টাইকো ব্রাহে

জ্যোতির্বিজ্ঞানী টাইকো ব্রাহে প্রসঙ্গে টাইকো ব্রাহের জন্ম, টাইকো ব্রাহে কর্তৃক উরানিবর্গ প্রতিষ্ঠা, টাইকো ব্রাহে কর্তৃক অ্যারিস্টটলের বিরুদ্ধ মতবাদ প্রচার, গ্ৰহের আবর্তন সম্পর্কে টাইকো ব্রাহের বক্তব্য, টাইকোনীয় জগৎ, টাইকো ব্রাহের প্রাগ এ আগমন, টাইকো ব্রাহে কর্তৃক কেপলারের হাতে তথ্য অর্পন, টাইকো ব্রাহের শেষ প্রলাপ ও তার মৃত্যু সম্পর্কে জানবো।

ডেনিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী টাইকো ব্রাহে প্রসঙ্গে টাইকো ব্রাহের জীবনী, টাইকো ব্রাহের কৃতিত্ব, টাইকো ব্রাহের জীবনের ঘটনাবলী, টাইকো ব্রাহের একটি সম্পূর্ণ নতুন নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ, টাইকো ব্রাহের সারা জীবন মহাবিশ্ব অধ্যয়ন সম্পর্কে আলোচনা।

জ্যোতির্বিজ্ঞানী টাইকো ব্রাহে

ঐতিহাসিক চরিত্রটাইকো ব্রাহে
দেশডেনমার্ক
পরিচিতিজ্যোতির্বিজ্ঞানী
জন্ম১৪ ডিসেম্বর ১৫৪৬ খ্রি
গ্ৰন্থদে নোভা স্তেলা
মৃত্যু১৬০১ খ্রি
জ্যোতির্বিজ্ঞানী টাইকো ব্রাহে

ভূমিকা :- জ্যোতির্বিজ্ঞানের চিন্তাধারার অগ্রগতির যুগে অন্যতম জ্যোতির্বিজ্ঞানী ছিলেন ডেনমার্কের টাইকো ব্রাহে (১৫৪৬-১৬০১ খ্রি.)। তার সহযোগী ছিলেন বিজ্ঞানী জোহানেস কেপলার

টাইকো ব্রাহের জন্ম

তিনি ১৫৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ডিসেম্বর ডেনমার্কের স্ক্যানিয়া (Scania) প্রদেশে এক অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানী টাইকো ব্রাহে কর্তৃক উরানিবর্গ প্রতিষ্ঠা

তিনি ডেনমার্কের রাজা দ্বিতীয় ফ্রেডারিকের সহায়তায় ভেন (Hven) নামক দ্বীপে ‘উরানিবর্গ’ নামে একটি আধুনিক বিজ্ঞান-প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বিভিন্ন ধরনের বড়ো বড়ো যন্ত্র বসিয়ে তিনি এখানে জ্যোতির্বিদ্যার চর্চা করতে থাকেন। কিছুদিন পর এখানে মাটির নীচেও তিনি একটি গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।

টাইকো ব্রাহে কর্তৃক অ্যারিস্টটলের বিরুদ্ধ মতবাদ প্রচার

দূরবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের পূর্বেকার জ্যোতির্বিজ্ঞানী হলেন টাইকো ব্রাহে। তিনি খালি চোখে দেখে মহাকাশের নানা জ্যোতিষ্ক সম্পর্কে বহু নিখুঁত পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হন। ১৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি দে নোভা স্তেলা নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। এতে তিনি এরিস্টটল-এর স্থির ও অপরিবর্তনীয় পৃথিবীর তত্ত্বকে সম্পূর্ণ ভ্রান্ত বলে অভিহিত করেন। তিনি পরীক্ষার সাহায্যে প্রমাণ করেন যে, নতুন নক্ষত্র নামে তারকাটি তারকাক্ষেত্রের মধ্যেই অবস্থিত, পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যবর্তী স্থানে নয় ৷

গ্রহের আবর্তন সম্বন্ধে টাইকো ব্রাহের বক্তব্য

এক্ষেত্রে বিভিন্ন দিক গুলি হল –

(১) পৃথিবীর ঘূর্ণন সম্পর্কে মত

টাইকো ব্রাহে সূর্যের চারিদিকে বিভিন্ন গ্রহের আবর্তন সম্পর্কে বিভিন্ন চার্ট তৈরি করেন। তিনি কোপারনিকাস-এর তত্ত্বকে আংশিক স্বীকার করলেও সূর্যের চারিদিকে পৃথিবীর ঘূর্ণনের তত্ত্বকে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন যে, “বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কেন্দ্রে সূর্য নয়, পৃথিবী অবস্থান করছে”।

