দময়ন্তী

বিদর্ভ রাজকন্যা দময়ন্তী প্রসঙ্গে তার পরিচয়, স্বয়ংবর ঘোষণা, রাজহংসের আগমন, রাজহংস কর্তৃক দময়ন্তীর নিকট নলের বর্ণনা, দময়ন্তীর স্বয়ংবরের দিন, দেবতাদের দূত রূপে দময়ন্তীর কাছে নলের গমন, স্বয়ংবরের দিন নল-দময়ন্তীর সাক্ষাৎ, দময়ন্তী ও দেবদূতের কথোপকথন, দময়ন্তীর স্বয়ংবর সভা, পাশা খেলায় দময়ন্তীপতি নলের হার, বনবাসে নল দময়ন্তী, দময়ন্তীর বস্ত্রদান, নলে পাশা খেলা শিক্ষার উদ্যোগ, নল কর্তৃক দময়ন্তীকে পিতৃগৃহে যাবার নির্দেশ, বনবাসী নল কর্তৃক দময়ন্তীকে পরিত্যাগ, নলের অবর্তমানে উন্মাদিনী দময়ন্তী, দময়ন্তীর বিপদ থেকে রক্ষা, দময়ন্তীর চেদীরাজ্যে উপস্থিতি, সর্পদংশনের স্বীকার দময়ন্তীপতি নল, অযোধ্যায় সারথি রূপে দময়ন্তীর পতি নল, পিতৃ রাজ্যে দময়ন্তীর আগমন, স্বামী শোকে মূহ্যমান দময়ন্তী, দূত কর্তৃক দময়ন্তীর নলের সন্ধান লাভ, নল ও ঋতুপর্ণের দময়ন্তীর রাজ্যে আগমন এবং নল দময়ন্তীর মিলন সম্পর্কে জানবো।

বিদর্ভ রাজকন্যা দময়ন্তী

ঐতিহাসিক চরিত্রদময়ন্তী
পরিচিতিবিদর্ভ রাজকন্যা
পিতাস্বামী
স্বামীনিষধরাজ নল
অযোধ্যারাজঋতুপর্ণ
বিদর্ভ রাজকন্যা দময়ন্তী

ভূমিকা :- প্রাচীন কালে নারী সমাজ পর্দার আড়ালে ছিল বললেই চলে। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রাচীন ভারতের বহু বিদুষী নারী বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্ৰণী ছিলেন। তাদেরই অন্যতম একজন ছিলেন দময়ন্তী।

দময়ন্তীর পরিচয়

বিদর্ভরাজ ভীমের কন্যা দময়ন্তীর রূপগুণের তুলনা নেই। মাতা পিতার একমাত্র কন্যা, রাজ্যৈশ্বর্য্যের মধ্যে দিন দিন শশিকলার ন্যায় বাড়তে লাগিল।

দময়ন্তীর স্বয়ংবর ঘোষণা

দেখতে দেখতে দময়ন্তী যৌবনসীমায় পদার্পণ করলেন, অঙ্গের রূপ উছলে পড়ে। রাজা কন্যার স্বয়ংবর ঘোষণা করলেন।

দময়ন্তীর নিকট এক রাজহংসের আগমন

ইতিমধ্যে একদিন দময়ন্তী অন্তঃপুরমধ্যে এক উপবনে ভ্রমণ করছেন, এমন সময়ে এক সুন্দর রাজহংস তাঁর সম্মুখে উপস্থিত হল। কৌতূহল-পরবশ হয়ে দয়মন্তী হংসকে ধরলেন। ধৃত হয়ে হংস, দময়ন্তীকে বলল “রাজকুমারি! আমায় ছাড়িয়া দাও, আমি তোমাকে নলের সংবাদ বলিব।”

রাজহংস কর্তৃক দময়ন্তীর নিকট নলের বর্ণনা

ইতিপূর্ব্বে দময়ন্তী অনেকবার নলের কথা শুনেছিলেন, এখন রাজহংসের মুখে নলের প্রকৃত পরিচয় পাবার জন্য ব্যাকুল হলেন। হংস দময়ন্তীর নিকট নলের রূপ, গুণ, তাঁর প্রতি নলের আসক্তি ইত্যাদি সব কথাই বলল। দময়ন্তী মনে মনে নলকে আত্মসমর্পণ করলেন। হংস স্বস্থানে চলে গেল।

