বিশ্ব বিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস

বিশ্ব বিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস সম্পর্কে আলোচনা করা হল । সক্রেটিস ছিলেন বিশ্ব বিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক। সক্রেটিসের জন্ম ও বংশ পরিচয় , প্রাথমিক জীবন শিক্ষাজীবন ও দার্শনিক পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে ।

Table of Contents

সক্রেটিস বিশ্ব বিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক

পশ্চিমি দর্শনের ভিত্তি স্থাপনকারী সক্রেটিস প্রাচীন বিশ্ব বিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক। সক্রেটিস এমন এক দার্শনিক চিন্তাধারার জন্ম দিয়েছেন যা দীর্ঘ ২০০০ বছর ধরে পশ্চিমা সংস্কৃতি, দর্শন ও সভ্যতাকে প্রভাবিত করেছে।

নামসক্রেটিস
জন্ম ৪৭০ খ্রিস্টপূর্ব
যুগ  প্রাচীন
অঞ্চলপশ্চিমি
ধারা  চিরায়ত গ্রিক,
সক্রেটীয় ধারা
প্রধান আগ্রহ  নৈতিকতা
উল্লেখযোগ্য অবদান সক্রেটীয় পদ্ধতি
ভাবগুরু এনাক্সাগোরাস,
পারমেনাইডিস
ভাবশিষ্য  প্লেটো,
এরিস্টটল
মৃত্যু ৩৯৯ খ্রিস্টপূর্ব,
(হেমলক বিষ পান)
সক্রেটিস

“নিজের ব্যাপারে আমি বলবো, আমি এটাই জানি যে আমি কিছুই জানি না”

ভূমিকা :- পৃথিবীর ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম জ্ঞানী ব্যক্তিদের একজন দার্শনিক সক্রেটিস। উপরের উক্তিটি তারই। জীবিত অবস্থায় যেমন ধাঁধার মতো ছিলেন, তেমনি মৃত্যুর পরও তিনি এক চিরন্তন বিস্ময়ে পরিণত হয়েছেন। দর্শন বিষয়ে যদিও কিছুই লিখে যাননি, তবুও যাদের দ্বারা পৃথিবীর মানুষের দর্শন চিরতরে বদলে গেছে তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তিনি যেমন নিজের ব্যাপারে বলতে গিয়ে বলেছেন কিছুই জানেন না, আমরাও তার বিষয়ে তেমন কিছুই জানি না। যতটুকু জানি, সবই তৃতীয় পক্ষের দেওয়া তথ্য। সেই সব তথ্য নিয়েও আছে ব্যাপক মাত্রায় বিতর্ক। তবুও যুগ যুগ ধরে সক্রেটিস অমর হয়ে আছেন।

ইতিহাসের উপাদান

সক্রেটিসের জীবনের বিস্তৃত সূত্র হিসেবে বর্তমানকালে তিনটি উৎসের কথা বলা যেতে পারে। – প্লেটোর ডায়ালগসমূহ, এরিস্টোফেনিসের নাটকসমূহ এবং জেনোফেনোর রচনা। সক্রেটিস নিজে কিছু লিখেছেন বলে কোনোও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরিস্টোফেনিসের নাটক দ্য ক্লাউডে সক্রেটিসকে দেখানো হয়েছে একজন ভাঁড় হিসেবে, যে তার ছাত্রদের শিক্ষা দেয় কীভাবে ঋণের দায় থেকে বুদ্ধি খাটিয়ে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এরিস্টোফেনিসের অধিকাংশ রচনাই যেহেতু ব্যঙ্গাত্মক ছিল সেহেতু এই রচনায় সক্রেটিসকে যেভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণরূপে গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয় না।

সক্রেটিসের জন্ম ও বংশ পরিচয়

সক্রেটিস ৪৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে (মতান্তরে ৪৭০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে) এথেন্সের সিরকা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সফ্রোনিসকাস ছিলেন একজন রাজমিস্ত্রি ও ভাস্কর। তার মা ফায়েনারেত ছিলেন একজন ধাত্রী।

সক্রেটিসের প্রাথমিক জীবন

পিতা সফ্রোনিসকাসের আয় একেবারেই কম ছিল তা নয়, কিন্তু পুরোপুরি স্বচ্ছলও বলা যায় না। রাজনৈতিক অঞ্চল অ্যালোপেস নামক স্থানে বেড়ে ওঠা সক্রেটিস শৈশব থেকেই রাজনীতির সাথে পরিচিত হন। এথেন্সের নিয়ম অনুযায়ী ১৮ বছর বয়সের সকল যুবককে রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করতে হত। এই সব দায়িত্বের মধ্যে মূল দায়িত্ব ছিল মিলিটারিতে যোগ দেওয়া। অন্যদিকে মিলিটারি বিষয়ক বিভিন্ন দিক নির্ধারণ এবং বিচার বিভাগ পরিচালনার জন্য যে অ্যাসেম্বলি ছিল, তাতেও যোগ দিতে হত গ্রিসের নব্য যুবকদের । এই সব কাজগুলোতে সক্রেটিসের কোনো আপত্তি ছিল না।