(২) বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের গঠন সম্পর্কে মত

জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কে অ্যারিস্টটল ও টলেমির তত্ত্বকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে টাইকো ব্রাহে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের গঠন সম্পর্কে এক জটিল মতবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন যে, “পৃথিবী ছাড়া অন্যান্য গ্রহগুলি সূর্যকে কেন্দ্র করে অনবরত ঘুরে চলেছে এবং সূর্য-সহ অন্যান্য ঘূর্ণায়মান গ্রহগুলি আবার পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরে চলেছে”।

(৩) আংশিক সত্য মতবাদ

জ্যোতির্বিজ্ঞানী টাইকো ব্রাহের পৃথিবীকেন্দ্রিক বিশ্বব্রম্মাণ্ডের তত্ত্ব পরবর্তীকালে ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে সূর্যকে কেন্দ্র করে যে অন্যান্য গ্রহগুলি আবর্তিত হচ্ছে – এই সত্য ব্রাহের বক্তব্যে পাওয়া যায়।

টাইকোনীয় জগৎ

বিজ্ঞানী টাইকো ব্রাহে জগৎ-সম্পর্কিত কোপারনিকাসের জ্যামিতিক সুবিধা এবং টলেমির দার্শনিক সুবিধার সমন্বয়ে উক্ত নতুন বিশ্বজগতের কল্পনা করেন যা টাইকোনীয় জগৎ নামে পরিচিত।

জ্যোতির্বিজ্ঞানী টাইকো ব্রাহের প্রাগ এ আগমন

ডেনমার্কের রাজার সঙ্গে মতবিরোধের ফলে টাইকো ব্রাহে ১৫৯৭ খ্রিস্টাব্দে পবিত্র রোমান সম্রাট দ্বিতীয় রুডলফের আমন্ত্রণে প্রাগ-এ চলে আসেন। এখানে তিনি একটি নতুন মানমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে ১৬০১ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তাঁর সহযোগী ছিলেন বিখ্যাত জার্মানির জ্যোতির্বিদ জোহানেস কেপলার।

টাইকো ব্রাহে কর্তৃক কেপলারের হাতে তথ্য অর্পন

বিজ্ঞানী টাইকো ব্রাহে মৃত্যুশয্যায় থাকাকালীন তাঁর সারাজীবনের পর্যবেক্ষণলব্ধ তথ্যগুলো উইল করে কেপলারের হাতে অর্পণ করে যান।

জ্যোতির্বিজ্ঞানী টাইকো ব্রাহের শেষ প্রলাপ

মৃত্যুর শেষ রাতে টাইকো তাঁর সারাজীবন ধরে সংগৃহীত জ্ঞানের ভাণ্ডার সম্পর্কে কথাগুলো এমন বিকারের মতো উচ্চারণ করতে থাকেন যে, মনে হচ্ছিল কেউ বুঝি কোনো কবিতা আবৃত্তি করছে – “আমাকে দেখে যেন মনে না হয়, আমার সবকিছু নিরর্থক …” ইত্যাদি।

টাইকো ব্রাহের মৃত্যু

বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী টাইকো ব্রাহে ১৬০১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

উপসংহার :- বিশ্বব্রম্মাণ্ডের গঠন ও পৃথিবীর ঘূর্ণন সম্পর্কে টাইকো ব্রাহের মতবাদে কিছু ভুল থাকলেও তাতে যেটুকু সত্য ছিল তার গুরুত্বকে অস্বীকার করা যায় না। তা ছাড়া তাঁর সহযোগী হিসেবে জ্যোতির্বিজ্ঞানী জোহানেস কেপলার তাঁর সঙ্গে কাজের সুযোগ পেয়ে প্রভূত অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করার সুযোগ পান। ফলে কেপলারের মাধ্যমে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের গঠন সম্পর্কিত ধারণা আরও সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।

(FAQ) টাইকো ব্রাহে সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. টাইকো ব্রাহে কে ছিলেন?

ডেনমার্কের জ্যোতির্বিজ্ঞানী।

২. টাইকো ব্রাহের সহযোগী কে ছিলেন?

জোহানেস কেপলার।

৩. টাইকো ব্রাহের লেখা গ্ৰন্থের নাম কি?

দে নোভা স্তেলা।

Leave a Comment