দময়ন্তীর স্বয়ংবরের দিন

দেখতে দেখতে স্বয়ংবরের দিন নিকটবর্তী হল। এক এক করে রাজারা উপস্থিত হতে লাগলেন। নলও সংবাদ পেয়ে যাত্রা করলেন। পথে ইন্দ্র, চন্দ্র, বায়ু, বরুণ ও কলির সাথে নলের সাক্ষাৎ হল। শুনলেন তারাও দময়ন্তীকে লাভ করবার জন্য বিদর্ভে যাচ্ছেন।

দেবতাদের দূত রূপে দময়ন্তীর কাছে নলের গমন

নলকে দেখে দেবতারা তাঁকে দময়ন্তীর নিকট দূতস্বরূপ পাঠাতে ইচ্ছা করলেন। নল স্বীকৃত হলেন। বিবাহার্থী দেবতাদের দূত হয়ে দময়ন্তীর নিকট নলরাজ চললেন। নল ভিন্ন এ কার্য্য আর কার দ্বারা সম্ভব? দেবতাদের অনুগ্রহে নল অলক্ষ্যে চললেন।

স্বয়ংবরের দিন নল-দময়ন্তীর সাক্ষাৎ

আজ স্বয়ংবরের দিন। দময়ন্তী উপযুক্ত বেশভূষায় সজ্জিতা হয়ে স্বয়ং বরসভায় যাবার জন্য নিজ কক্ষে অপেক্ষা করছেন, এমন সময় এক দিব্য পুরুষমূর্তি তার সম্মুখে উপস্থিত হল। তার কক্ষে অকস্মাৎ এরূপ পুরুষের আগমনে দময়ন্তী আশ্চর্যান্বিতা হলেন।

দেবদূত ও দময়ন্তীর কথোপকথন

দেবদূত: আগত পুরুষমূর্তি বলতে লাগল “রাজকুমারি ! আমি দেবতাদের দূত। ইন্দ্র, চন্দ্র, প্রমুখ দেবতারা আপনার পাণিগ্রহণ মানসে আমাকে দূত করিয়া পাঠাইয়াছেন।”

দময়ন্তী: প্রণাম করে নিষ্কম্পভাবে উত্তর করলেন, “দূত! দেবতারা আমার পূজনীয়, তাদেরকে আমার প্রণাম জানিয়ে বলবেন, আমি পূর্বেই একজনকে মনে মনে পতিরূপে বরণ করেছি। এখন, দেবতাই হউন বা যে কেউই হউন, অপর কাউকেই বরণ করিলে আমি নিশ্চয়ই সতীধৰ্ম্ম হইতে বিচ্যুতা হইব। দেবতারা ধর্ম্মের রক্ষক, তাহারা আশীর্বাদ করুন যেন আমি যাহাকে মনে মনে বরণ করিয়াছি তাহাকেই যেন লাভ করিতে পারি।”

দেবদূত: “কে তোমার অভীষ্ট স্বামী ?”

দময়ন্তী: “নিষাধরাজ নলই আমার স্বামী।”

দেবদূত: সোল্লাসের সঙ্গে বলে উঠলেন, “আমি নিষধরাজ নল ” এরপর দেবদূত অদৃশ্য হলেন।

দময়ন্তীর স্বয়ংবর সভা

  • (১) স্বয়ংবর সভায় একে একে সকল রাজাকে অতিক্রম করে দময়ন্তী অবশেষে নলের নিকট উপস্থিত হলেন। কিন্তু একি বিপদ ! নলের মতো আরও চারজন পাশাপাশি বসে আছেন! সতী কাকে মাল্যদান করবেন? দময়ন্তী বুঝলেন নিশ্চয়ই এই দেবতাদের ছলনা।
  • (২) মনে মনে বলতে লাগলেন, হে দেবতাবৃন্দ! হে ধর্মরক্ষক! আমাকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করুন। সতীধর্ম্ম অপেক্ষা আর কোন ধৰ্ম্ম অধিক উচ্চ। আজ আমার সেই সতীধর্ম্ম অক্ষুণ্ণ রাখুন। সতী মুহূর্তে দেখলেন যে আকারে ইঙ্গিতে চারজন অন্যদের থেকে কিছুটা ভিন্ন।
  • (৩) তাদের চক্ষে নিমেষ নেই, শরীরে ঘাম নেই, তারা ভূমিস্পর্শ করেন নি। সতী প্রকৃত নলকে চিনতে পারলেন। শঙ্খরোলের মধ্যে পুষ্পমাল্যের সাথে দময়ন্তী নলকে হৃদয় দান করে কৃতার্থ হলেন।