সক্রেটিসের শিক্ষাজীবন

সক্রেটিসকে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে তার বাবা সফ্রোনিসকাস দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ছিলেন। তিনি এথেন্সের সকল যুবকের মতো বাধ্যতামূলক সাধারণ শিক্ষার বাইরেও সক্রেটিসের উচ্চতর শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। বিশেষ করে সাহিত্য, সঙ্গীত এবং অ্যাথলেটিকসে সক্রেটিসের নাম নথিভুক্ত করান। এর ফলে সক্রেটিস কাব্যচর্চায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন। একইসাথে তিনি সঙ্গীতে এবং শরীরচর্চাতেও দক্ষ হন। এই সময় বাণিজ্য বিষয়টিও মোটামুটিভাবে রপ্ত করেন সক্রেটিস। তিনি ‘দ্য আগোরা’তে (এথেন্সের বাজার) মানুষকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে নিজের সময় কাটাতে ভালবাসতেন। এর ফলে অভিজাত পরিবারের যুবক শ্রেণীর মধ্যে তার মোটামুটি রকমের জনপ্রিয়তা সৃষ্টি হয়। এই প্রসঙ্গে প্লেটো -র নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

চেহারায় সক্রেটিস

সক্রেটিস দেখতে মোটেও সুদর্শন ছিলেন না। টাক মাথা, চ্যাপ্টা অবনত নাক, ছোটো ছোটো চোখ, স্ফীত উদর এবং অস্বাভাবিক গতিভঙ্গির সমন্বয়ে গঠিত ছিল তার সামগ্রিক চেহারা। দেহের শ্রী তেমন না থাকলেও তার প্রখর রসবোধ ছিল। রঙ্গ করে প্রায়ই বলতেন, “নাসারন্ধ্রটি বড়ো হওয়ায় ঘ্রাণ নেওয়ার বিশেষ সুবিধা হয়েছে; নাকটি বেশি চ্যাপ্টা হওয়াতে দৃষ্টি কোথাও বাধা পায়না।”

সক্রেটিস চরিত্রের সৌন্দর্যতা

কথাবার্তা ও আচার-আচরণে সক্রেটিস ছিলেন মধুর ব্যক্তি। তাই যে-ই তার সঙ্গে কথা বলত সে-ই তার কথাবার্তা ও চরিত্র-সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে যেত। অধিকাংশেরই বর্ণনাতে তিনি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা প্রদান করতেন না। রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজারই ছিল তার শিক্ষায়তন।

সক্রেটিসের দাম্পত্য জীবন

ইতিহাসবিদদের মধ্যে সক্রেটিসের দাম্পত্য জীবন নিয়েরয়েছে চরম বিতর্ক। অনেকে মনে করেন তার একমাত্র স্ত্রী জ্যানথিপ, যার গর্ভে জন্ম হয় সক্রেটিসের তিন ছেলের। আবার অনেকে দাবি করেন জ্যানথিপের ঘরে সক্রেটিসের প্রথম সন্তান ল্যাম্প্রোক্লেস এর জন্ম। পরবর্তীতে সক্রেটিস মির্তো নামক এক নারীকে বিয়ে করেন। মির্তোর গর্ভে জন্ম হয় সক্রেটিসের অপর দুই সন্তান  সফ্রোনিসকাস এবং মেনেক্সেনাসের।

সক্রেটিসের সাংসারিক জীবন

স্ত্রী জানথিপির বয়স ছিল সক্রেটিসের থেকে অনেক কম। শাস্তি কার্যকর হওয়ার পূর্বে সক্রেটিস পালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ ফিরিয়ে দেন। এর পর নিজের পুত্রদের ত্যাগ করার জন্য সক্রেটিসের বন্ধু ক্রিটো তার সমালোচনা করেছিলেন। দর্শন অনুশীলন করতে গিয়ে সংসার ও জীবিকা সম্পর্কে তিনি খুবই উদাসীন হয়ে পড়েছিলেন। এ কারণে শেষ জীবনে তাঁর পুরো পরিবারকেই দারিদ্র্য ও অনাহারের মধ্যে জীবন যাপন করতে হয়। বেশির ভাগ সময়েই তিনি তাঁর শিষ্যদের বাড়িতে আহার করতেন।

