পাথারুঘাটের বিদ্রোহ

পাথারুঘাটের বিদ্রোহ প্রসঙ্গে বিদ্রোহের বার্তা প্রেরণ, বিদ্রোহীদের সমাবেশ বন্ধের উদ্যোগ, পুলিশের কেন্দ্র স্থাপন, পাখারুঘাটের কৃষকদের বর্ধিত কর প্রত্যাহারের দাবি, পাখারুঘাটের কৃষকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি, সৈন্য ও পুলিশের উপর পাখারুঘাটের কৃষকদের আক্রমণ, পাথারুঘাটের বিদ্রোহীদের উপর সরকার বাহিনীর উন্মত্ততা, পাখারুঘাটের বিদ্রোহীদের ছত্রভঙ্গ অবস্থা ও পুলিশের গুলি বর্ষন সম্পর্কে জানবো।

পাথারুঘাটের বিদ্রোহ

ঐতিহাসিক ঘটনাপাথারুঘাটের বিদ্রোহ
স্থানআসাম
দেশভারত
সময়কাল১৮৯৪ খ্রি:
ধরণকৃষক বিদ্রোহ
পাথারুঘাটের বিদ্রোহ

ভূমিকা :- আসামের দরং জেলার মঙ্গলদৈ মহকুমার বিদ্রোহ সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য। এই মহুকুমায় বর্ধিত করের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড বিক্ষোভ দেখা দেয়। কামরূপ প্রভৃতি অন্যান্য জেলার মত দরং জেলার বিভিন্ন অঞ্চলেও ‘মেল’-এর অধিবেশনে বিপুল সংখ্যায় কৃষকদের সমাবেশ চলতে থাকে।

বিদ্রোহের বার্তা প্রেরণ

১৮৯৪ খ্রীষ্টাব্দের ২৪শে জানুয়ারী মঙ্গলদৈ মহকুমার প্রধান শাসক আসামের ডেপুটি কমিশনারকে টেলিগ্রাম যোগে সংবাদ প্রেরণ করেন যে, সিপাঝার তহসিলের কৃষকগণ কামরূপের মতই অতি বিপুল সংখ্যায় সমবেত হচ্ছে। এই সকল সমাবেশে মঙ্গলদৈ ও কলাইগাঁও তহসিলের কৃষকগণ যোগদান করছে।

বিদ্রোহীদের সমাবেশ বন্ধের উদ্যোগ

এই সকল সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করবার উদ্দেশ্যে মহকুমা শাসক একজন লেফটানান্টের অধীনে একটি সৈনদল নিয়োগ করেন।

পাখারুঘাটে পুলিশের কেন্দ্র স্থাপন

২৬শে জানুয়ারী ডেপুটি কমিশনার ও পুলিশ সুপারিন্টেণ্ডেন্ট বহু সিপাহি ও সশস্ত্র পুলিশ নিয়ে তেজপুর থেকে পাথারুঘাটে এসে উপস্থিত হন। তাঁরা পাখারুঘাটের ডাক-বাংলোতে কেন্দ্র স্থাপন করে অবস্থা আয়ত্তে আনবার চেষ্টা করেন।

পাখারুঘাটের কৃষকদের বর্ধিত কর প্রত্যাহারের দাবি

২৮শে জানুয়ারী বহু সহস্র কৃষক লাঠি ও ইষ্টকখণ্ড নিয়ে ডাক-বাংলাতে উপস্থিত হয়। তারা ডেপুটি কমিশনারকে জানিয়ে দেয়, তারা বর্ধিত কর দেবে না, বর্ধিত কর আদায় বন্ধ করতেই হবে।

পাখারুঘাটের কৃষকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি

ডেপুটি কমিশনার ক্রুদ্ধ হয়ে অবিলম্বে ছত্রভঙ্গ হবার এবং ‘মেল’-এর সমাবেশ বন্ধ করবার নির্দেশ ঘোষণা করেন। সমবেত কৃষকগণও ক্রুদ্ধ হয়ে কর আদায় বন্ধ করবার নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থান ত্যাগ করতে অস্বীকার করে। ডেপুটি কমিশনারের ইঙ্গিতে সিপাহি ও পুলিশ বাহিনী সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রাইফেলে বেয়নেট চড়িয়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়।

সৈন্য ও পুলিশের উপর পাখারুঘাটের কৃষকদের আক্রমণ

সৈন্য ও পুলিশদেরকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে দেখে বিদ্রোহী কৃষক জনতা ডেপুটি কমিশনার এবং সৈন্য ও পুলিশ বাহিনীকে লাঠি ও ইষ্টকখণ্ড দ্বারা আক্রমণ করে। জনতার আর এক অংশ তাদের ঘিরে ফেলবার চেষ্টা করে।

পাথারুঘাটের বিদ্রোহীদের উপর সরকার বাহিনীর উন্মত্ততা

এই সময় সরকারী বাহিনী উন্মত্তের মত রাইফেল থেকে গুলিবর্ষণ করতে থাকে। কৃষকগণ গুলিবর্ষণ উপেক্ষা করে বহুক্ষণ যুদ্ধ চালায়। আহত ও মৃতদেহে যুদ্ধক্ষেত্র ছেয়ে যায়।

পাখারুঘাটের বিদ্রোহীদের ছত্রভঙ্গ অবস্থা

রাইফেলের সাথে কেবল লাঠি ও ইষ্টকখণ্ড নিয়ে যুদ্ধ করা অসম্ভব বুঝে কৃষকগণ অবশেষে পশ্চাৎ অপসরণ করে এবং ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

পাখারুঘাটের বিদ্রোহীদের উপর পুলিশের গুলি বর্ষন

পুলিশের গুলিবর্ষণের ফলে ১৫০ জন কৃষক নিহত এবং দুইশতাধিক কৃষক আহত হয়।

উপসংহার :- পাথারুঘাটের এই সংঘর্ষের পর থেকে ১৮৯৪ খ্রীষ্টাব্দের আসামের সর্বত্র কৃষক বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

(FAQ) পাথারুঘাটের বিদ্রোহ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. পাথারুঘাটের বিদ্রোহ কোথায় হয়?

আসামের পাথারুঘাট অঞ্চলে।

২. পাথারুঘাটের বিদ্রোহ কখন হয়?

১৮৯৪ খ্রি:।

৩. পাথারুঘাটের বিদ্রোহে কতজন কৃষক নিহত হন?

১৫০ জন।

Leave a Comment