ব্রাহ্ম আন্দোলন

ব্রাহ্ম আন্দোলন প্রসঙ্গে রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা, ব্রাহ্ম সমাজ, ব্রাহ্ম আন্দোলন, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগ, কেশবচন্দ্র সেনের উদ্যোগ ও কর্মসূচি, দেবেন্দ্রনাথের সঙ্গে কেশবচন্দ্র সেনের বিরোধ, ব্রাহ্ম সমাজে বিভাজন, আদি ব্রাহ্ম সমাজ, ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠা, ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজে বিভাজন, ব্রাহ্ম আন্দোলনের গতি হ্রাস ও ব্রাহ্ম আন্দোলনের গুরুত্ব সম্পর্কে জানবো।

ব্রাহ্ম আন্দোলন

ঐতিহাসিক ঘটনাব্রাহ্ম আন্দোলন
সূচনাকারীরাজা রামমোহন রায়
ব্রাহ্ম সমাজ১৮৩০ খ্রি
আদি ব্রাহ্ম সমাজদেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ১৮৬৬ খ্রি
নববিধান ব্রাহ্মসমাজকেশবচন্দ্র সেন
ব্রাহ্ম আন্দোলন

ভূমিকা :- রাজা রামমোহন রায় ছিলেন এক বিরল প্রতিভাধর মহাপুরুষ। পেত্রার্ক ও বোকাচ্চিও যেমন ইতালির নবজাগরণের অগ্রদূত ছিলেন তেমনি রাজা রামমোহন রায় ছিলেন ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত’। ঔপনিবেশিক শাসনকালে ভারতীয় সমাজের অধোগতি দূর করে সমাজসংস্কারের কাজে তিনি জীবনপাত করেছেন। তাঁকে ‘ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ’, ‘আধুনিক ভারতের জনক’, ‘আধুনিক ভারতের ইরাসমাস’ প্রভৃতি অভিধায় ভূষিত করা হয়। মোগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর তাঁকে ‘রাজা’ উপাধি দেন। তার প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্ম সমাজ ও তার উদ্যোগে পরিচালিত আন্দোলন ইতিহাসে বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা

একেশ্বরবাদী আদর্শ প্রচারের উদ্দেশ্যে রাজা রামমোহন রায় ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে (মতান্তরে ১৮২৯ খ্রি.) ‘ব্রাহ্মসভা’ প্রতিষ্ঠা করেন। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পৌত্তলিকতা ত্যাগ করে নিরাকার পরমব্রহ্মের উপাসনা।

ব্রাহ্ম সমাজ

ব্রাহ্মসভা ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে ‘ব্রাহ্মসমাজ’ নাম ধারণ করে।

ব্রাহ্ম আন্দোলন

ব্রাহ্ম সমাজের উদ্যোগে পরিচালিত সংস্কার আন্দোলন ব্রাহ্ম আন্দোলন নামে পরিচিত।

রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যুর পর ব্রাহ্ম আন্দোলন

১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে রাজা রামমোহন রায়ের হয়। তার মৃত্যুর পর ব্রাহ্মসমাজ কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে। অবশ্য প্রথমদিকে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও এরপর কেশবচন্দ্র সেন প্রমুখ ব্রাহ্মসমাজের আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যান।

ব্রাহ্ম আন্দোলনে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগ

রাজা রামমোহনেষ রায়ের পরবর্তীকালে তাঁর অন্যতম সুহৃদ দ্বারকানাথ ঠাকুরের পুত্র দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ব্রাহ্মসমাজ’-এ যোগ দিলে ব্রাহ্ম আন্দোলন আবার প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। দেবেন্দ্রনাথের চেষ্টায় ব্রাহ্মসমাজের আদর্শ বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বিভিন্ন নিয়মকানুন ও রীতিনীতি চালু করে ব্রাহ্ম আন্দোলনকে একটি সংগঠিত ধর্মীয় রূপ দেন এবং প্রথম ব্রাহ্মধর্ম প্রচারে উদ্যোগী হন। তাঁর সময়েই ব্রাহ্মসমাজ শিক্ষাবিস্তার ও বিধবাবিবাহ প্রচলনের উদ্যোগ নেয় এবং বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও অন্যান্য সামাজিক কুসংস্কার নিবারণ করার উদ্দেশ্যে কর্মসূচি গ্রহণ করে।

