মহাবীরের বাণী

মহাবীরের জীবন, দর্শন, শিক্ষা ও বাণী আমাদের চিরন্তন সত্যের সন্ধান দেয়।                                        

Table of Contents

ধর্মগুরু মহাবীরের বাণী

ভূমিকা :- মহাবীর জৈনধর্মের ২৪ তম এবং সর্বশেষ ‘তীর্থঙ্কর’ বা ধর্মগুরু ছিলেন। মহাবীরের জীবন, দর্শন, শিক্ষা ও বাণী আমাদের চিরন্তন সত্যের সন্ধান দেয়।

তীর্থঙ্কর মহাবীরের বাণী

মহাবীর ধ্যান ও উপাসনার মাধ্যমে পরমজ্ঞান আহরণ করেছিলেন। আর সেই জ্ঞান ও বাণী মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। ধর্মের মাধ্যমে মহাবীর তার প্রেম ও অহিংসার বাণী প্রচার করেন।

মহাবীরের বাণী -১

অযথা ভোগ সুখের জন্য জীবন কাটাবে না। মনে রাখবে এই যে বাহ্যিক ভোগ, এর অন্তরালে কিছুই নেই।

মহাবীরে -এর বাণী -২

ঈশ্বর বলে কোনো কিছু নেই। সর্বশক্তিমান কোনো সত্তায় আমাদের বিশ্বাস নেই।

মহাবীরের বাণী -৩

অহিংসা এবং সৎ আচরণ সকলকেই পালন করতে হবে।

মহাবীরে -এর বাণী -৪

আগুন জ্বাললে যেমন জীব হত্যা করা হয়, আগুন নির্বাপিত করলেও জীবহত্যা করা হয় – এটি হল সবথেকে বড়ো পাপ।

মহাবীরের বাণী -৫

আমাদের মূল ঈশ্বর আরাধনা বা স্বর্গপ্রাপ্তি যথেষ্ট নয়। মূল হল তিনটি – সৎ বিশ্বাস, সৎ জ্ঞান ও সৎ আচরণ।

মহাবীরে -এর বাণী -৬

পৃথিবীর সমস্ত মানুষকে সমজ্ঞানে ভালোবাসতে হবে। ধর্ম-বর্ণ-অর্থে কোনো বিভাজন থাকবে না।

মহাবীরে -এর বাণী -৭

তথাকথিত ধনী সম্প্রদায়ের মানুষ দরিদ্র সম্প্রদায়কে ভালোবাসবে, তাদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন। তবেই একটি সত্যিকারের সুস্থিত সামজ স্থাপিত হতে পারবে।

মহাবীরে -এর বাণী -৮

সমাজে উঁচু এবং নীচুর মধ্যে কোনো তফাত থাকবে না।

মহাবীরের বাণী -৯

পৃথিবীর সব ধর্মের মূল কথা হল এক নিজেকে জানা অর্থাৎ নিজেকে উপলব্ধি করো।

মহাবীরে -এর বাণী -১০

ধর্মগুলির মধ্যে আপাত বিরোধ আছে। কিন্তু আসলে এদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।

মহাবীরে -এর বাণী -১১

নিজেকে বিশ্বপ্রকৃতির ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র অংশ বলে মনে করবে। নিজেকে কখনো ছোটো বলে ভাববে না। নিজেকে ছোটো ভাবলে তুমি কখনো আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে উঠতে পারবে না।

মহাবীরে -এর বাণী -১২

সবসময় সৎ চিন্তা করবে, সৎ বন্ধুর সান্নিধ্যে আসার চেষ্টা করবে, সৎ ভাবনায় মনকে প্রফুল্ল রাখবে। তাহলে দেখবে তোমার মধ্যে এক আশ্চর্য শক্তির উত্তরণ ঘটে গেছে।

মহাবীরে -এর বাণী -১৩

ধার্মিক আচরণের দ্বারা মনকে পরিশুদ্ধ করবে। মন পরিশুদ্ধ না হলে আত্মা পরিশুদ্ধ হয় না।

মহাবীরে -এর বাণী -১৪

সবধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতা প্রকাশ করবে। মনে রাখবে পৃথিবীর সব ধর্মই সমান। ধর্মের মধ্যে যে বিভাজন, তা আমাদের সৃষ্টি।

মহাবীরে -এর বাণী -১৫

নিজেকে জানবার চেষ্টা করবে, সবসময় ঈশ্বরের কথা স্মরণ করবে, কিন্তু মনে রাখবে ঈশ্বর তোমার মধ্যে লুকিয়ে আছেন।

মহাবীরের বাণী -১৬

গভীর শূন্যতায় মগ্ন এই পৃথিবী, এই শূন্যতার মধ্যে তুমি এক উড়ন্ত সত্তা।

মহাবীরে -এর বাণী -১৭

ইচ্ছে করলে তুমি অসাধ্যকে সাধন করতে পারো, ইচ্ছে করলে তুমি এমন কাজ করতে পারো যা আর কেউ কখনো করেনি।

মহাবীরের বাণী -১৮

কোনো মানুষকে কখনো ছোটো করবে না। কোনো মানুষের প্রতি কটুবাক্য প্রয়োগ করবে না। সব মানুষকে নিজের ভাই বা বোনের মতো দেখবে।

মহাবীরে -এর বাণী -১৯

নিজস্ব পুরুষত্বের ওপর আস্থা রাখবে তাহলে দেখবে জয় তোমার করায়ত্ত হচ্ছে।

মহাবীরে -এর বাণী -২০

কামনা-বাসনার জগত থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করবে। চেষ্টা করবে কখনো কামনার দাস না হতে।

মহাবীরে -এর বাণী -২১

মানুষ স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন সফল করতে করতে একদিন অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলে।

মহাবীরের বাণী -২২

উচ্চাশা রাখবে, উচ্চাশা না থাকলে মানুষ জীবনে বড় হতে পারে না।

মহাবীরে -এর বাণী -২৩

সদাসর্বদা সত্য কথা বলবে।

মহাবীরের বাণী -২৪

নিজেকে সব সময় সব সময় নিয়ন্ত্রণ করে, চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

মহাবীরে -এর বাণী -২৫

জীবনে এমন পরিমাণ সম্পদ সঞ্চয় করো না। যা তুমি তোমার জীবনে ততটা ব্যয় করতে পারবে না।

মহাবীরে -এর বাণী -২৬

জীবনে অহিংসার পথ অনুসরণ করো।

মহাবীরে -এর বাণী -২৭

পৃথিবীর সব জীব সত্ত্বার প্রতি করুণা প্রদর্শন করো।

মহাবীরের বাণী -২৮

যে কোনও সমস্যার সমাধানের একমাত্র পথ হলো অহিংসার পথ অনুসরণ করা।

মহাবীরে -এর বাণী -২৯

সদাসর্বদা সকলের প্রতি সৎ হও।

মহাবীরে -এর বাণী -৩০

সুখ এবং দুর্ভোগে, আনন্দ এবং শোকের মধ্যে আমাদের নিজের প্রাণকে যেমন বিবেচনা করা হয় তেমনি সমস্ত প্রাণীকেও আমাদের বিবেচনা করা উচিত !

মহাবীরে -এর বাণী -৩১

অহিংসা হলো  মানবতার প্রথম ধর্ম এবং সত্য।

Leave a Reply

Translate »