পাশা খেলায় দময়ন্তীপতি নলের হার

  • (১) নিষধে দময়ন্তীর দিন সুখে কাটতে লাগল। কিন্তু সে সুখ বহু কালস্থায়ী হল না। নলের এক কনিষ্ঠ সহোদর ছিল, তার নাম পুষ্কর। নলের এই সুখ তার অসহ্য হয়ে উঠল। দুরাত্মা পাশা-ক্রীড়ায় নলের অপেক্ষা অধিক পারদর্শী ছিল। সে নলকে পাশাক্রীড়ায় আহ্বান করল। এই ক্রীড়ায় নলেরও আসক্তি যথেষ্ট ছিল।
  • (২) কলির প্রভাবে হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়ে নল পুষ্করের সাথে পাশাক্রীড়ায় প্রবৃত্ত হলেন। নলের একে একে সর্ব্বস্ব গেল। রাজ্য ধন যাহা কিছু ছিল সবই হারালেন। রাজ্যে আর তাঁর স্থান নেই। নিষধরাজ আজ পথের ভিখারী, বনবাস ভিন্ন আর উপায় নেই। সতী স্বামীর অনুবর্তিনী হলেন।

বনবাসে নল দময়ন্তী

রাজদম্পতী আজ বনবাসে। নল দময়ন্তীকে বলতে লাগিষলেন, “প্রিয়ে! আমিই তোমার সকল কষ্টের কারণ, আর কেনই বা তুমি স্বেচ্ছায় এই ক্লেশ স্বীকার করিলে”। সতী উত্তর দিলেন, “নাথ ! স্ত্রী কি কেবল স্বামীর সুখের অংশভাগিনী দুঃখের ভাগিনী নয় ? আপনার সুখের অংশ আমি ভূল রূপেই ভোগ করিয়াছি, দুঃখের অংশ কেন ভোগ করিব না ? আপনি যেখানে থাকিবেন সেখানেই আমার স্বর্গ; এ আমার স্বর্গবাস, আমি নিজের জন্য বিন্দুমাত্র চিন্তিতা নহি, আমার চিন্তা আপনার কত ক্লেশ হইতেছে।”

দময়ন্তীর বস্ত্রদান

একবসনে রাজদম্পতী গৃহত্যাগ করেছিলেন। কলির মায়ায় একদিন একটি স্বর্ণপক্ষ-বিহঙ্গম ধরতে গিয়া নল নিজের বসনখানি হারালেন। দময়ন্তী নিজের বস্ত্রের অর্দ্ধেক স্বামীকে দান করলেন।

নলে পাশা খেলা শিক্ষার উদ্যোগ

অযোধ্যারাজ ঋতুপর্ণ পাশাক্রীড়ায় অদ্বিতীয় ছিলেন। নল মনে করলেন, তাঁর নিকট পাশাক্রীড়া শিখে পুষ্করকে পরাজিত করে স্বরাজ্য উদ্ধার করবেন। কিন্তু এই হীনবেশে ছিন্ন বসনে দময়ন্তীকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গমন করা কিরূপে সম্ভব!

নল কর্তৃক দময়ন্তীকে পিতৃগৃহে যাবার নির্দেশ

অগত্যা নল দময়ন্তীকে বললেন – “প্রিয়ে ! তুমি বনবাসে বড়ই ক্লেশ পাইতেছ, কিছুদিনের জন্য পিতৃগৃহে গমন কর, দেখি যদি আমি কোন রূপে এই বিপদ হইতে উদ্ধার হইতে পারি।” সতী উত্তর দিলেন, “নাথ, তুমি বনবাস-ক্লেশ ভোগ করিবে, আর আমি তোমার পত্নী হইয়া পিতৃগৃহে সুখস্বচ্ছন্দে দিন কাটাইব ? প্রাণ থাকিতে আমি তোমায় ছাড়িয়া যাইব না।”

