অম্বুবাচী

অম্বুবাচী উৎসব প্রসঙ্গে অম্বুবাচী কি, অম্বুবাচী সম্পর্কে বাংলা প্রবাদ, জ্যোতিষ শাস্ত্রের বর্ণনা, নিয়ম, গ্ৰামবাংলায় অনুষ্ঠান, কামরূপ কামাখ্যায় পূজা, আসামে উদযাপন, ওড়িশায় উদযাপন, গুরুত্ব ও ২০২৩ সালে অম্বুবাচীর দিন সম্পর্কে জানবো।

অম্বুবাচী উৎসব

উৎসবঅম্বুবাচী
সময়কালআষাঢ় মাস
ধরণধর্মীয় উৎসব
পালনকারীহিন্দু সম্প্রদায়
সংঘটনবার্ষিক
অম্বুবাচী উৎসব

ভূমিকা :- হিন্দুধর্মের একটি বাৎসরিক উৎসব হল অম্বুবাচী। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী আষাঢ় মাসে মৃগ শিরা নক্ষত্রের তিনটি পদ শেষ হলে ধরিত্রী মা ঋতুময়ী হয়। এই সময়েই অম্বুবাচী পালন করা হয়।

অম্বুবাচী কি?

অম্ব শব্দের অর্থ জল এবং বাচি শব্দের অর্থ বৃদ্ধি। পুরো কথাটির অর্থ গ্রীষ্মের প্রখর তাপপ্রবাহের পর বর্ষার আগমনে সারা ধরিত্রী সিক্ত হয়। ফের প্রজননের যোগ্য ওঠার সময়কালকেই বলা হয় অম্বুবাচী। এই সময়কালে পৃথিবী ঋতুমতী হয় বলে মনে করা হয়।

অম্বুবাচী সম্পর্কে বাংলা প্রবাদ

বাঙলা প্রবাদে আছে ‘কিসের বার কিসের তিথি, আষাঢ়ের সাত তারিখ অম্বুবাচী।’ এই দিন থেকেই হয় অম্বুবাচী শুরু।

অম্বুবাচী সম্পর্কে জ্যোতিষ শাস্ত্রে বর্ণনা

জ্যোতিষ শাস্ত্রে বর্ণনা করা হয়েছে, সূর্য যে বারের যে সময়ে মিথুন রাশিতে গমন করে তার পরবর্তী সেই বারের সেই কালে অম্বুবাচী হয়। অর্থাৎ পৃথিবী এই সময়ে ঋতুমতী হয়।

অম্বুবাচী উপলক্ষে নিয়ম

অম্বুবাচীর তিন দিন পর্যন্ত কোনো ধরনের মাঙ্গলিক কার্য করা যায় না। চতুর্থ দিন থেকে মাঙ্গলিক কাজে কোনো বাধা থাকে না। অম্বুবাচীর সময় হাল ধরা, গৃহ প্রবেশ, বিবাহ ইত্যাদি শুভ কাজ করা নিষিদ্ধ থাকে। এই সময় মঠ-মন্দিরের প্রবেশদ্বার বন্ধ থাকে।

গ্ৰাম বাংলায় অম্বুবাচী অনুষ্ঠান

  • (১) ৭ থেকে ১১ আষাঢ় চার দিন ধরে গ্রাম-বাংলার মহিলারা এই অনুষ্ঠান পালন করেন। চাষ বাসের কাজ এই সময় বন্ধ রাখা হয়। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে পিঠা-পায়েস বানানোর রীতি আছে।
  • (২) এই অনুষ্ঠানে বিধবা নারীরা তিন দিন ধরে ব্রত রাখে। অম্বুবাচীর আগের দিন রান্না করা খাবার তারা তিন দিন ধরে খায়। এই সময় তারা কোনো গরম খাবার খায় না।

কামরূপ কামাখ্যায় অম্বুবাচীর পূজা

অম্বুবাচীর তিন দিন কামরূপ কামাখ্যায় পূজা হয়। কামরূপ কামাহ্মায় মন্দিরের গর্ভ গৃহ থেকে লাল রং এর তরল (ভক্তদের মতে মায়ের রজস্রাবের রক্ত) বের হয়। অপরাপর সমস্ত দেবী মন্দির বন্ধ থাকে।

আসামে অম্বুবাচী উৎযাপন

এই উপলক্ষ্যে আসমের কামাখ্যা মন্দিরে দেবীর ঋতুকাল সমাগত মনে করে উৎসব পালন করা হয়। সূর্যের দক্ষিণায়নের দিন থেকে তিন দিন অর্থাৎ আষাঢ়ের ৭ তারিখ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে এই পার্বণ পালিত হয়।

ওড়িশায় অম্বুবাচী উৎযাপন

ওড়িশা রাজ্যে এই পার্বণকে সরাসরি ‘রজ উৎসব’ হিসেবে পালন করা হয়।

অম্বুবাচীর গুরুত্ব

  • (১) ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী অম্বুবাচীর মেলার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। হিন্দুমতে, এই সময় দেবী কামাখ্যা রজঃস্বলা বা ঋতুস্রাব অবস্থায় থাকেন। কথিত আছে, যে দিন থেকে দেবীর ঋতুস্রাব শুরু হয়, সেইদিন থেকে গর্ভগৃহের দরজা আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যায়।
  • (২) এই সময়ে কাউকে ভিতরে গিয়ে দর্শন করতে দেওয়া হয় না। রজঃস্বলা শেষে দেবীকে স্নান করিয়ে, সাজিয়ে তারপর মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়ার রীতি রয়েছে। কথিত আছে অম্বুবাচী মেলার চতুর্থ দিনে দেবী কামাখ্যা দর্শন করলে ভক্তরা সকল প্রকার পাপ থেকে মুক্তি লাভ করেন। দেওয়া হয় বিশেষ ধরনের প্রসাদও।

২০২৩ সালে অম্বুবাচীর দিন

এই বছর ২২ জুন থেকে শুরু হতে চলেছে অম্বুবাচীর উৎসব, চলবে ২৬ জুন পর্যন্ত। বাংলা ৬ আষাঢ় থেকে ১০ আষাঢ় পর্যন্ত।

উপসংহার :- অম্বুবাচীর সময় মন্দিরের দরজা তিনদিনের জন্য বন্ধ থাকে। এই সময় সাধারণত দেবীকে বিশেষভাবে যত্ন করে রাখা হয়। কারণ এই সময় দেবীকে অশুচি বলে মনে করা হয়। তাই প্রত্যেক দেবীর মন্দিরে কাপড় দিয়ে মাতৃবিগ্রহ ঢেকে রাখার প্রচলন রয়েছে।

(FAQ) অম্বুবাচী উৎসব সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. অম্বুবাচী পালন করা হয় কেন?

লোকবিশ্বাস মতে আষাঢ় মাসে মৃগ শিরা নক্ষত্রের তিনটি পদ শেষ হলে ধরিত্রী মা ঋতুময়ী হয়। তাই এই সময়টিতে অম্বুবাচী পালন করা হয়। এটি হিন্দুধর্মের একটি বাৎসরিক উৎসব।

২. অম্বুবাচী কোন মাসে পালন করা হয়?

আষাঢ় মাসে।

৩. ২০২৩ সালে অম্বুবাচীর সময়কাল কখন?

বাংলা ৬-১০ আষাঢ় ও ইংরেজি ২২-২৬ জুন।

৪. অম্বুবাচী সম্পর্কে কোন বাংলা প্রবাদ প্রচলিত আছে?

‘কিসের বার কিসের তিথি, আষাঢ়ের সাত তারিখ অম্বুবাচী।’

Leave a Comment