এন্টনি লরেন্ট ল্যাভয়শিয়ে

রসায়নবিদ এন্টনি লরেন্ট ল্যাভয়শিয়ে প্রসঙ্গে তার জন্ম, বংশ পরিচয়, শিক্ষা, মানচিত্র তৈরির কাজ, বিজ্ঞান এ্যাকাডেমির সভ্য, গবেষণা, চাকরি, বিবাহ, ল্যাবরেটরি তৈরি, আধুনিক রসায়ন বিজ্ঞানের আবির্ভাব, যুগান্তকারী রচনা, জল সৃষ্টির তত্ত্ব, বন্দী জীবন ও তার মৃত্যু সম্পর্কে জানবো।

রসায়নবিদ এন্টনি লরেন্ট ল্যাভয়শিয়ে

ঐতিহাসিক মনীষীএন্টনি লরেন্ট ল্যাভয়শিয়ে
জন্ম২৬ আগস্ট, ১৭৪৩ খ্রি:
দেশফ্রান্স
পরিচিতিরসায়নবিদ
অভিধাআধুনিক রসায়নের জনক
মৃত্যু৮ মে, ১৭৯৪ খ্রি:
রসায়নবিদ এন্টনি লরেন্ট ল্যাভয়শিয়ে

ভূমিকা :- ল্যাভয়শিয়ে ছিলেন একজন ফরাসি অভিজাত এবং রসায়নবিদ। তিনি আঠারো শতকের রসায়ন বিপ্লবের একজন কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাকে প্রায়ই “আধুনিক রসায়নের জনক” হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।

ল্যাভয়শিয়ের জন্ম

১৭৪৩ সালের ২৬শে আগস্ট ফ্রান্সের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ল্যাভয়শিয়ে।

ল্যাভয়শিয়ের বংশ পরিচয়

তার পিতা ছিলেন পার্লামেন্টের এটর্নি। তাঁর পূর্বপুরুষেরা অবশ্য ছিলেন রাজপরিবারের ঘোড়াশালার কর্মচারী। নিজের চেষ্টায় পরিশ্রমে ল্যাভেশিয়ের পিতা নিজেকে প্যারিসের সম্ভ্রান্ত মহলে প্রতিষ্ঠিত করেন। পিতার ইচ্ছা ছিল তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে আইনের ব্যবসায়যুক্ত হবে।

ল্যাভয়শিয়ের শিক্ষা

  • (১) এগারো বছর বয়সে তাকে শিক্ষায়তনে ভর্তি করে দেওয়া হল। জন্ম থেকেই অন্যসব বিষয়ের মধ্যে বিজ্ঞানই ল্যাভয়শিয়েকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করত। স্কুলজীবন শেষ করে কলেজে ভর্তি হলেন ল্যাভয়শিয়ে। এখানে তাঁর শিক্ষক ছিলেন প্রখ্যাত অঙ্কবিদ ও জ্যোতির্বিদ নিকোলাস লুইস।
  • (২) অল্পদিনেই দুজনে দুজনের প্রতি আকৃষ্ট হলেন। গুরু-শিষ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠল। নিকোলাস আবহবিদ্যার প্রতি ল্যাভয়শিয়েকে আকৃষ্ট করে তোলেন। তারই ফলে সমস্ত জীবন আহতবিদ্যার প্রতি ন্যাডোশিয়ের ছিল গভীর অনুরাগ।

ল্যাভয়শিয়ের মানচিত্র তৈরির কাজ

১৭৬৭ সালে মানচিত্র তৈরির কাজে বেরিয়ে পড়লেন ল্যাভয়শিয়ে। কাছে আছে মাত্র পঞ্চাশ লুইস। সঙ্গী বলতে একটি ঘোড়া, চাকর জোফেস আর প্রৌঢ় বিজ্ঞানী গুটার্ড। দুজনের মনেই অদম্য সাহস আর অজানাকে জানবার তীব্র কৌতূহল।

