ভারতে মধ্যশ্রেণীর বৈপ্লবিক সংগ্রাম

ভারতে মধ্যশ্রেণীর বৈপ্লবিক সংগ্রাম প্রসঙ্গে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে মধ্যশ্রেণির সংগ্ৰাম, মধ্যশ্রেণির বিশেষ প্রকার সশস্ত্র বৈপ্লবিক সংগ্রামের পথ, মধ্যশ্রেণির সন্ত্রাসবাদ গ্ৰহণ, মধ্যশ্রেণির সন্ত্রাসবাদ গ্ৰহণের কারণ, মধ্যশ্রেণির বৈপ্লবিক ক্রিয়াকলাপ, মধ্যশ্রেণির বৈপ্লবিক সংগ্ৰামের সূচনা ও সমাপ্তি এবং মধ্যশ্রেণির বিপ্লবীদের বিশিষ্ট অবদান সম্পর্কে জানবো।

ভারতে মধ্যশ্রেণীর বৈপ্লবিক সংগ্রাম

ঐতিহাসিক ঘটনামধ্যশ্রেণীর বৈপ্লবিক সংগ্রাম
সন্ত্রাসবাদী সংগ্ৰামমধ্যশ্রেণি
অর্থ সংগ্রহডাকাতি
গণ অভ্যুত্থানগুপ্তহত্যা
দেশ ভক্তিআত্মত্যাগ
ভারতে মধ্যশ্রেণীর বৈপ্লবিক সংগ্রাম

ভূমিকা :- বৈপ্লবিক সংগ্রাম শ্রেণী-সংগ্রাম ব্যতীত অন্য কিছু নয়। ভারতবর্ষের বিংশ শতাব্দীর বৈপ্লবিক সংগ্রামও শ্রেণী-সংগ্রাম। ভারতের বৈপ্লবিক সংগ্রাম হল স্বাধীনতা লাভ ও আর্থিক দুর্দশা থেকে মুক্তিলাভের জন্য মধ্যশ্রেণীর শিক্ষিত যুবসম্প্রদায়ের সন্ত্রাসবাদী বৈপ্লবিক সংগ্রাম।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে মধ্যশ্রেণির সংগ্ৰাম

বঙ্গদেশ তথা ভারতের মধ্যশ্রেণী ব্রিটিশ সৃষ্ট সামন্তপ্রথামূলক ভূমি-ব্যবস্থার মধ্যে থেকে জন্মগ্রহণ করবার পর বিংশ শতাব্দীর আর্থিক সংকটের চাপে তার এক অংশ কৃষি-ভূমির সম্পর্ক হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং হতাশাচ্ছন্ন হয়ে আর্থিক সংকট হতে পরিত্রাণ ও দেশের স্বাধীনতা লাভের জন্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়।

মধ্যশ্রেণির বিশেষ প্রকার সশস্ত্র বৈপ্লবিক সংগ্রামের পথ

কংগ্রেসের নিষ্ক্রিয়তা আপসের মনোভাবের ফলে বুর্জোয়া নেতৃত্বের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে তারা নিজস্ব পন্থায় এক বিশেষ প্রকারের সশস্ত্র বৈপ্লবিক সংগ্রামের পথ অবলম্বন করে।

মধ্যশ্রেণির সন্ত্রাসবাদ গ্ৰহণ

মধ্যশ্রেণীসুলভ ভূম্যধিকারীর মনোবৃদ্ধির বশে তারা শ্রমিক-কৃষককে বৈপ্লবিক শক্তি বলে স্বীকার করতে ব্যর্থ হয়। এই ব্যর্থতার ফলেই তারা তাদের সংগ্রামের প্রধান উপায় হিসাবে সন্ত্রাসবাদ অবলম্বন করিতে বাধ্য হয়।

