তুঘ্রিল খান

বাংলার শাসনকর্তা তুঘ্রিল খান প্রসঙ্গে আধিপত্য স্থাপন, রাজিয়ার ফর্মান গ্ৰহণ, রাজ্য বিস্তার, বাধা, ত্রিহুত জয়, উড়িষ্যা আক্রমণ, তমর খাঁর বাংলা অভিযান, তুঘ্রিল খাঁ ও তমর খাঁর বিরোধ সম্পর্কে জানবো।

সুলতান তুঘ্রিল খান

সুলতানতুঘ্রিল খান
রাজত্ববাংলা
সময়কাল১২৩৬-১২৪৭ খ্রি
দিল্লির সুলতানরাজিয়া
তুঘ্রিল খান

ভূমিকা :- ইলতুৎমিসের মৃত্যু হলে দিল্লীতে সিংহাসনের উত্তরাধিকার নিয়ে গোলযোগ দেখা দেয়। সেই সুযোগে বাংলায় বিভিন্ন উচ্চাকাঙ্ক্ষী লোক ক্ষমতার লড়াই আরম্ভ করে।

আধিপত্য স্থাপন

১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে বিহারের শাসনকর্তা তুঘ্রিল তুগান খাঁ উদীয়মান আগুর খাঁ আইবককে নিহত করে বাংলায় আধিপত্য স্থাপন করেন।

রাজিয়ার ফর্মান গ্ৰহণ

তুঘ্রিল তুগান খাঁ বাংলায় তাঁর আধিপত্যকে বৈধ করার জন্য সুলতান রাজিয়ার ফর্মান নেন। তবকাত-ই-নাসিরীর লেখক মিনহাজ উদ্দিন সিরাজ তুঘ্রিল তুগান খাঁয়ের দরবারে ছিলেন।

তুঘ্রিল খানের রাজ্য বিস্তার

তুঘ্রিল খান ছিলেন উচ্চাকাঙ্খী শাসক। বাংলা-বিহার-উড়িষ্যা নিয়ে তিনি একটি স্বাধীন রাজ্য গড়ার স্বপ্ন দেখেন। এজন্য তার সঙ্গে উড়িষ্যার হিন্দু রাজা প্রথম নরসিংহদেব এবং কারামানিকপুরের শাসক তমর খাঁর বিরোধ দেখা দেয়।

বাধা

তুঘ্রিল খান পূর্ব বাংলা, কামরূপ জয় না করে উড়িষ্যা ও কারামানিকপুর অঞ্চলে রাজ্য বিস্তারের চেষ্টা করায় প্রবল বাধার সম্মুখীন হন।

তুঘ্রিল খানের ত্রিহুত জয়

রাজিয়ার মৃত্যুর পর দিল্লীতে গোলযোগের সুযোগে তুঘ্রিল ত্রিহুত জয় করে ১২৪২ খ্রিস্টাব্দে উত্তরপ্রদেশের কারামানিকপুর সীমান্তে এসে পৌঁছান।

তুঘ্রিলের আক্রমণ প্রতিরোধ

দিল্লীর সুলতান আলাউদ্দিন মাহমুদ শাহ তুঘ্রিলের এই আক্রমণ প্রতিহত করেন।

উড়িষ্যা আক্রমণ

তুঘ্রিল এর পর তার বাহিনীর মুখ ঘুরিয়ে দক্ষিণে উড়িষ্যা আক্রমণ করেন (১২৪৪ খ্রি)। কিন্তু কটাসিনের যুদ্ধে প্রথম নরসিংহদেব তুঘ্রিলকে শোচনীয়ভাবে পরাস্ত করেন।

তমর খাঁর বাংলা অভিযান

পরাজিত তুঘ্রিলের পিছু নিয়ে নরসিংহদেব রাঢ়দেশে ঢুকে পড়েন। তুঘ্রিল বিপদ বুঝে দিল্লীর সুলতান আলাউদ্দিন মাহমুদ শাহের সাহায্য ভিক্ষা করেন। সুলতানের নির্দেশে অযোধ্যার শাসনকর্তা তমর খাঁ বাংলার দিকে ছুটে আসেন।

উড়িষ্যার বাহিনীর প্রত্যাবর্তন

উড়িষ্যার বাহিনী এই সময়ে লখনৌতির অবরোধে রত ছিল। তমর খাঁর আসার সঙ্কেত পেয়ে তারা উড়িষ্যায় ফিরে যায়।

তুঘ্রিল খাঁ ও তমর খাঁর বিবাদ

এরপর লখনৌতির ওপর অধিকার নিয়ে তুঘ্রিল খাঁ ও তমর খাঁর মধ্যে ঘোর বিবাদ দেখা দেয়।

সন্ধি স্বাক্ষর

শেষ পর্যন্ত ঐতিহাসিক মিনহাজের মধ্যস্থতায় তুঘ্রিল ও তমর খাঁর মধ্যে এক সন্ধি স্থাপিত হয়। এই সন্ধির ফলে ১২৪৭ খ্রিস্টাব্দে তুঘ্রিল খাঁ লখনৌতি ছেড়ে চলে যান।

উপসংহার :- তুঘ্রিল খানের পলায়নের পর তমর খাঁ এবং তারপর জালালুদ্দিন মামুদ জানী বাংলা শাসন করেন।

(FAQ) বাংলার শাসনকর্তা তুঘ্রিল খান সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. তুঘ্রিল খাঁ কখন বাংলায় আধিপত্য স্থাপন করে?

১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে।

২. তুঘ্রিল খাঁ কোন সুলতানের কাছ থেকে ফর্মান গ্ৰহণ করেন?

রাজিয়া।

৩. তুঘ্রিল খাঁ ও তমর খাঁর মধ্যে বিবাদের কারণ কি?

লখনৌতির ওপর অধিকার।

৪. তুঘ্রিল খাঁর দরবারে কোন ঐতিহাসিক ছিলেন?

মিনহাজ উদ্দিন সিরাজ।

Leave a Comment