ল্যাভয়শিয়ের ভ্রমণ

  • (১) নির্জন প্রান্তর পাহাড় নদী পথ ধরে ঘুরে বেড়ালেন ফ্রান্সের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। প্রকৃতির অপরূপ রূপ দেখেই শুধু মুগ্ধ হন না ল্যাভয়শিয়ে, তার অপার রহস্য তাঁর মনকে নাড়া দিয়ে যায়। প্রতিদিন সকালে উঠে থার্মোমিটার ব্যারোমিটার দেখা।
  • (২) তারপর মাটির রং তার প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা। যেখানে রয়েছে খনিজ সম্পদ তার সম্ভাব্য পরিমাণ বিস্তৃতি নিরূপণ করা, নদীর গতিপথ, হ্রদ, ঝর্ণার অবস্থা, বিভিন্ন ধরনের গাছপালা তাদের বর্ণনা নিখুঁতভাবে খাতার পাতায় লিখে রাখতে হয়।

ল্যাভয়শিয়ের কঠোর পরিশ্রমের ক্ষমতা

কয়েক মাস বিস্তৃত পর্যবেক্ষণের পর তাঁরা ফিরে এলেন প্যারিসে। এই দেশভ্রমণের ফলে একদিকে ল্যাভয়শিয়ের মধ্যে গড়ে উঠল নতুন জীবন দর্শন, বিশ্বপ্রকৃতিকে আরো গভীর ব্যাপকভাবে চেনবার ক্ষমতা, অন্যদিকে কঠোর পরিশ্রমের ক্ষমতা।

বিজ্ঞান এ্যাকাডেমির সভ্য ল্যাভয়শিয়ের

প্যারিসে ফিরে এসে স্থির করলেন আইন নয়, বিজ্ঞানই হবে তাঁর জীবনসাথী। কিছুটা আশাহীন ভাবেই ফরাসী বিজ্ঞান এ্যাকাডেমিতে সদস্য হবার জন্য আবেদন করলেন। সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবেই একদিন জানতে পারলেন তাঁকে বিজ্ঞান এ্যাকাডেমির সভ্য হিসাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। তখন তাঁর বয়েস মাত্র পঁচিশ। এক তরুণের পক্ষে এই অভাবনীয় গৌরব।

ল্যাভয়শিয়ের গবেষণা

শুরু হল তাঁর গবেষণা, এ্যাকাডেমির প্রত্যেক সদস্যকেই নিয়মিত গবেষণাপত্র জমা দিতে হত। গবেষণার বিষয় ছিল যেমন বিচিত্র তেমনি ব্যাপক। জীবদেহের উপর চুম্বকত্বের প্রভাব, অভিকর্ষ, জল সরবরাহ, রঙের তত্ত্ব, চিনি তৈরি, কয়লা থেকে পিচ তৈরি করা, কীটপতঙ্গের শ্বাস-প্রশ্বাস। এই বিচিত্র ধরনের গবেষণা করে যখন অন্যেরা সমস্ত দিন সামান্যতম সময় পেতেন না।

ল্যাভয়শিয়ের খাজনা সংগ্রহের চাকরি

  • (১) ল্যাভয়শিয়ে অন্য সকলের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করেও একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হলেন। প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল “Ferme”। এদের কাজ ছিল সরকারকে হিসাব মত রাজস্ব জমা দেওয়া। বিনিময়ে তারা চাষীদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করতেন।
  • (২) খাজনার পরিমাণ রাজস্বের চেয়ে যত বেশি হত ততই “Ferme” এর লাভ। ল্যাভয়শিয়ে বুঝতে পারছিলেন গবেষণার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। তাই তিনি খাজনা সংগ্রহের চাকরি নিলেন। যে বিজ্ঞানের সাধনার জন্য তিনি অর্থ উপার্জন করতে চেয়েছিলেন সেই অর্থই একদিন তাঁর মৃত্যুর কারণ হল।

ল্যাভয়শিয়ের বিবাহ

  • (১) Ferme-তে দু বছর চাকরি করবার পর ল্যাভয়শিয়ে তাঁর এক উচ্চপদস্থ মনিবের সুনজরে পড়ে গেলেন। তাঁর একমাত্র মেয়ে মেরী এ্যানির সাথে ল্যাভয়শিয়ের বিবাহ দিলেন। মেরী তখন মাত্র চোদ্দ বছরের বালিকা।
  • (২) পরবর্তী জীবনে মেরী হয়ে উঠেছিলেন ল্যাভয়শিয়ের যোগ্য সঙ্গিনী। তার বৈজ্ঞানিক গবেষণা কাজে নানাভাবে সাহায্য করতেন। বিভিন্ন ইংরাজি প্রবন্ধ ফরাসী ভাষায় অনুবাদ করে দিতেন। ল্যাবরেটারির কাজের বিভিন্ন সাজসরঞ্জাম গুছিয়ে দিতেন। কখনো নোট তৈরি করতে সাহায্য করতেন।