ব্রাহ্ম আন্দোলনে কেশবচন্দ্র সেনের উদ্যোগ

রাজা রামমোহন রায়ের পরবর্তীকালে ব্রাহ্মসমাজে কেশবচন্দ্র সেনের যোগদান ব্রাহ্ম আন্দোলনে নতুন শক্তির সঞ্চার করে। তাঁর ধর্মপ্রচার, শিক্ষাবিস্তার, নারীমুক্তি, সমাজসংস্কার ও সমাজসেবার আদর্শ যুব মানসে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। তিনি শীঘ্রই তরুণ ব্রাহ্মদের নেতার পদ লাভ করেন। তাঁর সাফল্যে মুগ্ধ হয়ে ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে ‘ব্রহ্মানন্দ’ উপাধি দেন এবং ব্রাহ্মসমাজের সম্পাদক ও আচার্য পদে বরণ করেন।

ব্রাহ্ম আন্দোলনে কেশবচন্দ্রের কর্মসূচি

সামাজিক সংস্কার ও অন্যান্য উদ্দেশ্যে কেশবচন্দ্রের নেতৃত্বে ব্রাহ্মসমাজ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ বা কর্মসূচিগুলি হল –

(১) সমাজসংস্কার আন্দোলন

কেশবচন্দ্র সেন বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, অস্পৃশ্যতা ও জাতিভেদপ্রথার বিরুদ্ধে এবং নারীশিক্ষার প্রসার, নারীস্বাধীনতা, অসবর্ণ বিবাহ, বিধবাবিবাহ ও শ্রমিককল্যাণের পক্ষে দেশে এক প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলেন।

(২) সাংগঠনিক উদ্যোগ

কেশবচন্দ্রের উদ্যোগে ‘ব্রাহ্মবন্ধু সভা’ (১৮৬০ খ্রি.), ‘সংগত সভা’ (১৮৬০ খ্রি.) ও ‘ক্যালকাটা কলেজ (১৮৬২ খ্রি.) প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর অন্যতম কীর্তি হল ইন্ডিয়ান মিরর’ (১৮৬১ খ্রি.) পত্রিকার প্রকাশ। নারীকল্যাণের উদ্দেশ্যে তিনি ‘বামাবোধিনী সভা’ (১৮৬৩ খ্রি.) ও ‘ব্রাহ্মিকা সমাজ’ (১৮৬৫ খ্রি.) প্রতিষ্ঠা করেন। এই উদ্দেশ্যে ‘বামাবোধিনী পত্রিকা (১৮৬৩ খ্রি.) প্রকাশিত হয়।

(৩) বাংলার বাইরে কর্মসূচি

কেশবচন্দ্র সেনের কর্মকাণ্ড বাংলার বাইরেও বিভিন্ন স্থানে সম্প্রসারিত হয়েছিল। তিনি বোম্বাই (১৮৬৪ খ্রি.), মাদ্রাজ (১৮৬৪ খ্রি.), উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ (বর্তমান উত্তরপ্রদেশের একাংশ) প্রভৃতি অঞ্চলে ব্রাহ্মধর্ম ও সমাজসংস্কারের আদর্শ প্রচার করেন। ড. রমেশচন্দ্র মজুমদারের মতে, কেশবচন্দ্র পরিচালিত ধর্ম ও সমাজসংস্কারের আন্দোলনই হল ‘প্রথম সর্বভারতীয় আন্দোলন’।

ব্রাহ্ম আন্দোলনে দেবেন্দ্রনাথের সঙ্গে কেশবচন্দ্র সেনের বিরোধ

কেশবচন্দ্র সেনের নেতৃত্বে ব্রাহ্মসমাজের আন্দোলন অতি সক্রিয় হয়ে উঠলেও বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর নেতৃত্বাধীন তরুণ ব্রাহ্মদের সঙ্গে শীঘ্রই দেবেন্দ্রনাথের বিরোধ বাধে। এই ঘটনা গুলি হল –