সক্রেটিসের সাংসারিক কলহ

সক্রেটিসের প্রথম বা একমাত্র স্ত্রী জ্যানথিপ ছিলেন অত্যন্ত ঝগড়াটে। প্রতিদিনই সক্রেটিসের সঙ্গে তার ঝগড়া হত। একদিন প্রচণ্ড রাগান্বিত জ্যানথিপ চিৎকার করে যাচ্ছিলেন আর সক্রেটিস বরাবরের মতো নিশ্চুপ ছিলেন। এক পর্যায়ে জ্যানথিপ সক্রেটিসের মাথায় এক বালতি জল ঢেলে দেন। তখন সক্রেটিস তার বিখ্যাত উক্তিটি করেন –

“After thunder comes the rain”

বিবাহ সম্পর্কে তার আরো একটি বিখ্যাত উক্তি হল, “আপনি বিয়ে করুন আর না-ই করুন, উভয় ক্ষেত্রে পস্তাবেন!”

সক্রেটিসের প্রতি স্ত্রীর প্রেম

মনে করা হয় স্ত্রী জানথিপির কাছে সক্রেটিস ছিলেন অবজ্ঞার পাত্র। জানথিপি প্রায়শই বলতেন, তার নিষ্কর্মা স্বামী পরিবারের জন্য সৌভাগ্যের পরিবর্তে দুঃখ কষ্টই এনেছেন বেশি। বাইরে বাইরে যতই তিক্ততা থাকুক তার অন্তরের অন্তস্থলে স্বামীর জন্য ভালোবাসা ছিল যথেষ্ট। সক্রেটিসের মৃত্যুতে তিনি যেভাবে শোক প্রকাশ করছেন তা থেকেই এই ভালোবাসার প্রমাণ পাওয়া যায়।

মহান অথচ সাধারণ শিক্ষক সক্রেটিস

সক্রেটিস ছিলেন এমন এক মহান সাধারণ শিক্ষক, যিনি কেবল শিষ্যত্ব গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদানে বিশ্বাসী ছিলেন না। তার কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষায়তনও ছিল না। যেখানে যাকে পেতেন তাকেই মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর বোঝানোর চেষ্টা করতেন। তিনি মানব চেতনায় আমাদের ইচ্ছাকে নিন্দা করেছেন, কিন্তু সৌন্দর্য দ্বারা নিজেও আনন্দিত হয়েছেন।

যোদ্ধার জীবনে সক্রেটিস

সক্রেটিস তার মিলিটারি দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথেই পালন করেছিলেন। তিনি প্রতিটি যুদ্ধে বেশ বীরত্বের সাথে লড়াই করেন এবং এথেন্সের বিজয়ে সাহায্য করেন। যুদ্ধকালীন তিনি এথেন্সের জেনারেল আলসিবিয়াডিসের জীবনও বাঁচান। তিনি ডেলিয়াম এবং অ্যাম্ফিপোলিস এর যুদ্ধেও অংশ নেন। তবে এই দুই যুদ্ধেই এথেন্সের পরাজয় ঘটে।

সক্রেটিসের কর্মজীবন

তিনি ঠিক কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করতেন তা পরিষ্কার নয়। তবে তার কর্মজীবন সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া যায়।

(১) সক্রেটিসের পিতৃপেশা গ্ৰহণ

ফিলাসের টিমোন এবং পরবর্তী আরো কিছু উৎস থেকে জানা যায় যে, প্রথম জীবনে সক্রেটিস তাঁর বাবার পেশাই অবলম্বন করেছিলেন। তাঁর বাবা একজন ভাস্কর ছিলেন। সেই হিসেবে তাঁর প্রথম জীবন কেটেছে ভাস্করের কাজ করে। প্রাচীনকালে অনেকেই মনে করত গ্রিসের অ্যাক্রোপলিসে দ্বিতীয় শতাব্দী পর্যন্ত বিরাজমান ঈশ্বরের করুণা চিহ্নিতকারী মূর্তিগুলো সক্রেটিসের হাতেই তৈরি। অবশ্য বর্তমান কালের বুদ্ধিজীবীরা এর সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ খুঁজে পাননি।