ল্যাভয়শিয়ের বিজ্ঞানের গবেষণার জন্যসময় নির্দিষ্ট

শ্বশুরের সাহায্যে চাকরিতে ক্রমশ উন্নতি করছিলেন ল্যাভয়শিয়ে। কাজের চাপ বাড়া সত্ত্বেও বিজ্ঞানের গবেষণার জন্য তাঁর সময় নির্দিষ্ট ছিল সকাল ছটা থেকে নটা পর্যন্ত, সন্ধ্যেবেলায় সাতটা থেকে দশটা পর্যন্ত ।

ল্যাভয়শিয়ের কর্তৃক ল্যাবরেটারি তৈরি

  • (১) গবেষণার কাজের জন্য বিরাট একটি ল্যাবরেটারি তৈরি করলেন। বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করলেন সর্বাধুনিক সব যন্ত্রপাতি। কিছু দক্ষ সহযোগীকে নিযুক্ত করলেন।
  • (২) গবেষণার জন্য তার মত তরুণ বিজ্ঞানীদের কাছে ল্যাবরেটারির জন্য যে বিরাট পরিমাণ অর্থ ব্যয় হত, সবটাই দিতেন ল্যাভয়শিয়ে, প্রকৃতপক্ষে তাঁর আয়ের প্রায় সবটুকুই এখানে ব্যয় করতেন। ব্যয় বাহুল্যের জন্য তাঁকে নিয়ে লোকে কৌতুক করত, বলত, ‘অর্থ খরচের পরীক্ষাগার।’

আধুনিক রসায়ন বিজ্ঞানের আবির্ভাব

এই অর্থ খরচের গবেষণাগার থেকেই একদিন জন্ম নিল এক বিজ্ঞান যা পৃথিবীর জ্ঞানের জগতে নতুন আলোক শিখা জ্বালিয়ে দিল। অ্যালকেমির কুয়াশাচ্ছন্ন জগতে আবির্ভূত হল আধুনিক রসায়ন বিজ্ঞান।

ল্যাভয়শিয়ের গবেষণার সময় রসায়ন

ল্যাভয়শিয়ে যখন গবেষণা আরম্ভ করেছিলেন তখন রসায়ন মধ্যযুগীর এক বিচিত্র চিন্তাভাবনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। রসায়নকে বিবেচনা করা হত শুধুমাত্র চিকিৎসার সহায়ক হিসাবে।

লন্ডন গেজেটে প্রকাশিত বিবরণ

লন্ডন গেজেটে প্রকাশিত একটি বিবরণ থেকে জানা যায় মিসেস স্টীফেন নামে এক ব্রিটিশ রসায়নবিদ একটি ঔষধ তৈরি করেছেন যা দিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পেটের পাথুরী সারানো সম্ভব হয়েছে। ঔষধটি তৈরি হয়েছে ডিমের খোলা, গুগলি, সাবানের দলা, আগুনে পুড়িয়ে নেওয়া শাক, আর মধু একসাথে মিশিয়ে। এই বিচিত্র ঔষধ তৈরির জন্য মিসেস স্টীফেন পাঁচ হাজার পাউন্ড পুরস্কার পেয়েছিলেন।

ল্যাভয়শিয়ের যুগান্তকারী রচনা

দীর্ঘ তিন বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করবার পর তিনি প্রকাশ করলেন তাঁর যুগান্তকারী রচনা “Elementary Treatise of Chemistry” (1789)। এই বইয়ের কোথাও তিনি একটি অজানা তথ্যকে যুক্ত করেননি। শুধুমাত্র যা তাঁর পরীক্ষার দ্বারা সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে তাকেই গ্রহণ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এই বই আধুনিক রসায়ন বিজ্ঞানের নতুন দিগন্তকে উন্মোচিত করল।

