তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠক

তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠক প্রসঙ্গে বৈঠকের সময়কাল, বৈঠকে যোগ দিতে অস্বীকার, বৈঠকের উদ্দ্যেশ্য, বৈঠকে মুসলিমদের ঘোষণা, বৈঠকে হিন্দুদের দাবি, বৈঠকে ব্রিটিশ সরকারের প্রস্তাব, বৈঠকে উদারপন্থী ভারতীয় নেতৃবর্গের দাবি ও বৈঠকের ব্যর্থতা সম্পর্কে জানবো।

তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠক

ঐতিহাসিক ঘটনাতৃতীয় গোলটেবিল বৈঠক
সময়কাল১৯৩২ খ্রি:
স্থানলণ্ডন
অনুপস্থিতশ্রমিক দল ও জাতীয় কংগ্রেস
ফলাফলব্যর্থতা
তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠক

ভূমিকা :- ব্রিটিশ সরকার ১৯৩০-৩২ সালের মধ্যে লণ্ডনে তিনবার গোলটেবিল বৈঠক করে। এগুলি প্রথম গোলটেবিল বৈঠক, দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠক ও তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠক নামে পরিচিত।

তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠকের সময়কাল

তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠক শুরু হয় ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ১৭ ই নভেম্বর এবং শেষ হয় ঐ বছরের ২৪ শে ডিসেম্বর।

তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দিতে অস্বীকার

তৃতীয় বা শেষ গোলটেবিল বৈঠকে ইংল্যাণ্ডের শ্রমিক দল এবং ভারতের জাতীয় কংগ্রেস কোনোরূপ অংশ গ্রহণ করতে অস্বীকার করে।

তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠকের উদ্দেশ্য

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের গঠন সম্পর্কে আলোচনা করাই ছিল এই বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্যে।

তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠকে মুসলিমদের ঘোষণা

মুসলিম নেত্ববর্গের দাবি অনুসারে এই বৈঠকে স্বতন্ত্র সিন্ধু প্রদেশ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তৎকালীন ভারত সচিব স্যার স্যামুয়েল হোর ঘোষণা করেন যে, ভারতের প্রস্তাবিত কেন্দ্রীয় আইন সভায় মুসলিমদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।

তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠকে সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি

এই অধিবেশনে স্থির হয় যে, যুক্তরাষ্ট্রীয় আইনসভার ঊর্ধ্বর্তন কক্ষের সদস্যবৃন্দ প্রাদেশিক আইনসভার সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রীয় আইনসভার নিম্নকক্ষের সদস্যগণ জনসাধারণের প্রত্যক্ষ ভোটের দ্বারা নির্বাচিত হবেন।

তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠকে হিন্দুদের দাবি

এই বৈঠকে উপস্থিত হিন্দু প্রতিনিধিগণ বাড়তি ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে অর্পণ করার জন্য দাবি তোলেন, কিন্তু মুসলমান প্রতিনিধিগণ প্রদেশের উপর এই ক্ষমতা অর্পণের স্বপক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করতে শুরু করেন। ফলে গভর্নর জেনারেলের উপর এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।

তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠকে ব্রিটিশ সরকারের প্রস্তাব

ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয় যে, সংবিধান সংশোধন, সার্বভৌম ক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিষয় ইংল্যাণ্ডের পার্লামেন্টের উপর ন্যস্ত থাকবে, অন্যান্য বিষয়ে গভর্নর জেনারেলের সন্মতিক্রমে ভারতীয় আইন পরিষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠকে ভারতের অর্থবিভাগ ও যুক্তরাষ্ট্রীয় বিচারালয় সম্পর্কে প্রস্তাব

এই বৈঠকে ভারতের অর্থবিভাগ ও যুক্তরাষ্ট্রীয় বিচারালয় সম্পর্কেও প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। বৈঠকে স্থির হয় যে, এই দুটি বিভাগ সম্পর্কে উত্থাপিত প্রস্তাবসমূহ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের যুগ্ম মনোনীত কমিটির নিকট পেশ করতে হবে।

তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠকে ভারতের শাসনতান্ত্রিক প্রস্তাব সমূহের পরীক্ষা

ভারতের শাসনতান্ত্রিক প্রস্তাবগুলো পরীক্ষা করার জন্য পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের সদস্যদের নিয়ে একটি যুক্ত কমিটি গঠন করা হয়। লর্ড লিনলিথগোর সভাপতিত্বে এই কমিটি শাসনতান্ত্রিক সংস্কারগুলোর প্রতি সমর্থন জানায়। কিন্তু উইনস্টন চার্চিলের নেতৃত্বে পার্লামেন্টের একদল সদস্য ভারতীয়দের প্রতি এই সুযোগ-সুবিধা দানের নীতির তীব্র প্রতিবাদ করেন।

তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠকে উদারপন্থী ভারতীয় নেতৃবর্গের দাবি

তেজবাহাদুর সপ্রু এবং জয়াকরের মতো উদারপন্থী ভারতীয় নেতৃবর্গ অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রে যোগদানকারী প্রদেশগুলোর আরোপিত শর্তসমূহ প্রকাশের জন্য ব্রিটিশ সরকারের নিকট দাবি করেন। বিশেষ এবং সংরক্ষিত ক্ষমতা সম্পর্কেও তারা কয়েকটি সুযোগ-সুবিধা লাভের জন্য প্রস্তাব করেন।

তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠকের ব্যর্থতা

সম্মেলন শেষ হওয়ার পূর্বেই এই দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার ব্যর্থতার কথা সকলের নিকট স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই সম্মেলন সাম্প্রদায়িক সমস্যা সমাধানের কোনো উপায় উদ্ভাবন করতে পারে নি।

তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠকের পর ব্রিটিশ সরকারের শ্বেতপত্র প্রকাশ

১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে শাসনতান্ত্রিক এই সকল পরিবর্তনের প্রস্তাব গ্রথিত করে ব্রিটিশ সরকার একটি শ্বেতপত্র বা সরকারী দলিল প্রকাশ করে। রক্ষণশীল দলের কঠোর সমালোচনার হাত থেকে অব্যাহতি লাভই ছিল এই শ্বেতপত্র প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য।

উপসংহার :- ব্রিটেনের রক্ষণশীল দল ইতিমধ্যেই ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও তার আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি অত্যন্ত কঠোর মনোভাব গ্রহণ করেন। ফলে তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠকের পর জাতীয় কংগ্রেসের সাথে ইংরেজ শাসকদের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে।

(FAQ) তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠক সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠকের সময়কাল কত?

১৭ নভেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ।

২. তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?

লণ্ডনে।

৩. তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দিতে অস্বীকার করে কোন দল?

ইংল্যাণ্ডের শ্রমিক দল এবং ভারতের জাতীয় কংগ্রেস।

Leave a Comment