হোয়শল সাম্রাজ্য

হোয়শল সাম্রাজ্য প্রসঙ্গে রাজধানী, আদি নিবাস, নামকরণ, ক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রথম বল্লাল, বিষ্ণুবর্ধন, বীর বল্লাল, সোমেশ্বর, তৃতীয় বীর বল্লাল, মালিক কাফুরের আক্রমণ ও সাম্রাজ্যের অবলুপ্তি সম্পর্কে জানবো।

হোয়শল সাম্রাজ্য

বিষয় হোয়শল সাম্রাজ্য
রাজধানী দ্বারসমুদ্র
ভাষা কন্নড়, সংস্কৃত
ধর্ম জৈন ধর্ম, হিন্দু ধর্ম
পূর্বসূরি চালুক্য বংশ
উত্তরসূরি বিজয়নগর সাম্রাজ্য
হোয়শল সাম্রাজ্য

ভূমিকা :- হোয়শল সাম্রাজ্য ছিল দক্ষিণ ভারতের একটি উল্লেখযোগ্য কন্নড় সাম্রাজ্য। খ্রিস্টীয় দশম থেকে চতুর্দশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে অধুনা ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের অধিকাংশ অঞ্চল এই সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।

রাজধানী

প্রথম দিকে হোয়শল সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল বেলুরু শহর। পরে তা হৈলেবিডু বা দ্বারসমুদ্র শহরে স্থানান্তরিত হয়।

আদি নিবাস

হোয়শল রাজাদের আদি নিবাস ছিল পশ্চিমঘাট পর্বতমালার মালেনাড়ু কর্ণাটক উচ্চভূমি অঞ্চলে। হোয়শলগণ নিজেদের চন্দ্রবংশীয় বলে দাবী করত।

নামকরণ

এই বংশের প্রথম উল্লেখযোগ্য লোক ছিলেন “শলা” যিনি একটি লোহার শলার দ্বারা একটি বাঘ মারেন। এই শলা থেকে ” হোয়শল” নাম হয়।

ক্ষমতা বৃদ্ধি

আদিতে হোয়শলরা চালুক্যদের অধীনে ছিল। চোল-চালুক্য বিরোধের সুযোগে দ্বারসমুদ্রে হোয়শলা বংশ ক্ষমতা বাড়ায়।

প্রথম বল্লাল (১১০০-১১১০ খ্রি) মহীশুর জয় করেন এবং চোল রাজ্যের একাংশ অধিকার করেন। তিনি দ্বারসমুদ্রে তার রাজধানী বসান।

বিষ্ণুবর্ধন

এর পরে বিষ্ণুবর্ধন হোয়শল সিংহাসনে বসেন। ১১১৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি চোলেদের কাছ থেকে গঙ্গবদি অধিকার করে নেন এবং বেলুরু থেকে হৈলেবিডুতে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন। বিষ্ণুবর্ধন একটি স্বাধীন সাম্রাজ্য স্থাপনের ব্যাপারে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। তার এই আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করেন তার পৌত্র দ্বিতীয় বীর বল্লাল।

বীর বল্লাল

দ্বিতীয় বীর বল্লাল (১১৭৩-১২১৪ খ্রি) চালুক্য শক্তিকে পরাস্ত করে মহারাজাধিরাজ উপাধি নেন। চালুক্য রাজ্যের বৃহদংশ হোয়শলরা অধিকার করে। বীর বল্লাল যাদব রাজা ভীলম্মাকে পরাস্ত করে যাদব রাজ্য গ্রাস করেন।

সোমেশ্বর

এর পর হোয়শলা বংশের বিখ্যাত রাজা ছিলেন সোমেশ্বর। তিনি পাণ্ড্য ও চোলেদের থেকে ‘মামাডি’ (‘মামা’) সম্মান লাভ করেন। পাণ্ড্য রাজ্যেও হোয়শলরা প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।

তৃতীয় বীর বল্লাল

পরবর্তীকালে পাণ্ড্য বিদ্রোহের ফলে তামিল দেশের যে অঞ্চলগুলি হোয়শলদের হাতছাড়া হয়েছিল, সেগুলি ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তৃতীয় বীর বল্লাল পুনরায় অধিকার করেন। এর ফলে রাজ্যের উত্তর ও দক্ষিণ অংশগুলি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়।

মালিক কাফুরের আক্রমণ

১৩১০ খ্রি আলাউদ্দিনের সেনাপতি মালিক কাফুরের আক্রমণে হোয়শল শক্তির পতন ঘটে। ১৩১১ ও ১৩২৭ খ্রিস্টাব্দে দুই বার হোয়শল রাজধানী হৈলেবিডু বা দ্বারসমুদ্র লুণ্ঠিত হয়।

অবলুপ্তি

১৩৪৩ খ্রিস্টাব্দে মাদুরাইয়ের যুদ্ধে তৃতীয় বীর বল্লাল নিহত হন। এরপর হোয়শল সাম্রাজ্যের সার্বভৌম অঞ্চলগুলি তুঙ্গভদ্রা অঞ্চলে প্রথম হরিহর শাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে যুক্ত হয়। পরবর্তীতে হরিহর শাসিত অঞ্চল বিজয়নগর সাম্রাজ্য নামে পরিচিত হয়।

উপসংহার :- দক্ষিণ ভারতের শিল্পকলা, স্থাপত্য ও ধর্মের বিকাশের ক্ষেত্রে হৈসল যুগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আজ এই সাম্রাজ্যকে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয় এর মন্দির স্থাপত্যের জন্য। এই যুগে নির্মিত একশোরও বেশি মন্দির এখনও কর্ণাটকের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে রয়েছে।

(FAQ) হোয়শল সাম্রাজ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. হোয়শল সাম্রাজ্যের রাজধানী কোথায় ছিল?

হৈলেবিডু বা দ্বারসমুদ্র।

২. হোয়শলরা নিজেদের কোন বংশীয় বলে দাবি করে?

চন্দ্রবংশীয়।

৩. কার আক্রমণে হোয়শল সাম্রাজ্যের পতন ঘটে?

মালিক কাফুর।

৪. পরবর্তীতে হোয়শল সাম্রাজ্য কার অধীনে যুক্ত হয়?

বিজয়নগর সাম্রাজ্য।

Leave a Reply

Translate »