ল্যাভয়শিয়ের প্রতি প্রাচীনপন্থীদের বিরোধিতা

কিন্তু একদল প্রাচীনপন্থী মানুষ মুখর হয়ে উঠল এর বিরুদ্ধে, “এই বই-এর সমস্তই অবাস্তব ধারণার উপর গড়ে উঠেছে। যা কিছু নতুন তাই সত্য নয়। আবার যা কিছু সত্য তাই নতুন নয়।” বিরুদ্ধবাদীদের সরব চিৎকারের জবাব দিতে এগিয়ে এলেন বিজ্ঞান এ্যাকাডেমির সদস্যরা।

ল্যাভয়শিয়ের জয়গান

রসায়ন বিজ্ঞানের কুয়াশাচ্ছন্ন জগতে যে আলো ল্যাভয়শিয়ে জ্বালালেন তার জয়গানে সকলে মুখর হয়ে উঠলেন। এক চিঠিতে ল্যাভয়শিয়ে লিখেছেন, আমি খুবই আনন্দিত। আমার নতুন তত্ত্ব পণ্ডিত মহলে এক ঝড় তুলেছে।

ল্যাভয়শিয়ের জল সৃষ্টির তত্ত্ব

এরই মধ্যে ল্যাভোশিয়ে আরো একটি যুগান্তকারী তত্ত্ব আবিষ্কার করেছেন। নির্দিষ্ট অনুপাতে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন-এর সংমিশ্রণ ঘটিয়ে তার মধ্যে বিদ্যুৎ স্ফুলিঙ্গ চালনা করে সৃষ্টি করলেন জল।

ল্যাভয়শিয়ের সৃষ্টির বিপ্লবের সময় ফরাসি বিপ্লব

  • (১) ল্যাভয়শিয়ে যখন তাঁর নতুন নতুন তত্ত্বের মাধ্যমে মানুষের চিন্তাজগতে বিপ্লব সৃষ্টি করে চলেছেন, তখন সমগ্র ফ্রান্স জুড়ে চলেছে আরেক বিপ্লব, ফরাসী বিপ্লব। দেশের শাসনভার গ্রহণ করেছে বিপ্লবী ট্রাইবুন্যাল। তৈরি হয়েছে বিপ্লবী আইন।
  • (২) যারা বিপ্লবের বিরোধী, যারা পুরনো রাজতন্ত্রের সমর্থক বা কোনভাবে তার সঙ্গে জড়িত তাদের সকলকে গিলোটিন নামে এক যন্ত্রে শিরোচ্ছেদ করা হত। এইভাবে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মারা পড়ত। সমস্ত দেশ জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হল।

ল্যাভয়শিয়ের সমালোচনা

  • (১) প্রকৃতপক্ষে ল্যাভয়শিয়ে এই রাজনৈতিক অবস্থা সম্বন্ধে ছিলেন সম্পূর্ণ উদাসীন। গবেষণার কাজের মধ্যেই তিনি দিনরাত ডুবে থাকতেন। তবুও তিনি বিপ্লবী শাসকদের হাত থেকে রেহাই পেলেন না। ১৭৯১ সালের ৭ই জানুয়ারি বিপ্লবী দলের সংবাদপত্রে তাঁর সম্বন্ধে একটি প্রবন্ধ ছাপা হল।
  • (২) এক বিপ্লবী নেতা চেয়েছিলেন ল্যাভয়শিয়েকে সরিয়ে নিজেই বিজ্ঞানের জগতে বিখ্যাত হবেন। সরাসরি ল্যাভয়শিয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগে আনলেন ল্যাভয়শিয়ের রাজতন্ত্রের সমর্থক, প্রতারক, ঠক, চোরদের শিরোমনি। অসৎ উপায়ে লক্ষ লক্ষ মুদ্রা উপার্জন করে এখন প্যারিসের শাসনকর্তা হতে চাইছে।
  • (৩) একে অফিসে পাঠানো নয়, প্রকাশ্য রাজপথের ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে রাখাই আমাদের কর্তব্য। ল্যাভয়শিয়ে এই সমালোচনা সামান্যতম ভ্রূক্ষেপ করলেন না। কিন্তু পত্রিকার তরফে একের পর এক অভিযোগ উঠতে থাকে।