বনবাসী নল কর্তৃক দময়ন্তীকে ত্যাগ

নল যখন দেখলেন দময়ন্তী তাঁকে কিছুতেই ত্যাগ করবে না, তখন একদিন রাত্রিকালে নিদ্রিতা দময়ন্তীর ভার একমাত্র ভগবানের উপর নির্ভর করে অশ্রুজলে ভাসতে ভাসতে নল সেই বন ত্যাগ করলেন। সতী কিছুই জানতে পারিল না।

নলের অবর্তমানে উন্মাদিনী দময়ন্তী

নিদ্রাভঙ্গে সতী দেখলেন স্বামী তাঁর পাশে নেই, তিনি উন্মাদিনীর মত নানাস্থানে সন্ধান করতে লাগলেন, কিন্তু নলের সাথে সাক্ষাৎ হল না। পতির এই ব্যাপারে সতীর বিন্দুমাত্র বিরক্তি ভাব এল না। ভাবলেন, আমারই দোষ, কেন আমি নিদ্রা গিয়েছিলাম ? পতির অদর্শনে সতী উন্মাদিনী হলেন।

ব্যাধ কর্তৃক দময়ন্তীর প্রাণ রক্ষা

এরূপ অবস্থায় দময়ন্তী একদিন এক অজগর সর্পের মুখে পতিত হলেন। প্রাণভয়ে দময়ন্তী দৌড়াতে লাগলেন । সৰ্প তাকে ধরবার উপক্রম করেছে, মুহূর্তের মধ্যে একটা তীর এসে সর্পকে বিদ্ধ করল। সর্প গতায়ু হয়ে ভূতলে পড়ল। দময়ন্তী দেখলেন এক ব্যাধ তার প্রাণদাতা।

দময়ন্তীর বিপদ থেকে রক্ষা

সতী জীবনদাতার প্রতি যথেষ্ট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। কিন্তু বুঝলেন যে জীবনদান করাই তার উদ্দেশ্য নয়। পাপাভিলাষ পূর্ণ করাই তার উদ্দেশ্য। সতী ঘৃণায় সে স্থান ত্যাগ করলেন। কিন্তু পাপাত্মা তাকে ধরার জন্য বাহু প্রসারণ করে ছুটল। মুহূর্তে বিনামেঘে বজ্রাঘাত হল। সতীর বিপদ দূর হল।

দময়ন্তী কর্তৃক বণিকদের সঙ্গ ত্যাগ

চেদীরাজ্যে দময়ন্তী দেখলেন কতকগুলি বণিক পণ্যদ্রব্য নিয়ে যাচ্ছে। তিনি তাদের অনুসরণ করলেন, কিন্তু রাত্রিবেলা কতকগুলি বন্য গজের সাথে বণিকদের যুদ্ধ উপস্থিত হওয়ায় দময়ন্তী প্রাণভয়ে তাদের সঙ্গ ত্যাগ করতে বাধ্য হলেন।

দময়ন্তীর চেদীরাজ্যে উপস্থিতি

উন্মাদিনীর ন্যায় ছিন্নবসনে, কর্দমাক্তশরীরে চেদিনগরে রাজপথে ভ্রমণ করতে লাগলেন। রাজপ্রাসাদের নিকটবর্তী হলে রাজমাতা তাকে দেখতে পেয়ে দাসী দ্বারা তাকে ডেকে পাঠালেন ও তার পরিচয় পেয়ে সস্নেহে তাঁকে আশ্রয় দিলেন। রাজমাতা তাঁর স্বামীর সন্ধান করতে লাগলেন।

সর্পদংশনের স্বীকার দময়ন্তীপতি নল

এদিকে নল দময়ন্তীকে পরিত্যাগ করে কিছুদূর এসে দেখেন যে দাবানলে এক প্রকাণ্ড সর্প দগ্ধপ্রায় হয়েছে। স্বভাবকরুণ নল নিজের বিপদ তুচ্ছ করিয়া অগ্নিমধ্যে প্রবেশ করিয়া সর্পকে উদ্ধার করলেন। কিন্তু হিংস্র সর্প তার নিজের স্বভাব ত্যাগ করতে পারল না। সে নলকে দংশন করল। তার বিষে নলের সর্বশরীর বিবর্ণ ও মুখমণ্ডল ব্রণদ্বারা বিকৃত হয়ে গেল। এরূপ বিকৃতি ছদ্মবেশের উপযুক্তই হল।

