আদি মধ্যযুগে সাধারণ মানুষের অবস্থা

আদি মধ্যযুগে সাধারণ মানুষের অবস্থা প্রসঙ্গে পর্যটকদের বিবরণ, সমৃদ্ধির খ্যাতি বিস্তার, ভারতে বৈদেশিক আক্রমণ, বাবরের উক্তি, প্রজা হিতৈষী রাজা, রাজগৌরবে কলঙ্ক আরোপ, দাতব্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দান, দুর্ভিক্ষ, জলসেচ ও পয়ঃপ্রণালী নির্মাণ সম্পর্কে জানবো।

আদি মধ্যযুগে সাধারণ মানুষের অবস্থা

বিষয়আদি মধ্য যুগে সাধারণ মানুষের অবস্থা
সমৃদ্ধিমধ্যদেশ
নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়বিহার
বলভিপশ্চিম ভারত
ধারা নগরীরাজা ভোজ
আদি মধ্যযুগে সাধারণ মানুষের অবস্থা

ভূমিকা :- গুপ্তযুগ যে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল তা ফা হিয়েনের বিবরণ ও অন্যান্য তথ্য থেকে জানা যায়। গুপ্ত পরবর্তী যুগেও দেশবাসীর সাধারণ অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নত ছিল।

পর্যটকদের বিবরণ

এ সম্বন্ধে সপ্তম শতাব্দীর চৈনিক পরিব্রাজক য়ুয়ান-চুয়াং ও অন্যান্য মুসলমান পর্যটকদের বিবরণ হতে অবগত হওয়া যায়।

সমৃদ্ধির খ্যাতি বিস্তার

ভারতবর্ষের বিশেষত মধ্যদেশের সমৃদ্ধির খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। দেশের জমি উর্বর হওয়ায় প্রচুর শস্য উৎপাদন হত এবং জনসাধারণ এই সময় স্বচ্ছন্দে বাস করত।

ভারতে বৈদেশিক আক্রমণ

বৈদেশিক বাণিজ্যের দ্বারা বিদেশ থেকে প্রচুর ধনসম্পদ ভারতবর্ষে আসত। ভারতের এই অতুল ঐশ্বর্যের দ্বারাই প্রলুব্ধ হয়ে বিদেশিগণ ভারত আক্রমণ করে।

বাবরের উক্তি

বাবর তো তাঁর আত্মজীবনী বাবর নামা গ্ৰন্থে স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে তিনি ‘তাল তাল সোনার জন্য’ ভারতবর্ষে এসেছেন।

প্রজাহিতৈষী রাজা

ভারতীয় রাজগণ সাধারণত প্রজাহিতৈষী ছিলেন এবং করভারও লঘু ছিল। বিনা পারিশ্রমিকে বেগার খাটানো সাধারণত অপ্রচলিত ছিল। তবে কোনো কোনো স্থানে বা কোনো বিশেষ প্রয়োজনে একেবারে অপ্রচলিত ছিল তা বলা যায় না।

রাজগৌরবে কলঙ্ক আরোপ

কোনো কোনো নরপতি অত্যধিক করভারের দ্বারা প্রশাসনকে পীড়িত করে রাজগৌরবে কলঙ্ক আরোপ করেছিলেন সে তথ্যও পাওয়া যায়।

দাতব্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দান

  • (১) দাতব্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অকাতরে অর্থ ও সম্পত্তি দান করা এযুগের নরপতিগণের বৈশিষ্ট্য ছিল। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নালন্দা (বিহার) ও বলভীর (পশ্চিম ভারত) খ্যাতি ভারত ও ভারতের বাইরে প্রসারিত হয়েছিল।
  • (২) পালযুগে দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ওদন্তপুরী ও বিক্রমশীলা প্রথম দুই পাল সম্রাটের যথেষ্ট পৃষ্ঠপোষকতা দ্বারা পুষ্ট হয়েছিল। মালবরাজ ভোজের আনুকূল্যে ধারা নগরী বিদ্যাচর্চার একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল।
  • (৩) পল্লব রাজারাও বিদ্যাশিক্ষার প্রসারে বিশেষ উৎসাহী ছিলেন এবং কাঞ্চী নগরীর বিদ্যায়তন সমূহের বিশেষ পৃষ্ঠপোষণ করতেন।

দুর্ভিক্ষ

দেশের সাধারণ আর্থিক অবস্থা সচ্ছল থাকলেও মাঝে মাঝে অনাবৃষ্টির জন্য দেশে অজন্মা হত ও তার ফলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিত। কলহণের রচিত রাজতরঙ্গিণী ও দণ্ডি প্রণীত দশকুমারচরিতে এই শ্রেণীর আকস্মিক দৈবদুর্বিপাকের কাহিনি উল্লিখিত হয়েছে। এই জাতীয় দৈবদুর্বিপাকের হাত থেকে নিষ্কৃতি দেওয়ার জন্য একটি পূর্তবিভাগ থাকত।

জলসেচ ও পয়ঃপ্রণালী

  • (১) কলহণের গ্রন্থে কাশ্মীররাজ অবন্তীবর্মার রাজত্বকালে জলসেচন ও পয়ঃপ্রণালী নির্মাণের কথা উল্লেখ আছে। পূর্ত বিভাগের মন্ত্রী সূর্যের চেষ্টার ফলেই এই সকল কার্যাবলী প্রবর্তিত হয়েছিল।
  • (২) দক্ষিণ ভারতের চোল রাজগণ ও জলসেচন ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিলেন। এর ফলে এযুগে কৃষি ও কৃষকের অবস্থার উন্নয়ন ঘটে এবং বিভিন্ন রকমের কৃষি শস্য উৎপাদন হওয়ায় জনসাধারণের খাদ্যাভাব তেমন ছিল না।

উপসংহার :- মোটামুটি এই যুগে জনসংখ্যা অত্যন্ত কম থাকায় মানুষের অবস্থা সচ্ছল ছিল বলা যায়। বৈদেশিক বিবরণেও এর সমর্থন পাওয়া যায়।

(FAQ) আদি মধ্যযুগে সাধারণ মানুষের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. আদি মধ্য যুগে মানুষের অবস্থা কেমন ছিল?

সচ্ছল।

২. আদি মধ্য যুগে রাজারা অকাতরে কোথায় দান করতে?

দাতব্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

৩. কোন গ্ৰন্থ থেকে আদি মধ্য যুগে দুর্ভিক্ষের উল্লেখ পাওয়া যায়?

কলহনের রাজতরঙ্গিনী ও দণ্ডীর দশকুমারচরিত।

৪. কোন রাজাদের আমলে কাঞ্চী উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়?

পল্লব।

Leave a Comment