(১) দেবেন্দ্রনাথের আদর্শ

একেশ্বরবাদী হলেও তিনি মনে করতেন, ব্রাহ্মধর্ম প্রকৃতপক্ষে হিন্দুধর্মই। তাই তিনি মূর্তিপূজা ছাড়া জাতিভেদ সহ অন্যান্য প্রথাগুলির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে রাজি ছিলেন না। তিনি এই ধর্মীয় আন্দোলনের সঙ্গে সমাজসংস্কারকে যুক্ত করতে রাজি ছিলেন না।

(২) কেশবচন্দ্র সেনের আদর্শ

অপরদিকে, কেশবচন্দ্র সেন ও তাঁর অনুগামীদের কাছে ব্রাহ্মধর্ম হল সমন্বয়ী ও সর্বজনীন। শুধু পৌত্তলিকতাই নয়, তাঁরা একই সঙ্গে জাতিভেদ ও অন্যান্য সামাজিক কুপ্রথার বিরোধী ছিলেন। তাঁদের কাছে রাষ্ট্রধর্ম নিছক একটি ধর্মীয় আন্দোলন নয়, সমাজসংস্কারও তার অঙ্গীভূত।

ব্রাহ্ম সমাজের বিভাজন

অসবর্ণ বিবাহ, ব্রাহ্ম আচার্যদের উপবীত গ্রহণ, সংস্কৃত ভাষার পরিবর্তে বাংলা ভাষায় মন্ত্রোচ্চারণ প্রভৃতি প্রশ্নে তরুণ ব্রাহ্মরা দেবেন্দ্রনাথের রক্ষণশীলতার প্রতিবাদ করে। ফলে কেশবচন্দ্র ও তাঁর অনুগামীরা ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে ব্রাহ্মসমাজ থেকে বহিষ্কৃত হন।

আদি ব্রাহ্ম সমাজ

কেশবচন্দ্র সেনের বহিস্কারের পর দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের নেতৃত্বাধীন ব্রাহ্মসমাজ ‘আদি ব্রাহ্মসমাজ’ নামে পরিচিত হয়।

ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠা

কেশবচন্দ্র সেন ও তাঁর অনুগামীরা দেবেন্দ্রনাথের নেতৃত্বাধীন ব্রাহ্মসমাজ থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে ‘ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ’ প্রতিষ্ঠা করে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকেন। যেমন  –

(১) সংস্কার কর্মসূচি

কেশবচন্দ্র সেনের নেতৃত্বে তরুণ ব্রাহ্মরা বাল্যবিবাহ, মদ্যপান, পর্দাপ্রথা প্রভৃতির বিরুদ্ধে এবং বিধবাবিবাহ, স্ত্রীশিক্ষা, অসবর্ণ বিবাহ, সুলভ সাহিত্য প্রচার, নৈশ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, শিক্ষাবিস্তার, পতিতা মেয়েদের উদ্ধার, বিভিন্ন জনহিতকর কাজ প্রভৃতির পক্ষে সক্রিয় আন্দোলন গড়ে তোলেন।

(২) তরুণ সদস্যবৃন্দ

যেসব তরুণ সক্রিয়ভাবে কেশবচন্দ্রের আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন শিবনাথ শাস্ত্রী, রামকুমার বিদ্যারত্ন, দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়, শশীপদ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।

ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজে বিভাজন

কেশবচন্দ্র সেনের কিছু কর্মকাণ্ডের ফলে কিছুদিনের মধ্যেই ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজে মতবিরোধ শুরু হয় এবং ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ বিভাজিত হয়ে যায়। যেমন –

(ক) সাধারণ ব্রাক্ষ্মসমাজ

কেশবচন্দ্রের খ্রিস্টপ্রীতি, গুরুবাদের প্রতি আসক্তি, নিজ নাবালিকা কনার বিবাহ দান প্রভৃতি প্রশ্নে শিবনাথ শাস্ত্রী, আনন্দমোহন বসু, দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়, দুর্গামোহন দাস প্রমুখ তরুণ ব্রাহ্ম তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাঁরা ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে (১৫ মে) সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।

(খ) নববিধান ব্ৰাহ্মসমাজ

অপরদিকে কেশবচন্দ্র সেন ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে সর্বধর্ম সমন্বয়ের আদর্শে ‘নববিধান ব্রাহ্মসমাজ’ গড়ে তোলেন।

