ভারতের জাতীয় অপমান

ভারতের জাতীয় অপমান প্রসঙ্গে জাতীয় অপমানকর রীতি নীতির প্রচলন, ভারতবাসীদের প্রতি সরকারী ইংরেজ কর্মচারীদের অত্যাচার, অত্যাচারি সাহেবদের বিচার, ভারতবাসীর উপর ম্যাজিস্ট্রেট ফুলারের অত্যাচার ও ভারতীয়দের উপর ফুলারের অত্যাচারের প্রতিবাদ সম্পর্কে জানবো।

ভারতের জাতীয় অপমান

ঐতিহাসিক ঘটনাজাতীয় অপমান
মহাবিদ্রোহ১৮৫৭ খ্রি:
ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেটফুলার
নতুন নীতি১৮৬৮ খ্রি:
ভারতের জাতীয় অপমান

ভূমিকা :- ইংরেজগণ ভারতবর্ষে শাসকরূপে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই “কৃষ্ণকায়” ভারতবাসীদের প্রতি তাদের ঘৃণা-মিশ্রিত আচরণ ও উৎপীড়ন দিন দিন ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। ১৮৫৭ খ্রীষ্টাব্দের মহাবিদ্রোহের পর থেকে পরাজিত ভারতবাসীর উপর বিজয়ী শাসকগোষ্ঠীর এই উৎপীড়ন ও বর্বর-সুলভ আচরণ অবাধে চলিতে থাকে।

জাতীয় অপমানকর রীতি-নীতির প্রচলন

  • (১) ব্যক্তিগতভাবে ইংরেজ কর্মচারীরাই নয়, এমন কি ভারত সরকারও ভারতবাসীদের প্রতি জাতীয় অপমানকর রীতি-নীতির প্রচলন করতে ইতস্ততঃ করে নি। ১৮৬৮ খ্রীষ্টাব্দে ভারত সরকার এই প্রকারের এক নূতন নীতির প্রচলন করে।
  • (২) এই নীতি অনুসারে দেশীয় ভদ্রলোকেরা চটি প্রভৃতি ভারতীয় পাদুকা পরে কোনো সরকারী দরবার বা উৎসবে যোগদান করতে পারতেন না, সরকারী দরবার ও উৎসবে যোগদান করতে হলে তাদেরকে বুট প্রভৃতি ইউরোপীয় জুতা পরতে হত। ভারত সরকারের এই অপমানকর আচরণ পরবর্তীকালে শিক্ষিত সম্প্রদায়ের ইংরেজ-বিরোধী মনোভাব বহুগুণ বৃদ্ধি করে।

ভারতবাসীদের প্রতি সরকারী ইংরেজ কর্মচারীদের অত্যাচার

  • (১) ভারতবাসীদের প্রতি সরকারী ইংরেজ কর্মচারী ও চা-বাগানের মালিকদের আর একটি বর্বর-সুলভ নিষ্ঠুর আচরণে ভারতবাসীদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। ইংরেজ- সাহেবদের নিকট ভারতীয় শ্রমিক ও সামান্য বেতনের কর্মচারীদের জীবনের কোনো মূল্যই ছিল না, তাদের জীবন ছিল ইংরেজ সাহেবদের খেলার সামগ্রী।
  • (২) ভারতবাসীদের “বাধ্য” ও “সভ্য” করে তুলবার উদ্দেশ্যে তারা কথায় কথায় দেশীয় শ্রমিক ও অল্প বেতনের কর্মচারীদের দেহে সবুট পদাঘাত করতেও অভ্যস্ত ছিল। এটি ছিল অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতাব্দীর একটি দৈনন্দিন ও তুচ্ছ ঘটনা। এইভাবে সবুট পদাঘাতের ফলে কয়েকজনের মৃত্যু ঘটে।

অত্যাচারী সাহেবদের বিচার

এই সকল অত্যাচারী সাহেবদের বিচার করবার অধিকার ছিল একমাত্র ইংরেজ বিচারকদের। তাদের বিচারে এই হত্যাকারীরা সামান্য অর্থদণ্ড দিয়েই অব্যাহতি লাভ করত।

ভারতবাসীর উপর ম্যাজিস্ট্রেট ফুলারের অত্যাচার

১৮৭৬ খ্রীষ্টাব্দে আগ্রাজেলায় ফুলার নামক এক ইংরেজ একটা তুচ্ছ কারণে তাহার সহিসকে পেটের উপর সবুট পদাঘাত করলে সহিসের মৃত্যু ঘটে। আগ্রার ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট ফুলারকে মাত্র ত্রিশ টাকা অর্থদণ্ড করেন এবং গভর্নর-জেনারেল এই প্রকার আচরণের প্রতি কেবলমাত্র “ক্ষমা” প্রকাশ করেই কর্তব্য শেষ করেন।

ভারতীয়দের উপর ফুলারের অত্যাচারের প্রতিবাদ

  • (১) ভারতবাসীরা এই বর্বর আচরণ নীরবে সহ্য করল না। ফুলারের এই ঘটনা উপলক্ষ করে সারা ভারতে এক বিরাট বিক্ষোভ দেখা দেয়। দেশের জাগরণোন্মুখ যুবশক্তি ইংরেজ সাহেবদের এই ঔদ্ধত্য ও নৃশংসতার প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করে।
  • (২) পরবর্তীকালে সন্ত্রাসবাদীদের হাতে ইংরেজ সাহেব হত্যার জন্য জনৈক উচ্চপদস্থ ইংরেজ কর্মচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, “সন্ত্রাসবাদীরা জীবনের কোন মূল্যই দেয় না”।

উপসংহার :- কিন্তু ইংরেজ সাহেবদের নিষ্ঠুরতা ও অসহনীয় ঔদ্ধত্যই যে ভারতের যুবসম্প্রদায়কে নিষ্ঠুর করে তুলেছিল, তা এই ইংরেজ লেখকগণ সম্পূর্ণ ভুলে যান।

(FAQ) ভারতের জাতীয় অপমান সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. মহাবিদ্রোহ কখন হয়?

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে।

২. আগ্ৰার ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট কে ছিলেন?

ফুলার।

৩. ইংরেজ সাহেবদের বিচার করত কারা?

ইংরেজ বিচারক।

Leave a Comment