খসরুর বিদ্রোহ

খসরুর বিদ্রোহ প্রসঙ্গে খসরুর সমর্থনে জোট গঠন, জোটের সমর্থক, খসরুর সমর্থক অভিজাতদের পদমর্যাদা হ্রাস, কম যোগ্যতাসম্পন্ন লোকদের উচ্চপদ দান, খসরুকে নজরবন্দী, খসরুর পলায়ন, শিখ গুরুর সাহায্য লাভ, লাহোর দুর্গ আক্রমণ, খসরুর কারাদণ্ড ও খসরুর অন্ধত্ব সম্পর্কে জানবো।

খসরুর বিদ্রোহ

ঐতিহাসিক ঘটনাখসরুর বিদ্রোহ
পরিচিতিজাহাঙ্গীরের পুত্র
সময়কাল১৬০৬ খ্রি
পরিণতিঅন্ধত্ব
খসরুর বিদ্রোহ

ভূমিকা :- জাহাঙ্গীর পুত্র খসরু পিতামহ আকবরের ভাবধারা ও গুণাবলীর প্রকৃত উত্তরাধিকারী ছিলেন। তার উদার চরিত্র ও গুণাবলীর কারণে আকবরের মৃত্যুর পূর্বে তাকে মুঘল সিংহাসনের উত্তরাধিকারী মনোনীত করার চেষ্টা করা হয়।

খসরুর সমর্থনে জোট গঠন

সম্রাট আকবরের মৃত্যুর আগে তাঁর পুত্র সেলিম বা জাহাঙ্গীরকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী ঘোষণার পরিবর্তে জাহাঙ্গীরের পুত্র খসরু শাহকে আকবরের উত্তরাধিকারী ঘোষণার জন্য একটি জোট গড়া হয়।

জোটের সমর্থক

এই জোটের প্রধান সমর্থক ছিলেন রাজা মান সিংহ। খসরু ছিলেন তাঁর ভগিনীর পুত্র। মীর্জা আজিজ কোকাও এই জোটে ছিলেন। যাই হোক এই জোটের চেষ্টা সফল হয় নি।

খসরুর সমর্থক অভিজাতদের পদমর্যাদা হ্রাস

জাহাঙ্গীর সিংহাসনে বসার পর থেকে মান সিংহের প্রভাব দরবারে খর্ব হয়। জাহাঙ্গীর সন্দেহ করেন যে আকবরের আমলের প্রধান অভিজাতরা খসরুকে গোপনে সমর্থন করেন। এজন্য তিনি তাদের পদমর্যাদা হ্রাস করেন।

কম যোগ্যতাসম্পন্ন লোকদের উচ্চপদ দান

উপযুক্ত যোগ্য লোক না থাকায় আকবরের আমলের প্রধান অভিজাতদের স্থলে তিনি অপেক্ষাকৃত কম যোগ্যতাসম্পন্ন লোকদের বিভিন্ন উচ্চপদে বসিয়ে দেন।

খসরুকে নজরবন্দী

জাহাঙ্গীর সিংহাসনে বসার পর পুত্র খসরুকে ক্ষমা প্রদর্শন করেন। কিন্তু তিনি খসরুকে আগ্রা দুর্গে নজরবন্দী অবস্থায় রাখেন।

খসরুর পলায়ন

১৬০৬ খ্রিস্টাব্দে খসরু আগ্রা দুর্গ হতে পালান এবং মধুরার শাসনকর্তা হুসেন বেগ তাঁর সঙ্গে যোগ দেন। তিনি লাহোরের দিকে যাত্রা করেন এবং পথিমধ্যে সরকারি অর্থ লুঠ করে তার দ্বারা সৈনা সংগ্রহ করেন।

শিখ গুরুর সাহায্য লাভ

পাঞ্জাবের তরুণ পঞ্চম শিখগুরু অর্জুন খসরুকে আশীর্বাদ করেন ও ৫ হাজার টাকা দান করেন।

লাহোর দুর্গ আক্রমণ

খসরু শিখ ও অন্যদের সমর্থন পুষ্ট হয়ে লাহোর দুর্গ আক্রমণ করেন। লাহোর দুর্গের শাসনকর্তা দিলওয়ার খাঁ তাকে বাধা দিলে অসক দুর্গ অবরোধ করেন।

খসরুর কারাদণ্ড

জাহাঙ্গীর সেনাদলসহ লাহোরে ছুটে আসেন। তারোওয়ালের যুদ্ধে খসরুর বাহিনী বিধ্বস্ত হয়। খসরু কাবুলের দিকে পালাবার চেষ্টা করলে চেনাব নদী পার হওয়ার সময় মুঘল সেনার হাতে বন্দী হন। জাহাঙ্গীর খসরুকে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। খসরুর সহচরদের নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়।

জাহাঙ্গীরের ক্ষমা ভাবনা

ইতিমধ্যে খসরুর প্রতি সম্রাটের মনোভাব নরম হয়। তিনি পিতৃস্নেহবশত খসরুর অপরাধ ক্ষমা করার কথা ভাবেন।

খসরুর অন্ধত্ব

১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে জাহাঙ্গীরের জীবন নাশের এক চক্রান্ত ধরা পড়লে মনে করা হয় যে খসরু এতে জড়িত আছেন। সম্রাটের নির্দেশে মহাবৎ খাঁ রাজপুত্র খসরুর দুই চোখ অন্ধ করে দেন।

জাহাঙ্গীরের চরিত্রে কালিমা লেপন

খসরুর প্রতি এই নিষ্ঠুরতা জাহাঙ্গীরের চরিত্রে কালিমা লেপন করেছে। যে জাহাঙ্গীর ছিলেন ন্যায় বিচারের প্রতীক তিনি খসরু সত্যিই তার প্রাণ নাশের চক্রান্তে জড়িত ছিলেন কিনা তা ভালভাবে তদন্ত না করে শাস্তির আদেশ দেন। সন্দেহবশত খসরুর অনুচরদের প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়।

খসরুর গুণাবলী ও জনপ্রিয়তা

খসরু খুবই গুণবান রাজপুত্র ছিলেন। তাঁর চরিত্র ছিল নির্মল, চিন্তাধারা ছিল উদার। জাহাঙ্গীরের বহু সভাসদ মনে করতেন যে খসরু তার পিতামহ আকবরের ভাবধারা ও গুণাবলীর প্রকৃত উত্তরাধিকারী ছিলেন। খসরুর জনপ্রিয়তা কম ছিল না। জাহাঙ্গীরের ভয়ে অনেকে তা প্রকাশ করতে পারেন নি।

উপসংহার :- ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে কুতুব নামে এক ব্যক্তি বিহারের ভাগলপুরে ঘোষণা করে যে, সে হল খসরু শাহ। বহু লোক তার পক্ষ নিয়ে বিদ্রোহ করে।

(FAQ) খসরুর বিদ্রোহ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. খসরু কে ছিলেন?

মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের পুত্র।

২. খসরু পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন কখন?

১৬০৬ খ্রিস্টাব্দে।

৩. কোন শিখগুরু খসরুকে সাহায্য করেন?

গুরু অর্জুন।

৪. খসরুর দুই চোখ অন্ধ করে দেন কে?

জাহাঙ্গীরের নির্দেশে মহাবৎ খাঁ।

Leave a Comment