আলাউদ্দিন খলজির বিদ্রোহ নিবারণ ব্যবস্থা

আলাউদ্দিন খলজির বিদ্রোহ নিবারণ ব্যবস্থা প্রসঙ্গে আলাউদ্দিন খলজির মতে বিদ্রোহের প্রধান কারণ ও বিদ্রোহ প্রতিরোধে আলাউদ্দিন খলজির ব্যবস্থা সম্পর্কে জানবো।

আলাউদ্দিন খলজির বিদ্রোহ নিবারণ ব্যবস্থা

ঐতিহাসিক ঘটনাআলাউদ্দিন খলজির বিদ্রোহ নিবারণ ব্যবস্থা
সুলতানআলাউদ্দিন খলজি
বংশখলজি বংশ
উপাধিদ্বিতীয় আলেকজান্ডার
আলাউদ্দিন খলজির বিদ্রোহ নিবারণ ব্যবস্থা

ভূমিকা :- অল্পকালের মধ্যে পরপর তিনটি বিদ্রোহ সংঘটনের ফলে আলাউদ্দিন স্থির করলেন যে ভবিষ্যতে এরূপ গোলযোগ প্রতিরোধের জন্য কঠোর ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে।

আলাউদ্দিন খলজির মতে বিদ্রোহের প্রধান কারণ

তার বিশ্বস্ত পরামর্শদাতাদের সাথে আলোচনা করে তিনি সিদ্ধান্ত করেন যে বিদ্রোহের চারটি প্রধান কারণ থাকে। যথা  –

  • (১) গুপ্তচর ব্যবস্থার যথোপযুক্ত প্রয়োগের অভাবে সুলতান সাম্রাজ্যের অবস্থা ও জনসাধারণের মনোভাব সম্বন্ধে সংবাদ পান না।
  • (২) অত্যধিক মদ্যপানের ফলে লোকের বিচারশক্তি লুপ্ত হয় এবং রাজদ্রোহ প্রশ্রয় পায়।
  • (৩) অভিজাত পরিবারগুলির মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কের ফলে পারস্পরিক ঘনিষ্ঠতা ও ষড়যন্ত্রের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
  • (৪) জনসাধারণের অবস্থা সচ্ছল থাকায় স্বপ্নবিলাসে ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকতে তাদের সময়ের অভাব হয় না।

বিদ্রোহ প্রতিরোধে আলাউদ্দিন খলজির ব্যবস্থা

রণথম্ভোর থেকে প্রত্যাবর্তনের পর আলাউদ্দিন কয়েকটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যথা –

(১) সঞ্চিত সম্পদের ওপর আঘাত

ওমরাহ ও রাজকর্মচারীদের সঞ্চিত সম্পদের উপর প্রথমে আঘাত করা হল। ধর্মস্থানগুলির যাবতীয় বৃত্তি রদ করা হল, প্রায় সমস্ত নিষ্কর জমি বাজেয়াপ্ত করা হল, এবং করসংগ্রহকারীদের যথাসম্ভব অধিক পরিমাণে অর্থ সংগ্রহের জন্য নির্দেশ দেওয়া হল।

(২) জিয়াউদ্দিন বরনির মন্তব্য

বরনী বলেন, “দিল্লীতে মালিক, আমীর, রাজকর্মচারী, মূলতানী হিন্দু বণিক ও হিন্দু মহাজনদের গৃহ ব্যতীত অন্যত্র অতি সামান্য পরিমাণ স্বর্ণ ই অবশিষ্ট রইল।”

(৩) সংবাদ সংগ্রহের ব্যাপক ব্যবস্থা

সংবাদ সংগ্রহের জন্য ব্যাপক আয়োজন করা হল। গুপ্তচরগণ রাজকর্মচারী ও ওমরাহদের আচরণ ও আলাপ আলোচনার উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখত এবং গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত সকল বিষয়ই সুলতানের গোচরে আনত। এরূপ বিবরণ দানের ব্যবস্থা এতদূর ব্যাপক ছিল যে ওমরাহগণ প্রকাশ্য স্থানে মুখে কিছু বলতে সাহস করতেন না, কিছু বলবার প্রয়োজন হলে আকার ইঙ্গিতে তা ব্যক্ত করতেন।

(৪) মদ্য পান ও বিক্রি নিবারণ

দিল্লীতে মদ বিক্রি ও পান নিষিদ্ধ হল। আলাউদ্দিন নিজেও মদ্যপান ত্যাগ করলেন। কিন্তু মদ্যপান এত প্রচলিত ছিল যে তা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা সম্ভব হয় নি। কিছুদিন পর আলাউদ্দিন তাঁর মূল আদেশ সংশোধন করে ওমরাহগণকে নিজ গৃহে মদ্যপানের অনুমতি দেন, কিন্তু প্রকাশ্য স্থানে মদ বিক্রি ও সামাজিক অনুষ্ঠানে মদ্যপান পূর্ববৎ নিষিদ্ধ থাকল। আলাউদ্দিনের লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক, নৈতিক নয়, এবং তা পূরণ করা সম্ভব হয়েছিল।

(৫) সুলতানের বিশেষ অনুমতি ভিন্ন ওমরাহগণের পক্ষে তাদের বাড়িতে সামাজিক উৎসবের আয়োজন বা তাদের পরিবারবর্গের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন নিষিদ্ধ হল। এই অত্যাচারী ব্যবস্থা অমান্য করা যেত না, কারণ সুলতানের গুপ্তচরগণ সর্বত্র দৃষ্টি রাখত।

উপসংহার :- এইভাবে সুলতান আলাউদ্দিন খলজি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরে বিদ্রোহ নিবারণে উদ্যোগী হয়েছিলেন।

(FAQ) আলাউদ্দিন খলজির বিদ্রোহ নিবারণ ব্যবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. দিল্লীর কোন সুলতান ওমরাহ ও রাজকর্মচারীদের সঞ্চিত সম্পদের উপর প্রথমে আঘাত করেন?

আলাউদ্দিন খলজি।

২. দিল্লীর কোন সুলতান মদ পান ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেন?

আলাউদ্দিন খলজি।

৩. দিল্লীর কোন সুলতান সংবাদ সংগ্ৰহের ব্যাপক ব্যবস্থা করেন?

আলাউদ্দিন খলজি।

Leave a Comment