(২) পেশাহীন সক্রেটিস

সক্রেটিস কোনো পেশা অবলম্বন করেননি এমন প্রমাণও রয়েছে। জেনোফোন রচিত সিম্পোজিয়ামে সক্রেটিসকে বলতে শোনা যায় যে, তিনি কখনো কোনো পেশা অবলম্বন করবেন না। কারণ তিনি ঠিক তা-ই করবেন যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন আর তা হল দর্শন সম্বন্ধে আলোচনা। এরিস্টোফেনিসের দ্য ক্লাউডস রচনায় দেখা যায় সক্রেটিস শিক্ষার বিনিময়ে অর্থ নিতেন এবং গ্রিসের চেরিফোনে একটি সোফিস্ট বিদ্যালয়ও পরিচালনা করতেন। কিন্তু প্লেটোর অ্যাপোলজি এবং জেনোফোনের সিম্পোজিয়ামে দেখা যায় সক্রেটিস কখনোই শিক্ষার বিনিময়ে অর্থ নেননি। বরং তিনি তার দারিদ্র্যের দিকে নির্দেশ করেই প্রমাণ দিতেন যে, তিনি কোনো পেশাদার শিক্ষক নন। তাকে বলতে শোনা যায় –

“নিজেকে অন্যের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়াই আমার অভ্যাস; আর এই জন্যই এমনিতে না-পেলে পয়সাকড়ি দিয়েও আমি দার্শনিক আলোচনার সাথী সংগ্রহ করতাম।”

প্লেটোর বর্ণনায় সক্রেটিসের সৈনিক জীবন

প্লেটোর বর্ণনায় সক্রেটিস বলেন, তিনি তিন তিনটি অভিযানে এথেনীয় সেনাবাহিনীর সাথে যোগ দিয়েছেন। এই অভিযানগুলো সংঘটিত হয়েছিল পটিডিয়া, অ্যাম্‌ফিপোলিস এবং ডেলিয়ামে। সিম্পোজিয়ামে আলসিবিয়াডিস নামক এক চরিত্র বর্ণনা করে পটিডিয়া এবং ডেলিয়ামের যুদ্ধে সক্রেটিসের বীরত্বের কথা এবং এর আগের যুদ্ধে তিনি কিভাবে নিজের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন সেকথা। ডেলিয়ামের যুদ্ধে তাঁর অসাধারণ অবদানের কথা লাকিস নামক রচনাতেও তুলে ধরা হয়েছে। মাঝেমধ্যেই সক্রেটিস বিচারালয়ের সমস্যাকে যুদ্ধক্ষেত্রের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন একজন বিচারক দর্শন থেকে সরে আসবেন কী-না তা ভেবে দেখা সেরকমই প্রয়োজন যেমন উপযুক্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করবে কী-না তা একজন সৈন্যের ভেবে দেখা প্রয়োজন।

সক্রেটিসের দার্শনিক পদ্ধতি

দার্শনিক জেনোর মতই সক্রেটিস দ্বান্দ্বিক পদ্ধতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। এই পদ্ধতিতে প্রথমে প্রতিপক্ষের মত স্বীকার করে নেওয়া হয়, কিন্তু পরে যুক্তির মাধ্যমে সেই মতকে খণ্ডন করা হয়। এই পদ্ধতির একটি প্রধান বাহন হল প্রশ্ন-উত্তর। সক্রেটিসও প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমেই দার্শনিক আলোচনা চালিয়ে যেতেন। প্রথমে প্রতিপক্ষের জন্য যুক্তির ফাঁদ তৈরি করতেন এবং একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকতেন। যতক্ষণ না প্রতিপক্ষ পরাজিত হয়ে নিজের ভুল স্বীকার করে নেয় ততক্ষণ পর্যন্ত প্রশ্ন চলতেই থাকত। সক্রেটিসের এই পদ্ধতির অপর নাম সক্রেটিসের শ্লেষ (Socratic irony)।

গণতন্ত্রের শত্রু সক্রেটিস

বিভিন্ন কারণে ডেমোক্র্যাটরা সক্রেটিসকে গণতন্ত্রের শত্রু ভাবতে শুরু করে। পেলোপনেশীয় যুদ্ধের পর গঠিত ‘দ্য থার্টি’ এথেন্সের গণতন্ত্রকামীদের উপর অত্যাচার শুরু করে। তারা অসংখ্য ডেমোক্রেটকে নির্বাসনে পাঠায়। অনেককে অন্যায় অভিযোগে হত্যা করে। নির্বাসিতদের একদল সংগঠিত হয়ে এথেন্সে ফিরে এসে ‘দ্য থার্টি’ – র প্রধান ক্রিটিয়াসকে হত্যা করে। এরপর স্পার্টার মধ্যস্থতায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। এথেন্সে আবার গণতন্ত্র ফিরে আসে এবং ডেমোক্রেটরা ‘জেনারেল অ্যামনেস্টি’ বা সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে। ফলে সক্রেটিসের প্রতি তাদের সন্দেহ প্রবল হলেও অ্যামনেস্টির কারণে তারা গণতন্ত্র বিরোধীতার নামে সক্রেটিসকে ফাঁসাতে পারছিল না