ল্যাভয়শিয়ের প্রতিবাদ

এরই মধ্যে বিপ্লবী নেতা আরো নেতার সমর্থনে ফরাসি বিজ্ঞান এ্যাকাডেমিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করল। ল্যাভয়শিয়ে তখন এ্যাকাডেমির প্রধান। তিনি এর প্রতিবাদ করলেন। এতদিন এই সুযোগেরই অপেক্ষায় ছিল বিপ্লবী নেতা।

বন্দী ল্যাভয়শিয়ের

বিপ্লবী পরিষদের আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর অপরাধে বন্দী করা হল ল্যাভয়শিয়েকে। তার বাড়ি খানাতল্লাসী করা হল। তাঁর সমস্ত কিছু আটক করা হল। গবেষণার কাগজপত্র ছাড়া উল্লেখযোগ্য কিছুই পাওয়া গেল না। তবুও তাঁকে মুক্তি দেওয়া হল না। কারাগারে বন্দী থেকেও মনের সাহস হারালেন না ল্যাভয়শিয়ে।

ল্যাভয়শিয়ের আত্মীয়কে চিঠি

তিনি জানতেন তাঁর সামনে নিশ্চিত মৃত্যুর হাতছানি। অথচ তাঁর এক আত্মীয়কে চিঠিতে লিখিছেন, “আমি দীর্ঘ সুখী জীবন পেয়েছি। এখন বার্ধক্যের ভারে ক্লান্ত। পেছনে ফেলে এসেছি কিছু জ্ঞান, সামান্য কিছু গৌরব। এর বেশি পৃথিবীর মানুষ আর কি আশা করতে পারে?”

ল্যাভয়শিয়ের বিচার

  • (১) শুরু হল বিচারের মিথ্যা প্রহসন। প্রধান সাক্ষী ল্যাভোশিয়েরই এক কর্মচারী যাকে চুরির অপরাধে বরখাস্ত করা হয়েছিল। ল্যাভয়শিয়ের উকিল তাঁর বৈজ্ঞানিক গবেষণার কথা উল্লেখ করতেই প্রতিপক্ষের তরফে জবাব এল, “বিপ্লব বিজ্ঞানকে চায় না, তার প্রয়োজন ন্যায়ের।”
  • (২) অবশেষে সেই বিচিত্র বিচার শেষ হল। সবচেয়ে বিচিত্র তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, “বিদেশী ও দেশের শত্রুদের সাথে ষঢড়যন্ত্র করার অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল।”

মৃত্যুর পূর্বে ল্যাভয়শিয়ের স্ত্রীকে চিঠি

মৃত্যুর আগে চিঠিতে তিনি স্ত্রীকে লিখেছেন, তোমার স্বাস্থ্যের যত্ন নিও প্রিয়তমা, দুঃখ করো না, আমি আমার কাজ শেষ করেছি, তার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিও।

ল্যাভয়শিয়ের মৃত্যু

১৭৯৪ সালের মে মাসের কোনো এক সকালে তাঁকে গিলোটিনে হত্যা করা হল।

উপসংহার :- ল্যাভয়শিয়ের মৃত্যুর পর বিজ্ঞানী লরেঞ্জ বলেছিলেন, “শুধু একটি মুহূর্ত লেগেছিল তাঁর মাথাটি কাটতে। তেমন আর একটি মাথা পেতে হয়ত আমাদের আরো একশো বছর অপেক্ষা করতে হবে।”

(FAQ) রসায়নবিদ এন্টনি লরেন্ট ল্যাভয়শিয়ে সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. ল্যাভয়শিয়ে কে ছিলেন?

একজন ফরাসি অভিজাত এবং রসায়নবিদ। তাকে প্রায়ই “আধুনিক রসায়নের জনক” হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।

২. আধুনিক রসায়নের জনক কে?

এন্টনি লরেন্ট ল্যাভয়শিয়ে।

৩. ল্যাভয়শিয়ে কোন দেশের নাগরিক?

ফ্রান্স।

৪. ল্যাভয়শিয়ের মৃত্যু কিভাবে হয়?

গিলোটিন যন্ত্রে হত্যা করা হয়।

Leave a Comment