পারমার বংশ

পারমার বংশ প্রসঙ্গে প্রাচীন শিলালিপির তথ্য, প্রথম ঐতিহাসিক ব্যক্তি, পারমারদের স্বাধীনতা ঘোষণা, প্রথম স্বাধীন শাসক, রাজা মুঞ্জ, রাজা সিন্ধুরাজ, রাজা ভোজ ও রাজা উদয়াদিত্য সম্পর্কে জানবো।

পারমার বংশ

ঐতিহাসিক বংশপারমার বংশ
রাজত্বমালব
প্রথম ঐতিহাসিক ব্যক্তিউপেন্দ্ররাজ
প্রথম স্বাধীন শাসকহর্ষ বা দ্বিতীয় সিয়ক
শ্রেষ্ঠ রাজাভোজ
রাজধানীধারা
পারমার বংশ

ভূমিকা :- চারণদের গাথা ও পরবর্তী কালের শিলালিপি অনুসারে আবু পাহাড়ের পৌরাণিক অগ্নিকুণ্ড থেকে পারমার বংশের উদ্ভব হয়।

পারমার বংশের প্রাচীন শিলালিপির তথ্য

এই রাজবংশের কয়েকটি প্রাচীন শিলালিপি থেকে জানা যায় যে এদের সাথে দাক্ষিণাত্যের রাষ্ট্রকূটদের সম্পর্ক ছিল। দশম শতাব্দীর মধ্যভাগে রাষ্ট্রকূট রাজাদের অধীন সামন্ত রূপে গুজরাটে পারমারদের আবির্ভাব হয়।

পারমার বংশের প্রথম ঐতিহাসিক ব্যক্তি

সম্ভবত এই বংশের প্রথম ঐতিহাসিক ব্যক্তি ছিলেন উপেন্দ্ররাজ। তবে বোধ হয় রাষ্ট্রকূটদের সামন্ত প্রথম বাকপতিরাজ ছিলেন এদের বংশগৌরবের প্রতিষ্ঠাতা।

পরমারদের স্বাধীনতা ঘোষণা

পারমার বংশের আদি শাসকগণ সম্ভবতঃ রাষ্ট্রকূট ও গুর্জর-প্রতিহারদের সংঘর্ষে অংশ গ্রহণ করেন। দশম শতাব্দীর শেষের দিকে এই দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী বংশের যুগপৎ শক্তিহানির ফলে পরমারদের পক্ষে মালবে স্বাধীনতা ঘোষণা সম্ভব হয়েছিল। ইতিপূর্বেই তারা গুজরাট থেকে মালবে সরে এসেছিলেন।

পারমার বংশের প্রথম স্বাধীন শাসক

হর্ষ, অথবা দ্বিতীয় সিয়ক (আনুমানিক ৯৪৯-৯৭১ খ্রিস্টাব্দ) সম্ভবত পারমার বংশের প্রথম স্বাধীন শাসক।

পারমার বংশের রাজা মুঞ্জ

  • (১) তার উত্তরাধিকারী দ্বিতীয় বাকপতি বা মুঞ্জ শক্তিশালী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী নৃপতি ছিলেন। অন্যায় ভাবে কল্যাণের সিংহাসন দখলকারী দ্বিতীয় তৈলকে সিংহাসনচ্যুত করার জন্য তিনি বারবার চেষ্টা করেন। ভাহলের কলচুরি বংশীয় দ্বিতীয় যুবরাজ তার কাছে পরাজিত হন।
  • (২) কেরল, চোল, গুজরাটের চৌলুক্য, নাড়োলের চাহমান ও মেবারের গুহিলোত বংশের রাজাদের সাথে তাঁর সংগ্রামের উল্লেখ পাওয়া যায়। দ্বিতীয় তৈলের সাথে সংঘর্ষে তার জীবনের বিয়োগান্ত পরিণতি ঘটে।
  • (৩) তিনি বিদ্যাচর্চার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। ‘নবসাহসাঙ্কচরিত’ রচয়িতা পদ্মগুপ্ত এবং ছন্দশাস্ত্রের বিখ্যাত টীকাকার হলায়ুধ সহ কয়েকজন প্রসিদ্ধ মনীষী তাঁর অনুগ্রহ লাভ করেছিলেন। সম্ভবতঃ মুঞ্জ নিজেও সুপণ্ডিত এবং খ্যাতিমান কবি ছিলেন।

পারমার বংশের রাজা সিন্ধুরাজ

‘নবসাহসাঙ্কচরিত’ গ্ৰন্থে মুঞ্জের কনিষ্ঠ ভ্রাতা ও উত্তরাধিকারী সিন্ধুরাজের নানা অবিশ্বাস্য কীর্তি বর্ণিত হয়েছে।