সক্রেটিস ও আলসিবিয়াডিস

অ্যাম্ফিপোলিসের যুদ্ধের সাত বছর পর আনুমানিক ৪১৫ খ্রিস্টাব্দের দিকে যখন এথেন্সের নৌবাহিনী সিসিলি দ্বীপ আক্রমণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন এথেন্সে দেবী হার্মিসের কিছু মূর্তি ভেঙে ফেলা হয়। দেবী হার্মিসকে বলা হয় ভ্রমণকালীন নিরাপত্তা দানের দেবী। এই ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই ‘ইলিউসিনিয়ান শাস্ত্রীয় অনুষ্ঠান’-এর অপবিত্রকরণ করে একদল লোক। এই দুই কাজেই যার নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়, তিনি আলসিবিয়াডিস। তাই তাকে নৌবাহিনী থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। শাস্তির ভয়ে তিনি স্পার্টায় আশ্রয় নেন। এথেন্সের দুই প্রধান শত্রুর সাথে বন্ধুত্ব গড়ে আলসিবিয়াডিস এথেন্সের ডেমোক্রেটদের প্রধান শত্রু হয়ে ওঠেন। কিন্তু এই জটিল পরিস্থিতেও সক্রেটিস আলসিবিয়াডিসের সাথে তার সম্পর্ক বজায় রাখেন এবং তার প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করেন। ফলে আলসিবিয়াডিসের কর্মকাণ্ডে পরোক্ষভাবে সক্রেটিসের হাত আছে বলেই ধারণা করে এথেন্সবাসী।

সক্রেটিসের বিরুদ্ধে ধর্মদ্রোহীতার অভিযোগ

পরবর্তীতে সক্রেটিসের নামে ধর্মদ্রোহীতার অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে বলা হয় তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ধর্মের ক্ষতি করেছেন। তিনি ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেননি। তিনি যুব সমাজকেও ধর্মবিরোধী করেছেন। মূলত প্রাচীন গ্রীসের ধর্ম বলতে শহরের লোকজনের জন্য পুরোহিত ও সরকারি কর্মকর্তাদের ঠিক করে দেওয়া রীতিনীতি ও আচার অনুষ্ঠানকেই বোঝাত। পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য আক্ষরিকভাবে ধরে রাখার নামই ছিল পবিত্রতা। অর্থাৎ ধর্ম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। সেই অর্থে ধর্মের বিরুদ্ধে কোনো কিছু করার অর্থ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ করা।

সক্রেটিসের প্রতি সর্বসাধারণের বিরোধিতা

প্লেটোর অ্যাপোলজি গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে, সাধারণ এথেনীয়রা যে লোকদের জ্ঞানী বিবেচনা করত সক্রেটিস  তাদের কাছে গিয়ে কিছু প্রশ্ন করতে শুরু করেন। তিনি এথেন্সের মানুষদেরকে উত্তম, সৌন্দর্য এবং গুণ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। উত্তর শুনে তিনি বুঝতে পারেন এদের কেউই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানে না। কিন্তু মনে করে যে তারা সব জানে। এরপর তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, এই দৃষ্টিভঙ্গিতে সক্রেটিস সবচেয়ে প্রাজ্ঞ ও জ্ঞানী। কারণ, তিনি যা জানেন না তা জানে বলে কখনো মনে করেন না। তার এই ধরনের হেঁয়ালিসূচক প্রজ্ঞা ও জ্ঞান তখনকার স্বনামধন্য এথেনীয়দের বিব্রত অবস্থার মধ্যে ফেলে দেয়। সক্রেটিসের সামনে গেলে তাদের মুখ শুকিয়ে যেতে শুরু করে। কারণ তারা কোনো প্রশ্নের সদুত্তর দিতেই পারত না। এরপর থেকেই সবাই তাঁর বিরোধিতা শুরু করে।

সক্রেটিস সক্রেটিসের বিরুদ্ধে অন্যান্য অভিযোগ

সক্রেটিসের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ ছিল না। এমনকি তরুণ সম্প্রদায়ের মধ্যে চরিত্রহীনতা ও দুর্নীতি প্রবেশ করানোর অভিযোগেও অভিযুক্ত করা হয় সক্রেটিসকে।

