রুকনউদ্দিন ফিরোজ শাহ

সুলতান রুকনউদ্দিন ফিরোজ শাহ প্রসঙ্গে সিংহাসনে আরোহণ, ফিরোজের গুণ, অক্ষম সুলতান, শাহ তুর্কান, ফিরোজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, শাহ তুর্কানকে বন্দী ও ফিরোজের পতন সম্পর্কে জানবো।

সুলতান রুকনউদ্দিন ফিরোজ শাহ

সুলতানরুকনউদ্দিন ফিরোজ শাহ
বংশদাস বংশ
প্রথম সুলতানকুতুবউদ্দিন আইবক
পূর্বসূরিইলতুৎমিস
উত্তরসূরিরাজিয়া
সুলতান রুকনউদ্দিন ফিরোজ শাহ

ভূমিকা :- সুলতান সামসুদ্দিন ইলতুৎমিস তার উত্তরাধিকারী হিসেবে কন্যা রাজিয়াকে মনোনীত করলেও, সুলতানের মৃত্যুর পর তুর্কী মালিক ও আমীররা সুলতানের ইচ্ছাকে সম্মান জানাতে রাজী হন নি।

ত্রিপাঠীর অভিমত

ডাঃ ত্রিপাঠীর মতে, তুর্কী আমীররা বংশানুক্রমিক অধিকার অপেক্ষা তুর্কী অভিজাতদের দ্বারা উত্তরাধিকারী নির্বাচন প্রথার অনুরাগী ছিলেন।

সিংহাসনে আরোহণ

দিল্লীর আমীরগণ মৃত সুলতানের পুত্র রুকনউদ্দিন ফিরোজকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী নির্বাচন করেন। তাদের সাহায্যে ফিরোজ দিল্লীর সিংহাসনে বসেন।

ফিরোজের গুণ

মিনহাজের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, নব নিযুক্ত সুলতান ফিরোজের তিনটি গুণ ছিল যথা, দৈহিক সৌন্দর্য, নম্র ও মধুর স্বভাব এবং উদারতান্ত্রিক নীতির প্রতি আসক্তি।

অক্ষম সুলতান

ইলতুৎমিসের মৃত্যুর পর তার চল্লীশ ক্রীতদাসের সমিতি বা বন্দেগান-ই-চাহালগানী যেরূপ ক্ষমতার লড়াই আরম্ভ করে তার মোকাবিলায় এরূপ নরম প্রকৃতির সুলতান অক্ষম ছিলেন।

শাহ তুর্কান

তিনি ছিলেন বিলাসিতাপ্রিয় ও সঙ্গীতে আসক্ত। যুবক সুলতানের দুর্বলতার সুযোগে তাঁর মাতা শাহ তুর্কান সকল ক্ষমতা নিজ হাতে নেন। শাহ তুর্কান ছিলেন খুবই নিষ্ঠুর ও ক্ষমতালোভী মহিলা। তাঁর নির্দেশে হারেমের এবং দরবারের বহু ব্যক্তিকে নিহত করা হয়। স্বয়ং রাজিয়াকেও শাহ তুর্কান হত্যার চেষ্টা করেন।

ফিরোজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ

তুর্কী আমীরদের একাংশ রুকনুদ্দিন ফিরোজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। পাঞ্জাবের বিদ্রোহী ইজাদার কবির খানের বিরুদ্ধে ফিরোজ যুদ্ধযাত্রা করেন।

শাহ তুর্কানকে বন্দী

ফিরোজের অনুপস্থিতির সুযোগে ইলতুৎমিসের কন্যা রাজিয়া রক্তবর্ণ বস্ত্র পরে জুম্মা নওয়াজের দিন দিল্লীর পথে এসে পড়েন। এই যুগে মুসলিম প্রথা ছিল যে, অত্যাচারিতা মহিলা কোনো ন্যায় বিচার না পেলে জন-সাধারণের কাছে ন্যায় বিচার চাইবার জন্য রক্তবর্ণ বস্ত্র পরে দাঁড়াবে। এজন্য জুম্মা নওয়াজে সমবেত জনগণ রাজপ্রাসাদ আক্রমণ করে শাহ তুর্কানকে বন্দিনী করে।

ফিরোজের পতন

ফিরোজ দ্রুত রাজধানীর দিকে ফিরে আসেন। কিন্তু দিল্লীর আমীর ও জনগণ সকলেই তাঁর বিরুদ্ধে ছিল। সেনাদল ও আমীর রাজিয়াকেই সিংহাসনে বসায়। সাত মাস রাজত্ব করার পর রুকনুদ্দিন ফিরোজের পতন হয়।

উপসংহার :- ফিরোজের উত্থান ও পতন ইলবারী তুর্কী শাসনের একটি সাংবিধানিক বৈচিত্র্য প্রমাণ করে। তুর্কী আমীররাই রাজিয়ার উত্তরাধিকারকে অগ্রাহ্য করে ফিরোজকে সিংহাসনে বসায় এবং তুর্কী আমীররাই ফিরোজকে সিংহাসন থেকে বিতাড়িত করে। অবশ্য ফিরোজের পতনের সময় দিল্লীর জনগণের অভ্যুত্থান ঘটেছিল।

(FAQ) সুলতান রুকনউদ্দিন ফিরোজ শাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. ইলতুৎমিস কাকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন?

কন্যা রাজিয়া।

২. ইলতুৎমিসের পর কে দিল্লী সুলতানীর সিংহাসনে আরোহণ করেন?

পুত্র রুকনউদ্দিন ফিরোজ।

৩. রুকনউদ্দিন ফিরোজের মাতা কে ছিলেন?

শাহ তুর্কান।

৪. রুকনউদ্দিন ফিরোজের পর কে দিল্লী সুলতানীর সিংহাসনে আরোহণ করেন?

রাজিয়া।

Leave a Comment