মধ্যশ্রেণির সন্ত্রাসবাদ গ্ৰহণের কারণ

যে চরমপন্থা বা সশস্ত্র সংগ্রাম জনসাধারণ হতে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে চলে, শ্রমিক-কৃষককে এড়িয়ে যায়, সেই সংগ্রামের সন্ত্রাসবাদ অবলম্বন করা ব্যতীত অন্য কোনো উপায় থাকে না।

মধ্যশ্রেণির বৈপ্লবিক ক্রিয়াকলাপ

  • (১) এই সন্ত্রাসবাদের সশস্ত্র অভ্যুত্থানের দূর পরিকল্পনা থাকলেও প্রধানত অর্থ সংগ্রহের জন্য ডাকাতি এবং গুপ্তহত্যার মধ্যেই তাদের বৈপ্লবিক ক্রিয়াকলাপ সীমাবদ্ধ থাকে। তারা রাজনীতিক ডাকাতিকে গেরিলাযুদ্ধের এক বিশেষ রূপ হিসাবে গ্রহণ করে।
  • (২) জনসাধারণকে জাগ্রত করবার ও গণ-অভ্যুত্থান ঘটাবার উপায় হিসাবে গুপ্তহত্যাকে তার গ্রহণ করে। চট্টগ্রামের বিপ্লবীদের গণ-সংযোগহীন সশস্ত্র অভ্যূত্থান ব্যতীত তাহাদের অভ্যূত্থানের অন্য সকল পরিকল্পনাই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

মধ্যশ্রেণির বৈপ্লবিক সংগ্ৰামের সূচনা ও সমাপ্তি

১৮৯৮ সালে বোম্বাই প্রদেশ হইতে এই সন্ত্রাসবাদী বৈপ্লবিক সংগ্রামের সূচনা হয় এবং ১৯৩৪ সালে বঙ্গদেশে ইহার সমাপ্তি ঘটে। ৩৬ বৎসর ব্যাপী এই সংগ্রাম ভারতের বৈপ্লবিক সংগ্রামের ইতিহাসে এক বিশিষ্ট অধ্যায় যোজনা করিয়াছে।

মধ্যশ্রেণির বিপ্লবীদের বিশিষ্ট অবদান

  • (১) তারা ঊনবিংশ শতাব্দীর রাশিয়ার সশস্ত্র সংগ্রাম ও বিদেশের সন্ত্রাসবাদী বিপ্লবীদের অনুকরণে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন সশস্ত্র সংগ্রামের পন্থা অবলম্বন করে।
  • (২) স্বাধীনতার জন্য অকাতরে ফাঁসিকাষ্ঠে ও অন্যান্যভাবে প্রাণ বলি দিয়ে দুর্জয় সাহস, অতুলনীয় আত্মত্যাগ ও দেশভক্তির পরিচয় দেয়। এটাই ভারতের বৈপ্লবিক সংগ্রামের ইতিহাসে এই সন্ত্রাসবাদী মধ্যশ্রেণির বিপ্লবীদের বিশিষ্ট অবদান।

উপসংহার :- মধ্যশ্রেণির এই সংগ্রামগুলির বৈপ্লবিক অবদান অনস্বীকার্য। মধ্যশ্রেণীর এই বিপ্লববাদীরাই সর্বপ্রথম ভারতবর্ষের পূর্ণ স্বাধীনতার ধ্বনি তুলেছিল।

(FAQ) ভারতে মধ্যশ্রেণীর বৈপ্লবিক সংগ্রাম সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. ভারতের সামন্তপ্রথামূলক ভূমি-ব্যবস্থার মধ্যে থেকে জন্মগ্রহণ করে কোন শ্রেণি ?

মধ্যশ্রেণি।

২. ভারতের কোন শ্রেণীর মানুষ সন্ত্রাসবাদ গ্ৰহণ করে?

মধ্যশ্রেণী।

৩. ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন সশস্ত্র সংগ্রামের পন্থা অবলম্বন করে কোন শ্রেণি?

মধ্য শ্রেণি।

Leave a Comment