দুর্ভাগা সক্রেটিস

সক্রেটিসের জন্য দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হল এই যে, তার সমসাময়িক সমাজ তার মতো প্রখর জ্ঞানী ছিল না। তারা ছিল রক্ষণশীল ও সংকীর্ণমনা। সেই সময়ে সমাজের মানুষ বহু ঈশ্বরবাদে বিশ্বাসী ছিল। সেই সময়ে ঈশ্বর সম্পর্কে নানান কল্পকাহিনী প্রচলিত ছিল, যেখানে দেখা যেতো দেবতারা সবসময় মানুষের উপকার করেন না। বরং কখনো বা হিংস্র হয়ে উঠেছেন, কখনো বা ক্ষমতার প্রতাপে অন্ধ হয়ে মানবজাতির ক্ষতি সাধন করছেন। কিন্তু সক্রেটিসের বিশ্বাস দেবতারা এরকম হতে পারেন না। তার মতে তারা সর্বদা সত্যবাদী, উপকারী এবং জ্ঞানী। তিনি বিশ্বাস করতেন যৌক্তিকতার অপর নামই হল দেবত্ব। তারা কখনোই মানুষের কাছে অর্থহীন আচার অনুষ্ঠান আশা করেন না। তার এই তত্ত্ব প্রচলিত ধর্মীয় রীতিনীতির সম্পূর্ণ বিরোধী। তাই তার উপর এই অভিযোগও আনা হলো যে তিনি মানুষকে ঈশ্বর থেকে পৃথক করতে চাইছেন।

দোষী সাব্যস্ত সক্রেটিস

এথেনীয় সরকার সক্রেটিসকে এমন দোষে দোষী বলে সাব্যস্ত করেছিল যাতে তাঁর মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হতে পারে। কিন্তু তাঁর গুণাবলি ও সত্যের প্রতি অটল মনোভাব সত্যিকার অর্থেই তৎকালীন সরকারি নীতি ও সমাজের সঙ্গে সংঘর্ষ সৃষ্টিতে সমর্থ হয়েছিল। সক্রেটিস সরাসরি বা অন্য কোনোভাবে বিভিন্ন সময়ে স্পার্টার অনেক নীতির প্রশংসা করেছে, যে স্পার্টা ছিল এথেন্সের ঘোর শত্রু। এসব সত্ত্বেও ঐতিহাসিকভাবে সমাজের চোখে তার সবচেয়ে বড়ো অপরাধ ছিল সামাজিক ও নৈতিক ক্ষেত্রসমূহ নিয়ে তীব্র সমালোচনা। প্লেটোর মতে সক্রেটিস সরকারের জন্য একটি বিষফোঁড়ার কাজ করেছিলেন যার মূলে ছিল বিচার ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা ও ভালোর উদ্দেশ্য নিয়ে সমালোচনা। এথেনীয়দের সুবিচারের প্রতি নিষ্ঠা বাড়ানোর চেষ্টাকেই তাঁর শাস্তির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে।

সক্রেটিসের বিচার

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত

এথেনীয় সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ ক্ষমতার যুগ থেকে পেলোপনেশীয় যুদ্ধে স্পার্টা ও তার মিত্রবাহিনীর কাছে হেরে যাওয়া পর্যন্ত সময়কালে ক্রেটিস জীবিত ছিলেন। পরাজয়ের গ্লানি ভুলে এথেন্স যখন পুনরায় স্থিত হওয়ার চেষ্টা করছিল তখনই সেখানকার জনগণ একটি কর্মক্ষম সরকার পদ্ধতি হিসেবে গণতন্ত্রের সঠিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু করে। এই সময় সক্রেটিসও গণতন্ত্রের একজন সমালোচক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তাই অনেকে সক্রেটিসের বিচার ও মৃত্যুটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে ব্যাখ্যা করেছেন।

সক্রেটিসের বিচার পর্ব

৩৯৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আদালতে সক্রেটিসের বিচারের রায় দেওয়ার জন্য ৫০১ (মতান্তরে ৫০০ জন) জন জুরির সমন্বয়ে জুরিবোর্ড গঠন করা হয়। সক্রেটিসের যুক্তি হেরে যায়। ২২১ জনের নির্দোষ ঘোষণার বিপরীতে ২৮০ জন সক্রেটিসকে দোষী সাব্যস্ত করেন। মনে করা হয় যে, সক্রেটিস নিজের যুক্তিতে অনড় থেকে বিপদ বাড়িয়েছিলেন। সক্রেটিস যেন খুব করে চাইছিলেন তাকে মৃত্যুদণ্ডই দেওয়া হোক। দোষ স্বীকার করলে হয়তো রায় অন্যরকমও হতে পারতো। কিন্তু তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবী করেন এবং তার কর্মকাণ্ডকে যুক্তিযুক্ত প্রমাণ করার চেষ্টা করেন। তিনি তার অসাধারণ প্রজ্ঞা আর নিজস্ব বাচনভঙ্গিতে বিচারকদের কটাক্ষ করেন। দোষ স্বীকার তো দূরের কথা, তিনি বরং পুরস্কার দাবি করে বসেন। ফলে বিচারকরা ক্ষিপ্ত হয়ে যান। এরপর অবশ্যম্ভাবীভাবে রায় তার বিরুদ্ধে যায়।  

