ভারতের বুর্জোয়া শ্রেণীর বৈপ্লবিক ভূমিকা

ভারতের বুর্জোয়া শ্রেণীর বৈপ্লবিক ভূমিকা প্রসঙ্গে বুর্জোয়া শ্রেণীর সংগ্ৰামের মাধ্যমে কংগ্রেসের সৃষ্টি, বুর্জোয়া শ্রেণীর আহ্বান, একমাত্র জাতীয় সংগঠন কংগ্রেস, জাতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি বুর্জোয়া শ্রেণীর বিশ্বাসঘাতকতা ও বুর্জোয়া গোষ্ঠীর আতঙ্ক সম্পর্কে জানবো।

ভারতের বুর্জোয়া শ্রেণীর বৈপ্লবিক ভূমিকা

ঐতিহাসিক ঘটনাবুর্জোয়াশ্রেণীর বৈপ্লবিক ভূমিকা
বুর্জোয়া সংগঠনকংগ্রেস
ধনতন্ত্র ধ্বংসরাশিয়া
বৈপ্লবিক সংগ্ৰামশ্রেণি সংগ্ৰাম
ভারতের বুর্জোয়া শ্রেণীর বৈপ্লবিক ভূমিকা

ভূমিকা :- বৈপ্লবিক সংগ্রাম শ্রেণী-সংগ্রাম ব্যতীত অন্য কিছু নয়। ভারতবর্ষের বিংশ শতাব্দীর বৈপ্লবিক সংগ্রামও শ্রেণী-সংগ্রাম। ভারতের বৈপ্লবিক সংগ্রাম হল বৈদেশিক সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় বুর্জোয়াশ্রেণীর প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।

বুর্জোয়া শ্রেণীর সংগ্ৰামের মাধ্যমে কংগ্রেসের সৃষ্টি

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ তার উপনিবেশ ভারতবর্ষে প্রথম থেকেই শিল্পের বিকাশের পথ রুদ্ধ করবার যে নীতি গ্রহণ করেছিল তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেই ভারতের বুর্জোয়াশ্রেণীকে শিল্প-কলকারখানা স্থাপন এবং শিল্পের বিকাশ সাধন করতে হয়েছিল। বুর্জোয়াশ্রেণীর এই আত্ম প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালনার জন্যই ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সৃষ্টি।

বুর্জোয়া শ্রেণীর আহ্বান

সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ভারতের বুর্জোয়াশ্রেণীর প্রথম যুগের আত্মপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী ভূমিকা ও বৈপ্লবিক তাৎপর্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। সাম্রাজ্যবাদের বিরুেদ্ধে একাকী সংগ্রাম চালানো অসম্ভব বুঝে বুর্জোয়াশ্রেণী সেই সময় তার নিজ সংগঠনে যোগদান করবার জন্য অন্যান্য শ্রেণীকেও আহ্বান করতে বাধ্য হয়।

একমাত্র জাতীয় সংগঠন কংগ্রেস

এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে অন্যান্য শ্রেণীও কংগ্রেসকেই একমাত্র জাতীয় সংগঠন হিসাবে গ্রহণ করে এবং বুর্জোয়াশ্রেণীর সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী সংগ্রামে যোগ দেয়।

জাতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি বুর্জোয়া শ্রেণীর বিশ্বাসঘাতকতা

শ্রমিকশ্রেণী ও কৃষক-সম্প্রদায় জাতীয় সংগ্রামের অংশ হিসাবেই নিজ নিজ শোষকশ্রেণীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম আরম্ভ করলে স্বভাবতই তা বৈপ্লবিক সংগ্রামের রূপ ধারণ করে। কংগ্রেসের বুর্জোয়া নেতৃত্ব তাতে ভীত হয়ে কয়েকবার সংগ্রাম বন্ধ করে এবং সাম্রাজ্যবাদের সাথে আপসরফা করে জাতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে।

বুর্জোয়া গোষ্ঠীর আতঙ্ক

একদিকে রাশিয়ার শ্রমিক-বিপ্লবে ধনতন্ত্রের ধ্বংস এবং অপর দিকে ১৯১৮-২২ সালের জাতীয় আন্দোলনে শ্রমিক-কৃষকের বৈপ্লবিক অভ্যুত্থানের রূপ দেখে বৃহৎ বুর্জোয়াগোষ্ঠী তখন আতঙ্কে দিশাহারা হয়ে পড়ে এবং অবিলম্বে সাম্রাজ্যবাদের আপন করে নেয়।

উপসংহার :- বিপ্লবের ভয়ে ভীত বৃহৎ বুর্জোয়াগোষ্ঠী নিজেদের মূল স্বার্থ রক্ষার জন্য জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে সাম্রাজ্যবাদের শিবিরে প্রবেশ করে এবং শেষ পর্যন্ত ভারতের শাসন পরিচালনার ভারপ্রাপ্ত হয়। এটাই বৃহৎ বুর্জোয়াগোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত জাতীয় আন্দোলনের ইতিহাস এবং বুর্জোয়াশ্রেণীর বৃহৎ অংশের শ্রেণী-ভূমিকা।

(FAQ) ভারতের বুর্জোয়া শ্রেণীর বৈপ্লবিক ভূমিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ভারতের একমাত্র জাতীয় সংগঠন কোনটি ছিল?

জাতীয় কংগ্রেস।

২. ভারতের বুর্জোয়া সংগঠন কাকে বলা হয়?

জাতীয় কংগ্রেস।

৩. রাশিয়ার ধনতন্ত্র ধ্বংস হয় কিভাবে?

শ্রমিক আন্দোলনে।

Leave a Comment