প্রাচীন ভারতের বৌদ্ধ যুগের বিদুষী নারী শুক্লা

প্রাচীন ভারতের বৌদ্ধ যুগের বিদুষী নারী শুক্লা প্রসঙ্গে সুক্লার জন্ম, শুক্লার সৌন্দর্য ও শিক্ষা, শুক্লার বিবাহের প্রস্তাব, বিবাহে অনিচ্ছুক শুক্লা, শুক্লার অর্হতী উপাধি লাভ ও নির্বাণমুক্তির গভীর তত্ত্ব সম্বন্ধে শুক্লার উপদেশ সম্পর্কে জানবো।

বিদুষী নারী শুক্লা

ঐতিহাসিক চরিত্রশুক্লা
পরিচিতিবৌদ্ধ যুগের বিদুষী নারী
জন্মকপিলাবস্তু নগর
ধর্মবৌদ্ধ ধর্ম
উপাধি লাভঅর্হতী
বিদুষী নারী শুক্লা

ভূমিকা :- শিক্ষার নিমিত্ত যে দান, তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ দান আর পৃথিবীতে নেই। বৌদ্ধযুগে অনেক বিদুষী মহিলা নারীজাতির কল্যাণের জন্য বিদ্যা দান করে যশস্বিনী হয়ে আছেন। মালিনীর ন্যায় মহাপ্রাণা শুক্লাও শিক্ষার জন্য আত্মোৎসর্গ করে গেছেন।

শুক্লার জন্ম

কপিলাবস্তু নগরে একজন মহাধনী বৈশ্য বণিকের গৃহে শুক্লা জন্মগ্রহণ করেন।

শুক্লার সৌন্দর্য ও শিক্ষা

শুক্লা পূর্ণচন্দ্রকরলেখার ন্যায় শুভ্রবর্ণা এবং অসামান্য দেহসৌন্দর্যের অধিকারিণী ছিলেন। তার সৌন্দর্য যেমন ছিল, আন্তরিক বিবিধ গুণেও তেমনি তিনি বিভূষিতা ছিলেন। ধনী পিতা কন্যাকে সর্ববিষয়েই সুপণ্ডিতা করেছিলেন।

শুক্লার বিবাহের প্রস্তাব

  • (১) ক্রমে শুক্লার রূপ ও গুণের খ্যাতি সর্বত্র বিস্তৃত হয়ে পড়ে। নানাদেশ হতে তাঁর বিবাহের প্রস্তাব আসতে শুরু হয়। ধনী ও সম্ভ্রান্ত যুবক ব্যতীত অনেক রাজা-মহারাজাও শুক্লার পাণি-গ্রহণাভিলাষী হলেন।
  • (২) একদিকে যেমন শুক্লা রূপবতী ও গুণবতী ছিলেন, তেমনি তিনি প্রকৃত ধনসম্পত্তির অধিকারী কোটিপতি বিপুল ঐশ্বর্যশালী পিতার একমাত্র কন্যা ছিলেন। কাজেই তাকে বিবাহ করার জন্য যে তরুণসমাজে একটা আকুল আগ্রহ জাগরিত হবে তা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।

বিবাহে অনিচ্ছুক শুক্লা

শুক্লা বিবাহের পক্ষপাতিনী ছিলেন না। তাঁর মর্মে বৌদ্ধধর্মের মহাবাণী গিয়ে পৌঁছেছিল। তিনি সাংসারিক শোকদুঃখপূর্ণ জীবন যাপন করা অপেক্ষা ত্যাগের মধ্যে দিয়ে জীবন অতিবাহিত করাই শ্রেয় মনে করলেন।

শুক্লার অর্হতী উপাধি লাভ

বৌদ্ধ শাস্ত্রালোচনা করে তার মনে নির্বাণমুক্তি লাভের আকাঙ্ক্ষাই প্রবল হয়ে উঠেছিল। শুক্লা বিবাহ না করে কঠোর যোগাভ্যাস করতে লাগলেন এবং বৌদ্ধধর্ম সম্পর্কিত গভীর তত্ত্ব সম্বন্ধে অনুশীলন করতে প্রবৃত্ত হলেন। স্ত্রীলোক হয়েও তিনি অসামান্য সাধনাবলে “অর্হতী” উপাধি লাভ করতে পেরেছিলেন।

নির্বাণমুক্তির গভীর তত্ত্ব সম্বন্ধে শুক্লার উপদেশ

শুক্লা বিবাহ করবেন না, একথা দেশবিদেশে প্রচারিত হওয়া সত্ত্বেও বহু রাজকুমার তাঁর মন জয় করবার জন্য এসেছিলেন। শুক্লা তাঁদেরকে সংসারের অনিত্যতা এবং নির্বাণমুক্তির গভীর তত্ত্ব সম্বন্ধে এইরূপ উপদেশ দিলেন যে, তাঁরা সেই মহাতপস্বিনী নারীর নিকট আর বিবাহ সম্বন্ধে কোন কথা তুলতেই সাহসী হলেন না। সকলেই ব্যর্থ মনোরথ হয়ে নিজ নিজ দেশে প্রত্যাগমন করলেন।

উপসংহার :- পিতার মৃত্যুর পর অতুল ঐশ্বর্যের অধিকারিণী হয়ে কুমারী শুক্লা মহিলাদের শিক্ষার ও থাকার সুব্যবস্থা করবার জন্য বহু অর্থব্যয়ে এক সুবৃহৎ মঠ নির্মাণ করে, তাঁদের সর্বপ্রকার ব্যয়ভার বহন করেছিলেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি তাঁর সমস্ত সম্পত্তি মহিলাদের মধ্যে সুশিক্ষা বিস্তারের জন্য দান করে যশস্বিনী হয়ে আছেন।

(FAQ) বিদুষী নারী শুক্লা সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. শুক্লা কে ছিলেন?

ভারতে বৌদ্ধ যুগের একজন বিদুষী নারী।

২. শুক্লার জন্ম কোথায় হয়?

কপিলাবস্তু নগরে একজন মহাধনী বৈশ্য বণিকের গৃহে শুক্লা জন্মগ্রহণ করেন।

৩. শুক্লা কোন ধর্মের অনুরাগিনী ছিলেন?

বৌদ্ধ ধর্ম।

Leave a Comment