বিচারে সক্রেটিসের সাজা

সমস্ত অভিযোগ বিবেচনায় এনে সক্রেটিসকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। আর এই মৃত্যুর মাধ্যম নির্দিষ্ট হয় হেমলক বিষ পান। তিনি শান্তভাবে এই রায় মেনে নেন।

সক্রেটিসের মৃত্যুদন্ডের সময় পরিবর্তন

একটি ধর্মীয় উৎসবের জন্য সক্রেটিসের মৃত্যুদণ্ড ৩০ দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়। এই সময় তার বন্ধু ও ঘনিষ্ঠরা তাকে পালিয়ে যাবার ব্যবস্থা করে দিলেও তিনি রাজি হননি। প্লেটো তাকে অন্তত প্যারোলে ৩০ দিন বাইরে থাকার আবেদন জানান। জেল কর্তৃপক্ষ ৩ হাজার দ্রাকমার বিনিময়ে তাতে রাজিও হয়। এখানেও সক্রেটিস তাদের উপহাস করেন এবং ১০০ দ্রাকমা দেওয়ার প্রস্তাব করেন।

জীবনের শেষ দিনে সক্রেটিস

জীবনের শেষ দিনেও তিনি ছিলেন সহজ, স্বাভাবিক ও হাসিখুশি। বিষ নিয়ে আসা লোকটির হাত থেকে বিষের পেয়ালা নিয়ে ‘হেমলক’ পান করতে তিনি খুব একটা বিলম্ব করেন নি। তার বন্ধু এবং অনুসারীরা তাকে ঘিরে ছিল। যখন বিষ কাজ করতে শুরু করল, তার পা অবশ হয়ে এলো, তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। ক্রিটো, অ্যাপোল্লোডোরাস, জেনোফোন সবাই একসাথে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সক্রেটিস আর নেই। হেমলক তার জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। অনুগামীদের কান্নার শব্দ ধীরে ধীরে কমে আসে, শোকের ছায়াও কমে যায় কিছুদিনের মধ্যে। কিন্তু যে প্রহসনের বিচার সেদিন হয়েছিল, তা আজ হাজার বছর পরেও যেন কল্পনায় ভেসে ওঠে আর ঘৃণায় ভরে ওঠে আমাদের মন। আর মহাজ্ঞানীর সেই করুণ মৃত্যু আমাদের অন্তর কাঁপিয়ে দেয় বারবার।

সক্রেটিসের মৃত্যুর বর্ণনা

প্লেটোর ফিডো গ্রন্থের শেষে সক্রেটিসের মৃত্যু পর্বের বর্ণনা উদ্ধৃত আছে।হেমলক বিষ পানের পর সক্রেটিসকে হাঁটতে আদেশ করা হয় যতক্ষণ না তাঁর পদযুগল ভারী মনে হয়। শুয়ে পড়ার পর যে লোকটি সক্রেটিসের হাতে বিষ তুলে দিয়েছিল সে তাঁর পায়ের পাতায় চিমটি কাটে। সক্রেটিস সে চিমটি অনুভব করতে পারেননি। তার দেহ বেয়ে অবশতা নেমে আসে। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। মৃত্যুর পূর্বে তার বলা শেষ বাক্য ছিল –

“ক্রিটো, অ্যাসক্লেপিয়াস আমাদের কাছে একটি মোরগ পায়, তার ঋণ পরিশোধ করতে ভুলোনা যেন।”

অ্যাসক্লেপিয়াস হল গ্রিকদের আরোগ্য লাভের দেবতা। সক্রেটিসের বাণী থেকে বোঝা যায়, তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন মৃত্যু হল আরোগ্য এবং দেহ থেকে আত্মার মুক্তি।

সক্রেটিসের মৃত্যুর অনুকরণ

অনেকে মনে করেন যে, রোমান দার্শনিক সেনেকা তাঁর মৃত্যুর সময় সক্রেটিসের নকল করার চেষ্টা করেছিলেন। সক্রেটিসের মতো সেনেকাও সম্রাট নিরোর আদেশে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

সক্রেটিসের দার্শনিক উক্তি 

মহান দার্শনিক সক্রেটিসের বাণী।

সক্রেটিসের গল্প – সাফল্যের রহস্য

কোনো একসময় একজন যুবক সক্রেটিসকে সাফল্যের রহস্য জিজ্ঞাসা করেন। সক্রেটিস যুবকটিকে তার পরের দিন সকালে নদীর ধারে তার সাথে দেখা করতে বলেন। যুবকটি পরদিন সকালে তার সাথে দেখা করতে এলে সক্রেটিস যুবকটিকে তার সাথে নদীর দিকে হাঁটতে বলেন। এভাবে হাটতে হাটতে তারা যখন নদীর জলের মধ্যে গেলো এবং জল যখন ঘাড় স্পর্শ করলো, তখন সক্রেটিস হঠাৎ করে যুবকটির ঘাড় জলের ভিতরে ডুবিয়ে ধরে রাখলেন।