পারমার বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা ভোজ

  • (১) তার পুত্র ও উত্তরাধিকারী ভোজ (আনুমানিক ১০১০-১০৫৫ খ্রিস্টাব্দ ) পারমার বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা। তিনি ভারতীয় ইতিহাসে ও প্রাচীন উপাখ্যানে বিখ্যাত হয়ে আছেন। সমসাময়িক শিলালিপিতে তাঁর বিজয় অভিযান অতিরঞ্জিত ভাবে বর্ণিত হয়েছে।
  • (২) কল্যাণের চালুক্য ও ভাহলের কলচুরি বংশের সাথে তার সংগ্রামের প্রামাণ্য বিবরণ পাওয়া যায়। একথা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে যে এই সকল যুদ্ধের কোনো কোনটিতে তিনি জয়লাভ করেন। কিন্তু দ্বিতীয় বাকপতির ন্যায় তাঁর জীবনেরও বিয়োগান্ত পরিণতি ঘটেছিল।
  • (৩) কল্যাণের চালুক্যবংশীয় প্রথম সোমেশ্বর আহবমল্ল, গুজরাটের চৌলুক্যবংশীয় প্রথম ভীম এবং কলচুরিবংশের লক্ষ্মীকর্ণ সংঘবদ্ধভাবে ভোজের রাজধানী ধারা আক্রমণ করলে যুদ্ধে ভোজের মৃত্যু হয়। চান্দেল্ল বংশের সাথে ভোজের সম্ভবতঃ সদ্ভাব ছিল না।
  • (৪) সামরিক ও রাজনৈতিক কৃতিত্ব অপেক্ষা শিল্প ও সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতার জন্যই ভোজ শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করতে পারেন। শিলালিপি থেকে জানা যায় যে তিনি বহু সৌধ নির্মাণ করিয়েছিলেন‌। কিন্তু তাদের অতি অল্প নিদর্শনই অবশিষ্ট আছে।
  • (৫) এই প্রতিভাশালী নৃপতি দর্শন, কাব্য, অলঙ্কার, জ্যোতির্বিদ্যা, স্থাপত্য, চিকিৎসাবিদ্যা, ব্যাকরণ, শব্দকোষ এবং অনুরূপ আরও বহু বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছিলেন বলে প্রবাদ আছে।

পারমার বংশের রাজা উদয়াদিত্য

উদয়াদিত্য (আনুমানিক ১০৫৮-১০৮৭ খ্রিস্টাব্দ ) পারমার বংশের হৃতগৌরব পুনরুদ্ধার করেন। যে তিনটি মিত্র শক্তি (চালুক্য বংশ, চৌলুক্য ও কলচুরি বংশ) ভোজকে সিংহাসনচ্যুত করেছিলেন, তাদের নিজেদের মধ্যে বিরোধ উপস্থিত হওয়ায় সম্ভবতঃ উয়াদিত্যের সুবিধা হয়।

জয়সিংহ কর্তৃক পারমার রাজ্যের বৃহদংশ দখল

এই বংশের পরবর্তী কয়েকজন শাসক বংশের গৌরব রক্ষার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেন, কিন্তু দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে গুজরাটের সিদ্ধরাজ জয়সিংহ উজ্জয়িনী সহ পারমার রাজ্যের এক বৃহদংশ অধিকার করেন। আভ্যন্তরীণ বিরোধের ফলে এই সকল সামরিক ও রাজনৈতিক বিপর্যয়ের কুফল বৃদ্ধি পায়।

উপসংহার :- অর্জুনবর্মন (আনুমানিক ১২১১-১২১৫ খ্রিস্টাব্দ) ছিলেন এই বংশের শেষ ক্ষমতাশালী নৃপতি। তার উত্তরাধিকারীদেরকে বারবার মুসলিম আক্রমণ প্রতিরোধ করতে হয়। আলাউদ্দিন খলজির রাজত্বকালে মালবে মুসলমান শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

(FAQ) পারমার বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. পারমার বংশের প্রথম ঐতিহাসিক ব্যক্তি ছিলেন কে?

উপেন্দ্ররাজ।

২. পারমার বংশের প্রথম স্বাধীন রাজা কে ছিলেন?

হর্ষ বা দ্বিতীয় সিয়ক।

৩. পারমার বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক কে ছিলেন?

রাজা ভোজ।

৪. পারমার বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক ভোজের রাজধানী কোথায় ছিল?

ধারা।

Leave a Comment