ব্রাহ্ম আন্দোলনের গতি হ্রাস

কালক্রমে কেশবচন্দ্র সেনের নেতৃত্বাধীন ‘নববিধান’ তার প্রভাব-প্রতিপত্তি হারিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে ও ‘সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ’-এর নেতৃত্বে ধর্ম ও সমাজসংস্কারের কাজ চলতে থাকে।

ব্রাহ্ম আন্দোলনের গুরুত্ব

রাজা রামমোহন রায় ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন তা পরবর্তীকালে ভারতীয় ধর্ম ও সমাজসংস্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। যেমন –

  • (১) ব্রাহ্মসমাজই সর্বপ্রথম কুসংস্কারের বেড়াজালে আবদ্ধ রক্ষণশীল হিন্দুসমাজের জরাজীর্ণ কাঠামোয় আঘাত হানে। নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, নারীস্বাধীনতা, অসবর্ণ ও বিধবাবিবাহের প্রচলন, শিক্ষাবিস্তার, হরিজন উন্নয়ন প্রভৃতির পক্ষে এবং অস্পৃশ্যতা, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, মদ্যপান, পর্দাপ্রথা প্রভৃতির বিরুদ্ধে ব্রাহ্মসমাজ আন্দোলন গড়ে তোলে।
  • (২) মূলত ব্রাহ্মসমাজের আন্দোলনের ফলেই সরকার ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে ‘তিন আইন’ (Act III of 1872) পাস করে। এর দ্বারা বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ নিষিদ্ধ হয় এবং বিধবাবিবাহ ও অসবর্ণ বিবাহ আইনসিদ্ধ হয়।
  • (৩) সাধারণ দরিদ্র মানুষ ও শ্রমজীবীদের দুর্দশা দূর করার জন্যও ব্রাহ্মসমাজ বিভিন্ন প্রয়াস চালায়। এই বিষয়ে দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়, রামকুমার বিদ্যারত্ন, শশীভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ উল্লেখযোগ ভূমিকা গ্রহণ করেন।
  • (৪) ব্যক্তিস্বাধীনতা, জাতীয় ঐক্য, মানুষের মর্যাদা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলির গণতন্ত্রীকরণের কথা বলে ব্রাহ্মসমাজ জনমনে নতুন চেতনার সঞ্চার করে।

ব্রাহ্ম সমাজ সম্পর্কে দেশাইয়ের মন্তব্য

ডঃ এ. আর. দেশাই (Dr. A. R. Desai) বলেন যে, “ব্রাহ্ম সমাজ ছিল জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ।”

ব্রাহ্ম আন্দোলন সম্পর্কে ইলিয়ট এর মন্তব্য

১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে রবার্ট ইলিয়ট (Robert H. Elliot) ব্রাহ্ম আন্দোলনকে ‘আগ্নেয়গিরি’-র সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করেন যে, এই আন্দোলন যেভাবে বিস্তার লাভ করেছে তা আমাদের (ব্রিটিশদের) ভারতীয় শাসনব্যবস্থার পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।

উপসংহার :- যদিও ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে কেশবচন্দ্র সেনের মৃত্যুকালে তিনটি ব্রাহ্ম সমাজের সদস্যসংখ্যা ছিল মাত্র ৬,৪০০ এবং ব্রাহ্ম সমাজ কেবল শিক্ষিত মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, তবুও জাতীয় জাগরণে ব্রাহ্ম সমাজের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম এবং এই প্রতিষ্ঠান ভারতকে বহু উল্লেখযোগ্য নেতা উপহার দিয়েছিল।

(FAQ) ব্রাহ্ম আন্দোলন সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন কে?

রাজা রামমোহন রায়।

২. আদি ব্রাহ্ম সমাজের নেতা ছিলেন?

দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৩. ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন কে?

কেশবচন্দ্র সেন ও তার অনুগামীরা।

৪. সাধারণ ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয় কখন?

১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে।

৫. নববিধান ব্রাহ্মসমাজ কে কখন প্রতিষ্ঠা করেন?

কেশবচন্দ্র সেন ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে।

Leave a Comment