দুর্গেশনন্দিনী

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের প্রকাশকাল, রচনাকাল, পটভূমি, রচনার ইতিহাস, চরিত্র, প্রভাব, কাহিনীসংক্ষেপ, সম্পর্কে জানবো।

দুর্গেশনন্দিনী

ধরণউপন্যাস
লেখকবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ভাষাবাংলা
প্রকাশকাল১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দ
দুর্গেশনন্দিনী

ভূমিকা :- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস হল দুর্গেশনন্দিনী। এই উপন্যাসকেই বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ধরা হয়।

প্রকাশকাল

১৮৬৫ সালের মার্চ মাসে দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।

রচনাকাল

বঙ্কিমচন্দ্রের চব্বিশ থেকে ছাব্বিশ বছর বয়সের রচনা এই দুর্গেশনন্দিনী। এই উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলা কথাসাহিত্যের ধারায় এক নতুন যুগ প্রবর্তিত হয়।

পটভূমি

ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে উড়িষ্যার অধিকারকে কেন্দ্র করে মোঘল ও পাঠানের সংঘর্ষের পটভূমিতে এই উপন্যাস রচিত হয়। তবে এটিকে সম্পূর্ণরূপে ঐতিহাসিক উপন্যাস মনে করা হয় না।

রচনার ইতিহাস

বঙ্কিমচন্দ্রের ভ্রাতুষ্পুত্র শচীশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ১৮৬২ সালে চব্বিশ বছর বয়সে বঙ্কিমচন্দ্র দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাস রচনার কাজে হাত দেন। ১৮৬৩ সালে খুলনায় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের কার্য নির্বাহকালে উপন্যাস রচনার কাজ শেষ হয়।

প্রভাব ও অনুবাদ

কোনো কোনো সমালোচক এই উপন্যাসে ওয়াল্টার স্কটের আইভানহো উপন্যাসের ছায়া লক্ষ্য করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্রের জীবদ্দশায় এই উপন্যাসের তেরোটি সংস্করণ প্রকাশিত হয় এবং ইংরেজি ও অন্যান্য ভারতীয় ভাষাতেও এটি অনূদিত হয়।

ঐতিহাসিক বিপ্লবের প্রভাব

ঐতিহাসিক বিপ্লব একজন দুর্গস্বামীর ভাগ্যের উপর কিরূপ প্রভাব পড়ে তাই চিত্রিত হয়েছে এ উপন্যাসে।

উচ্চমার্গের শিল্পী মন

দূর্গ জয়ের বিবরণে বীরেন্দ্র সিংহের বিচারের দৃশ্য ও কতলু খানের হত্যার বর্ণনায় শিল্পীর উচ্চমার্গের পরিচয় পাওয়া যায়।

উপন্যাসের কেন্দ্রস্থল

কারাগারে আয়েশার প্রেমাভিব্যক্তির দৃশ্যটিই এই উপন্যাসের কেন্দ্রস্থল।

চরিত্র

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে- বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

প্রেমের পরিণতি

উপন্যাসে যুদ্ধবিগ্রহের কলকোলাহলের স্থান দেওয়া হলেও এতে প্রেমের সূচনা, বিকাশ, পরিণতির পরিচয় দান করা হয়েছে। বঙ্কিমচন্দ্ৰ এ উপন্যাসের মধ্যে দিয়ে ইতিহাসের রুদ্ধদ্বার খুলে দিয়ে উপন্যাস রচনার ক্ষেত্র বহুগুণ বৃদ্ধি করেন।

উপন্যাসের কাহিনীসার

দিল্লীশ্বর আকবর -এর প্রধান সেনাপতি অম্বররাজ মানসিংহের পুত্র কুমার জগৎসিংহ বিষ্ণুপুর থেকে মান্দারণ যাত্রাকালে ঝড়ের কবলে পড়ে শৈলেশ্বর মহাদেবের মন্দিরে আশ্রয় নেন। সেখানে ঘটনাচক্রে মান্দারণ দুর্গাধিপতি জয়ধর সিংহের একমাত্র পুত্র মহারাজ বীরেন্দ্র সিংহের স্ত্রী বিমলা ও তাঁর কন্যা দুর্গেশনন্দিনী তিলোত্তমার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। পরস্পর পরস্পরের প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখলেও জগৎসিংহ ও তিলোত্তমা পরস্পরের প্রতি আকৃষ্ট হন। পরে পাঠান সেনাপতি ওসমান খাঁ সুকৌশলে মান্দারণ দুর্গ অধিকার করে ও বীরেন্দ্র সিংহ এবং তাঁর স্ত্রী বিমলা ও কন্যা তিলোত্তমাকে বন্দী করে। কুমার জগৎসিংহও বন্দী হন। যদিও পাঠান নবাব কতলু খাঁর প্রহসনের ন্যায় বিচারে বীরেন্দ্র সিংহকে হত্যা করা হয়। নিহত বীরেন্দ্র সিংহের স্ত্রী বিমলা পাঠান নবাব কতলু খাঁকে হত্যা করে পতি হত্যার প্রতিশোধ নেয়। পাঠানেরা কুমার জগৎসিংহের মাধ্যমে অম্বররাজ মানসিংহ তথা দিল্লীশ্বরের সঙ্গে সন্ধি করেন। অন্যদিকে কতলু খাঁর কন্যা নবাবজাদী আয়েষা জগৎসিংহের প্রেমে পড়েন। আয়েষার প্রণয়ী পাঠান সেনাপতি ওসমান একথা জানার পর ক্রোধে কুমার জগৎ সিংহের সঙ্গে দ্বন্দ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ হন। পরিশেষে মান্দারণ পুনরায় স্বাধীন হয় ও দিল্লীশ্বরের প্রধান সেনাপতি অম্বররাজ মানসিংহের মাধ্যমে মহারাণী বিমলার হস্তে রাজ্যপাঠ হস্তান্তরিত হয় এবং মহাধুমধামের সাথে কুমার জগৎ সিংহ ও দুর্গেশনন্দিনী তিলোত্তমার মিলন ঘটে।

(FAQ) দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাস সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাস কার রচনা?

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

২. দুর্গেশনন্দিনী কী ধরণের উপন্যাস?

ঐতিহাসিক উপন্যাস।

৩. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাসের নাম কী

দুর্গেশনন্দিনী।

Leave a Reply

Translate »