমের মাথায় পরিয়ে দেন এবং ২৪শে অক্টোবর ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দে আকবর দেহত্যাগ করলে সেলিম সিংহাসনে বসেন এবং জাহাঙ্গীর উপাধি নেন।

(FAQ) জাহাঙ্গীরের সিংহাসন লাভ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. জাহাঙ্গীরের প্রকৃত নাম কি ছিল?

সেলিম।

২. জাহাঙ্গীর কবে সিংহাসনে আরোহণ করেন?

১৬০৫ খ্রিস্টাব্দে।

৩. কার নির্দেশে কে আবুল ফজলকে হত্যা করেন?

সেলিমের নির্দেশে বীর সিং বুন্দেলা।

৪. মুঘল সিংহাসন লাভে সেলিমের প্রতিদ্বন্দ্বী কে ছিলেন?

খসরু।

Leave a Comment