গোয়ালিয়র রাজ্যে বিপ্লব প্রচেষ্টা

গোয়ালিয়র রাজ্যে বিপ্লব প্রচেষ্টা প্রসঙ্গে নবভারত সঙ্ঘ, নাসিকের সাথে সম্পর্ক, নবভারত সঙ্ঘ’-এর অস্তিত্ব আবিষ্কার, আদর্শ, ক্রিয়াকলাপ, উদ্দেশ্য, রাজ্যব্যাপী গ্রেপ্তার, গোয়ালিয়র ষড়যন্ত্র মামলা ও তার বিচার সম্পর্কে জানবো।

গোয়ালিয়র রাজ্যে বিপ্লব প্রচেষ্টা

ঐতিহাসিক ঘটনাগোয়ালিয়র রাজ্যে বিপ্লব প্রচেষ্টা
সংঘগোয়ালিয়র ‘নবভারত সঙ্ঘ’
প্রধান পরিচালকযোশী
গোয়ালিয়র ষড়যন্ত্র মামলা৪১ জন অভিযুক্ত
গোয়ালিয়র রাজ্যে বিপ্লব প্রচেষ্টা

ভূমিকা :- নাসিক ষড়যন্ত্র মামলার সূত্র ধরে পুলিশ গোয়ালিয়র দেশীয় রাজ্যেও একটি ব্যাপক বৈপ্লবিক সমিতির সন্ধান পায়।

গোয়ালিয়র রাজ্যের ‘নবভারত সঙ্ঘ’

পূর্বেই এই দেশীয় রাজ্যে ‘নবভারত সঙ্ঘ’ নামে একটি গুপ্ত সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই সঙ্ঘের প্রধান পরিচালক ছিলেন যোশী নামে এক ব্যক্তি।

গোয়ালিয়র রাজ্যের নাসিকের সম্পর্ক

যোশীর সাথে নাসিকের গণেশ সাভারকরের নিয়মিত পত্র আদান-প্রদান চলত। সম্ভবত গণেশ সাভারকরের চেষ্টাতেই ‘গোয়ালিয়র নবভারত সঙ্ঘ’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং গণেশের সাহায্য নিয়েই যোশী এই সঙ্ঘের কার্য পরিচালনা করিতেন।

‘গোয়ালিয়র নবভারত সঙ্ঘ’-এর অস্তিত্ব আবিষ্কার

গণেশের গ্রেপ্তারের সময় তাঁর বাড়ি খানাতল্লাস করবার কালে পুলিশ যোশীর একখানি পত্র হস্তগত করে। এই পত্রের সূত্র ধরেই ‘গোয়ালিয়র নবভারত-সঙ্ঘ’-এর অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হয়।

‘গোয়ালিয়র নবভারত সঙ্ঘ’-এর আদর্শ ও ক্রিয়াকলাপ

এই সঙ্ঘের আদর্শ ও ক্রিয়া-কলাপ ছিল নাসিকের ‘অভিনব ভারত সঙ্ঘ’-এর অনুরূপ। “রিভলভার দ্বারা লক্ষ্যভেদ, তরবারি চালনা শিক্ষা, বোমা ও ডিনামাইট তৈরী শিক্ষা, রিভলভার সংগ্রহ, বিভিন্ন অস্ত্রের ব্যবহার প্রণালী শিক্ষা” প্রভৃতি বিষয়গুলি এই সঙ্ঘের অবশ্য করণীয় কতব্য ছিল।

‘গোয়ালিয়র নবভারত সঙ্ঘ’-এর উদ্দেশ্য

এই সঙ্ঘের গঠনতন্ত্রে এর উদ্দেশ্য বর্ণনা করে বলা হয়েছিল –

“যে-কোনো প্রদেশে একটা সাধারণ বৈপ্লবিক অভ্যুত্থান যখনই আরম্ভ হবে তখনই সকলকে সেই অভ্যুত্থানে যোগদান করে স্বাধীনতা লাভ করতে হবে। প্রথমে দেশবাসীর মন শিক্ষাদ্বারা বিপ্লবের জন্য তৈরি করতে হবে, তার পর অভ্যুত্থান আরম্ভ করতে হবে, আর কৌশল ও বুদ্ধি দ্বারাই স্বাধীনতা-যুদ্ধ চালিয়ে জয় লাভ করতে হবে।”

গোয়ালিয়র রাজ্যব্যাপী গ্রেপ্তার

গণেশ সাভারকরের নিকট প্রাপ্ত যোশীর পত্রের সূত্র ধরে ‘গোয়ালিয়র নবভারত সঙ্ঘ’-এর অস্তিত্ব ও ক্রিয়া-কলাপের সন্ধান পাওয়া মাত্র গোয়ালিয়র রাজ্যের পুলিশ রাজ্যব্যাপী গ্রেপ্তার আরম্ভ করে। সর্বসমেত একচল্লিশ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের সাথে সঙ্ঘের পরিচালক যোশীও গ্রেপ্তার হন।

গোয়ালিয়র যড়যন্ত্র মামলা

অভিযুক্ত একচল্লিশ জন বিপ্লবীদের নিয়ে ‘গোয়ালিয়র যড়যন্ত্র মামলা’ আরম্ভ হয়। ভারত সরকারের নির্দেশে গোয়ালিয়র রাজ্যের সরকার একটি স্টেট-ট্রাইবুনাল গঠন করিয়া এই মামলার বিচারের ব্যবস্থা করে।

গোয়ালিয়র যড়যন্ত্র মামলার বিচার

এই মামলার বিচারে বিভিন্ন অপরাধে ঊনত্রিশ জনের দীর্ঘ কারাদণ্ড হয়।

উপসংহার :- সাক্ষ্য প্রমাণাদি দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ধৃত একচল্লিশ জনের মধ্যে বাইশজন ‘গোয়ালিয়র নবভারত সঙ্ঘ‘-এর সভ্য এবং অন্য উনিশ জন ‘অভিনব ভারত সঙ্ঘ-এর সভ্য।

(FAQ) গোয়ালিয়র রাজ্যে বিপ্লব প্রচেষ্টা সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. কার চেষ্টাই ‘গোয়ালিয়র নবভারত সঙ্ঘ’ প্রতিষ্ঠিত হয়?

গণেশ সাভারকার।

২. ‘গোয়ালিয়র নবভারত সঙ্ঘ’-এর প্রধান পরিচালক কে ছিলেন?

যোশী।

৩. গোয়ালিয়র ষড়যন্ত্র মামলায় কতজন অভিযুক্ত হন?

৪১ জন।

Leave a Comment