অযোধ্যায় সারথি রূপে দময়ন্তীর পতি নল

নল অশ্ববিদ্যায় সুপণ্ডিত ছিলেন। অযোধ্যায় উপস্থিত হয়ে, ঋতুপর্ণের রথের সারথি হলেন। তখন তাঁর নাম হল বাহুক। ঋতুপর্ণ নলের উপর পরম পরিতুষ্ট হলেন ।

দময়ন্তীর পিতৃরাজ্যে আগমন

এদিকে বিদর্ভরাজ কন্যা ও জামাতার বনগমন সংবাদে নিতান্ত ব্যাকুল হয়ে তাদেরকে গৃহে আনবার জন্য দূত সকল প্রেরণ করলেন। নানা বন নানাদেশ অন্বেষণ করে দূতগণ চেদিরাজ্যে উপস্থিত হল। সেখানে দময়ন্তীর সন্ধান পেয়ে তাঁকে সসম্মানে বিদর্ভরাজ্যে নিয়ে গেল।

স্বামীর শোকে মুহ্যমান দময়ন্তী

পিতৃগৃহে সুখৈশ্বর্য্যের মধ্যে সতীর মনে বিন্দুমাত্র শান্তি নেই। রাত্রিদিনই তিনি পতির চিন্তায় মগ্ন; রাত্রিদিনই পতির জন্য তাঁর অশ্রুধারা! ভীম জামাতার অন্বেষণে পুনরায় দূত প্রেরণ করলেন।

দূত কর্তৃক দময়ন্তীর নলের সন্ধান লাভ

এক দূত এসে দময়ন্তীকে ঋতুপর্ণের সারথির কথা বলল। তাঁর গুণের পরিচয়, দময়ন্তীর প্রতি তার অনুরাগ ইত্যাদিতে দময়ন্তী তাঁকে নল বলেই মনে করলেন, কিন্তু তার রূপের বর্ণনায় তিনি একটু সন্দিহান হলেন। যাইহোক, তাঁকে দেখবার জন্য দময়ন্তী এক কৌশল অবলম্বন করলেন।

নল ও ঋতুপর্ণের দময়ন্তীর রাজ্যে আগমন

ঋতুপর্ণের নিকট এক দূত প্রেরণ করে দময়ন্তী জানালেন যে নল নিরুদ্দেশ বলে দময়ন্তীর দ্বিতীয় স্বয়ংবর উপস্থিত। দময়ন্তীর রূপ গুণের কথা ইতিপূর্বে শুনেছিলেন। ঋতুপর্ণ অতি সত্বর বিদর্ভে যাত্রা করার আয়োজন করতে লাগলেন। নল এ কথার বিন্দুমাত্র আস্থা স্থাপন করতে পারিলেন না। তিনি ভাবলেন এর মধ্যে নিশ্চয়ই কোনো কৌশল আছে। যাই হোক নল ঋতুপর্ণের সারথি হয়ে বিদর্ভে এলেন।

নল ও দময়ন্তীর মিলন

দময়ন্তী গোপনে বাহুককে ডেকে তার আচার ব্যবহারে তাঁকে নল বলে চিনতে পারলেন। উষ্ণ অঞ্চলে পুনরায় দুইটি হৃদয় মিলিত হল।

উপসংহার :- এরপর নল ও দময়ন্তী নিষধে গিয়ে পুষ্করকে পাশা খেলায় আহ্বান করলেন। নল ঋতুপর্ণের নিকট পাশা ক্রীড়ার সমস্ত কৌশল শিখেছিলেন। এখন পুষ্করকে অনায়াসে পরাজিত করে স্বরাজ্য উদ্ধার করলেন। সতীর দুঃখের অবসান হল।

(FAQ) বিদর্ভ রাজকন্যা দময়ন্তী সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. দময়ন্তী কে ছিলেন?

বিদর্ভ রাজা ভীমের কন্যা।

২. দময়ন্তীর বিবাহ হয় কার সাথে?

নিষধরাজ নলের সাথে।

৩. কার চক্রান্তে নল দময়ন্তীকে বনবাসী হতে হয়েছিল?

নলের সহোদর ভাই পুষ্করের চক্রান্তে।

৪. সারথি রূপে নলের নাম কি ছিল?

বাহুক।

Leave a Comment