ছেলেটি জলের ভেতর থেকে তার ঘাড় বের করার জন্য খুব লড়াই করতে লাগল। কিন্তু সক্রেটিস তার মাথা আরো জোরে জলের মধ্যে চেপে বেশ কিছু সময় ধরে রাখলেন, এবং এক সময় বাতাসের অভাবে ছেলেটির চেহারা নীল হয়ে গেলো ৷ এবার সক্রেটিস তার মাথাকে জল থেকে টেনে বের করলেন। যুবকটি মুমূর্ষের মতো হাপাতে হাপাতে হা করে গভীরভাবে শ্বাস নিলো, তার মনে হল এইমাত্র সে মৃত্যু থেকে জীবন ফিরে পেল।

এরপর সক্রেটিস ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলেন, যখন তুমি জলের মধ্যে ছিলে তখন সবচেয়ে শরীয়ভাবে কোন জিনিসটি চেয়েছিলে ? ছেলেটি উত্তর দিল আর কিছু নয়, শুধুই ‘বাতাস’-

সক্রেটিস বলেন ,

‘That is the secret to success

জলের মধ্যে তোমার মাথা ডুবে থাকার সময় বাঁচার জন্য যেভাবে তুমি সাংঘাতিকভাবে বাতাস চেয়েছিলে, ঠিক সেইভাবে যদি তুমি সাফল্য অর্জনের জন্য চেষ্টা করো, তখন তুমি অবশ্যই সফল হবে।

যে কোনো ক্ষেত্রে সফলতার জন্য সবচেয়ে যে জিনিসটি বেশি প্রয়োজন, তা হল জ্বলন্ত আকাঙ্ক্ষা বা burning desire. অল্প আগুন যেমন বেশি তাপ দিতে পারে না, ঠিক তেমনই একটি দুর্বল প্রচেষ্টা খুব ভাল ফলাফল উপহার দিতে পারে না।

যে কোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্য সাফল্যের অনুপ্রেরণা আসে জ্বলন্ত আকাঙ্ক্ষা থেকে। সুতরাং মনের মধ্যে সাফল্যের আগুনকে জ্বালিয়ে দিন দাউদাউ করে, তা হতে পারে যে কোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্য। সফলতা আসবেই, আজ অথবা কাল।

সক্রেটিক সমস্যা

উনবিংশ শতকে প্রথম সক্রেটিস সমস্যা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সক্রেটিসের জীবন, তার দর্শন ও অন্যান্য বিষয় আলোচনা করতে গেলে ইতিহাসবিদরা যে সমস্যার সম্মুখীন হন তাই হল সক্রেটিস সমস্যা। মূল সমস্যা হল সক্রেটিসের দর্শন সম্পর্কে কোনো লিখিত দলিল নেই। সক্রেটিসের কয়েকজন অনুগামী তার সাথে কথোপকথনগুলো লিখে গেছেন, যেগুলি ‘লোগোই সক্রাটিকো’ বা ‘সক্রেটিক অ্যাকাউন্টস’ নামে পরিচিত। এদের মধ্যে কেবল প্লেটো আর জেনোফোনের ডায়লগগুলোর অস্তিত্ব আছে। ঊনিশ শতক পর্যন্ত সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রেটিসকে জানার জন্য কেবল জেনোফোনের ডায়লগের উপর নির্ভর করা হতো। তবে প্লেটোর ডায়লগগুলো সক্রেটিস সম্পর্কে অধিক স্বচ্ছ ধারণা দেয়। এছাড়াও সক্রেটিসের দর্শন জানার ক্ষেত্রে অ্যারিস্টোফেন এবং প্লেটোর শিষ্য অ্যারিস্টটলও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে যান।

সক্রেটিস সম্পর্কে শেষ কথা

আজ একাডেমিক দর্শন শাস্ত্রের মৌলিক বিষয় হিসেবে সক্রেটিস পড়ানো হয়। কিন্তু তার প্রভাব শুধু মাত্র দর্শনের মধ্যেই আটকে নেই। দর্শন ছাড়িয়ে তিনি মিশে গেছেন প্রতিটি যুগের মানুষের মধ্যে। জ্ঞানগর্ভ সক্রেটিস তাঁর নানাবিধ দর্শন ও জ্ঞানের আলোকে মানুষের জীবনকে করে গিয়েছেন উজ্জীবিত।

Leave a Reply

Translate »