বৌদ্ধ ধর্মের সংঘ ব্যবস্থা

বৌদ্ধ ধর্মের সংঘ ব্যবস্থা প্রসঙ্গে মধ্যম পথ, গৃহী বিনয়, সংঘ ব্যবস্থা গঠন, শপথ, ভিক্ষুব্রত, প্রায়শ্চিত্ত, খাদ্য সংগ্ৰহ মঠের সংগঠন সম্পর্কে জানবো।

বৌদ্ধ ধর্মের সংঘ ব্যবস্থা

বিষয় বৌদ্ধ ধর্মের সংঘ ব্যবস্থা
প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ
ধর্মগ্ৰন্থ ত্রিপিটক
সমকালের অন্য ধর্ম জৈন ধর্ম
পূর্ববর্তী ধর্ম ব্রাহ্মণ্যধর্ম
বৌদ্ধ ধর্মের সংঘ ব্যবস্থা

ভূমিকা :- ভারতে প্রায় সমকালে বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের উত্থান ঘটে। গৌতম বুদ্ধ প্রচার করেন বৌদ্ধ ধর্ম ও মহাবীর প্রচার করেন জৈন ধর্ম। তৎকালীন সময়ে বৌদ্ধ ধর্ম ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছিল।

মধ্যম পথ

বুদ্ধ তাঁর শিষ্যদের মধ্যম পথ বা মঝঝিম পন্থা অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি চরম কৃচ্ছ্রসাধন থেকে তার অনুরাগীদের বিরত থাকতে বলেছেন।

গৃহী বিনয়

বুদ্ধ তাঁর ধর্মমতকে গৃহী ও বৌদ্ধ সন্ন্যাসী বা ভিক্ষুদের জন্য প্রচার করেন। গৃহীদের গৃহে থেকে সংসার জীবনের মধ্যে সৎ-আচরণ দ্বারা মুক্তির পথ নির্দেশ করেন। তিনি ভিক্ষুদের জন্য যে নিয়ম স্থির করেন, গৃহীদের জন্য তার থেকে আলাদা ও সরল নিয়ম স্থির করে দেন। গৃহীদের জন্য নির্দেশিত নিয়মের নাম ছিল ‘গৃহী-বিনয়’।

সংঘ ব্যবস্থা গঠন

  • (১) গৌতম বুদ্ধ তাঁর শিষ্য সন্ন্যাসীদের সংগঠিত করার জন্যে সংঘ ব্যবস্থা গঠন করেন। বিনয় পিটকে সঙ্ঘ পরিচালনার নিয়মগুলি পাওয়া যায়। বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের নাম ছিল ভিক্ষু এবং সন্ন্যাসিনীদের নাম ছিল ভিক্ষুনী।
  • (২) প্রজাতান্ত্রিক রাজ্যগুলির আদর্শে বুদ্ধ সংঘের গঠন গণতান্ত্রিক নিয়মেই করেন। তিনি এজন্য তাঁর উত্তরাধিকারী নির্বাচন করেন নি। এক একটি অঞ্চলের ভিক্ষুরা তাদের নেতা নিজেরাই নির্বাচন করত। ভিক্ষু ও ভিক্ষুনীদের স্বতন্ত্র সঙ্ঘ গঠন ও স্বতন্ত্রভাবে বাস করার জন্যে বুদ্ধ নির্দেশ দেন।

শপথ

সঙ্ঘের ভিক্ষু, ভিক্ষুনীদের সর্বপ্রথম শপথ নিতে হত যে, তারা “বুদ্ধ, ধম্ম ও সঙ্ঘকে মেনে চলবে। এজন্য প্রতি ভিক্ষু বা ভিক্ষুনী যে মন্ত্র পালন করত, তা হল, “বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি; ধর্মং শরণং গচ্ছামি, সঙ্ঘং শরণং গচ্ছামি।”

ভিক্ষুব্রত

  • (১) ১৫ বছর বয়স হলে তবে কোনো ব্যক্তি ভিক্ষুবৃত্তি নিতে পারত। ভিক্ষুব্রত ধারণ করলে তাঁর সম্পত্তির মধ্যে থাকত একটি ভিক্ষাপাত্র, তিন টুকরো কাষায় বস্ত্র, একটি জলপাত্র, একটি তৈলাধার, একটি ক্ষুর, একটি লাঠি ও কাপড় সেলাইয়ের জন্যে একটি সূচ, একটি শয্যা ও একজোড়া চটি।
  • (২) ভিক্ষুকে মস্তক ও শ্মশ্রু মুড়িয়ে চীবর ধারণ করতে হত। প্রব্রজ্যা পাওয়ার পর ভিক্ষুকে কঠোরভাবে নিয়ম-নিষ্ঠা পালন করতে হত। যদি তার শিক্ষক তার নিয়ম-নিষ্ঠা পালনে সন্তুষ্ট হয়ে থাকেন তবে তাকে উচ্চতর দীক্ষা বা উপসম্পদা দান করতেন। উপসম্পদা পাওয়ার পর সেই ব্যক্তি পুরোপুরি ভিক্ষুতে পরিণত হত এবং পাতিমোক্ষের নিয়মাবলী অনুযায়ী জীবন-যাপন করত।

প্রায়শ্চিত্ত

প্রতি মাসের ৮,১৪,১৫ তারিখে স্থানীয় বিহারের অধীনে ভিক্ষুরা ও ভিক্ষুনীরা সমবেত হত। যদি তারা এর মধ্যে কোনো ভ্রষ্টাচার করত তাহলে তা সর্বসমক্ষে স্বীকার করত এবং এজন্য পাতিমোক্ষ অনুসারে প্রায়শ্চিত্ত করত।

খাদ্য সংগ্রহ

ভিক্ষুরা ভিক্ষা দ্বারা তাদের খাদ্য সংগ্রহ করতে পারত। তারা আহারের আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পারত। তবে তাদের আড়ম্বরপূর্ণ ভোজ গ্রহণ করা নিষিদ্ধ ছিল।

মঠের সংগঠন

বুদ্ধ ভিক্ষু সঙ্ঘের গঠনে গণতান্ত্রিক আদর্শ নেন। তিনি তাঁর কোনো উত্তরাধিকারী নির্বাচন করেন নি। সংঘগুলি স্বয়ং-শাসিত ও স্বয়ং-সম্পূর্ণ ছিল। কোনো কেন্দ্রীয় সঙ্ঘ বা মঠ তাদের নিয়ন্ত্রণ করত না। স্থানীয় সঙ্ঘের সদস্য ভিক্ষুরা সমবেত হয়ে ভোটের দ্বারা তাদের মত জানাত এবং মঠাধ্যক্ষ নির্বাচন করত।

উপসংহার :- বুদ্ধ প্রাকৃত বা অর্ধমাগধী ভাষায় অর্থাৎ জনগণের ভাষায় তার ধর্মমত প্রচার করতেন। এতে সকল লোকে তাঁর কথা বুঝতে পারত। এর ফলে বৌদ্ধ ধর্ম ব্যাপক বিস্তার লাভ করে।

(FAQ) বৌদ্ধ ধর্মের সংঘ ব্যবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক কে?

গৌতম বুদ্ধ।

২. বৌদ্ধ ধর্মগ্ৰন্থের নাম কি?

ত্রিপিটক।

৩. বৌদ্ধ ধর্মে আর্যসত্য কটি?

চারটি।

৪. প্রথম বৌদ্ধ সংগীতি কোথায় আয়োজিত হয়?

রাজগৃহে।

৫. গৌতম বুদ্ধ কোন ভাষায় তার ধর্মমত প্রচার করেন?

প্রাকৃত ভাষা।

Leave a Reply

Translate »